Oct 26, 2026

ফুলমণি ও করুণার বিবরণ


 ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:২৪০

আমার মন্তব্যঃ ধন্যবাদ।

আপনার পোস্ট থেকে বইটি সম্পর্কে জানলাম। নেটে ই-বুক ভার্সনও পেলাম। সাথে আরো কিছু তথ্যও পেলাম।

''এই উপন্যাসের পরিচিতিতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১লা ডিসেম্বর় ১৯৫৭ তে লিখছেন- 'এক দিকে বঙ্কিমচন্দ্র (১৮৩৮-১৮৮৪) ও অন্য দিকে মধুসদন (১৮২৪-১৮৭৩)। প্রস্তুতির যুগের শেষ ভাগে যাঁহারা বাঙ্গালা ভাষায় গদ্য সাহিত্যের সাধনা করিতেছিলেন তাঁহাদের মধ্যে কতকগুলি কৃতি সাধক নিঃসন্দেহ ভাবে অখ্যাত ও অজ্ঞাত লুপ্ত-নাম রহিয়া গিয়াছে। ইহাদের মধ্যে “ফুলমণি ও করুণার বিবরণ” রচয়িত্রী শ্রীমতী হানা ক্যাথেরীন ম্যলেন্স-এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযােগ্য।

১৮৫২ সালে কলিকাতার খ্রীষ্টান ট্র্যাক্ট অ্যাণ্ড বুক সােসাইটি কর্তৃক 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' প্রকাশিত হইয়াছিল। এই ধরণের বই বাঙ্গালায় প্রথম। ইহার পূর্বে বাঙ্গালীর সমাজ লইয়া ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ দুই চারিজন লেখক কিছু, কিছু, লিখিয়াছিলেন। কিন্তু এভাবে বাঙ্গালা দেশের বিশেষ কোন অংশে একটি নবগঠিত বিশিষ্ট সমাজের জীবন ও চিন্তা অবলম্বন করিয়া বই লিখিবার প্রয়াস দেখা যায় নাই। বইখানির ভাষা ভালই বলিতে হইবে। সাধু,ভাষার ছাঁচে ঢালা ইহার আধার একশ’ বছর পূর্বেকার বাঙ্গালা।

(যেমন, কলিকাতার বাঙ্গালায় 'আসিল' অর্থে 'এল' — লেখিকা সাধুভাষানুমোদিত রূপ দিয়াছেন 'আইল'; —তিনি কোথাও 'আসিল' রূপ ব্যবহার করেন নাই, কারণ ইহা কলিকাতার কথ্য ভাষায় অজ্ঞাত ছিল)।”…….

আপনার রিভিঊ -র অপেক্ষায় রইলাম।   

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮০

সুব্রত দত্ত বলেছেনঃ  আপনার আগ্রহ জাগাতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক হওয়ার সুবাদে প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ পড়া রয়েছে। পড়া হয়নি ভবাণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা কমলালয়’, ‘নববাবুবিলাস’, ‘নববিবিবিলাস’ প্রমুখসহ কালীপ্রসন্ন সিংহ-এর ‘হুতোম পেঁচার নকশা’। এগুলোর পড়ার তাগিদে আজ রকমার.কম-এ বইগুলো খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। এগুলো সংগ্রহ করে পড়ে উঠতে পারলে ইচ্ছা আছে বাংলা ‍উপন্যাসের প্রথম দিককার ইতিহাস নিয়ে টুকটাক লেখার।
‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ বইটি পড়বেন। ভালো লাগবে। আপনার মন্তব্যও আশা করছি।

২৭ শে অক্টোবর ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ
চারটি বই অনলাইনে পেলাম। লিংক কাজ করলে অনলাইনে পড়া যাবে। আমি দেখতে পাচ্ছি । তৃতীয় বই -এর PDF  দেখলাম।
চতুর্থ বইটি   scribd.com এ অ্যাকাউন্ট খুলে ডাউনলোড করা যাবে। ওরা ৪/৫ টা ফাইল চাইবে আপলোডের জন্য। যেন তাদের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হয়। আপনার অ্যাকাউন্টে সেইভ করে রাখতে পারেন এরকম ৪/৫ টি  ডকুমেন্ট ফাইল আপলোড করে দিলে বই ওরা ফ্রি দেবে। ওরা ট্রায়াল এর কথা বলে । সাবস্ক্রিপশানের কথা বলে। সেগুলোতে পয়সা দিয়ে হয়। কিন্তু ফাইল আপলোড দিলে বই ফ্রি ডাউনলোড করা যায়। 
আমার সময় থাকলে আমিও পড়তাম। কিন্তু আমি কিছু ট্রান্সক্রিপ্ট অনুবাদের কাজ করছে। যারা higher dimension থেকে  channeling করেন , তাদের লেকচারের ট্রান্সক্রিপ্ট। তাই ব্যস্ত। আমার একটা অনুবাদ পড়ে দেখতে পারেন। ব্লগে দিয়েছিলাম সম্প্রতি। কথোপকথকন -৩ প্রজেক্ট ব্লু বুক
লিংক https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30394202 

অনলাইন বইয়ের লিংকঃ
১. কলিকাতা কমলালয়

https://archive.org/details/bub_man_d3fb234f5211db934476b7b8a8c80fc4/mode/1up

২.নববাবুবিলাস

https://pubhtml5.com/iuzeb/wuam/%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B8/

৩.হুতোম পেঁচার নকশা - লেখকের নামের পাশে আছে PDF লিংক 
https://www.boierthikana.com/ 

৪. নববিবিবিলাস 
মূল  সাইট যা এই ব্লগে  আসছে না।  https://www.scribd.com/home তারপর
scribd.com/document/576273881/নব-বিবি-বিলাস-ভবানীচরণ-বন-দ-যোপাধ-যায 

২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭০

লেখক সুব্রত দত্ত বলেছেনঃ বাহ্! অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এগুলো পড়ার ইচ্ছা আছে। আমি চেষ্টা করবো পড়ে ফেলতে। বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে মাত্র ২/৩টা বই পড়া হয়েছে এই বছরে। তাহলে বোঝেন পড়াটা কত কঠিন। আমি কর্মের খাতিরেও পড়ি না। অন্য ফিল্ডের মানুষের জন্য তো আরো কঠিন হবে।

Oct 22, 2026

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা


  ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হ্যারি পটার এবং প্রিজনার্স অব এজকাভানে যেটা দেখিয়েছিলো সেটা কি শেইপ শিফটার ? দেখেছেন মুভিটা ? মানুষ থেকে ওয়ারউলফ হয়ে গেছে । আবার হাল্ক যেটা হয় সেটা কি ?
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫২০
আমার মন্তব্যঃ  অবশ্যই। শেইপ শিফটার কনসেপ্ট থেকে এরকম চরিত্র তৈরী করা হয়। ইউরোপ অঞ্চলে এদেরকে বলে 'স্কিন - ওয়াকার'।

২. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২০
রাজীব নুর বলেছেনঃ পড়লাম। ব্যস্ততার কারণে ভালো মন্তব্য করতে পারলাম না। ক্ষমাপ্রার্থী।
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫৩০
আমার মন্তব্যঃ  এতো ব্যস্ত কেন?

৩. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩০

রাজীব নুর বলেছেন: একদিন চীনারা সারা বিশ্ব দখল করে নিবে।
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫৮০
আমার মন্তব্যঃ আসলেই। ওদের বুদ্ধি একটু অন্যভাবে চলে।

৪. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫০
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: মাছও দেখি আজকাল পোশাক পরে, বাহ! দারুণ তো।
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০০০
আমার মন্তব্যঃ শুধু তাই না। একদম ডিজাইন করা পোশাক।

৫. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:২১০
নাহল তরকারি বলেছেন: সুন্দর।
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০২০
আমার মন্তব্যঃ হা। কিন্তু মেয়েটি জলপরী টাইপের ছিল না। পুরোটাই মাছ ছিল।

Oct 20, 2026

কনফিগারেশান কপি পেস্ট

https://www.somewhereinblog.net/blog/Telapokaromen/30396158২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০০০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ। অনেক ধন্যবাদ এভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য। এভাবে কখনো চিন্তা করিনি , আমরা যারা লে-ম্যান।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৫১

লেখক বলেছেন: যে মুহূর্তে বললেন "এভাবে কখনো চিন্তা করিনি," সেই মুহূর্তেই আপনি লে-ম্যান থেকে বের হয়ে গেছেন ।




Oct 19, 2026

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ


১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩০

আমার মন্তব্যঃ  আলী ভাই, আপনার আজকের কবিতার পোস্ট এর ভাবখানা এই বৃক্ষ দুটির| আত্ম নিবেদনের -ই প্রকাশ যেন। ফানা বলতে বুঝিয়েছেন, (সুফি দর্শনে,) নিজের আত্মসত্তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, ‘আমি’ ভাব বিলীন হয়ে শুধু স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা। আমি বৃক্ষ দুটির মাঝে তৎক্ষণাত যেন তাদের নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া দেখেছিলাম।

আপনার কবিতার অপেক্ষায়।

 ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেনঃ বিনীত, অবনত বৃক্ষের ছবির মধ্য দিয়ে আপনি যে গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই মুগ্ধকর। প্রকৃতির একটি সাধারণ দৃশ্যও যে মানুষের অন্তর্জগৎ, স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ এবং অহংবোধ বিসর্জনের মতো গভীর উপলব্ধির দুয়ার খুলে দিতে পারে, আপনার লেখাটি তারই সুন্দর উদাহরণ।

বৃক্ষের নুয়ে পড়া শাখাকে প্রার্থনারত মানুষের সঙ্গে তুলনা করার ভাবনাটি অসাধারণ। আমরা প্রায়ই নিজেদের অর্জন, ক্ষমতা ও সাফল্য নিয়ে গর্ব করি; অথচ প্রকৃত মহত্ত্ব যে অহংকারে নয়, বিনয় ও আত্মোপলব্ধিতে—আপনার লেখাটি সেই সত্যই স্মরণ করিয়ে দেয়। ছবির সঙ্গে দর্শনের এমন সুন্দর মেলবন্ধন আপনার এই ছবি ব্লগকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। চমৎকার ভাবনা ও উপস্থাপনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪১০

আমার মন্তব্যঃ ফরিদ ভাই , আপনার সেই পোস্টটি আমার পুরা সেইভ করে রাখা হয় নাই। আপনি সামনের পাতায় না রাখতে চাইলেও আমাকে প্লিজ টেক্সট -টুকু পাঠিয়ে দেন। সেখানে কমেন্ট করেছিঃ 'আপনাদের discussion খুব ভাল লাগছে পড়তে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, এমন একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর উপস্থাপনের ধারায় পোস্ট দেয়া।'

আমার অনুরোধ আমাকে টেক্সট টুকু দিন ।প্লিজ ফরিদ ভাই। প্লিজ।

আমার খুব ভাল লাগছিল পড়তে। আমি কি আমার ইমেইল দেব? ওখানে পাঠিয়ে দিবেন ? নাকি মেসেঞ্জার এর লিংক দেব?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২০০

কামাল১৮ বলেছেনঃ পড়লাম।

আমার মন্তব্যঃ তেমন কিছুই তো লিখতে পারিনি। আশপাশ দেখতে দেখতে সময় কেটে গেছে।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮০

রাজীব নুর বলেছেনঃ ছবি ব্লগ দিলে কম পক্ষে ১২ টা ছবি দেবেন।

আমার মন্তব্যঃ প্রণতি ভংগে নত বাকী সেই দশটি বৃক্ষের দেখা পেতে হবে তো। 

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২০০

নজসু বলেছেনঃ  বিনীত, অবনত বৃক্ষ এই টাইটেলটাই সেরা।

ছবিগুলোর সঙ্গে আপনার একান্ত ভাবনার যোগাযোগটি সত্যিই অপূর্ব! নুয়ে পড়া বৃক্ষকে বিনয়, আত্মসমর্পণ ও অহংবোধ বিসর্জনের প্রতীক হিসেবে দেখানোর মধ্যে আসলেই গভীর জীবনবোধ রয়েছে।

প্রকৃতির এরকম সাধারণ একটা দৃশ্য থেকে যে আমাদের ক্ষুদ্র এই জীবনের অসাধারণ এক সত্য উপলব্ধি করা যায়, সেটা আপনার এই লেখাটিই প্রমাণ করে। সত্যিই, মানুষের সত্যিকারের মহত্ত্ব তার অর্জন বা আত্মঅহংকারে নয়, বরং সেটা হওয়া উচিত বিনয় ও নম্রতায়।

ছবির সৌন্দর্য আর আপনার লেখার দর্শন মিলেমিশে কিছুক্ষণ নিজের অন্তর্জগৎ নিয়ে ভাবলাম। নতুন কিছুউপলব্ধি করলাম। একেবারে নতুন এবং আলাদা একটা দিক খুঁজে পেলাম আমি।

সুন্দর এই পরিবেশনার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আপা। সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৭০

আমার অন্তব্যঃ  অনেক দিন পর এলেন আমার ব্লগ পাতায়। আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক চিন্তা মনে আসে। লিখি কিন্তু প্রথম পাতায় সব কিছু সব সময় দিই না। মনে হয় প্রথম পাতার পরিবেশের সাথে যাচ্ছে না। ন্তু সেদিনের তোলা কয়েকটি ছবি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে । তাই এই ছবি- ব্লগ 'বৃক্ষের সাথে ভাবনা'র সূচনা। আরো দুটি পর্বে সমস্ত ছবিগুলো দেয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা রাখি।

 ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫০

নাহল তরকারি বলেছেন: প্রকৃতির একটি সাধারণ দৃশ্যের মধ্যে এত গভীর জীবনদর্শন খুঁজে পাওয়াটাই সত্যিকারের উপলব্ধি। নুয়ে পড়া বৃক্ষ যেন নীরবে শিখিয়ে দেয়, উচ্চতা অর্জন করলেই বড় হওয়া যায় না, বড় হতে হলে বিনয়ী হতেও জানতে হয়। ফলভারে নত ডাল যেমন নিজের কৃতিত্ব প্রচার করে না, তেমনি প্রকৃত জ্ঞানী মানুষও নিজের মহত্ত্ব জাহির করেন না; বরং তাঁর আচরণেই তা প্রকাশ পায়। আপনার এই ভাবনাটি মনে করিয়ে দেয়, অহংকার মানুষকে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর বিনয় তাকে সৃষ্টির বৃহত্তর সৌন্দর্যের সঙ্গে একাত্ম করে। প্রকৃতির ছবি যখন অন্তরের দরজা খুলে দেয়, তখন তা আর নিছক ছবি থাকে না—জীবনকে নতুন করে দেখার এক নীরব দর্শন হয়ে ওঠে। সুন্দর এই উপলব্ধির জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৬০

আমার মন্তব্যঃ  আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ এত্ত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। সেদিন পথে যেতে কয়েকটি বৃক্ষের অবস্থা দেখে এরকম চারটি বিষয়ের ওপর ভাবনা এসেছে। দুটি লিখেছি। আরো দুটি লিখব ছবি ব্লগ শিরোনামেই।   

ফানা এবং বাকা

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ বিনীত, অবনত বৃক্ষের এই চিত্রকল্পে প্রকৃতির একটি অনাড়ম্বর দৃশ্য যেন আত্মোপলব্ধির গভীরতম দর্শনে রূপান্তরিত হয়েছে। বৃক্ষের নত শাখা এখানে কেবল বিনয়ের প্রতীক নয়, বরং আত্মগরিমার আবরণ ভেদ করে অস্তিত্বের পরম সত্যের কাছে পৌঁছানোর এক নীরব ভাষ্য। সুফি দর্শনের ফানা ও বাকা এই দুই উপলব্ধির আলোকে লেখাটিকে আরও গভীরভাবে পাঠ করা যায়। ইশ্‌কের পরম নিবিড়তায় যখন ‘আমি’ ও ‘তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন ফানা-র অভিজ্ঞতায় স্বতন্ত্র অহংবোধের বিলয় ঘটে; আর বাকা-র উপলব্ধিতে সেই প্রেমময় সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করেই মানুষ ফিরে আসে কর্মময় জগতে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবনযাপনে। এমনতর উপলব্দির প্রভাবে আমার ব্লগে কিছুক্ষন পুর্বে কবিতা একটি লিখে রেখে এসেছি ।

উল্লেখ্য এমনতর নত হওয়া আর আত্মবিসর্জনের নিছক ভঙ্গি থাকে না, হয়ে ওঠে অন্তরের পরিণত প্রজ্ঞা। কারণ সত্যিকারের আত্মসমর্পণ মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং আরও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলে।

বৃক্ষ যেমন নিজের ফলের কৃতিত্ব ঘোষণা করে না, ছায়া দেওয়ার জন্য প্রতিদানও চায় না, তেমনি প্রজ্ঞায় পরিশুদ্ধ মানুষও নিজের মহত্ত্বের প্রচারে নয়, অন্যের কল্যাণে নিজের অস্তিত্বের সার্থকতা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত মহত্ত্বের পরিচয় কতটা উচ্চতায় উঠলাম, তা নয়; বরং কতটা নত হয়ে জীবনের বৃহত্তর সত্যকে ধারণ করতে পারলাম, তারই মধ্যে। আপনার লেখাটি তাই নত বৃক্ষের দৃশ্যের আড়ালে এক অনন্ত সত্যের ইঙ্গিত দেয় অহংকারের বিলয়ে আত্মা শূন্য হয় না, বরং সেই শূন্যতার মধ্য দিয়েই প্রেম, প্রজ্ঞা ও পরমের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনার এই লেখাটি পাঠে নত বৃক্ষের ইশ্‌ক নামে একটি কবিতা লেখার ইচ্ছে জাগছে মনে ।হয়ত দু এক দিনের মধ্যেই লেখা হবে সে কবিতাখানি ।

শুভেচ্ছা রইল

আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার আজকের কবিতার পোস্ট এর ভাবখানা এই বৃক্ষ দুটির| আত্ম নিবেদনের -ই প্রকাশ যেন। ফানা বলতে বুঝিয়েছেন, (সুফি দর্শনে,) নিজের আত্মসত্তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, ‘আমি’ ভাব বিলীন হয়ে শুধু স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা। আমি বৃক্ষ দুটির মাঝে তৎক্ষণাত যেন তাদের নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া দেখেছিলাম।

আপনার কবিতার অপেক্ষায়।

 ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬


আমার মন্তব্যঃ  Near Death Experience (NDE ) যাদেরই হয়েছে তাদেরকে যা বলা হয়েছে তার সাথে আপনার লেখার এই কয়েকটা লাইন হুবুহু মিলে যায়ঃ

'তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে না,
ফিরে যাও।

যেখানে মানুষ কাঁদে, সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।'

NDE তে যাবার পর ওদেরকে বলেছিলঃ 'এখনো তোমার সময় হয় নাই। ফিরে যাও। তোমার কাজ এখনো অনেক বাকী।' বেশীর ভাগেরই এমন এক্সপেরিয়েন্স। তাই কবিতার এই অংশটুকু পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আপনি NDE -র জগতও ভ্রমণ করে এসেছেন।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮০
লেখক বলেছেনঃ আপনার এমন গভীর অনুভব ও আন্তরিক উপলব্ধি আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। হয়তো মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা আর আত্মার গভীর উপলব্ধি একই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও সেবাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। আপনার এই সুন্দর অনুধাবন কবিতার আবেদনকে আরও গভীর করে তুলেছে।
হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইল।

Oct 17, 2026

ছবি ব্লগ - শুষ্ক তরু

 ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪০

আবু সিদ বলেছেনঃ অল্প কথায় জীবনের অসাধারণ অনুধাবন। লিখতে থাকুন, অবিরাম...

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৪০

আমার মন্তব্যঃ বজ্রপাতে দ্বিখন্ডিত একটা গাছ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম একবার । তখন ২০০৭, হাতে হাতে ক্যামেরা ছিল না, যে ছবি তুলে রাখবো। কিন্তু স্মৃতিতে সে ভয়ংক র দৃশ্য এখনো প্রকট । আর এবার ২০২৬ , এই গাছটি সামনে এলো।

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

 ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেনঃ আপনার ‘শুষ্ক তরু’ লেখাটি পড়ে মনে হলো, একটি বৃক্ষের নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে আপনি আসলে মানুষের বার্ধক্য, জীবনের পরিবর্তন এবং স্মৃতির গভীর বেদনার ছবি এঁকেছেন। একসময় যে গাছের ডালে পাখিরা বসত, গান গাইত, বাসা বাঁধত, আর যার ছায়ায় ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নিত, সময়ের পরিবর্তনে সেই গাছই আজ পত্রহীন, নিঃসঙ্গ ও নীরব। অথচ তার এই বর্তমান অবস্থা দিয়ে তার অতীতকে বিচার করা যায় না; তার ডালে ডালে জমে আছে অসংখ্য বসন্তের স্মৃতি, জীবনের নানা আয়োজন ও অজস্র গল্প। মানুষের জীবনও অনেকটা তেমনই। যৌবনে চারপাশে থাকে কর্মব্যস্ততা, প্রিয়জনের আনাগোনা, বন্ধুবান্ধবের হাসি-আড্ডা এবং নানা স্বপ্নের হাতছানি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত মুখগুলো হারিয়ে যায়, কর্মব্যস্ততা কমে আসে, সম্পর্কের পরিধি সংকুচিত হয়, আর একসময় স্মৃতিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপন সঙ্গী। তবে বার্ধক্যকে শুধু ক্ষয় ও নিঃসঙ্গতার প্রতীক হিসেবে দেখলে জীবনের পূর্ণতাকে উপলব্ধি করা যায় না। একটি প্রবীণ বৃক্ষ যেমন তার দীর্ঘ অস্তিত্বের সাক্ষী, তেমনি একজন প্রবীণ মানুষও তাঁর অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, ভালোবাসা ও জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বহু মূল্যবান শিক্ষা ধারণ করেন। তাই তাঁদের প্রয়োজন অবহেলা নয়, বরং ভালোবাসা, সঙ্গ, সম্মান ও যত্ন। আপনার লেখার সবচেয়ে সুন্দর উপলব্ধি হলো—শুষ্ক তরু মানেই শূন্যতা নয়; তার নীরবতার মধ্যেও রয়েছে পূর্ণ জীবনের ইতিহাস। সত্যিই, জীবন নিজেই এক উপন্যাস, আর বার্ধক্য তার এমন এক অধ্যায়, যেখানে শব্দ কমে এলেও অভিজ্ঞতার গভীরতা অনেক বেড়ে যায়। সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখাটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬০

আমার মন্তব্যঃ  পথে যেতে এমন একটা গাছ চোখে পড়াতে খুব খারাপ লেগেছিল। সেই থেকে ভাবছিলাম ছবিটা শেয়ার করবো। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। 




Oct 15, 2026

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

 

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৬১

আমার মন্তব্যঃ  আলী ভাই, আপনার এই পোস্টের মন্তব্যগুলো আমি আমার সংগ্রহে রেখে দেব।

ড. আলী বলেছেনঃ জেনে আনন্দিত হলাম । মন্তব্য সংগ্রহে রাখার ইচ্ছাটুকুর মধ্যেই তো এক গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে। মানুষ ক্ষণস্থায়ী, সময় বহমান, কিন্তু কিছু কথা হৃদয়কে স্পর্শ করে সময়ের সীমানা অতিক্রম করে বেঁচে থাকে। মন্তব্য তখন আর নিছক শব্দের সমষ্টি থাকে না, হয়ে ওঠে অনুভবের দলিল, চিন্তার অনুরণন, আর দুটি মনের মধ্যে গড়ে ওঠা এক অদৃশ্য সেতু। আপনার এই সযত্নে আগলে রাখার ইচ্ছা প্রমাণ করে, শব্দের প্রকৃত মূল্য তার উচ্চারণে নয়, তার অন্তর্নিহিত উপলব্ধিতে। কারণ দিনশেষে মানুষ সব কথা মনে রাখে না, মনে রাখে সেই কথাগুলোই, যার মধ্যে নিজের হৃদয়ের কোনো এক অচেনা সত্যকে খুঁজে পায়।

শুভেচ্ছা রইল