Apr 28, 2026

শিক্ষকের মর্যাদা


২৮শে এপ্রিল, ২০২৬

আমার মন্তব্যঃ কেস স্টাডি -  

১. একটা পরিবারে ছাত্র মানসিক প্রতিবন্ধী। তাকে পড়াতে আসে সম্মানীয় পরিবারের মহিলা গৃহ- শিক্ষক। ছাত্রের মা তাকে চাকরের মতো তুচ্ছ জ্ঞান করে।

২. দ্বিতীয়  পরিবারঃ নাতনীকে আদর দেখাতে গিয়ে নানা তার নাতনীর স্কুলের দুইজন শিক্ষকের চাকরী খেয়েছে। ফলে কি হল? ছোট্ট থেকেই সেই নাতনী নিজেকে বিশাল কিছু  ভাবতেই পারে।

৩. তৃতীয় উদাহরণঃ

 মাস শেষ হলেও ছেলের গৃহ- শিক্ষককে বেতন দিতে ভুলে যায় বাবা। বাবা নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক।

৪. দশ বছরের ছাত্র এসেছে কোচিং - এ পড়তে। মহিলা শিক্ষক দেখে হাতের পেন্সিলটা তার দুই পায়ের ফাঁকের মাঝে উঁচু করে ধরে রেখেজিহ্বা বের করে ভেংচি কাটার মতো করে হাসি শুরু করলো।   এসব ব্যবহার কি বইতে লেখা থাকে? কোন বইতে লেখা থাকে? সেগুলো পড়ে শিক্ষকরা ও না হয় কিছু শিখতো।

আসলে মানসিক বিকৃতি শিখাতে হয় না। এটা নিয়ে জন্মায়। যারা এসব করে তারা মানুষরূপী বিকৃত জন্তু।

 ৫. ছাত্র এবং ছাত্রী প্রেম পিরিতি করে মুখে দাগ নিয়ে এসে বসে ক্লাশে। ডিগ্রী ক্লাশের তারা। এরাই তো তাদের শিশুকাল থেকে  অনেক  বিকৃত জ্ঞান রাখতো।

৬. ছাত্রী  ভাইভা  ভোসি  পরীক্ষার দিনে  এক্সাম  কক্ষে ঢুকে পিঠ ঘুরিয়ে বোর্ডে লেখার সময়ে   পাতলা  ব্লাউজের ভেতর দিয়ে ব্রা এর স্ট্র্যাপ দেখায় । সারা কলেজ জীবনে সে ঐ রকম পাতলা ব্লাউজ কখনোই পরে নাই। পিঠও খোলা রাখতো না। সেদিন যে তার কি হল! 


Apr 25, 2026

চোখ

এতদিন উপমা হিসাবে  জেনেছি   কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর   থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন। এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।  আরো কিছু সুপরিচিত এলিয়েনদের  পরিচিতি সংযুক্ত করলাম।


 GREYS: এরা সাড়ে  তিনফুট থেকে চারফুট আকারের, ছোট খাটো, পাতলা গড়ন বিশিষ্ট।  চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়, ত্বক অমসৃণ এবং  কুঁচকানো। ত্বকের বর্ণ ছাই বর্ণের।    উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। 

REPTILIANS:এরা রূপ পরিবর্তন করতে পারে ।ইংরেজীতে যাকে বলে shape shifter.  মানুষের কার্যকলাপে প্রভাব ফেলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে।

NORDICS:এরা  লম্বা, উজ্জ্বল বর্ণের, সোনালী চুল,নীল চোখের অধিকারী। ইংরেজীতে tall -blue-white বলে সবাই চেনে।এরা  শান্ত  এবং প্রজ্ঞাবান।

INSECTOIDS: পোকামাকড় সদৃশ।  উচ্চমাত্রার বুদ্ধি সম্পন্ন।  টেলিপ্যাথিক ক্ষমতা রয়েছে। এদের মাঝে Mantis being (ম্যান্টিস বিইং) খুবই সুপরিচিত।

SIRIANS:সিরিয়াস থেকে আগত মানবসদৃশ প্রজাতি। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের জন্য পরিচিত। মানুষ মূলত সিরিয়ান, লাইরান, আনুনাকির  DNA বহন করে।

HYBRIDS:মানুষ ও ভিনগ্রহীর DNA-র সংমিশ্রণে জন্ম নেওয়া সংকর প্রজাতি। 

DRACONIANS:প্রাচীন কালের ড্রাগনের মতো দেখতে। এরা নিজেদেরকে মানুষের অভিভাবক ও রক্ষক মনে করে সেই  ভূমিকায়  অবতীর্ণ হতে চায়।

ANUNNAKI:প্রাচীন ভীনগ্রহী প্রজাতি।এরা পৃথিবীতে এসে  প্রাথমিক ভাবে মানব সভ্যতার সূচনা করে।

LYRAN:লাইরা থেকে আগত বিড়ালের মতো মানবসদৃশ ভীনগ্রহী প্রজাতি।  ক্ষিপ্র গতি সম্পন্ন। অন্তর্দৃষ্টির জন্য পরিচিত।

Apr 23, 2026

প্লেতোর সাথে কথোপকথন

 https://www.somewhereinblog.net/blog/roso15/30391034

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৩৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর ভাবনা।
প্লেতো শেষমেশ ফুচকায় ধরা!
আমি সবসময় একটা কথা ভেবে অবাক হই, আর তা হলো, যারা বাঙ্গালী হয়ে জন্মায় নাই তারা 'রসমালাই' হতে বঞ্চিত হয়েছে।
আমরা জাতি হিসাবে অনেক কষ্টের মাঝেও কিছু কিছু জিনিস পেয়েছি যার তুলনা হয় না। [খাবারটুকুই বললাম। বাকীটুকু বললে তো শেষ করা যাবে না।] আপনার সাথে প্লেতোর আবার higher dimension এর কথামালা নতুন করে তখন পর্বে পর্বে শুরু করতে হবে।
প্লেতো ভাববেন, 'আমি এত কিছু ভাবি , কিন্তু এই বাঙ্গালী জাতির বিষয়গুলো কিভাবে স্কিপ করে গেলাম?!!! এক জীবনে আসলে জানার শেষ হয় না।'

Apr 22, 2026

ছবি ব্লগ -২

 




২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪০
ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ

টরেন্টোর সর্যাস্তের আলো-আঁধারী রঙিন ছবি যেন কথা বলে
নীরব রাতের গভীরতার ক্ষনে রেখে যায় রঙ্গীন এক আহ্বান
৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় টরেন্টোর আকাশে সন্ধ্যায়
সূর্যের শেষ উঁকি, নীরবে ফুরায় দিনের গান।

সূর্য চলে যায় অস্তাচলে ধীরে, তার চেনা পথ বেয়ে
অস্তাচলেও রেখে যায লালিমা সারা আকাশ জুড়ে
ক্যমেরার আলতো ছোঁয়ায় রেখে যায আলোছায়া
নিভে যাওয়া দিনের স্মৃতি রঙিন আভায় ঘুরে হেথায়।

সেই লালিমায় জেগে ওঠে হারানো দিনের অনুভব
দিগন্তে আঁকা থাকা সেই শেষ আলোয় মলিন রেখা
রাতের কোলে চাঁদের আলো অনুবাদ করে নীরবতা
তবু মনের গহীনে কিছু অব্যক্ত থেকে যায় লেখা।

আলো-আঁধারের এই খেলা চিরন্তন জীবনের মতো
টরেন্টোর প্রকৃতি নীজের মতই বলে তার কথা।

সুন্দর ছবিগুলির জন্য ধন্যবাদ

শুভেচ্ছা রইল




২২শে এপ্রিল, ২০২৬
আলী ভাই, আপনার কবিতাটি ছবিতে সূর্যাস্তের মুহূর্ত, প্রকৃতির রঙিন আবহ ও দিনের স্মৃতিকে অত্যন্ত কাব্যিক ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে। সূর্য ধীরে ধীরে অস্তাচলের দিকে চলে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া লালিমা আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে —এই ফটোগ্রাফ দর্শকের মনে এক অনন্ত মুগ্ধতা সৃষ্টি করে। divine beauty যাকে বলে। ক্যমেরার আলতো ছোঁয়ায় আলোছায়ার খেলা এবং নিভে যাওয়া দিনের  ছবি স্রষ্টা আঁকেন আকাশের ক্যানভাসে। ক্যমেরার মাধ্যমে তা দেখা ও আমদের অনুভূতি স্রষ্টার অঙ্কনকে আরও আবেগময় ও বিস্ময়ে বিমুগ্ধ করে তোলে। কিন্তু  সেই সৌন্দর্য্যকে কথায় প্রকাশ করার জন্য ভাষার ওপর যে দখল প্রয়োজন হয়, তা আপনার গড্‌ গিফটেড প্রতিভা।

 আপনার কবিতাটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতিপ্রেম ও স্মৃতির মায়া প্রকাশে এক কথায় অসাধারণ ।

Apr 16, 2026

Lake অন্টারিও

 ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৪৫০

নজসু বলেছেনঃ  সবগুলো ছবি সুন্দর। দারুণ! মেঘলা কিংবা বৃষ্টিস্নাত আকাশ আমার কেন জানি খুব বেশি ভালো লাগে।


১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:২৩০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আমারো বৃষ্টি ভাল লাগে, যতক্ষণ না বাইরে বের হতে হয় বৃষ্টির মাঝে, কাজ থাকলে। 

 


১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৩১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ জানালার ফাক গলে বা দিকে ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সাঁঝ বেলায় Ontario লেকের আলো-আঁধারি ছবি ভালই তুলেছেন ক্যমেরায় । ছবিগুলি যেন স্মৃতিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় আঁধার হতে আলোকোজ্জল দৃশ্যপটের দিকে ।

মনে পড়ে যায়

নিস্তব্ধ জলের বুকে

সাঁঝ নেমে আসে ধীরে

আলো আর আঁধারের খেলায়

মিশে যায় নীল গহীনে।


দূর আকাশের রঙিন ছোঁয়া

জলে আঁকে স্বপ্নের রেখা

নীরব ঢেউয়ের ফিসফিসে

হারিয়ে যায় দিনের দেখা।


হালকা কুয়াশা ভাসে জলে

চাঁদের আলো ঝরে নীরবে

Ontario লেক তখন যেন

এক রহস্যের গল্প বলে গভীরে।


শীতল হাওয়ার স্পর্শে

মন হয় কেমন অচেনা

এই আলো-আঁধারির মাঝে

নিজেকেই খুঁজি বারবার যেন।


শুভেচ্ছা রইল

১৯ই এপ্রিল, ২০২৬

আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার কবিতাটি অপূর্ব চিত্রকল্পে ভরা। প্রকৃতির সৌন্দর্য, নীরবতা, এবং অন্তর্জগতের অনুসন্ধান এখানে দারুণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

হালকা কুয়াশা আর চাঁদের মৃদু আলোতে Ontario লেকের রহস্যময়তা দর্শককে এক স্বপ্নিল আবেশে ডেকে নেয়। শীতল হাওয়ার ছোঁয়ায়, মন তখন অচেনা হয়ে ওঠে। আলো-আঁধারির এই নীরব পরিবেশে নিজেকে খুঁজে ফেরার অনুভূতি  আমাদের সকলেরই চিরন্তন এক মানবিক আকাঙ্ক্ষা। বিশেষ করে পূর্ণিমার চাঁদের আলো যখন সরল রেখার মত পড়ে পানিতে ঝিকিমিকি করে, তখন দিগন্ত জোড়া, ঘন অন্ধকারে ঢাকা জলাশয়ের প্রান্তর জুড়ে স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সূচনা করে। আমি তাকিয়ে থাকি আর মনে মনে প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
আপনার এই কবিতায় প্রকৃতি ও আত্মঅনুসন্ধানের যে মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই অনন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ কবিতাটির জন্য।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:২৪০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মেঘলা আকাশ দেখে মনও ভার হয়ে যায়
মনে পড়ে অতীতের কথা ।
ইচ্ছে করে প্রিয় জনের সাথে দেখা করা বা
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি,
নষ্টালজিয়া পেয়ে বসে সারাবেলা ।

১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ 
আমার মন্তব্যঃ আপনার অনুভূতি অত্যন্ত  বাস্তব। প্রকৃতির রূপ—মেঘলা আকাশ—মানুষের মনে  আবেগের ছায়া ফেলে। অতীতের স্মৃতি, প্রিয়জনের উপস্থিতি কিংবা হারিয়ে যাওয়া সময়গুলো যেন  আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নস্টালজিয়া আমাদের মাঝে এক মধুর বিষাদ বয়ে আনে—যা পুরনো দিনের ভালো লাগা, আনন্দ-বেদনা আর চিরচেনা মুখগুলোর ছবি মনের পর্দায় বারবার ভেসে ওঠায়।
বৃষ্টি বেলায়  প্রকৃতি আর স্মৃতির এই গভীর বন্ধন আমাদের সবারই জীবনে কখনো না কখনো এসে যায়। আপনার মন্তব্যটি প্রায় কবিতা হয়ে গিয়েছে। আসলে আপনার কাছ থেকে কবিতা আশা করছিলাম।
আপনার লেখা কিন্তু খুব ভাল।

Apr 13, 2026

মাস্ত কালান্দার


https://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/30390745

১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বেশ তথ্য সমৃদ্ধ লেখা । লাল শাহবাজ কালান্দার একজন সুফি দার্শনিক-কবি ছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দীয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন।

সোহরাওয়ার্দীয়া হল সুফি আবুল নাজিব সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সুফি তরিকা। এটি সুন্নি ইসলামের অন্তর্গত এবং এতে শাফি মাজহাব মানা হয়। এই তরিকা নিজের সিলসিলা জুনাইদ আল বাগদাদী ও আল-গাজ্জালির মাধ্যমে আলি ইবনে আবি তালিবের সাথে সম্পর্কিত করে বলে জানা যায় উইকিপিডিয়া সুত্রে ।  

১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ডন, ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনেঃ
‘মাস্ত কালান্দার’ গান
‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’-এর প্রতিটি শব্দ ভক্তি, প্রেম, আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ প্রকাশ করে। পাঞ্জাবি ভাষায় রচিত গানটির কয়েকটি লাইনের অর্থ জানা যাক, ‘ও লাল মেরি, পাট রাখিওবালা, ঝুলেলালান/ সিন্দরি দা, সেহওয়ান দা, সাখি শাহবাজ কালান্দার।
দামা দাম মাস্ত কালান্দার/ আলী দা পেহলা নাম্বার’। এর অর্থ হলো ‘হে আমার লাল, আমাকে সর্বদা রক্ষা করো, ঝুলেলাল। সিন্ধ ও সেহওয়ানের বন্ধু, প্রিয়জন শাহবাজ কালান্দার। প্রতি শ্বাসে, প্রতি মুহূর্তে—কালান্দার মহান। সবার আগে আলী (রা.)।’ এ ছাড়া গানে আছে ‘হার দম পীড়া তেরে খের হোভে/ নাম-এ-আলী বেদা পার লাগা ঝুলে লালান’, যার অর্থ ‘হে পীর, তোমার নাম সর্বদা কল্যাণে ভরা থাকুক। আলী (রা.)-এর নামে, আমার নৌকাকে তীরে পৌঁছে দাও, প্রিয় ঝুলেলাল।’

গানটি হিন্দু-মুসলমান ঐক্যেরও সংগীত। মুসলমানদের কাছে তিনি ছিলেন হজরত শাহবাজ কালান্দার; হিন্দুদের কাছে ঝুলেলাল। সিন্ধি হিন্দুরা তাঁকে স্নেহভরে ‘ঝুলেলাল’ নামেও ডাকত। কারণ, তারা বিশ্বাস করত, সমুদ্র বা পানির দেবতা ‘ঝুলেলাল’ তাঁর মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করেছে।
সিন্ধিরা যেহেতু সমুদ্রগামী মানুষ আর ঝুলেলাল হলেন সমুদ্রের রক্ষাকর্তা, তাই এখানে একটি বিনম্র প্রার্থনা লুকিয়ে আছে। সিন্ধি জনগোষ্ঠীর কাছে ঝুলেলাল অত্যন্ত পূজ্যসাধক। স্থানীয় হিন্দুরা তাঁকে জলদেবতা বরুণের অবতার মনে করেন। মুসলিমরাও তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। সিন্ধি জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি যেহেতু সিন্ধু নদকেন্দ্রিক, তাই নদের রক্ষক হিসেবে ঝুলেলাল পুরো অঞ্চলের এক সমষ্টিগত আধ্যাত্মিক প্রতীকে পরিণত হন। এমনকি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও কাঁটাতার অতিক্রম করে দুই দেশেই জনপ্রিয়তা পায় গানটি।
হিন্দু ও মুসলমান—উভয় ভাবধারার মূল্যবোধ একই বাক্যের মধ্যে মিলিত হয়েছে। গানটি সাধক ও ভক্তদের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক যোগ তৈরি করে। ভক্তিমূলক গানটির সৌন্দর্য হলো এটি ধর্মীয় পার্থক্যকে অতিক্রম করে যায়। তাই তো উপমহাদেশে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে এটি জনপ্রিয়।

যাঁরা গেয়েছেনঃ
লাল শাহবাজ কালান্দারের দরগাহ ঘিরে প্রচলিত কিংবদন্তি। তেরো শতকে মূল গানটি রচনা করেন সুফি কবি আমির খসরু। পরে আঠরো শতকে আরেক পাঞ্জাবি কবি ও বিপ্লবী বুল্লে শাহ এটি পরিমার্জন করেন। সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই শাহবাজ কালান্দারের দরগাহে এই গান গাওয়া হতো। ১৯৫৬ সালে কিছু কথা বদল করে পাকিস্তানি ছবি ‘জাবরু’র জন্য গানটির একটি ‘ধামাল’ (একধরনের সুফি নৃত্যানুষ্ঠান) সংস্করণ তৈরি করেন সুরকার আশিক হুসাইন। এটিতে কণ্ঠ দেন ইনায়েত হোসেন ভাট্টি, ফজল হুসেন এবং এ আর বিসমিল। পরে ১৯৬৯ সালে ‘দিল্লান দে সৌদে’ ছবির জন্য এটিতে আরও কিছুটা পরিবর্তন আনেন নাজির আলী। নূরজাহানের কণ্ঠে ব্যাপক পরিচিতি পায় এই সংস্করণ।
পরে নানা সময়ে বহু শিল্পী ও সুরকার এই সুফিগান করেছেন। পাকিস্তানে এই গান গেয়েছেন নুসরাত ফতেহ আলী খান, আজিজ মিয়াঁ, আবিদা পারভীন, শাজিয়া খুশক, সাবরি ব্রাদার্স, রেশমা, কোমল রিজভি, জুনুন।
ভারতের হংসরাজ হংস, ওয়াদালি ব্রাদার্স, হর্ষদীপ কৌর, নুরান সিস্টারস, আলিশা চিনাই, অমিত কুমার, বাবা সেহগল ও অলকা ইয়াগনিক, রেখা ভরদ্বাজ, রাশি সলিল হারমালকররাও এটি গেয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে এটি গেয়েছেন রুনা লায়লা, দুই দফা। প্রথমবার কবে গেয়েছিলেন, সেটা তাঁর এখন আর মনে নেই। তবে প্রথম অ্যালবামের জন্য রেকর্ড করেছিলেন ১৯৭০ সালে, নিসার বাজমির সংগীতায়োজনে আর কোক স্টুডিও বাংলার জন্য সায়ান চৌধুরী অর্ণব ও অদিত রহমানের প্রযোজনায় গীত হয়েছে।
তবে অনেকে গাইলেও নূরজাহান, আবিদা পারভীন, শাজিয়া খুশক ও রুনা লায়লার কণ্ঠেই গানটি পরিচিতি পেয়েছে বেশি।
‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ শুধু একটি গান নয়; এটি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক। গানটি যেন এই উপমহাদেশের মানুষের প্রতি বার্তা—প্রেম, সংগীত আর নৃত্য কখনো বিভাজনের কাছে হার মানে না।

আমার নিজের গাওয়া এই গানটির যদি রেকর্ড থাকতো , এখানে অবশ্যই দিয়ে দিতাম। ধন্যবাদ সুন্দর এই পোস্টের জন্য।

Apr 12, 2026

০ জন ব্লগার


১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২৬০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ এটা ব্লগারদের কৃপনতা ও হীনমন্যতার( সকলের নয় ) ফসল ।


১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৩৯০

আমার মন্তব্যঃ আমার মনে হয় সবাই বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাপেক্ষে মানসিক চাপে আছে। যার ফলে ব্লগ লেখা আর মন থেকে আসে না।




১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৯০

শায়মা বলেছেনঃ শূন্য এখন ফুলের বাগান

দোয়েক কোকিল গাহে না গান.....

কাঁশ ঝরে যায় ঝরে যায় ঝরে যায় নদীর তীরে....

গানের এই কথাগুলি মনে পড়লো আপুনি! :( 


১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০২০

আমার মন্তব্যঃ ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো-- "দীপালিকায় জ্বালাও আলো,

জ্বালাও আলো, আপন আলো, সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে।'

১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৩০
আমার মন্তব্যঃ  গানটি সম্বন্ধে তথ্য পেলাম । আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে গানটি রচিত হয়েছে। আর ঠিক ১০০ বছর পর তুমি আর আমি গানটি গাইছি।
'রাগ: বেহাগ
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বংগাব্দ): ফাল্গুন, ১৩৩৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): মার্চ, ১৯২৭
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর'

১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ
যাক অবসাদ বিষাদ কালো
দীপালিকায় জ্বালাও আলো
জ্বালাও আলো, আপন আলো
                               শুনাও আলোর জয়বাণীরে।

কবিগুরুর গানটির কিছু কথার রেশ ধরে বলতে ইচ্ছে করে-

জ্বালো আলো শুন্য সামুর বুকে
অন্ধকারের সেই গহন সুখে
যেখানে নীরব কান্না লুকায়
সেখানে দাও দীপ্তি উজ্জ্বলে।

হতাশার সে নির্জন প্রান্তে
আলো দিক পথ দিনান্তে
ভাঙুক যত শৃঙ্খল আঁধার
জাগুক প্রাণের অমৃত সুর।

জ্বালাও আলো প্রতিটি প্রাণে
হারানো সেই স্বপ্নের টানে
নব উদয়ের সোনার রথে
ফিরুক আশা সামুর ঘরে।

যেখানে ক্লান্তি যায় থেমে
যেখানে ব্যথা ক’য় না কথা
সেই নিভৃতির শুন্য বুকে
আলো দাও মুক্তির বাণীতে।

১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮০
আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার লেখা কবিতাটি যার পর নাই ভাল লেগেছে। চোখে পানি এসে গেল, সেই হারিয়ে যাওয়া- সামুর জমজমাট দিন গুলোর কথা মনে করে। আপনার কবিতাটি স্টিকি করবার জন্য মডারেশান বোর্ড- এর প্রতি অনুরোধ রইলো।


 ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

জুল ভার্ন বলেছেন: এটাই সম্ভবত সামুর ইতিহাসের কালো দিন!



২২ শে এপ্রিল, ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ সামুর প্ল্যাটফর্ম আধুনিক না করলে এমনই হবে। যেমন ধরেনঃ 
১)আমি প্রতি মন্তব্য লিখে অন্য কাউকে ট্যাগ করতে চাই। তা পারি না। 
২)আমার মন্তব্যের প্রতিউত্তর সাথে সাথেই দেয়া যায় না। নতুন টেক্সট বক্সে দিতে হয়। যা বহু মন্তব্যের পরে এসে যায়। ভাবের কনসিসটেন্সি হারায়।
৩) নতুন করে প্রতি উত্তর দিলে এবং @ সাইন দিয়ে লেখকের নাম মেনশান করলেও সেই লেখক (যার উদ্দেশে লেখা) তিনি নোটফিকেশান পান না। 
এসব বিধায়  পোস্টের নিমিত্তে কথোপকথন স্থির হয়ে পড়ে। একসময় বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ব্লগ স্তিমিত হয়ে পড়ে।
পুরোটাই টেকনিকাল ইস্যু বলে আমি মনে করি। 

Apr 4, 2026

মাকামে ইব্রাহীম

 https://www.somewhereinblog.net/blog/SyedNaser/30390420






১. ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৬

আমার মন্তব্যঃ অসংখ্য ধন্যবাদ ছবিগুলো দেয়ার জন্য। ভ্রমন অভিজ্ঞতা জানাবার জন্য।
ভাগ্যে থাকলে এরকম স্থান দেখবার সুযোগ মেলে।
আমার তো কখনো সম্ভব ছিল না এ স্থান দেখার কিন্তু আজ আপনার মাধ্যমে দেখা হয়ে গেল।

Apr 2, 2026

মহাস্থান গড় ভ্রমন

২রা এপ্রিল, ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ ভাবতে অবাক লাগে, আমার মাত্র সাত বছর বয়সেই বগুড়ার মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন হয়তো ছোট ছিলাম, চোখে ছিল সরলতা ও কৌতূহল, কিন্তু মনটা ইতিহাসের গভীরতা ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেনি। আমার চারপাশে ছড়িয়ে ছিল প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, শত শত বছরের পুরনো ইটের গাঁথুনি, প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ—সবই যেন এক রহস্যময়তায় ঘেরা ছিল।

তখন সেসব দেখেছি শিশুসুলভ কৌতূহল নিয়ে, কিছুটা অবাক হয়েছি, কিন্তু মহাস্থানগড়ের মাহাত্ম্য, এর ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতিসত্তার শিকড় যে কতটা গভীর—তা বোঝার মত জ্ঞান আমার ছিল না। আজ  অতীতের কথা ভাবতে গেলে মনে হয়, কত বড় সৌভাগ্য ছিল আমার সেই বয়সেই এমন এক ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়া। এখন বুঝতে পারি, মহাস্থানগড় শুধু ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপ নয়, বরং এটি আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও উত্তরাধিকারীর প্রতীক।

মূল্যবান লেখাটির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। 

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:১০০

লেখক বলেছেনঃ মন্তব্যের ঘরে ফুটিয়ে তোলা আপনার এই অনুভূতিপূর্ণ লেখাগুলি অবশ্যই স্পর্শকাতর, কিন্তু বিষয়টিকে আরেক ভাবে দেখারও একটি শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি আছে যা হয়তো আপনার নিজের অভিজ্ঞতাকেই আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করবে। আপনি বলেছেন, ছোটবেলায় মহাস্থানগড়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারেননি,কিন্তু সত্যি বলতে, বোঝার আগেই অনুভব করা অনেক সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুমনের যে সরলতা, বিস্ময় আর কৌতূহল সেটিই তো ইতিহাসের সঙ্গে প্রথম এবং সবচেয়ে নির্মল সংযোগ তৈরি করে। প্রাপ্তবয়স্কের বিশ্লেষণ অনেক সময় তথ্যভিত্তিক হয়, কিন্তু শিশুর দৃষ্টিতে থাকে এক ধরনের অবিকৃত বিস্ময়, যা ইতিহাসকে শুধু জানা নয়, অন্তরে ধারণ করার সূচনা করে।মহাস্থানগড় তখন আপনার কাছে হয়তো কেবল রহস্যময় ধ্বংসাবশেষ ছিল, কিন্তু সেই রহস্যবোধই তো আপনাকে আজ এই গভীর উপলব্ধিতে পৌঁছে দিয়েছে। অর্থাৎ, তখন আপনি না বুঝলেও আপনার ভেতরে একটি বীজ রোপিত হয়েছিল। আজকের এই উপলব্ধি সেই বীজেরই পরিণতি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সবকিছু বুঝে তবেই মূল্য দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতাগুলো আমরা তখনই পাই, যখন আমরা সেগুলো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারি না।

পরে ফিরে তাকিয়ে সেই স্মৃতিগুলোকেই আমরা নতুন অর্থ দিই, নতুন আলোয় দেখি। সুতরাং, এটিকে না বোঝার আক্ষেপ হিসেবে না দেখে বরং বলা যায় আপনি খুব অল্প বয়সেই ইতিহাসের সঙ্গে একটি গভীর,অনুভবনির্ভর সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

আজকের আপনার উপলব্ধি সেই অভিজ্ঞতারই স্বাভাবিক পরিণতি এবং এটিই প্রমাণ করে, মহাস্থানগড়ের মতো স্থান কেবল জ্ঞান দিয়ে নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে উন্মোচিত হয়।

শুভেচ্ছা রইল

৩রা এপ্রিল ২০২৬, রাত ৪ঃ২২

আমার মন্তব্যঃ ধন্যবাদ আলী ভাই।

আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর। 

শিশুমনের সরলতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ময় সত্যিই ইতিহাসের প্রতি এক অনন্য সংযোগ তৈরি করে, যা বয়স্কদের বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে কোথাও যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত। শিশুর চোখের সেই অবিকৃত বিস্ময় ইতিহাসকে কেবল বইয়ের পাতায় আটকে রাখে না, বরং অন্তরের গভীরে মুগ্ধতা, কল্পনা ও অনুভবের জগৎ খুলে দেয়। আমারও যে তা হয়েছে, আমি তা বুঝিনি।

বয়স্করা ইতিহাসকে বিচার করে তথ্য, যুক্তি আর বিশ্লেষণের নিরিখে, কিন্তু শিশুর সহজ, উন্মুক্ত মনে ইতিহাসের গল্পগুলো হয়ে ওঠে জীবন্ত, স্পর্শকাতর এবং চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।  

এখন উপলব্ধি করলাম, আমার সেই সময়কার শিশুমনের এই সরল সংযোগ আমাকে কেন ইতিহাসের প্রতি আন্তরিক করে  তুলেছে। এখন বুঝলাম, এই নির্মল বিস্ময় থেকেই আমার অজান্তে  তৈরি হয়েছে আমার   ভালোবাসা, যা  ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে জানার ও উপলব্ধি করার পথ প্রশস্ত করেছে। তাই বাস্তবে ঘোরাঘুরি করতে না পারলেও আমি 'Travel' ফেসবুক গ্রুপ বানিয়েছি । সেখানে সকল ঐতিহাসিক স্থানের ওপর লেখার পোস্ট এবং ছবিগুলোর লিংক আমি আমি সেইভ করে রাখি। আমাদের মতন যারা ঘুরাঘুরি করবার সুযোগ পায় নাই, তাদের জন্য আন্তর্জাল সারা পৃথিবীকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার লেখাটি না পেলে 'মহাস্থান গড়' সেই ৭-এ ই থেমে থাকতো। 


০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:৩০১

লেখক বলেছেনঃ শৈশব নিয়ে আপনার উপলব্দি সত্যিই এক গভীর মানসিক যাত্রার প্রতিফলন যেখানে শৈশবের সরল বিস্ময় ধীরে ধীরে জ্ঞানের প্রতি এক আন্তরিক অনুরাগে রূপ নেয়। মানুষের জ্ঞানচর্চার সূচনাবিন্দু প্রায়শই এই নির্ভেজাল কৌতূহলেই নিহিত থাকে; আর আপনি খুব সুন্দরভাবে সেই সূক্ষ্ম সেতুবন্ধনটি ধরতে পেরেছেন।

ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা কেবল তথ্য জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সময়ের সঙ্গে এক আত্মিক সংলাপ। আপনি যে Travel গ্রুপটি তৈরি করেছেন, সেটি আসলে শুধু ভ্রমণের বিকল্প নয় এটি এক প্রজ্ঞার ভুবন, যেখানে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে জ্ঞান ও অনুভূতির বিস্তার ঘটে। বাস্তবে না গিয়েও যে মন দিয়ে দেখা

যায়, অনুভব করা যায় আপনার উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

মহাস্থান গড় এর মতো একটি ঐতিহাসিক স্থানের প্রতি আপনার উপলব্ধির প্রসার এটাই প্রমাণ করে, শব্দের শক্তি কত গভীর হতে পারে। একটি সঠিক উপস্থাপনা কখনো কখনো আমাদের দৃষ্টিকে এমনভাবে প্রসারিত করে, যা সরাসরি অভিজ্ঞতার সমান বলেই মনে হয়।

আপনার এই জ্ঞানপিপাসা ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এভাবেই ব্যক্তিগত আগ্রহ একসময় সমষ্টিগত প্রেরণায় রূপ নেয়।


শুভেচ্ছা রইল

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬০
লেখকের ২ নং মন্তব্যের প্রতিউত্তরঃ মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আমার এই প্রয়াশটি মূলত বিস্মৃত শিকড়ের সন্ধানে বঙ্গজাতির পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে এক বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্যভিত্তিক যুক্তি নির্ভর আহ্বান।

ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ হারিয়ে যায় না; সে শুধু আড়ালে সরে যায়। ধূলিধূসর স্তরের নিচে, ভাঙা ইটের স্তূপে, কিংবা লোককথার অস্পষ্ট রেখায় সে তার অস্তিত্ব লুকিয়ে রাখে। পুন্ড্রনগর আজকের মহাস্থানগড় তেমনই এক নীরব ইতিহাস যা আমাদের চোখের সামনেই থেকেও অদৃশ্য হয়ে আছে। অথচ এই বিস্মৃত নগরীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বঙ্গ ও বাঙালি জাতির শিকড়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আমরা যখন নিজেদের পরিচয় খুঁজতে যাই, তখন প্রায়ই ইতিহাসের সাম্প্রতিক স্তরেই আটকে থাকি মধ্যযুগ,ঔপনিবেশিক যুগ, কিংবা আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে। কিন্তু এর বহু আগেই, খ্রিস্টপূর্ব শতাব্দীগুলোতে, এই ভূখণ্ডে গড়ে উঠেছিল এক সুসংগঠিত নগরসভ্যতা পুন্ড্রনগর। এটি শুধু একটি শহর ছিল না; এটি ছিল প্রশাসন, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। করতোয়ার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই নগর যেন এক প্রাচীন স্পন্দনের ধারক, যা আজও মাটির গভীরে জীবন্ত।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের জাতীয় চেতনায় এই পুন্ড্রনগরের স্থান ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। আমরা তার নাম জানি, কিন্তু তার আত্মা অনুভব করি না। আমরা তার ধ্বংসাবশেষ দেখি, কিন্তু তার ঐতিহ্যের গভীরতা অনুধাবন করি না। ফলে আমাদের শিকড়ের সঙ্গে একটি সূক্ষ্ম বিচ্ছেদ তৈরি হয়েছে যা হয়তো দৃশ্যমান নয়, কিন্তু গভীরভাবে বাস্তব।
এই প্রেক্ষাপটে নব উদ্যোগে আলোচনা শুধু একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্রয়োজন। পুন্ড্রনগরকে নতুনভাবে দেখা মানে শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য পুনরাবিষ্কার করা নয়; বরং আমাদের নিজস্ব ইতিহাস চেতনা পুনর্গঠন করা। এটি এমন এক প্রচেষ্টা, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কেবল একটি ভাষাভিত্তিক জাতি নই, আমরা একটি প্রাচীন ভূগোলভিত্তিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী।
পুন্ড্রনগরের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুধাবন করা যায় যখন আমরা দেখি, এটি ছিল বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র। এখানে বৌদ্ধ, হিন্দু এবং পরবর্তী সময়ে মুসলিম সংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, বাঙালির ইতিহাস কোনো একরৈখিক প্রবাহ নয়; এটি বহুস্বরের এক সমবেত সংগীত। সেই সংগীতের প্রাচীনতম সুরগুলোর একটি লুকিয়ে আছে পুন্ড্রনগরের স্তব্ধ ইটের মধ্যে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কেন এই ঐতিহ্যকে নতুন করে আলোচনায় আনব?
প্রথমত, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তিকে দৃঢ় করে। যে জাতি তার অতীতকে জানে না, সে তার ভবিষ্যৎও নির্মাণ করতে পারে না। পুন্ড্রনগর আমাদের শেখায়, আমরা কেবল ইতিহাসের ভোক্তা নই; আমরা ইতিহাসের ধারক।
দ্বিতীয়ত, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনে সহায়তা করে। বহিরাগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে আমরা যখন নিজেদের ইতিহাসকে নিজেদের চোখে দেখি, তখনই প্রকৃত আত্মমর্যাদা গড়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, এটি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পুন্ড্রনগর এখনো সম্পূর্ণভাবে আবিষ্কৃত হয়নি।
এর প্রতিটি স্তর, প্রতিটি নিদর্শন আমাদের সামনে নতুন প্রশ্ন তোলে, নতুন অনুসন্ধানের আহ্বান জানায়। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহাস্থানগর এলাকা তথা বগুড়ারই এক কৃতি সন্তান । পোস্টটি যদি কোন মতে তাঁর নজরে পরে তাহলে তার উদ্যোগে এমনো হতে পারে এর অনাবিস্কৃত বিষয়গুলি আবার নব উদ্যমে আবিস্কার হলেও হতে পারে , আমাদের জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুন্ড্রনগর আমাদের কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করে। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে একটি বাস্তব ভূগোল ধীরে ধীরে কাহিনি, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এক নতুন অর্থ ধারণ করে। এখানে ইতিহাস নিঃশব্দ, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেই এক গভীর আহ্বান রয়েছে নিজেকে জানার, নিজের শিকড়কে স্পর্শ করার।
আজকের দিনে, যখন বিশ্বায়নের প্রবাহে অনেক ছোট পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে, তখন পুন্ড্রনগরের মতো ঐতিহ্য আমাদের একটি স্থির ভিত্তি দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের অস্তিত্বের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত, এবং সেই শেকড়কে নতুন করে আবিষ্কার করাই আমাদের দায়িত্ব।

অতএব, পুন্ড্রনগর নিয়ে নব উদ্যোগে আলোচনা কোনো অতীতচর্চার বিলাসিতা নয়; এটি একটি প্রয়োজনীয় জাগরণ। এটি আমাদের ইতিহাসকে পুনরায় পড়ার, পুনরায় বোঝার এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

শেষে বলা যায় যে মাটি আমাদের জন্ম দিয়েছে, তার নীরব ইতিহাসের ভেতরেই আমাদের পরিচয়ের গভীরতম সত্য লুকিয়ে আছে; আর সেই সত্যকে খুঁজে পাওয়ার পথই হলো পুন্ড্রনগরের দিকে ফিরে তাকানো।

শুভেচ্ছা রইল

৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৪ঃ৪২
২ নং মন্তব্যের প্রতিউত্তরে  আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই,  আপনি  বলেছেনঃ 'পুন্ড্র নগরকে নতুনভাবে দেখা মানে শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য পুনরাবিষ্কার করা নয়; বরং আমাদের নিজস্ব ইতিহাস চেতনা পুনর্গঠন করা। এটি এমন এক প্রচেষ্টা, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কেবল একটি ভাষাভিত্তিক জাতি নই, আমরা একটি প্রাচীন ভূগোল ভিত্তিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী।'
এ কথাটি থেকে বহুদিন পর, আজ  আমার মনে পড়লো,  ছাত্র থাকাকালীন সময়ে  (চার দশক পূর্বে) আমিও চেয়েছিলাম আমি প্রত্নতত্ত্ববিদ হবো। কিন্তু সে সুযোগ না থাকাতে এবং জানবার তৃষ্ণা মেটাতে অবশেষে, (আমি) Anthropology-র উপর প্রথম বাংলায় লিখিত একটি বাংলা বই, দেখেই কিনে ফেললাম। এ বিষয়ের ওপর লেখা বই আমি, বাংলায় আগে দেখিনি ।  তারও বহুদিন পরে Anthropology বিভাগ চালু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আসলে আমার যে  একদা প্রত্নতত্ত্ববিদ হবার ইচ্ছা ছিল, বহুদিন পর আজ তা মনে পড়লো। আপনার মন্তব্যটি তা মনে করিয়ে দিল । এ জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।


০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:৪২১
লেখক বলেছেনঃ আপনার এই স্মৃতিচারণা আসলে শুধু ব্যক্তিগত অনুভব নয় এটি আমাদের সামষ্টিক বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এক নীরব দলিল। চার দশক আগে প্রত্নতত্ত্ববিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, তারপর সেই অপূর্ণতাকে জ্ঞানের মাধ্যমে পূরণ করার প্রয়াস এগুলোই প্রমাণ করে, জ্ঞানপিপাসা কখনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতায় থেমে থাকে না; বরং নিজস্ব পথ খুঁজে নেয়।

আপনি যে সময় বাংলায় Anthropology-র একটি বই হাতে পেয়ে তা আগ্রহ ভরে গ্রহণ করেছিলেন,সেটি নিছক একটি বই কেনা ছিল না বরং সেটি ছিল নিজের ভেতরের অনুসন্ধিৎসু সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার এক সচেতন সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়া যেন সেই ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলোরই এক বৃহত্তর স্বীকৃতি।

আমার উক্তিটির প্রেক্ষিতে আপনার এই প্রতিক্রিয়া আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে আমাদের ইতিহাস চেতনা কেবল প্রাচীন নগর বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন, অপূর্ণতা, এবং জ্ঞান অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আপনার ভেতরের সেই ‘অপ্রকাশিত প্রত্নতত্ত্ববিদ’ আসলে এখনো জীবিত হয়তো বইয়ের পাতায়, হয়তো চিন্তার গভীরে।
এই স্মরণই প্রমাণ করে, আমরা প্রত্যেকে কোনো না কোনোভাবে সেই প্রাচীন ভূগোলভিত্তিক সভ্যতার ধারক কেউ
পেশায়, কেউ প্রজ্ঞায়, আবার কেউ স্মৃতির ভেতর দিয়ে।

শুভেচ্ছা রইল