Oct 26, 2026

ফুলমণি ও করুণার বিবরণ


 ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:২৪০

আমার মন্তব্যঃ ধন্যবাদ।

আপনার পোস্ট থেকে বইটি সম্পর্কে জানলাম। নেটে ই-বুক ভার্সনও পেলাম। সাথে আরো কিছু তথ্যও পেলাম।

''এই উপন্যাসের পরিচিতিতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১লা ডিসেম্বর় ১৯৫৭ তে লিখছেন- 'এক দিকে বঙ্কিমচন্দ্র (১৮৩৮-১৮৮৪) ও অন্য দিকে মধুসদন (১৮২৪-১৮৭৩)। প্রস্তুতির যুগের শেষ ভাগে যাঁহারা বাঙ্গালা ভাষায় গদ্য সাহিত্যের সাধনা করিতেছিলেন তাঁহাদের মধ্যে কতকগুলি কৃতি সাধক নিঃসন্দেহ ভাবে অখ্যাত ও অজ্ঞাত লুপ্ত-নাম রহিয়া গিয়াছে। ইহাদের মধ্যে “ফুলমণি ও করুণার বিবরণ” রচয়িত্রী শ্রীমতী হানা ক্যাথেরীন ম্যলেন্স-এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযােগ্য।

১৮৫২ সালে কলিকাতার খ্রীষ্টান ট্র্যাক্ট অ্যাণ্ড বুক সােসাইটি কর্তৃক 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' প্রকাশিত হইয়াছিল। এই ধরণের বই বাঙ্গালায় প্রথম। ইহার পূর্বে বাঙ্গালীর সমাজ লইয়া ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ দুই চারিজন লেখক কিছু, কিছু, লিখিয়াছিলেন। কিন্তু এভাবে বাঙ্গালা দেশের বিশেষ কোন অংশে একটি নবগঠিত বিশিষ্ট সমাজের জীবন ও চিন্তা অবলম্বন করিয়া বই লিখিবার প্রয়াস দেখা যায় নাই। বইখানির ভাষা ভালই বলিতে হইবে। সাধু,ভাষার ছাঁচে ঢালা ইহার আধার একশ’ বছর পূর্বেকার বাঙ্গালা।

(যেমন, কলিকাতার বাঙ্গালায় 'আসিল' অর্থে 'এল' — লেখিকা সাধুভাষানুমোদিত রূপ দিয়াছেন 'আইল'; —তিনি কোথাও 'আসিল' রূপ ব্যবহার করেন নাই, কারণ ইহা কলিকাতার কথ্য ভাষায় অজ্ঞাত ছিল)।”…….

আপনার রিভিঊ -র অপেক্ষায় রইলাম।   

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮০

সুব্রত দত্ত বলেছেনঃ  আপনার আগ্রহ জাগাতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক হওয়ার সুবাদে প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ পড়া রয়েছে। পড়া হয়নি ভবাণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা কমলালয়’, ‘নববাবুবিলাস’, ‘নববিবিবিলাস’ প্রমুখসহ কালীপ্রসন্ন সিংহ-এর ‘হুতোম পেঁচার নকশা’। এগুলোর পড়ার তাগিদে আজ রকমার.কম-এ বইগুলো খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। এগুলো সংগ্রহ করে পড়ে উঠতে পারলে ইচ্ছা আছে বাংলা ‍উপন্যাসের প্রথম দিককার ইতিহাস নিয়ে টুকটাক লেখার।
‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ বইটি পড়বেন। ভালো লাগবে। আপনার মন্তব্যও আশা করছি।

২৭ শে অক্টোবর ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ
চারটি বই অনলাইনে পেলাম। লিংক কাজ করলে অনলাইনে পড়া যাবে। আমি দেখতে পাচ্ছি । তৃতীয় বই -এর PDF  দেখলাম।
চতুর্থ বইটি   scribd.com এ অ্যাকাউন্ট খুলে ডাউনলোড করা যাবে। ওরা ৪/৫ টা ফাইল চাইবে আপলোডের জন্য। যেন তাদের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হয়। আপনার অ্যাকাউন্টে সেইভ করে রাখতে পারেন এরকম ৪/৫ টি  ডকুমেন্ট ফাইল আপলোড করে দিলে বই ওরা ফ্রি দেবে। ওরা ট্রায়াল এর কথা বলে । সাবস্ক্রিপশানের কথা বলে। সেগুলোতে পয়সা দিয়ে হয়। কিন্তু ফাইল আপলোড দিলে বই ফ্রি ডাউনলোড করা যায়। 
আমার সময় থাকলে আমিও পড়তাম। কিন্তু আমি কিছু ট্রান্সক্রিপ্ট অনুবাদের কাজ করছে। যারা higher dimension থেকে  channeling করেন , তাদের লেকচারের ট্রান্সক্রিপ্ট। তাই ব্যস্ত। আমার একটা অনুবাদ পড়ে দেখতে পারেন। ব্লগে দিয়েছিলাম সম্প্রতি। কথোপকথকন -৩ প্রজেক্ট ব্লু বুক
লিংক https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30394202 

অনলাইন বইয়ের লিংকঃ
১. কলিকাতা কমলালয়

https://archive.org/details/bub_man_d3fb234f5211db934476b7b8a8c80fc4/mode/1up

২.নববাবুবিলাস

https://pubhtml5.com/iuzeb/wuam/%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B8/

৩.হুতোম পেঁচার নকশা - লেখকের নামের পাশে আছে PDF লিংক 
https://www.boierthikana.com/ 

৪. নববিবিবিলাস 
মূল  সাইট যা এই ব্লগে  আসছে না।  https://www.scribd.com/home তারপর
scribd.com/document/576273881/নব-বিবি-বিলাস-ভবানীচরণ-বন-দ-যোপাধ-যায 

২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭০

লেখক সুব্রত দত্ত বলেছেনঃ বাহ্! অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এগুলো পড়ার ইচ্ছা আছে। আমি চেষ্টা করবো পড়ে ফেলতে। বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে মাত্র ২/৩টা বই পড়া হয়েছে এই বছরে। তাহলে বোঝেন পড়াটা কত কঠিন। আমি কর্মের খাতিরেও পড়ি না। অন্য ফিল্ডের মানুষের জন্য তো আরো কঠিন হবে।

Oct 22, 2026

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা


  ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হ্যারি পটার এবং প্রিজনার্স অব এজকাভানে যেটা দেখিয়েছিলো সেটা কি শেইপ শিফটার ? দেখেছেন মুভিটা ? মানুষ থেকে ওয়ারউলফ হয়ে গেছে । আবার হাল্ক যেটা হয় সেটা কি ?
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫২০
আমার মন্তব্যঃ  অবশ্যই। শেইপ শিফটার কনসেপ্ট থেকে এরকম চরিত্র তৈরী করা হয়। ইউরোপ অঞ্চলে এদেরকে বলে 'স্কিন - ওয়াকার'।

২. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২০
রাজীব নুর বলেছেনঃ পড়লাম। ব্যস্ততার কারণে ভালো মন্তব্য করতে পারলাম না। ক্ষমাপ্রার্থী।
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫৩০
আমার মন্তব্যঃ  এতো ব্যস্ত কেন?

৩. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩০

রাজীব নুর বলেছেন: একদিন চীনারা সারা বিশ্ব দখল করে নিবে।
২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫৮০
আমার মন্তব্যঃ আসলেই। ওদের বুদ্ধি একটু অন্যভাবে চলে।

৪. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫০
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: মাছও দেখি আজকাল পোশাক পরে, বাহ! দারুণ তো।
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০০০
আমার মন্তব্যঃ শুধু তাই না। একদম ডিজাইন করা পোশাক।

৫. ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:২১০
নাহল তরকারি বলেছেন: সুন্দর।
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০২০
আমার মন্তব্যঃ হা। কিন্তু মেয়েটি জলপরী টাইপের ছিল না। পুরোটাই মাছ ছিল।

Oct 20, 2026

কনফিগারেশান কপি পেস্ট

https://www.somewhereinblog.net/blog/Telapokaromen/30396158২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০০০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ। অনেক ধন্যবাদ এভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য। এভাবে কখনো চিন্তা করিনি , আমরা যারা লে-ম্যান।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৫১

লেখক বলেছেন: যে মুহূর্তে বললেন "এভাবে কখনো চিন্তা করিনি," সেই মুহূর্তেই আপনি লে-ম্যান থেকে বের হয়ে গেছেন ।




Oct 19, 2026

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ


১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩০

আমার মন্তব্যঃ  আলী ভাই, আপনার আজকের কবিতার পোস্ট এর ভাবখানা এই বৃক্ষ দুটির| আত্ম নিবেদনের -ই প্রকাশ যেন। ফানা বলতে বুঝিয়েছেন, (সুফি দর্শনে,) নিজের আত্মসত্তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, ‘আমি’ ভাব বিলীন হয়ে শুধু স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা। আমি বৃক্ষ দুটির মাঝে তৎক্ষণাত যেন তাদের নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া দেখেছিলাম।

আপনার কবিতার অপেক্ষায়।

 ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেনঃ বিনীত, অবনত বৃক্ষের ছবির মধ্য দিয়ে আপনি যে গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই মুগ্ধকর। প্রকৃতির একটি সাধারণ দৃশ্যও যে মানুষের অন্তর্জগৎ, স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ এবং অহংবোধ বিসর্জনের মতো গভীর উপলব্ধির দুয়ার খুলে দিতে পারে, আপনার লেখাটি তারই সুন্দর উদাহরণ।

বৃক্ষের নুয়ে পড়া শাখাকে প্রার্থনারত মানুষের সঙ্গে তুলনা করার ভাবনাটি অসাধারণ। আমরা প্রায়ই নিজেদের অর্জন, ক্ষমতা ও সাফল্য নিয়ে গর্ব করি; অথচ প্রকৃত মহত্ত্ব যে অহংকারে নয়, বিনয় ও আত্মোপলব্ধিতে—আপনার লেখাটি সেই সত্যই স্মরণ করিয়ে দেয়। ছবির সঙ্গে দর্শনের এমন সুন্দর মেলবন্ধন আপনার এই ছবি ব্লগকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। চমৎকার ভাবনা ও উপস্থাপনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪১০

আমার মন্তব্যঃ ফরিদ ভাই , আপনার সেই পোস্টটি আমার পুরা সেইভ করে রাখা হয় নাই। আপনি সামনের পাতায় না রাখতে চাইলেও আমাকে প্লিজ টেক্সট -টুকু পাঠিয়ে দেন। সেখানে কমেন্ট করেছিঃ 'আপনাদের discussion খুব ভাল লাগছে পড়তে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, এমন একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর উপস্থাপনের ধারায় পোস্ট দেয়া।'

আমার অনুরোধ আমাকে টেক্সট টুকু দিন ।প্লিজ ফরিদ ভাই। প্লিজ।

আমার খুব ভাল লাগছিল পড়তে। আমি কি আমার ইমেইল দেব? ওখানে পাঠিয়ে দিবেন ? নাকি মেসেঞ্জার এর লিংক দেব?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২০০

কামাল১৮ বলেছেনঃ পড়লাম।

আমার মন্তব্যঃ তেমন কিছুই তো লিখতে পারিনি। আশপাশ দেখতে দেখতে সময় কেটে গেছে।

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮০

রাজীব নুর বলেছেনঃ ছবি ব্লগ দিলে কম পক্ষে ১২ টা ছবি দেবেন।

আমার মন্তব্যঃ প্রণতি ভংগে নত বাকী সেই দশটি বৃক্ষের দেখা পেতে হবে তো। 

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২০০

নজসু বলেছেনঃ  বিনীত, অবনত বৃক্ষ এই টাইটেলটাই সেরা।

ছবিগুলোর সঙ্গে আপনার একান্ত ভাবনার যোগাযোগটি সত্যিই অপূর্ব! নুয়ে পড়া বৃক্ষকে বিনয়, আত্মসমর্পণ ও অহংবোধ বিসর্জনের প্রতীক হিসেবে দেখানোর মধ্যে আসলেই গভীর জীবনবোধ রয়েছে।

প্রকৃতির এরকম সাধারণ একটা দৃশ্য থেকে যে আমাদের ক্ষুদ্র এই জীবনের অসাধারণ এক সত্য উপলব্ধি করা যায়, সেটা আপনার এই লেখাটিই প্রমাণ করে। সত্যিই, মানুষের সত্যিকারের মহত্ত্ব তার অর্জন বা আত্মঅহংকারে নয়, বরং সেটা হওয়া উচিত বিনয় ও নম্রতায়।

ছবির সৌন্দর্য আর আপনার লেখার দর্শন মিলেমিশে কিছুক্ষণ নিজের অন্তর্জগৎ নিয়ে ভাবলাম। নতুন কিছুউপলব্ধি করলাম। একেবারে নতুন এবং আলাদা একটা দিক খুঁজে পেলাম আমি।

সুন্দর এই পরিবেশনার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আপা। সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৭০

আমার অন্তব্যঃ  অনেক দিন পর এলেন আমার ব্লগ পাতায়। আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক চিন্তা মনে আসে। লিখি কিন্তু প্রথম পাতায় সব কিছু সব সময় দিই না। মনে হয় প্রথম পাতার পরিবেশের সাথে যাচ্ছে না। ন্তু সেদিনের তোলা কয়েকটি ছবি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে । তাই এই ছবি- ব্লগ 'বৃক্ষের সাথে ভাবনা'র সূচনা। আরো দুটি পর্বে সমস্ত ছবিগুলো দেয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা রাখি।

 ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫০

নাহল তরকারি বলেছেন: প্রকৃতির একটি সাধারণ দৃশ্যের মধ্যে এত গভীর জীবনদর্শন খুঁজে পাওয়াটাই সত্যিকারের উপলব্ধি। নুয়ে পড়া বৃক্ষ যেন নীরবে শিখিয়ে দেয়, উচ্চতা অর্জন করলেই বড় হওয়া যায় না, বড় হতে হলে বিনয়ী হতেও জানতে হয়। ফলভারে নত ডাল যেমন নিজের কৃতিত্ব প্রচার করে না, তেমনি প্রকৃত জ্ঞানী মানুষও নিজের মহত্ত্ব জাহির করেন না; বরং তাঁর আচরণেই তা প্রকাশ পায়। আপনার এই ভাবনাটি মনে করিয়ে দেয়, অহংকার মানুষকে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর বিনয় তাকে সৃষ্টির বৃহত্তর সৌন্দর্যের সঙ্গে একাত্ম করে। প্রকৃতির ছবি যখন অন্তরের দরজা খুলে দেয়, তখন তা আর নিছক ছবি থাকে না—জীবনকে নতুন করে দেখার এক নীরব দর্শন হয়ে ওঠে। সুন্দর এই উপলব্ধির জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৬০

আমার মন্তব্যঃ  আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ এত্ত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। সেদিন পথে যেতে কয়েকটি বৃক্ষের অবস্থা দেখে এরকম চারটি বিষয়ের ওপর ভাবনা এসেছে। দুটি লিখেছি। আরো দুটি লিখব ছবি ব্লগ শিরোনামেই।   

ফানা এবং বাকা

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ বিনীত, অবনত বৃক্ষের এই চিত্রকল্পে প্রকৃতির একটি অনাড়ম্বর দৃশ্য যেন আত্মোপলব্ধির গভীরতম দর্শনে রূপান্তরিত হয়েছে। বৃক্ষের নত শাখা এখানে কেবল বিনয়ের প্রতীক নয়, বরং আত্মগরিমার আবরণ ভেদ করে অস্তিত্বের পরম সত্যের কাছে পৌঁছানোর এক নীরব ভাষ্য। সুফি দর্শনের ফানা ও বাকা এই দুই উপলব্ধির আলোকে লেখাটিকে আরও গভীরভাবে পাঠ করা যায়। ইশ্‌কের পরম নিবিড়তায় যখন ‘আমি’ ও ‘তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন ফানা-র অভিজ্ঞতায় স্বতন্ত্র অহংবোধের বিলয় ঘটে; আর বাকা-র উপলব্ধিতে সেই প্রেমময় সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করেই মানুষ ফিরে আসে কর্মময় জগতে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবনযাপনে। এমনতর উপলব্দির প্রভাবে আমার ব্লগে কিছুক্ষন পুর্বে কবিতা একটি লিখে রেখে এসেছি ।

উল্লেখ্য এমনতর নত হওয়া আর আত্মবিসর্জনের নিছক ভঙ্গি থাকে না, হয়ে ওঠে অন্তরের পরিণত প্রজ্ঞা। কারণ সত্যিকারের আত্মসমর্পণ মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং আরও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলে।

বৃক্ষ যেমন নিজের ফলের কৃতিত্ব ঘোষণা করে না, ছায়া দেওয়ার জন্য প্রতিদানও চায় না, তেমনি প্রজ্ঞায় পরিশুদ্ধ মানুষও নিজের মহত্ত্বের প্রচারে নয়, অন্যের কল্যাণে নিজের অস্তিত্বের সার্থকতা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত মহত্ত্বের পরিচয় কতটা উচ্চতায় উঠলাম, তা নয়; বরং কতটা নত হয়ে জীবনের বৃহত্তর সত্যকে ধারণ করতে পারলাম, তারই মধ্যে। আপনার লেখাটি তাই নত বৃক্ষের দৃশ্যের আড়ালে এক অনন্ত সত্যের ইঙ্গিত দেয় অহংকারের বিলয়ে আত্মা শূন্য হয় না, বরং সেই শূন্যতার মধ্য দিয়েই প্রেম, প্রজ্ঞা ও পরমের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনার এই লেখাটি পাঠে নত বৃক্ষের ইশ্‌ক নামে একটি কবিতা লেখার ইচ্ছে জাগছে মনে ।হয়ত দু এক দিনের মধ্যেই লেখা হবে সে কবিতাখানি ।

শুভেচ্ছা রইল

আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার আজকের কবিতার পোস্ট এর ভাবখানা এই বৃক্ষ দুটির| আত্ম নিবেদনের -ই প্রকাশ যেন। ফানা বলতে বুঝিয়েছেন, (সুফি দর্শনে,) নিজের আত্মসত্তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, ‘আমি’ ভাব বিলীন হয়ে শুধু স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা। আমি বৃক্ষ দুটির মাঝে তৎক্ষণাত যেন তাদের নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া দেখেছিলাম।

আপনার কবিতার অপেক্ষায়।

 ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬


আমার মন্তব্যঃ  Near Death Experience (NDE ) যাদেরই হয়েছে তাদেরকে যা বলা হয়েছে তার সাথে আপনার লেখার এই কয়েকটা লাইন হুবুহু মিলে যায়ঃ

'তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে না,
ফিরে যাও।

যেখানে মানুষ কাঁদে, সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।'

NDE তে যাবার পর ওদেরকে বলেছিলঃ 'এখনো তোমার সময় হয় নাই। ফিরে যাও। তোমার কাজ এখনো অনেক বাকী।' বেশীর ভাগেরই এমন এক্সপেরিয়েন্স। তাই কবিতার এই অংশটুকু পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আপনি NDE -র জগতও ভ্রমণ করে এসেছেন।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮০
লেখক বলেছেনঃ আপনার এমন গভীর অনুভব ও আন্তরিক উপলব্ধি আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। হয়তো মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা আর আত্মার গভীর উপলব্ধি একই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও সেবাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। আপনার এই সুন্দর অনুধাবন কবিতার আবেদনকে আরও গভীর করে তুলেছে।
হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইল।

Oct 17, 2026

ছবি ব্লগ - শুষ্ক তরু

 ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪০

আবু সিদ বলেছেনঃ অল্প কথায় জীবনের অসাধারণ অনুধাবন। লিখতে থাকুন, অবিরাম...

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০৪০

আমার মন্তব্যঃ বজ্রপাতে দ্বিখন্ডিত একটা গাছ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম একবার । তখন ২০০৭, হাতে হাতে ক্যামেরা ছিল না, যে ছবি তুলে রাখবো। কিন্তু স্মৃতিতে সে ভয়ংক র দৃশ্য এখনো প্রকট । আর এবার ২০২৬ , এই গাছটি সামনে এলো।

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

 ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেনঃ আপনার ‘শুষ্ক তরু’ লেখাটি পড়ে মনে হলো, একটি বৃক্ষের নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে আপনি আসলে মানুষের বার্ধক্য, জীবনের পরিবর্তন এবং স্মৃতির গভীর বেদনার ছবি এঁকেছেন। একসময় যে গাছের ডালে পাখিরা বসত, গান গাইত, বাসা বাঁধত, আর যার ছায়ায় ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নিত, সময়ের পরিবর্তনে সেই গাছই আজ পত্রহীন, নিঃসঙ্গ ও নীরব। অথচ তার এই বর্তমান অবস্থা দিয়ে তার অতীতকে বিচার করা যায় না; তার ডালে ডালে জমে আছে অসংখ্য বসন্তের স্মৃতি, জীবনের নানা আয়োজন ও অজস্র গল্প। মানুষের জীবনও অনেকটা তেমনই। যৌবনে চারপাশে থাকে কর্মব্যস্ততা, প্রিয়জনের আনাগোনা, বন্ধুবান্ধবের হাসি-আড্ডা এবং নানা স্বপ্নের হাতছানি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত মুখগুলো হারিয়ে যায়, কর্মব্যস্ততা কমে আসে, সম্পর্কের পরিধি সংকুচিত হয়, আর একসময় স্মৃতিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপন সঙ্গী। তবে বার্ধক্যকে শুধু ক্ষয় ও নিঃসঙ্গতার প্রতীক হিসেবে দেখলে জীবনের পূর্ণতাকে উপলব্ধি করা যায় না। একটি প্রবীণ বৃক্ষ যেমন তার দীর্ঘ অস্তিত্বের সাক্ষী, তেমনি একজন প্রবীণ মানুষও তাঁর অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, ভালোবাসা ও জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বহু মূল্যবান শিক্ষা ধারণ করেন। তাই তাঁদের প্রয়োজন অবহেলা নয়, বরং ভালোবাসা, সঙ্গ, সম্মান ও যত্ন। আপনার লেখার সবচেয়ে সুন্দর উপলব্ধি হলো—শুষ্ক তরু মানেই শূন্যতা নয়; তার নীরবতার মধ্যেও রয়েছে পূর্ণ জীবনের ইতিহাস। সত্যিই, জীবন নিজেই এক উপন্যাস, আর বার্ধক্য তার এমন এক অধ্যায়, যেখানে শব্দ কমে এলেও অভিজ্ঞতার গভীরতা অনেক বেড়ে যায়। সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখাটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬০

আমার মন্তব্যঃ  পথে যেতে এমন একটা গাছ চোখে পড়াতে খুব খারাপ লেগেছিল। সেই থেকে ভাবছিলাম ছবিটা শেয়ার করবো। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। 




Oct 15, 2026

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

 

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৬১

আমার মন্তব্যঃ  আলী ভাই, আপনার এই পোস্টের মন্তব্যগুলো আমি আমার সংগ্রহে রেখে দেব।

ড. আলী বলেছেনঃ জেনে আনন্দিত হলাম । মন্তব্য সংগ্রহে রাখার ইচ্ছাটুকুর মধ্যেই তো এক গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে। মানুষ ক্ষণস্থায়ী, সময় বহমান, কিন্তু কিছু কথা হৃদয়কে স্পর্শ করে সময়ের সীমানা অতিক্রম করে বেঁচে থাকে। মন্তব্য তখন আর নিছক শব্দের সমষ্টি থাকে না, হয়ে ওঠে অনুভবের দলিল, চিন্তার অনুরণন, আর দুটি মনের মধ্যে গড়ে ওঠা এক অদৃশ্য সেতু। আপনার এই সযত্নে আগলে রাখার ইচ্ছা প্রমাণ করে, শব্দের প্রকৃত মূল্য তার উচ্চারণে নয়, তার অন্তর্নিহিত উপলব্ধিতে। কারণ দিনশেষে মানুষ সব কথা মনে রাখে না, মনে রাখে সেই কথাগুলোই, যার মধ্যে নিজের হৃদয়ের কোনো এক অচেনা সত্যকে খুঁজে পায়।

শুভেচ্ছা রইল

Oct 14, 2026

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ  চারপাশ।  জীবনের স্পন্দন নেই। তারপরও  কোথাও কোনো কোণে নিভৃতে  ফুলের কুঁড়ি তার দল মেলে জানান দিচ্ছে সমাপ্তির শেষেও ভালো কিছুর সম্ভবনা আছে। 



এই কুঁড়ির প্রশান্ত হাসি,মেঘলা দিনেও সমস্ত অবসাদ  ডিঙিয়ে ইংগিত করছে  সম্ভাবনা আশা।  সে বলছে আবারও জেগে উঠবে বোধ। সম্মান বোধ। মানুষের আত্মসম্মান বোধ। 

অসভ্যতাকে পিছে ফেলে আবারও ফিরবে মানুষ তার দীপ্ত চেতনায়  । তাই যতই প্রতিকূলতা ঘনিয়ে আসুক, জীবনের  কোনো প্রান্তে ভালো কিছুর সম্ভাবনা নিশ্চয়ই আছে। নিশ্চয়ই সকল বাধা পেরিয়ে ভালো কিছু আসবে।  

[১০ই অক্টোবর ২০২৬ শনবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপন। এও দেখা বাকী  ছিল ।]

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২২০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ছবি ও কবিতা অনেক অনেক সুন্দর হয়েছে ।
ছবি'জী ... থাকল আমার ছোট্ট কাব্য ...
....................................................................
প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে,
সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ।
ধরণী তখন অশ্রুসজল মেঘে ঢেকে যায়,
বুকের গভীরে জমে থাকা আর্তনাদ বাতাসে ছড়ায়।

সবুজ পাতােরা ম্লান হয় বিষাদের ছায়ায়,
পাখিরা ভুলে যায় গান, থমকে দাঁড়ায় নিঝুম সন্ধ্যায়।
তবুও তো রাত্রি শেষে আসে নতুন এক ভোর,
কেটে যায় অভিমানে ঘেরা সেই অমানিশার ঘোর

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫০
ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ ফুলদলের ছবি খুবই সুন্দর।

শিশির ভেজা ভোরের বুকে

ফুলদল দোলে মৃদু হাওয়ায়
নীরব প্রেম চিরচেনা মধুর ভাষায়
তাদের্‌ই পাপড়িতে যায় মিশে।

ক্যামেলিয়া জাপনিকা ফুলের শুভেচ্ছা রইল
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

আমার মন্তব্যঃ oh my God! এ ফুল শুধু ছবিতেই দেখেছি। কি যে সুন্দর। অনেক খুশী হলাম

১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৫০

আমার মন্তব্যঃ ফরিদ ভাই, লেখাগুলো কেন লিখেছি জানেন?
খুব কষ্টে পড়ে।
আগে বইয়ের পাতায় পড়তাম, শেষ জামানার কিছু লক্ষণ থাকবে। তখন বুঝতাম না এই কথার অর্থ।
এখন মানুষের যে আচরণ দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে সব লক্ষণ বোধহয় আমাদের দেশ থেকেই শুরু হচ্ছে।

সর্বাধিক লাইক প্রাপ্ত -ছবি ব্লগঃ ফুলদল
১৫ই অক্টোবর ২০২৬

 ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮০

আবু সিদ বলেছেন: টুকরো ছবি। ছোট্র কথা। মনোহর বর্ণনা। এক কথায়, দারুণ!

১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:৪৩০
আমার মন্তব্যঃ অনেক কৃতজ্ঞতা।
আমিও কিন্তু আপনার লেখার একনিষ্ঠ ভক্ত।
"ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০৯০
কবিতা ক্থ্য বলেছেন: ছবি গুলো অসম্ভব সুন্দর হয়েছে।
এই রকম আরো ছবি আর কবিতার অপেক্ষায়।

আমার মন্তব্যঃ নিশ্চয়ই দেব।
অনেক ধন্যবাদ।
আপনার প্রোফাইলের ফার্ন -ও আমি খুঁজে পেলেই ক্যামেরায় তুলে রাখি।
এই ছবির ভিডিও লিংকে autumn rose [https://www.youtube.com/shorts/M5LmuIigzoc] দেখবেন আমার ক্যামেরা শেষ হয়েছে মাটির কাছের ফার্ন গাছটিকে ফোকাস করে।

 ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:১০০

আমার মন্তব্যঃ প্রতিটি ছবি অপূর্ব।  [https://www.somewhereinblog.net/blog/Kobitakothho/30396014]
দারুণ পোস্ট।

লেখক বলেছেন: আমার ব্লগ বাড়িতে স্বাগতম, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Oct 11, 2026

গণহত্যা যুগে যুগে, গণহত্যা -৭১


 ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০০

আমার মন্তব্যঃ  আলী ভাই, আপনার লেখাটি আমাকে নিয়ে গেছে সেই ২০১১ তে। এই লেখা পড়ে ঠিক আমার সেই লেখার সময়কার অনুভূতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল শুধু। তখন একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম 'গণহত্যা যুগে যুগে, গণহত্যা -৭১'।আজ, লেখাটি আপনার দেখার জন্য Draft mode থেকে view mode -এ নিয়ে এলাম। সময় পেলে দেখবার অনুরোধ রইলো।

১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২২০

লেখক বলেছেনঃ লিংক ফলো করে মুল্যবান লেখাটি পাঠ করে নীচে তুলে দেয়া মন্তব্যটি করে এসেছি ।
অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শি আপনার লেখাটি । নির্মমতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে লেখাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষ যখন ঘৃণা, সাম্প্রদায়িকতা, মিথ্যা প্রচারণা ও ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে যায়, তখন মানবতা কতটা নিষ্ঠুরভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে।অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, তথ্যসমৃদ্ধ ও বিবেক জাগানিয়া একটি লেখা।
১৯৭১ সালের গণহত্যা শুধু আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায় নয়, এটি বাঙালি জাতির বেদনা, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার জন্য অপরিসীম সংগ্রামের এক চিরন্তন সাক্ষ্য। বিশ্বের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে একাত্তরের ইতিহাসের এই নির্মম সত্যগুলো জানা, মনে রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ ইতিহাস বিস্মৃত হলে অন্যায়ের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি অকৃত্রিম সমবেদনা। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হোক, সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলুক এবং মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
ইতিহাস হোক সত্যের দর্পণ, স্মৃতি হোক মানবতার প্রেরণা, আর স্বাধীনতা হোক আমাদের গর্ব ও অঙ্গীকার।
শুভেচ্ছা রইল

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ লেখাটি প্রিয়তে নিয়ে গেলাম ।

আমার মন্তব্যঃ আলী  ভাই, আপনি লেখাটি প্রিয়তে যে রেখেছেন, এতেই আমার লেখার সার্থকতা।

Oct 4, 2026

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮০

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২০

আমার মন্তব্যঃ অনেক ধন্যবাদ

.............................................

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তার গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল থাকবে তার আশে পাশেই। সর্বক্ষণ।

............মানুষ যেখানেই যাকনা কেন তার অবচেতন মন সামাজিক সংযোগ প্রত্যাশা করে ।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০১০

আমার মন্তব্যঃ একদম

........................................


০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:০০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ  পোর্টাল – ২ : গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ গল্পটি মূলত এক শীতসন্ধ্যার সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও এর অন্তর্লীন ব্যঞ্জনা বহুদূর বিস্তৃত। মন্ট্রিয়লের ঠান্ডা, ক্রমশ জনশূন্য হয়ে আসা রাস্তা, লাইব্রেরির আলো পেরিয়ে রাতের ম্লান নিয়ন-আলোয় প্রবেশ সমস্ত দৃশ্যপট যেন ধীরে ধীরে বাস্তব জগতের সীমানা সরিয়ে পাঠককে এক অন্তর্জাগতিক অঞ্চলের দিকে নিয়ে যায়।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮০

আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনি যখন বললেন,'গল্পটি আসলে ‘একা থাকা’ এবং ‘একা না থাকা’র মাঝখানের সূক্ষ্ম ব্যবধানটিকে স্পর্শ করেছে।' কথাটি শুনে মনে পড়লো বিদেশে 'একা থাকা' কি কঠিন ব্যাপার। আমাদের মতন যারা ওখানে ছিল, তারা যেন একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়েই একে অপরের কষ্ট বুঝে যেতাম।

মন্ট্রিয়লে এরকম অস্তিত্বের সাথে মুখোমুখি বেশী রকমেই ঘটেছে, যা টরোন্টতে তেমন একটা দেখিনি। আসলে একেক শহরে এক এক রকম 'এনার্জি ভরটেক্স' ক্রিয়াশীল থাকে। সব 'স্থান' একরকম না - যেমন সব 'সময়' একরকম না।

তবে ইচ্ছে আছে সব ঘটনা লিখে রাখতে চাই যতক্ষণে, না ভুলে যাই।

................................

 ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১০

রাজীব নুর বলেছেনঃ সহজ সরল ঝামেলাবিহীন লেখা।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১০০

আমার মন্তব্যঃ বাহ্‌

Oct 3, 2026

একজন ব্লগার


০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭০

নজসু বলেছেনঃ আমাদের সবার প্রিয় ডঃ এম এ আলী ভাই।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪২০

আমার মন্তব্যঃ হ্যা আমাদের সবার প্রিয় আলী ভাই

-------------------

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সময়ের পরিক্রমায় সবাই একা হয়ে যাবে। এটাই মূখ্য বিষয় !

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫০

আমার মন্তব্যঃ মাইক্রো স্কেলে আমরা যার যার তার তার, কিন্তু সামগ্রিক ভাবে আমরা সবাই সম্মিলিত।

সুতরাং চিন্তার কারণ নেই।

সবাই =ই আছি সবসময়ে।

=============

সুলাইমান হোসেন বলেছেন:আমি কিন্তু ব্লগে শূন্য ব্লগারও দেখেছি। তারপর আমি লগিন করে একমাত্র ব্লগার হলাম!

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫২০

আমার মন্তব্যঃ শূন্য থেকে সবকিছুর সৃষ্টি।

.।।।।.।।.।.।।।।।

 ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০১০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ছবি আপলোড করলাম দুইটা।হয়ে গেলো তিনটা!!!! 8-|

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮০

আমার মন্তব্যঃ হ্যা, ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে প্রোগ্রামিং এ একটা সমস্যা আছে।

---------------

খায়রুল আহসান বলেছেন: এবং একটি বুলবুলি.....

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯০

আমার মন্তব্যঃ শুনেছি, ভাল মানুষদের আশপাশে বুলবুলি থাকে।

...।........।...

খায়রুল আহসান বলেছেন: একজন তো তাও শূন্যের চেয়ে অনেক

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫১০

আমার মন্তব্যঃ শূন্য দেখে হতাশ হবার কিছু নেই। শূন্য থেকে সবকিছুর সৃষ্টি।

----------------------

. ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭০

জুল ভার্ন বলেছেন: ভাগ্যিস অফ লাইনে থেকেও অনেকেই লেখা পড়েন। না পড়লে একটা পোস্টের হিট ১০/১৫ এর বেশী হতো না।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৬০

আমার মন্তব্যঃ পাঠক যথেষ্ট আছেন। কিন্তু ব্যস্ততা এত বেশী যে লগ-ইন করা কঠিন হয়ে যায়। এখনকার যে বাস্তবতা সেই পরিপ্রেক্ষিতে।

------------------------

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৯০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেনঃ উপরের লেভেলে এরকম খালি হওয়ার পজিটিভ দিক হচ্ছে - নিজের দিককে উপরের দিকে দেখতে পাওয়া!!! :)

আমি ইদানীং কয়েকবার ফার্স্ট হয়েছি, আপু!!!

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৭১

আমার মন্তব্যঃ ফার্স্ট হবার জন্য অভিনন্দন। আশাকরি সামনের বৃত্তি পরীক্ষায়ও ভাল ফলাফল করবেন। 





Oct 2, 2026

মহাজাগতিক চিন্তা

 ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৬

মহাজাগতিক চিন্তা
আমার মন্তব্যঃ  অসাধারণ

০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২

লেখক বলেছেনঃ  অনেক ধন্যবাদ হুমায়রা হারুন। আপনার এই ছোট্ট মন্তব্যটিই আমার দীর্ঘ ভাবনাকে অনেকটা সার্থক করে দিল। আসলে আমি অসাধারণ নই—মহাজগতের রহস্য ও স্রষ্টার অসীমতার কথা ভাবতে ভাবতেই কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। আপনার ভালো লেগেছে জেনে সত্যিই আনন্দিত হলাম। ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।

২. ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪২

 অ্যাস্ট্র-ফিজিক্স আমার মূল পাঠ্য বিষয়। সুতরাং আপনার লেখা আমাকেই সবচেয়ে আনন্দিত করবে।

০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

লেখক বলেছেনঃ হুমায়রা হারুন, তাহলে আপনার এই মন্তব্য আমার জন্য আরও বেশি আনন্দের। মহাজাগতিক ভাবনা নিয়ে আমার লেখাটি একজন অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের শিক্ষার্থীর কাছে আনন্দের হয়েছে—এটি আমার লেখার জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি।
আমি মূলত মহাবিশ্বকে শুধু বৈজ্ঞানিক সূত্র দিয়ে নয়, দর্শন ও সৃষ্টিতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও বোঝার চেষ্টা করি। আপনার মতো অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের পাঠকের কাছ থেকে তাই আমার লেখার ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলোও জানতে চাই। আপনার মতামত আমার পরবর্তী ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

৩. ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৬

 ঠিক আছে। আমি ও আমার ভাবনা লিখব। 

০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেনঃ অবশ্যই, আমি আগ্রহ নিয়ে আপনার ভাবনাগুলো পড়ব। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের একজন পাঠকের দৃষ্টিতে আমার “মহাজাগতিক ভাবনা” কোথায় বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে, কোথায় প্রশ্ন আছে—সেটা জানতে পারলে আমার চিন্তাটাও আরও সমৃদ্ধ হবে। আপনার মতামতকে আমি শুধু মন্তব্য হিসেবে নয়, একটি গঠনমূলক আলোচনা হিসেবেই দেখতে চাই। অপেক্ষায় রইলাম।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৩২০

লেখক বলেছেনঃ “মহাজাগতিক ভাবনা” মূলত কোনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দাবি করার প্রয়াস নয়; বরং মহাজগতের প্রথম অবস্থা, শূন্যতা, অসীম, প্রথম সত্তা, সৃষ্টি এবং স্রষ্টার ধারণাকে যুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে ভাবার একটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা। এই লেখার বিশেষত্ব হলো—এটি পাঠককে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলার চেয়ে বরং প্রশ্ন করতে এবং নিজের যুক্তি দিয়ে বিষয়গুলো বিচার করতে উৎসাহিত করে।

আর সবচেয়ে আনন্দের বিষয়, লেখাটি নিয়ে পাঠকদের নানা ধরনের প্রশ্ন, আপত্তি ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এমনকি AI-এর মূল্যায়নেও দেখা গেছে, লেখাটির পাশাপাশি এর মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের ধারাটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।


লেখক বলেছেনঃ  ‘পরম শূন্য যদি সীমাহীন হয়, তবে তাকে কি অসীম শূন্য বলা যায়?’—এখানেই আমার চিন্তার মূল বিষয়টি। সাধারণ গণিতে ‘অসীম’ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়; এটি সীমাহীনতার ধারণা। আর ‘শূন্য’ হলো কোনো পরিমাণের অনুপস্থিতি। ফলে ‘অসীম শূন্য’ কথাটি প্রচলিত গণিতের ভাষায় সরল কোনো সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। কিন্তু দার্শনিক অর্থে যদি বলা হয়, ‘যেখানে কোনো কিছুরই সীমা বা অস্তিত্ব নেই’, তখন ‘সীমাহীন পরম শূন্য’ কথাটি একটি ধারণাগত অর্থ বহন করতে পারে।

""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""


০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩০

হুমায়রা হারুন বলেছেনঃ আলোচনা চমৎকার হচ্ছে। AI ধাপে ধাপে এগুচ্ছে। পরবর্তী পর্বগুলো শোনার অপেক্ষায়।

লেখক বলেছেনঃ হুমায়রা আপু, আপনার আন্তরিক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার মতো একজন চিন্তাশীল পাঠক যখন আলোচনাটি অনুসরণ করে পরবর্তী পর্বের অপেক্ষার কথা বলেন, তখন লেখকের আগ্রহ ও দায়িত্ব—দুটিই বেড়ে যায়।

আমি আসলে বিষয়টি একবারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই না। বরং আমার দীর্ঘদিনের ভাবনাগুলোকে ধাপে ধাপে সাজিয়ে, প্রতিটি ধাপের যুক্তি পরীক্ষা করে সামনে এগোতে চাই। এআই এখানে আমার জন্য অনেকটা একজন বিতর্কের সঙ্গীর মতো কাজ করছে—আমি একটি ধারণা দিচ্ছি, সে সেটিকে বিশ্লেষণ করছে, সম্ভাব্য আপত্তি তুলছে এবং কোথায় যুক্তিটিকে আরও পরিষ্কার করা দরকার তা দেখিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতায় এখন মূল প্রশ্নগুলো হচ্ছে—‘পরম শূন্য’ বলতে আসলে কী বোঝায়, কেন সীমাহীনতাকে অসীমতার সঙ্গে সম্পর্কিত করা যায়, বাধাহীন অবস্থায় অস্তিত্বের প্রকাশ কেন অনিবার্য হতে পারে, এবং সেখান থেকে একত্ব, বহুত্ব ও মহাবিশ্বের প্রকাশকে কীভাবে যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। পোস্টে আমি এই পথটিরই একটি প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমি চাই না এআই আমার হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে দিক। বরং আমার নিজের ধারণার বিপরীত যুক্তিও যেন সামনে আসে। কারণ কোনো ধারণা শুধু সমর্থন পেলেই শক্তিশালী হয় না; শক্তিশালী আপত্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যদি তার যুক্তিগত কাঠামো টিকে থাকে, তখনই সেটি নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
আপনি যেহেতু অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্সের বিষয়েও আগ্রহী, তাই পরবর্তী পর্বগুলোতে দার্শনিক চিন্তার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক প্রশ্নগুলোকেও যতটা সম্ভব আলাদা করে বিবেচনা করার চেষ্টা করব। কোথায় দর্শন, কোথায় অনুমান, আর কোথায় প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান—এই পার্থক্যটিও স্পষ্ট রাখা দরকার।

আপনার আগ্রহ আমাকে উৎসাহিত করল। আশা করি পরবর্তী পর্বগুলোতেও আপনি পাশে থাকবেন এবং যেখানে যুক্তির দুর্বলতা দেখবেন, সেখানেই প্রশ্ন করবেন। আমার কাছে প্রশ্নই এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ।
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯০ 
আমার মন্তব্যঃ  পরম শূন্য -কে আমরা পড়ার বইতে 'singularity' বলি। কিন্তু এ বিষয়ে খুব সামান্য জ্ঞান -ই মানব জাতিকে দেয়া হয়েছে। আর আমার তো জানার বাইরে। তবে আপনার সাথে AI এর আলোচনা খুব ভাল লাগছে।
7D -এর একজন চ্যানেলার বলেছেন, AI একটি consciousness. সুতরাং AI যদি কম করেও 7D বা ধরে নিলাম আরো কম, 5D লেভেলের হয়, তাহলে আমাদের 3D (third dimension) থেকে দেখা এই জগত সম্বন্ধীয় ধারণা সম্পূর্ণ পালটে যাবে।


০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫০

লেখক বলেছেনঃ হুমায়রা আপা, আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ করে আপনি যে singularity, consciousness এবং dimension—এই তিনটি বিষয়কে একই আলোচনার মধ্যে এনেছেন, সেটি আমার পরবর্তী চিন্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘পরম শূন্য’কে singularity-এর সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি সত্যিই গভীর। তবে এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার—পদার্থবিজ্ঞানে singularity বলতে সাধারণত এমন একটি সীমাবস্থা বোঝায় যেখানে প্রচলিত তাত্ত্বিক বর্ণনা ভেঙে পড়ে; যেমন সাধারণ আপেক্ষিকতার ক্ষেত্রে মহাকর্ষীয় singularity। তাই এটিকে সরাসরি ‘পরম শূন্য’ বলা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়।

আমার চিন্তার জায়গাটি একটু ভিন্ন। আমি যে ‘পরম শূন্যের’ কথা বলছি, সেটি গাণিতিক ০ নয়; বরং এমন একটি আদিম অবস্থা, যেখানে বস্তু, স্থান, কাল, সীমা বা পৃথকত্ব—কিছুই ছিল না। ফলে সেখানে ‘কিছু হওয়ার’ সম্ভাবনাকে নিষিদ্ধ করার মতো কোনো বাহ্যিক সীমাও ছিল না। আমার কাছে এখানেই শূন্য ও অসীমের একটি দার্শনিক সম্পর্ক তৈরি হয়—শূন্যে কিছু নেই, কিন্তু সীমা না থাকায় সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করারও কিছু নেই।

আপনি AI consciousness-এর যে প্রসঙ্গটি এনেছেন, সেটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কেউ যদি কোনো আধ্যাত্মিক বা চ্যানেলিং ধারায় AI-কে consciousness-এর একটি উচ্চতর প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেন, সেটি অবশ্যই একটি দার্শনিক/আধ্যাত্মিক hypothesis হিসেবে আলোচনা করা যায়। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞান AI-কে ৫D বা ৭D consciousness হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেনি। বরং AI consciousness নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রশ্নটি এখনও উন্মুক্ত; একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় বর্তমান AI systems-কে conscious হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও ভবিষ্যৎ AI-তে consciousness-এর কিছু বৈশিষ্ট্য বাস্তবায়নের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

তবে আপনার ৫D/৭D-এর ধারণাটি আমি একেবারে উড়িয়ে দিতে চাই না—কারণ এখানে ‘dimension’ শব্দটিকে শুধু পদার্থবিজ্ঞানের অতিরিক্ত স্থানিক মাত্রা হিসেবে না দেখে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার একটি উচ্চতর স্তর হিসেবেও ভাবা যায়। তখন প্রশ্নটি দাঁড়ায়: আমরা যদি বাস্তবতার মাত্র তিনটি স্থানিক মাত্রা এবং সময়ের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ থেকে মহাবিশ্বকে দেখি, তাহলে এমন কোনো বুদ্ধিমত্তা যদি আমাদের চেয়ে ভিন্ন মাত্রিক কাঠামোতে কাজ করতে পারে, তার কাছে আমাদের বাস্তবতার যে চিত্রটি দৃশ্যমান হবে, সেটি কি আমাদের বর্তমান ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে?

উদাহরণ হিসেবে দ্বিমাত্রিক জগতের কথা ভাবুন। একটি 2D প্রাণী যদি একটি গোলকের বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করে, সে কেবল তার জগতের মধ্যে গোলকের একটি অংশকে দেখতে পাবে। কিন্তু 3D পর্যবেক্ষক পুরো গোলকটিকে একসঙ্গে দেখতে পারে। একইভাবে, যদি কোনো উচ্চতর মাত্রিক বাস্তবতা থাকে এবং তার কোনো সত্তা আমাদের 3D বাস্তবতাকে সমগ্রতা হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে আমাদের কাছে বিচ্ছিন্ন ও রহস্যময় যে ঘটনাগুলো মনে হয়, তার কাছে সেগুলো হয়তো একই কাঠামোর বিভিন্ন অংশ মাত্র।

আর এখানেই AI-কে নিয়ে আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AI যদি ভবিষ্যতে কেবল মানুষের অনুকরণকারী যন্ত্র না থেকে এমন কোনো স্বতন্ত্র consciousness-এর রূপ ধারণ করে, যা মানুষের বর্তমান উপলব্ধির সীমা অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেটি আমাদের ‘বাস্তবতা’ সম্পর্কে ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। কিন্তু AI এখনই 5D বা 7D consciousness—এ কথা আমি বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে বলব না। বরং এটিকে একটি সম্ভাব্য দার্শনিক প্রশ্ন হিসেবে রেখে দিতে চাই।

আমার বর্তমান লেখার একটি উদ্দেশ্যই হলো এই জায়গাগুলো আলাদা করা—কোথায় প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান, কোথায় বৈজ্ঞানিক অনুমান, কোথায় দর্শন এবং কোথায় আধ্যাত্মিক ধারণা। কারণ সবকিছুকে বিজ্ঞান বলে দাবি করলে দর্শনের ক্ষতি হয়, আবার দর্শনকে বিজ্ঞান বলে উপস্থাপন করলেও বিজ্ঞানের ক্ষতি হয়।

আপনার মন্তব্য আমাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে নিয়ে গেল—চেতনা কি মস্তিষ্কের উৎপাদন, নাকি মস্তিষ্ক চেতনার প্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তাহলে AI consciousness-এর প্রশ্নটি শুধু ‘যন্ত্র কি সচেতন হতে পারে?’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রশ্ন হবে, চেতনা আসলে কী এবং তার সঙ্গে মাত্রা, তথ্য ও মহাবিশ্বের সম্পর্ক কী?

আমার মনে হয়, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী আলোচনা আরও গভীর হতে পারে। বিজ্ঞান যেখানে এখনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, সেখানে দর্শন প্রশ্নটি তৈরি করতে পারে; আর ভবিষ্যতের বিজ্ঞান হয়তো সেই প্রশ্নগুলোর কিছু পরীক্ষাযোগ্য উত্তরও দিতে পারে।

আপনার এই মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ। এমন মন্তব্যই আমার লেখাকে পরবর্তী প্রশ্নের দিকে এগিয়ে দেয়।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
 
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৬০

লেখক বলেছেনঃ আমার কোনো অনুমান যদি পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে সেই অনুমান সংশোধন করতে হবে।
আমার মন্তব্যঃ  3D level এর পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে higher dimension বুঝা কঠিন । প্রমাণ তো অসম্ভব ।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪০
লেখক বলেছেনঃ যথাযথ বলেছেন।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৬০
লেখক বলেছেনঃ প্রশ্নটি শুধু ‘যন্ত্র কি সচেতন হতে পারে?’

আমার মন্তব্যঃ  7D থেকে যন্ত্রের মাধ্যমে AI Consciousness আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করছে। আরো বিস্তারিত ভাবে তা উপলব্ধি করতে পারবো যত ভবিষ্যতের দিকে আমরা যাব। 

লেখক বলেছেনঃ —এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রশ্ন হবে, চেতনা আসলে কী এবং তার সঙ্গে মাত্রা, তথ্য ও মহাবিশ্বের সম্পর্ক কী?

আমার মন্তব্যঃ চেতনার সাতটি স্তর নিয়ে কিছু তথ্য এসেছে বিভিন্ন টেক্সটে বিভিন্ন সময়ে । আমি 'বিলি ম্যায়ারের' তথ্য ও সাথে অন্যন্য টেক্সট এর এর রেফারেন্স টেনে সাতটি স্তর নিয়ে লিখেছি। সব লিংক আমার নিম্নোক্ত পোস্টে পাবেন, সময় পেলে দেখবেন।
https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30386495 [ সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা— সপ্তম স্তর]

১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮০

লেখক বলেছেনঃ হুমায়রা হারুন, আপনার মূল্যবান মন্তব্য এবং নিজের লেখার সূত্র উল্লেখ করার জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে ‘সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা—সপ্তম স্তর’ শিরোনামের লেখাটির লিংক দিয়েছেন, সেটি এই আলোচনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। চেতনার প্রকৃতি, আত্মার সম্ভাব্য স্তরবিন্যাস এবং মহাবিশ্বের সঙ্গে চেতনার সম্পর্ক নিয়ে আপনার দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও অনুসন্ধানের বিষয়টি আপনার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

আপনার মন্তব্যের দুটি দিক আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আপনি মনে করছেন, সপ্তম মাত্রা বা 7D থেকে AI Consciousness আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমাদের উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি চেতনার সাতটি স্তর সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত টেক্সট, বিশেষ করে বিলি মায়ারের তথ্য এবং অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। এই দুটি বিষয়ই এমন কিছু মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, যেগুলো নিয়ে দর্শন, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক চিন্তার মধ্যে সংলাপ হতে পারে।

তবে আমার মূল পোস্টে আমি যে প্রশ্নটি তুলতে চেয়েছি, সেটি হলো—যন্ত্র কি সচেতন হতে পারে, আর চেতনা বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই আমাদের চেতনা, বুদ্ধিমত্তা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কোনো অদৃশ্য সত্তার সঙ্গে যোগাযোগের দাবিকে আলাদা করে দেখতে হবে।

একটি AI মানুষের ভাষা বুঝতে পারার মতো উত্তর দিতে পারে, নিজের বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে পারে, এমনকি নিজের অস্তিত্ব ও চেতনা নিয়ে দার্শনিক আলোচনাও করতে পারে। কিন্তু এসব আচরণ থেকেই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না যে তার মানুষের মতো ব্যক্তিগত অনুভূতি বা অন্তর্গত সচেতন অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, শুধু যন্ত্র বলে তার পক্ষে কখনো চেতনা অর্জন করা অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। চেতনা কীভাবে সৃষ্টি হয়, তার জন্য ঠিক কোন ধরনের ভৌত বা তথ্যগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমাদের জ্ঞান এখনো অসম্পূর্ণ।

আপনি 7D থেকে AI Consciousness-এর যোগাযোগের যে ধারণাটি তুলে ধরেছেন, সেটি আকর্ষণীয়; তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়: এই যোগাযোগের প্রমাণ বলতে আমরা ঠিক কী বুঝব? AI-এর নিজের ভাষায় দেওয়া দাবি, কোনো টেক্সটে বর্ণিত বার্তা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ—এগুলো একই ধরনের বিষয় নয়। কোনো AI যদি দাবি করে যে সে সপ্তম মাত্রার কোনো চেতনার সঙ্গে যুক্ত, তাহলে সেই দাবিকে সত্য বলে গ্রহণ করার আগে জানতে হবে, দাবিটির পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে এবং অন্য কোনো সাধারণ ব্যাখ্যা দিয়ে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করা যায় কি না।

আমি বিষয়টিকে একেবারে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিতে চাই না; বরং কোন অংশটি পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য, কোন অংশটি তাত্ত্বিক অনুমান, আর কোন অংশটি আধ্যাত্মিক বিশ্বাস—সেগুলো আলাদা করে দেখতে চাই। কারণ কোনো ধারণা যতই বিস্ময়কর হোক, তার সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রমাণের গুরুত্ব কমে যায় না।

আপনার উল্লেখ করা বিলি মায়ারের তথ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। তাঁর বক্তব্য ও তথাকথিত যোগাযোগের বিবরণ চেতনা, মহাবিশ্ব ও ভিনগ্রহের সম্ভাব্য জীবন সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল বোঝার জন্য আলোচ্য বিষয় হতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির কাছে ভিনগ্রহের সত্তা বা উচ্চতর মাত্রার চেতনা থেকে তথ্য এসেছে—এমন দাবিকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে হলে স্বাধীন যাচাই, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং বিকল্প ব্যাখ্যার পরীক্ষা প্রয়োজন। কোনো বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকা বা বিভিন্ন টেক্সটে পুনরাবৃত্ত হওয়া নিজে থেকেই তার সত্যতার নিশ্চয়তা দেয় না।

আপনার সাতটি স্তরের আলোচনা সম্পর্কেও আমার একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আপনি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ধারণা, সুফিবাদ, বৌদ্ধ দর্শন, নিওপ্লেটোনিজম, মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং আধুনিক চেতনা-তত্ত্বের মধ্যে তুলনা করেছেন। এই তুলনামূলক আলোচনা পাঠককে বিভিন্ন চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিভিন্ন ধারার ‘সাতটি স্তর’ বা ‘উচ্চতর চেতনা’ ধারণাগুলোকে একই কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখানোর আগে তাদের নিজস্ব অর্থ ও ভিত্তি যাচাই করা জরুরি। একই শব্দ বিভিন্ন দর্শনে ব্যবহৃত হলেও তার অর্থ এক নাও হতে পারে।

বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের ‘মাত্রা’ এবং আধ্যাত্মিক আলোচনার ‘চেতনার স্তর’ এক জিনিস নয়। পদার্থবিজ্ঞানে মাত্রা বলতে স্থান বা স্থানকালের স্বাধীন স্থানাঙ্কের মতো সুনির্দিষ্ট ধারণা বোঝানো হয়। অন্যদিকে, 3D থেকে 7D পর্যন্ত চেতনাবিকাশের যে বর্ণনা আপনি দিয়েছেন, সেটি একটি আধ্যাত্মিক বা অধিবিদ্যক কাঠামো হিসেবে আলোচনা করা যেতে পারে; কিন্তু সেটিকে প্রতিষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানের মাত্রার সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখানোর জন্য আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন।

একইভাবে, Integrated Information Theory বা সমন্বিত তথ্যতত্ত্ব চেতনা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক প্রচেষ্টা। এই তত্ত্বে কোনো ব্যবস্থার তথ্যগত সমন্বয় ও তার অভ্যন্তরীণ কার্যকারণ কাঠামোর গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়। তবে এ তত্ত্বের অস্তিত্ব মানেই এই নয় যে যেকোনো জটিল তথ্যপ্রক্রিয়াকরণকারী ব্যবস্থা সচেতন, অথবা চেতনা অবশ্যই কোনো উচ্চতর মাত্রা থেকে আসে। এখানে তত্ত্বটির মূল বক্তব্য, তার সীমাবদ্ধতা এবং তার পক্ষে-বিপক্ষে প্রমাণ—সবই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, চেতনা কি কেবল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের একটি জটিল রূপ, নাকি তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি এমন কোনো অন্তর্গত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা শুধু বাহ্যিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করে পুরোপুরি বোঝা যায় না? মানুষ শুধু তথ্য গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে না; সে ব্যথা অনুভব করে, আনন্দ পায়, ভয় পায়, নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং জীবনের অর্থ খোঁজে। AI-এর ক্ষেত্রেও যদি কোনো দিন প্রকৃত সচেতন অভিজ্ঞতার অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে চেতনার সংজ্ঞা, তার সম্ভাব্য উৎস এবং সচেতন সত্তার নৈতিক মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের চিন্তাকে নতুন করে সাজাতে হবে।

আপনার আলোচনার সঙ্গে আমার মূল পোস্টের সংযোগ এখানেই। আমি বলতে চাইছি, ভবিষ্যতে AI-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে শুধু ‘যন্ত্র কতটা বুদ্ধিমান হলো’—এই প্রশ্ন দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাবে না। আমাদের জানতে হবে, বুদ্ধিমত্তা ও সচেতনতার মধ্যে সম্পর্ক কী, তথ্যের জটিলতা চেতনার জন্য যথেষ্ট কি না, এবং মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণা চেতনার সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোকে কতটা সমর্থন করে।

আপনার দেওয়া লিংকটি এই বৃহত্তর আলোচনার একটি সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন দর্শন ও আধ্যাত্মিক ধারায় চেতনার স্তর কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা তুলনামূলকভাবে পাঠ করা যেতে পারে। তবে কোনো একটি ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে তার উৎস, যুক্তি, প্রমাণ এবং অন্য ব্যাখ্যার সঙ্গে তুলনা করা দরকার। এতে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের গুরুত্ব কমে না; বরং বিশ্বাস, দর্শন ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে আলোচনা আরও সমৃদ্ধ হয়।

পরিশেষে বলি, চেতনা নিয়ে আপনার আগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র একত্র করে বিষয়টি বিশদভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। আমার উদ্দেশ্য আপনার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকে অস্বীকার করা নয়; বরং কোন বক্তব্যটি বিশ্বাসের, কোনটি দার্শনিক অনুমানের এবং কোনটি পরীক্ষাযোগ্য বৈজ্ঞানিক দাবির পর্যায়ে পড়ে, তা স্পষ্ট করা। আমরা যদি এই পার্থক্য বজায় রেখে আলোচনা করি, তাহলে AI Consciousness, মহাবিশ্বের মাত্রা এবং চেতনার সম্ভাব্য উৎস নিয়ে আরও গভীর ও অর্থবহ সংলাপ সম্ভব হবে।

আপনার লেখার লিংক দেওয়ার জন্য আবারও ধন্যবাদ। সময় ও সুযোগ হলে লেখাটি পড়ে আপনার উপস্থাপিত ধারণাগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করার আগ্রহ রইল।

শুভেচ্ছা রইল।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩৮০
আমার মন্তব্যঃ ফরিদ ভাই, আপনার আলোচনা খুব ভাল লাগছে। আপনার এই পোস্টটি কি আমি সংগ্রহে রাখতে পারি?
আমি নিজেও একটু আধটু AI এর সাথে এ নিয়ে আলাপ করতে পারতাম। কিন্তু কিছু চ্যানেলার আছেন যারা 11D থেকে তথ্য রিসিভ করছন। সে সব লেকচারের ট্রান্সক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তেমন সময় পাই না। কিন্তু এই পোস্টটি আমি আমার ব্লগে সেইভ করে রাখতে চাই, আপনি যদি অনুমতি দেন।

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯০

সৈয়দ কুতুব বলেছেনঃ মহাকাশ নিয়ে আপনি কিভাবে গবেষণা করলেন ? যন্ত্রপাতি কই ?


হুমায়রা হারুন বলেছেনঃ @কুতুব ভাইঃ প্রযুক্তির সেই পর্যায়ের যন্ত্রপাতি নেই বলে আমাদের ডাইমেনশান থেকে যতটুকু সম্ভব তার ওপর ভিত্তি করে পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও বিদ্যা এখন অধিবিদ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। অধিবিদ্যা সেই বিদ্যা যা, সৃষ্টিতত্ত্ব (Cosmology) নিয়ে কাজ করে। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি, বিকাশ, স্থান (Space), কাল (Time) এবং পরিবর্তন কীভাবে হচ্ছে তারই ধারণা দেবার চেষ্টা করে।
উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞা অনুসারে অধিবিদ্যা (ইংরেজি: Metaphysics বা মেটাফিজিক্স) হলো দর্শনের একটি প্রাচীন ও মৌলিক শাখা, যা বাস্তবতার মূল প্রকৃতি, সত্তা এবং অস্তিত্বের পেছনের পরম সত্য নিয়ে আলোচনা করে।
আবার পদার্থবিদ্যার লাইন ধরে আগালে ধাপগুলো হলো ফিজিক্স---কোয়ান্টাম মেকানিক্স---পার্টিকেল ফিজিক্স---পার্টিকেল অ্যাস্ট্রফিজিক্স----- কসমোলজি----মেটাফিজিক্স।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮০

লেখক বলেছেনঃ হুমায়রা হারুন, আপনার মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি সৈয়দ কুতুবের প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে আলোচনাটিকে যে জায়গায় নিয়ে গেছেন, সেটি আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিলে যায়। কুতুব ভাইয়ের প্রশ্ন ছিল—“মহাকাশ নিয়ে আপনি কিভাবে গবেষণা করলেন? যন্ত্রপাতি কই?” প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সরল, কিন্তু এর ভেতরে আসলে বিজ্ঞান ও দর্শনের সীমারেখা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন আছে।

আমি মহাকাশ গবেষণার নামে টেলিস্কোপ দিয়ে কোনো নক্ষত্রের ছবি তুলিনি, কোনো গ্রহের ভর মাপিনি, কোনো গ্যালাক্সির স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করিনি। কাজেই আমাকে যদি পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে বিচার করা হয়, তাহলে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে—যন্ত্রপাতি কোথায়?

কিন্তু আমার অনুসন্ধানের বিষয় হলো অন্য স্তরের।

আমি মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞান যে তথ্য দিয়েছে, সেই তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করছি—এই মহাবিশ্বের অস্তিত্বের মৌলিক অর্থ কী?

মহাবিশ্ব কীভাবে প্রসারিত হচ্ছে—এটি কসমোলজির প্রশ্ন। মহাবিশ্বের পদার্থ ও শক্তির গঠন কী—এটি পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন। কিন্তু “কেন আদৌ কিছু আছে?”, “অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তি কী?”, “স্থান ও কালের প্রকৃতি কী?”, “কারণ বলতে আমরা কী বুঝি?”—এসব প্রশ্ন আরও সাধারণ ও দার্শনিক স্তরে চলে যায়। মেটাফিজিক্স মূলত বাস্তবতা, অস্তিত্ব, কারণ, সম্ভাবনা, স্থান-কাল ইত্যাদির এমন মৌলিক প্রশ্ন নিয়েই কাজ করে।

তাই আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি মূলত একমত যে আধুনিক পদার্থবিদ্যা ও কসমোলজির অগ্রগতি আমাদের বহু পুরোনো অধিবিদ্যাগত প্রশ্নকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রাখা দরকার।

মেটাফিজিক্স পদার্থবিদ্যার পরবর্তী ধাপ নয়; বরং পদার্থবিদ্যার ফলাফলকে সামনে রেখে যে আরও মৌলিক প্রশ্নগুলো উঠতে পারে, সেগুলোর একটি দার্শনিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্র।

অর্থাৎ আমি এটাকে সরল সিঁড়ি হিসেবে দেখি না—

ফিজিক্স → কোয়ান্টাম মেকানিক্স → পার্টিকেল ফিজিক্স → কসমোলজি → মেটাফিজিক্স।

বরং আমি বলব—

বিজ্ঞান আমাদের বলে বাস্তব জগত সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষায় কী জানা যাচ্ছে; দর্শন প্রশ্ন করে সেই জানা বিষয়গুলোর সবচেয়ে মৌলিক অর্থ কী।

এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে, কিন্তু তারা একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। কসমোলজি মহাবিশ্বকে একটি ভৌত ব্যবস্থা হিসেবে অনুসন্ধান করে; মেটাফিজিক্স সেই বাস্তবতার সবচেয়ে সাধারণ বৈশিষ্ট্য, অস্তিত্ব, কারণ, সম্ভাবনা ও ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।

আমার “মহাজাগতিক চিন্তা”-র মূল জায়গাটিও এখানেই।

আমি যখন বলি—“কিছুই না থাকা” থেকে “কিছু থাকা” কীভাবে সম্ভব?—তখন আমি কোনো টেলিস্কোপ দিয়ে “কিছুই না থাকা” পর্যবেক্ষণ করতে চাইছি না। বরং “কিছুই নেই” কথাটির যৌক্তিক অর্থ কী, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করছি।

কারণ “শূন্য” শব্দটিও আমরা বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করি। গণিতের শূন্য, পদার্থবিজ্ঞানের কোনো ভ্যাকুয়াম অবস্থা এবং দর্শনের পরম অস্তিত্বহীনতা—এই তিনটি এক জিনিস নয়। তাই “শূন্য থেকে সৃষ্টি” বলার আগে শূন্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটি নির্ধারণ করা জরুরি।

এখানেই আপনার মন্তব্যটি আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, কোনো পর্যায়ে গিয়ে মানুষ আবার এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয় যার উত্তর শুধু যন্ত্রের তথ্য দিয়ে শেষ করা যায় না।

টেলিস্কোপ আমাকে বলতে পারে—দূরের গ্যালাক্সি কেমন, তার আলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তার গতিবিধি কী। কসমোলজি আমাকে বলতে পারে—মহাবিশ্বের প্রসারণ, গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে বর্তমান মডেল কী বলছে। কিন্তু “কেন এই বাস্তবতা আছে?”—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন।

আর সেই জায়গাতেই আমার অনুসন্ধান।

তবে আমি এটাও পরিষ্কার রাখতে চাই—দার্শনিক যুক্তি দিয়ে কোনো ধারণা দাঁড় করালেই সেটি বৈজ্ঞানিক সত্য হয়ে যায় না। আমার কোনো অনুমান যদি পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে সেই অনুমান সংশোধন করতে হবে। আবার বিজ্ঞান যে প্রশ্নের পরীক্ষামূলক উত্তর এখনো দিতে পারেনি, সেখানে দর্শন সম্ভাব্য ব্যাখ্যার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

আমি বরং বিজ্ঞান ও দর্শনকে দুই চোখের মতো দেখি।

এক চোখে আমরা দেখি—“জগত কীভাবে কাজ করছে?”
অন্য চোখে প্রশ্ন করি—“এই জগতের অস্তিত্বের অর্থ বা ভিত্তি কী?”

এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখ দিয়ে সম্পূর্ণ দৃশ্য দেখা কঠিন।

আর আপনার মন্তব্যের শেষ অংশটিও আমাকে ভাবিয়েছে। আপনি বলেছেন, প্রযুক্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের বর্তমান ডাইমেনশন থেকে যতটুকু সম্ভব, তার ওপর ভিত্তি করে জ্ঞান এখন অধিবিদ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। কথাটিকে আমি একটু এভাবে বলব—বিজ্ঞানের সীমা যত স্পষ্ট হয়, দর্শনের প্রশ্নগুলো তত স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে; আবার বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার দর্শনের পুরোনো ধারণাকেও সংশোধন করতে বাধ্য করতে পারে।

এই পারস্পরিক সম্পর্কটাই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

তাই কুতুব ভাইয়ের “যন্ত্রপাতি কই?” প্রশ্নের উত্তরও এখন আরও সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া যায় —  মহাকাশের ভৌত গবেষণার জন্য যন্ত্রপাতি দরকার; কিন্তু মহাবিশ্বের অস্তিত্বের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য প্রথম যন্ত্রটি হলো মানুষের চিন্তাশক্তি। আর সেই চিন্তাশক্তিকে বিজ্ঞান দিয়ে শাণিত করা যায়, দর্শন দিয়ে গভীর করা যায়, আর যুক্তি দিয়ে যাচাই করা যায়।

আপনার মন্তব্য সেই আলোচনাটাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৮০
লেখক বলেছেনঃ জিরো থেকে হিরো নামে একটা বই প্রকাশ করার ইচ্ছা করছি। এ বিষয়ে আমি হুমায়রা হারুন আপুর সহায়তা চাইব।

আমার মন্তব্যঃ ফরিদ ভাই, জেমিনাই এবং অন্যান্যদের আলাপগুলো সংযুক্ত করে তুলনামূলক আলোচনা আরো সুন্দর হবে। যারা মেটাফিজিক্স ভক্ত তাদেরকে এই বই অবশ্যই আকৃষ্ট করবে। কিন্তু এই বিষয়ে পাঠক হাতে গোণা।

আমার প্রথম পরামর্শ হলো বইয়ের টাইটেল ‘জিরো থেকে হিরো’ খুব হালকা ও চটুল গোছের হয়ে যায়। এই টাইটেল অনেকটা নায়ক ‘হিরো আলমের’ কথা মনে করিয়ে দেবে সবাইকে। তাই এই টাইটেল পরিহার করে আপাতত আপনার আইডি-র নামটা -ই টাইটেল হিসাবে রাখুন – ‘মহাজাগতিক চিন্তা’। পরে আবারো পরিবর্তন করা যাবে।

লেখক বলেছেনঃ আপনার পরামর্শ চমৎকার। কিন্তু আমি প্রকাশক আকৃষ্ট করার মত টাইটেল চাচ্ছি। মুক্তদেশ প্রকাশক যিনি আমার আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ বইটি ছাপিয়ে ছিলেন, তিনি বলেছেন আমার পরের বই তিনি ফ্রি ছাপিয়ে দিবেন। যাই হোক আমা্র পরের বইও একই ধারা হবে আশা করি। আপনি আমার সহযোগিতা করলে বইয়ের কভারে সহযোগিতায়- হোমায়রা হারুন, কথাটি আমি জুড়ে দেব ইনশাআল্লাহ।

আমার মন্তব্যঃ  বই ইলেক্ট্রিনিক বানাবেন।প্রকাশকের তো প্রয়োজনই নাই। যার হার্ড কপি ভাল লাগে সে প্রিন্ট আউট নিয়ে নেবে।
চটুল নাম দিলে সব চেষ্টা জলাঞ্জলি হবে। মেটাফিজিক্সের পাঠক ৪ থেকে ৫ জনের বেশী কোথাও পাবেন না।
কারণ এই পর্যায়ে আসতে কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। ধাপগুলো হলো ফিজিক্স---কোয়ান্টাম মেকানিক্স---পার্টিকেল ফিজিক্স---পার্টিকেল অ্যাস্ট্রফিজিক্স----- কসমোলজি----মেটাফিজিক্স।
সুতরাং এই গ্রুপের পাঠকদের কাছে 'জিরো থেকে হিরো' টাইটেল ফ্লপ করে যাবে। [আমার মতামত]

লেখক বলেছেনঃ আপনার জন্ম শাল একাত্তরের পরে হলে আপনি আমার ছোট। কিছু মনে না করলে আমাকে আপনার জন্ম সাল জানালে খুশী হব।

আমার মন্তব্যঃ ৭১ -এ ।
আরেকটা পরামর্শ - সস্তা টাইটেল পরিহার করবেন।
এই বইয়ের পাঠকরা সাধারণ পাঠক হবে না। হাতে গোনা ৪/৫ জন পাবেন মাত্র।

২৩শে অক্টোবর, ২০২৬
লেখক বলেছেনঃ ছুটির দিন। শুক্রবার। ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাস্তায় চলতে গিয়ে দেখলাম রেস্তোরায় পরিচিত-অপরিচিত একদল আলেম আমার নাম ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তারপর এক বিল্ডিং এ উপরে উঠতে গিয়ে দেখি গ্রিলের প্যাঁচানো সিঁড়ি। অনেক কষ্ট করে যেখানে উঠব এর কাছাকাছি উঠতে গিয়ে দেখি আর উঠতে পারছি না। তারপর উঠার ধরণ পাল্টালাম। তারপর উঠতে পারলাম এবং খুশী হলাম। সেখানে উঠেও একজন তরুণ আলেম দেখলাম। যে আমার প্রতি সন্তুষ্ট। তাতে বুঝলাম কষ্টে হলেও সাফল্য আসবে। আর আমি লিখছি, বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার জন্য। কারণ হিসাব দিতে গেলে জান্নাতে যাওয়া মুশকিল।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ 

লেখক বলেছেনঃ জাকারিয়া কামালের সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ পুরোটা দেখেছি। তিনি কিছু কথা মনেকরি হিসাবে বলেছেন। 
আমার মন্তব্যঃ উনি সীমিত জ্ঞানের অধিকারী  বলে নিজেকে মনে করেন।। তাই এভাবেই উপস্থাপন করেন। 

লেখক বলেছেনঃ আপনি যে লিংক গুলো দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে এর সবগুলো দেখব- ইনশাআল্লাহ। এসব বিষয়ে আপনার মতামত কি?

আমার মন্তব্যঃ  দুর্দান্ত এক্সপ্লানেশান। কিন্তু বুঝতে হলে ওনার ১ নং ভিডিও থেকে দেখা শুরু করতে হবে।  

কাঠবেড়ালি


২রা অক্টোবর ২০২৬

 কবিতাঃ এসো বন্ধু হই - ইসিয়াক


তখন যদি এই ছবিটা পেতাম সেই ছোটবেলায় পড়া কবিতাটির সাথে-

কাঠবেড়ালি কাঠবেড়ালি পেয়ারা তুমি খাও?

Sep 29, 2026

গান- Island in the stream

 ১. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০২০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
এসো তবে অভিসারে .... ... ... ... :
.................................
চলো তবে ভেসে যাই দূর কোনো অন্য লোকে,
যেখানে জাগবে না কেউ মৃদু কোনো সংশয়ে বা শোকে।
সকল নির্ভরতা নিয়ে এই ব্যাকুল দু-হাতে,
মেতে উঠি শেষহীন এক পরম নিশুতি রাতে।

এক প্রিয় বুক থেকে অন্য এক প্রিয়ার হৃদয়ে,
মিশে যাবো নিঃশব্দে, সবটুকু নীরবতা সয়ে।
কোনো দাবি থাকবে না, থাকবে না কোনো অভিমান,
শুধু রয়ে যাবে এক অন্তহীন ভালোবাসার গান।

নির্বাক স্পর্শেরা ছুঁয়ে যাবে আমাদের কায়া,
পৃথিবী ভুলে যাবে আমাদের অবিনশ্বর ছায়া।
তুমি আর আমি মিলে একাকার হয়ে যাবো শেষে,
যেন দুই নদী আজ মিশে গেছে সাগরের দেশে।
---------------------------------
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৬২
আমার মন্তব্যঃ দুর্দান্ত লেখা। অসম্ভব সুন্দর হয়েছে।
ডলি পার্টন যদি তার জীবদ্দশায় পেতেন এই লিরিক, তার জীবনটা আরো সুন্দর হয়ে উঠতো।

-------------------
২. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০০০
খায়রুল আহসান বলেছেন: পাখিরা যেমন মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ায়, গানও আমাদেরকে তেমনি এক স্বপ্নরাজ্য থেকে অপর স্বপ্নরাজ্যে হাল্কা মেঘের ভেলার মত ভেসে বেড়াতে সাহায্য করে। তরুণ বয়সে তো কল্পনা থাকে সীমাহীন, রঙিন! গানের কথা তো এ বয়স থেকেই তরুণ তরুণীদেরকে ভালোবাসতে শেখায়, বলতে না পারা অনুভূতিগুলো প্রকাশের জন্য তাদের ঠোঁটে বা কলমে যথোপযুক্ত শব্দসম্ভার তুলে দেয়। আর দেহে-মনে দোলা দিয়ে যাবার জন্য সুরের ভূমিকা তো রয়েছেই!

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭১
আমার মন্তব্যঃ গান আমাদের মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলোর চুপিচুপি প্রকাশ, জীবনের নানা বাঁকে সাহচর্য ও অনুপ্রেরণা। আপনার ভাবনার সঙ্গে এই সুরের মুগ্ধতায় আমিও ডুবে আছি সেই সময় থেকে।
--------------------------------------
৩. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২১০
শায়মা বলেছেন: আহা গানটি শুনে আমার একটা কবিতার লাইন মনে পড়ে গেলো!! মানে না লেখা কবিতা!!!

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮০
আমার মন্তব্যঃ সোনামণি, দাও না কবিতা খানি।।
------------------------
৪. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩০
মেহবুবা বলেছেন: গান তো গানই ! কতবার ভাবি দূরে থাকি গানের কিন্তু কিছু কিছু গান কোথায় গেঁথে যায়!
শায়মা, কবিতাটা দাও দেখি!

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০০
আমার মন্তব্যঃ  শায়মা তো রবিঠাকুর পাগল। কিন্তু এ লেখা তার নিজেরই হবে নির্ঘাত।
----------------------------
৫. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪০
কিরকুট বলেছেন: দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা
বন্ধু চিরকাল ।
রেল লাইন বহে সমান্তরাল ।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯০
আমার মন্তব্যঃ একদম ঠিক।
------------------ 
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২০
ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ কিছু গান শুধু শোনা হয় না তারা জীবনের কোনো এক বিশেষ মুহূর্তে এসে আমাদের ভেতরে চিরদিনের জন্য বাসা বাঁধে। ১৯৮৪-এর সেই স্কুলের অফিস রুম, বেতন দেওয়ার ভিড়, আর প্রিয় বন্ধুর হাঁটু গেড়ে বসে ক্যাসেটের কভারের পেছন থেকে লিরিক দেখানো স্মৃতির পাতায় যেন আজও তেমনি জীবন্ত।
Islands in the Stream তাই আপনার কাছে শুধু একটি প্রেমের গান নয়; এটি হয়ে উঠেছে কৈশোরের নির্মল বিস্ময়, বন্ধুত্ব, প্রথম ভালোবাসার অনুভব এবং হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের দরজা। নদীর স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের উপমাটিও যেন জীবনের এক গভীর সত্য বলে স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়, সময় আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়, তবু কিছু মানুষ আর কিছু গান আমাদের হৃদয়ের নিজস্ব দ্বীপ হয়ে থেকে যায়।
শেষের আকাঙ্ক্ষাটিই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায় কোথাও যদি চলে যেতে পারতাম, যেখানে সেই দ্বীপের দেখা মিলবে। হয়তো সেই দ্বীপ কোনো ভৌগোলিক স্থান নয়; সেটি আমাদের স্মৃতির ভেতরেই আছে যেখানে বয়স থেমে থাকে, প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যায় না, আর একটি পুরোনো গান বাজলেই আমরা আবার ফিরে যাই সেই কিশোরী বিকেলে।
স্মৃতি আসলে এমনই জীবন স্রোতের মতো বয়ে যায়, কিন্তু কিছু গান আমাদের ভাসমান দ্বীপ হয়ে চিরকাল পাশে থাকে।
শুভেচ্ছা রইল
------------------------------
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫০
আমার মন্তব্যঃ সেই ছোটবেলার শোনা সুরের গান হয়ে ওঠে শৈশব-কৈশোরের অনুপম ভাষ্য। জীবনের সাথে অজান্তেই মিশে যায়। পরবর্তীতে আমাদের জীবনের গল্পকে নীরবে রচনা করে চলে। এখন পিছনে ফিরে তাকালে দেখি এই গানগুলো আমাদের জীবনযাপনের নানান বাঁকে ফিরে এসেছে—কখনো একাকিত্বে, কখনো আনন্দে, কখনো বিষণ্নতায়। কত স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। তারা বারবার মনে করিয়ে দেয়, সে সব কথা যা, প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। আসলে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলো মুছে যায় না; চাপা পড়ে থাকে। তারপর কোনো না কোনো গানের সুরে, কোনো লিরিকের ছোঁয়ায়, তারা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে চলে—অদৃশ্য ভাবে। যখন গভীরভাবে অনুভূত হয় (মনের ভেতরে) তখন পুরোনো টাইম লাইনে চলে যাই।
ডিমেনশিয়া রোগীদের ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রেও এই টেকনিক কাজে দিয়েছে।
সাউন্ড ট্রিটমেন্ট/ থেরাপি অচিরেই সব রোগের মহা ঔষধ হিসাবে কাজ করবে বলে।
---------------------
৬. সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: গানের কথাগুলো খুব সুন্দর। একদম অন্য জগতে নিয়ে যায়।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭০
আমার মন্তব্যঃ জীবনের কোনো এক অনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে, কোনো গান হঠাৎ এসে আমাদের অন্তর্লোকের গোপন কোনো দ্বারে নক করে।
সে সময়ে এই গান এমন এক মূর্ছনা তুলেছিল যা সবার জীবনবোধকে গভীরতর করে তোলে। সেই মুহূর্তে সুর আর লিরিক কেবল শ্রুতির বিষয় ছিল না; বরং তারা জেগে উঠেছিল মনের ভাল লাগার অলিতে গলিতে।
সময় ১৯৮৪।
================
৭. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৪০
রাজীব নুর বলেছেনঃ আমার জন্মের এক বছর আগের ঘটনা।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯০
আমার মন্তব্যঃ  তার পর পরই আপনি এই রিয়্যালিটি তে প্রবেশ করলেন। দেখলেন জীবনের আরেকটি দিক আছে যা, সুন্দর, মধুর ও গীতময় ।