https://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/30390745
ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বেশ তথ্য সমৃদ্ধ লেখা । লাল শাহবাজ কালান্দার একজন সুফি দার্শনিক-কবি ছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দীয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন।
সোহরাওয়ার্দীয়া হল সুফি আবুল নাজিব সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সুফি তরিকা। এটি সুন্নি ইসলামের অন্তর্গত এবং এতে শাফি মাজহাব মানা হয়। এই তরিকা নিজের সিলসিলা জুনাইদ আল বাগদাদী ও আল-গাজ্জালির মাধ্যমে আলি ইবনে আবি তালিবের সাথে সম্পর্কিত করে বলে জানা যায় উইকিপিডিয়া সুত্রে ।
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৮
০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ডন, ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনেঃ‘মাস্ত কালান্দার’ গান
‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’-এর প্রতিটি শব্দ ভক্তি, প্রেম, আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ প্রকাশ করে। পাঞ্জাবি ভাষায় রচিত গানটির কয়েকটি লাইনের অর্থ জানা যাক, ‘ও লাল মেরি, পাট রাখিওবালা, ঝুলেলালান/ সিন্দরি দা, সেহওয়ান দা, সাখি শাহবাজ কালান্দার।
দামা দাম মাস্ত কালান্দার/ আলী দা পেহলা নাম্বার’। এর অর্থ হলো ‘হে আমার লাল, আমাকে সর্বদা রক্ষা করো, ঝুলেলাল। সিন্ধ ও সেহওয়ানের বন্ধু, প্রিয়জন শাহবাজ কালান্দার। প্রতি শ্বাসে, প্রতি মুহূর্তে—কালান্দার মহান। সবার আগে আলী (রা.)।’ এ ছাড়া গানে আছে ‘হার দম পীড়া তেরে খের হোভে/ নাম-এ-আলী বেদা পার লাগা ঝুলে লালান’, যার অর্থ ‘হে পীর, তোমার নাম সর্বদা কল্যাণে ভরা থাকুক। আলী (রা.)-এর নামে, আমার নৌকাকে তীরে পৌঁছে দাও, প্রিয় ঝুলেলাল।’
গানটি হিন্দু-মুসলমান ঐক্যেরও সংগীত। মুসলমানদের কাছে তিনি ছিলেন হজরত শাহবাজ কালান্দার; হিন্দুদের কাছে ঝুলেলাল। সিন্ধি হিন্দুরা তাঁকে স্নেহভরে ‘ঝুলেলাল’ নামেও ডাকত। কারণ, তারা বিশ্বাস করত, সমুদ্র বা পানির দেবতা ‘ঝুলেলাল’ তাঁর মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করেছে।
সিন্ধিরা যেহেতু সমুদ্রগামী মানুষ আর ঝুলেলাল হলেন সমুদ্রের রক্ষাকর্তা, তাই এখানে একটি বিনম্র প্রার্থনা লুকিয়ে আছে। সিন্ধি জনগোষ্ঠীর কাছে ঝুলেলাল অত্যন্ত পূজ্যসাধক। স্থানীয় হিন্দুরা তাঁকে জলদেবতা বরুণের অবতার মনে করেন। মুসলিমরাও তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। সিন্ধি জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি যেহেতু সিন্ধু নদকেন্দ্রিক, তাই নদের রক্ষক হিসেবে ঝুলেলাল পুরো অঞ্চলের এক সমষ্টিগত আধ্যাত্মিক প্রতীকে পরিণত হন। এমনকি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও কাঁটাতার অতিক্রম করে দুই দেশেই জনপ্রিয়তা পায় গানটি।
হিন্দু ও মুসলমান—উভয় ভাবধারার মূল্যবোধ একই বাক্যের মধ্যে মিলিত হয়েছে। গানটি সাধক ও ভক্তদের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক যোগ তৈরি করে। ভক্তিমূলক গানটির সৌন্দর্য হলো এটি ধর্মীয় পার্থক্যকে অতিক্রম করে যায়। তাই তো উপমহাদেশে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে এটি জনপ্রিয়।
যাঁরা গেয়েছেনঃ
লাল শাহবাজ কালান্দারের দরগাহ ঘিরে প্রচলিত কিংবদন্তি। তেরো শতকে মূল গানটি রচনা করেন সুফি কবি আমির খসরু। পরে আঠরো শতকে আরেক পাঞ্জাবি কবি ও বিপ্লবী বুল্লে শাহ এটি পরিমার্জন করেন। সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই শাহবাজ কালান্দারের দরগাহে এই গান গাওয়া হতো। ১৯৫৬ সালে কিছু কথা বদল করে পাকিস্তানি ছবি ‘জাবরু’র জন্য গানটির একটি ‘ধামাল’ (একধরনের সুফি নৃত্যানুষ্ঠান) সংস্করণ তৈরি করেন সুরকার আশিক হুসাইন। এটিতে কণ্ঠ দেন ইনায়েত হোসেন ভাট্টি, ফজল হুসেন এবং এ আর বিসমিল। পরে ১৯৬৯ সালে ‘দিল্লান দে সৌদে’ ছবির জন্য এটিতে আরও কিছুটা পরিবর্তন আনেন নাজির আলী। নূরজাহানের কণ্ঠে ব্যাপক পরিচিতি পায় এই সংস্করণ।
পরে নানা সময়ে বহু শিল্পী ও সুরকার এই সুফিগান করেছেন। পাকিস্তানে এই গান গেয়েছেন নুসরাত ফতেহ আলী খান, আজিজ মিয়াঁ, আবিদা পারভীন, শাজিয়া খুশক, সাবরি ব্রাদার্স, রেশমা, কোমল রিজভি, জুনুন।
ভারতের হংসরাজ হংস, ওয়াদালি ব্রাদার্স, হর্ষদীপ কৌর, নুরান সিস্টারস, আলিশা চিনাই, অমিত কুমার, বাবা সেহগল ও অলকা ইয়াগনিক, রেখা ভরদ্বাজ, রাশি সলিল হারমালকররাও এটি গেয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে এটি গেয়েছেন রুনা লায়লা, দুই দফা। প্রথমবার কবে গেয়েছিলেন, সেটা তাঁর এখন আর মনে নেই। তবে প্রথম অ্যালবামের জন্য রেকর্ড করেছিলেন ১৯৭০ সালে, নিসার বাজমির সংগীতায়োজনে আর কোক স্টুডিও বাংলার জন্য সায়ান চৌধুরী অর্ণব ও অদিত রহমানের প্রযোজনায় গীত হয়েছে।
তবে অনেকে গাইলেও নূরজাহান, আবিদা পারভীন, শাজিয়া খুশক ও রুনা লায়লার কণ্ঠেই গানটি পরিচিতি পেয়েছে বেশি।
‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ শুধু একটি গান নয়; এটি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক। গানটি যেন এই উপমহাদেশের মানুষের প্রতি বার্তা—প্রেম, সংগীত আর নৃত্য কখনো বিভাজনের কাছে হার মানে না।
আমার নিজের গাওয়া এই গানটির যদি রেকর্ড থাকতো , এখানে অবশ্যই দিয়ে দিতাম। ধন্যবাদ সুন্দর এই পোস্টের জন্য।

No comments:
Post a Comment