

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ ভারতীয় রাগসংগীতকে পাশ্চাত্যের বাদ্যযন্ত্রের ভাষায় উপস্থাপন করে বিশ্বসংগীতের পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস খুবই সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
লিংকে গিয়ে ইয়ানী পিয়ানো মুর্ছনা , রাগ ইমন ,রাগ মেঘ, পিয়ানোতে রাগ মালকোশের মুর্ছনা শুনলাম । লেখাটিতে ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে ভারতীয় রাগসংগীতের সূক্ষ্ম সৌন্দর্য ও স্বরভাষাকে পাশ্চাত্যের বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে বৃহত্তর বিশ্বশ্রোতার কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়। পিয়ানোতে রাগ ইমন, মেঘ বা মালকোশের স্বররূপ তুলে ধরার এই প্রয়াস সেই দিক থেকে নিঃসন্দেহে আগ্রহের বিষয়।
তবে পিয়ানোতে কোনো নির্দিষ্ট স্বরক্রম বা কয়েক সেকেন্ডের সুরাংশ রাগের সঙ্গে মিলে গেলেই সেটিকে সম্পূর্ণ রাগের পরিবেশনা বলা যায় কী না তা ভাবার বিষয়। রাগের স্বরসংগঠন ছাড়াও তার চলন, পকড়, অলংকার, মীর, সময়ভাব, ন্যাস ও সামগ্রিক রাগধর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটির শেষাংশে মীর প্রসঙ্গটি তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
একই সঙ্গে, পাশ্চাত্যের যন্ত্রে ভারতীয় রাগের রূপান্তরকে কেবল মূল রাগকে অন্য যন্ত্রে বাজানো হিসেবে না দেখে দুই ভিন্ন সংগীতভাষার মধ্যে একটি সৃজনশীল সংলাপ হিসেবেও দেখা যায়। পিয়ানোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাগের আবহ, স্বরচরিত্র ও নান্দনিকতা কতটা বিশ্বস্তভাবে প্রকাশ করা সম্ভব এই অনুসন্ধানই হয়তো এই উদ্যোগের একটি আকর্ষণীয় দিক।
ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে শুরু হওয়া এই প্রয়াস যদি স্বরলিপি, রাগের ব্যাকরণ, বাদ্যযন্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বিস্তৃতভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে তা ভারতীয় রাগসংগীতকে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করার একটি সম্ভাবনাময় পথ হতে পারে।সে জন্য এই উদ্যোগের প্রতি রইল প্রাণডালা অভিনন্দন ।
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬আমার মন্তব্যঃ পকড় দিয়ে শুধুই পরিচিতি দিয়েছি। তবে বিস্তারিত পরিবেশনাও সম্ভব। আমি পিয়ানো সঠিক ভাবে জানি না। শেখার সুযোগ ছিল না। আর এখন সুযোগ আছে কিন্তু মাথা আর কাজ করে না।
বাদ্য যন্ত্র বিশারদ গণ সেতার কে গীটারে নিয়ে এসেছেন। সেতারে ঝংকার সৃষ্টির জন্য তার সংখ্যা বেশী। তাই গিটারে ঐরকম ঝঙকার আসে না । কিন্তু যতটুকু সমভব তা তুলে ধরে যায়।
আদনান সামীর পিয়ানোতে রাগ সংগীত সবিস্তারে এসেছে। লিংকে ওনার বাজানো রাগ বাগেশ্রীর পরিবেশনা। https://www.youtube.com/watch?v=stsOMMFzqZ8
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৯০ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ আপনার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তির পাশাপাশি সেতার ও গিটারের বাদনগত পার্থক্য এবং রাগসংগীতকে পিয়ানোতে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। হ বিশেষ করে সেতারের অধিক তারের কারণে যে স্বাভাবিক ঝংকার তৈরি হয়, গিটারে তা হুবহু পুনর্নির্মাণ করা কঠিন ,এটি বাদ্যযন্ত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি যথার্থ পর্যবেক্ষণ। তবে একই সঙ্গে গিটারের নিজস্ব টিম্বার ও বাজানোর কৌশল ব্যবহার করে রাগের আবহ কতটা সফলভাবে প্রকাশ করা যায়, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
লিংকসহ আদনান সামীর পিয়ানোয় রাগ বাগেশ্রীর পরিবেশনার উল্লেখটি আলোচনাটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। কারণ, রাগসংগীত সাধারণত মীড়, গমক ও স্বরের সূক্ষ্ম অলংকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, পিয়ানোর মতো নির্দিষ্ট-স্বরের যন্ত্রে সেগুলো অন্যভাবে রূপ দিতে হয়। তাই এখানে সঠিক বা ভুল এর চেয়ে কোন বাদ্যযন্ত্রে রাগের স্বরভাষা কীভাবে নতুনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে সেই দৃষ্টিতে শুনলে আলোচনাটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
ভাল লাগল বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত দাবি না করে নিজের সাধ্য ও সীমারেখার মধ্যে একটি সংগীত-অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রবনতা দেখে ।
শুভেচ্ছা রইল





১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর ৫ঃ২৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: শিরোনামের মাত্র একটি শব্দই শিরোনাম ও সুরকে একই গ্রন্থিতে গেঁথে দিলঃ 'তৃৃষ্ণা'।
পোস্টে দেয়া লিঙ্কগুলোর জন্য ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে।
শুভেচ্ছা রইল