লেখক বলেছেন: ইসলামী মরমী সাধনাবিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে ~ ড. এম এ আলী
শোনো
দূর নীরবতার বুক চিরে
কে যেন ডাকে দীর্ঘশ্বাসের সুরে
বাতাসে ভেসে আসে কান্না
কেউ বলে, ও শুধু বাঁশির গান
আমি জানি সে মানুষের প্রাণ।
কখনো সে ছিল সবুজ বনে
মূলের সাথে নিবিড় বন্ধনে
আজ কাটা পড়ে একা দাঁড়িয়ে
নিজের শূন্যতা নিজেই গায়
বিচ্ছেদের আগুনে জ্বলে
তার প্রতিটি দীর্ঘ দীর্ঘ্রম্বাসে।
সুর কেন এমন কাঁদে?
কেন আনন্দের ভেতরেও বিষাদের ঢেউ?
হাসির নিচে লুকানো নদী
নিঃশব্দে বয়ে যায় কেবল সে-ই জানে
যে একবার হারিয়েছে আপন ঠিকানা।
মানুষও তেমনি
ভিড়ের মাঝে থেকেও নির্বাসিত
অগণিত প্রাপ্তির পরেও অপূর্ণ
স্বপ্নের পরে স্বপ্ন জাগে
তবু হৃদয় কথা বলে
এ নয়, এ নয়, আরও কিছু বাকি।
স্বর্ণের প্রাচুর্য তাকে ভরায় না
সঙ্গের উষ্ণতাও শেষ তৃষ্ণা মেটায় না
কারণ তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে
অদৃশ্য কোনো প্রথম সকাল
যেখানে ছিল না বিচ্ছেদ
ছিল শুধু পূর্ণতার আলো।
তাই সে কাঁদে
বাঁশির মত দীর্ঘ মিহীন সুরে
নিজের উৎসের দিকে ফিরে যেতে চায়
প্রতিটি প্রেম, প্রতিটি বেদনা
আসলে সেই পথেরই চিহ্ন
যেখানে আত্মা আপন ঘর খুঁজে পায়।
দুঃখ তাই মনস্তাপ নয়
এ গভীরতার দরজা
বিরহ তাই ক্ষত নয়
এ প্রত্যাবর্তনের ভাষা।
যেদিন মানুষ বুঝবে তার অশ্রুই তার মানচিত্র, সেদিন বাঁশির সুর থামবে না, বরং মিলিয়ে যাবে অসীম নীরবতার মাঝে,
যেখানে আর কোনো বিচ্ছেদ নেই।শুধু চির-ফেরা, চির সাক্ষাৎী
*****
আমার মন্তব্যঃ মওলানা রুমীর ভাব অনুসারে যে কবিতাটি আপনি লিখেছেন, 'বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে' তা পড়ে মনে হচ্ছে মওলানা রুমীর কথাগুলো যেন আপনি, আপনার আত্মা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। যদি মওলানা রুমীর লেখা সমূহের ভাবার্থ এভাবে আপনার কলমে ফুটে উঠতো, আমরা সকল বাংলা ভাষা ভাষীরা blessed হতাম।
****
আসলে মওলানা রুমীর ভাবজগৎ এমন এক সমুদ্র, যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই সৌভাগ্যের বিষয়, তার গভীরতা উপলব্ধি করা তো আরও বড় অনুগ্রহ। ‘বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে’ কবিতাটি লিখতে গিয়ে আমি শুধু সেই অনুভূতির সামান্য স্পর্শটুকু ধরার চেষ্টা করেছি, যা রুমী আমাদের হৃদয়ের ভেতর জাগিয়ে দেন।আপনার এই উৎসাহ ও ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও রুমীর ভাবধারার আলো থেকে কিছু উপলব্ধি বাংলায় প্রকাশ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব যেন আমরা সবাই সেই প্রেম, বিরহ ও আত্ম-অন্বেষণের পথে একটু করে এগোতে পারি। মসনবী তে থাকা দ্বিতীয় শেরটাও গভীরতা উপলব্ধি করে আমি আরো একটি কবিতা লিখেছে সেটা প্রায় তিন পৃষ্ঠার মত বড় হয়ে গেছে , তাই সেটা এখানে এই প্রতি মন্তব্যের ঘরে দিলাম না । সময় মত কবিতাটি নিয়ে একটি পৃথক পোস্ট দিবার আশা রাখি, ইনশাআল্লাহ।
শুভেচ্ছা রইল
দোয়া ও শুভকামনা রইল।
****

আমার মন্তব্যঃ লেখক বলেছেনঃ রূমীর কবিতা শুধু ভাষা নয় এটি হাল (আধ্যাত্মিক অবস্থা) অনুভব করার বিষয়। বিশেষ করে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব-কে কেন্দ্র করে লেখা অংশগুলো সুফি সাহিত্যে “ইখলাস” ও নফস-জয় -এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
@ ড. আলী ভাই, নফস্ জয় করতে পারলে তো এতদিনে 5D তে থাকতাম। এই 3D- তে হয়ত বা আসতেই হতো না।
দিওয়ান - শামস তাবরীজ বইটি grontho.net সাইটে পেয়েছি । আরেকটি বই পেয়েছি। আহমদ শরিফের লেখা, 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য।' মনে হয় এবার ফরমালি সূফী দর্শন জানবার পথ পেলাম। বুদ্ধের একটা proverb আছে, 'when the student is ready, the teacher will appear.'
আমার ছাত্রদের সাথে তাই-ই হয়েছিল, যখন আমি শিক্ষক হিসাবে তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আবার আমি যখন স্টুডেন্ট তখন আমার বেলায় হয়েছে অলৌকিক ভাবে। এবার যেমন ধরুন, প্রথমে আপনার পোস্ট পড়া। তারপর অনলাইনে খোঁজ করার পরামর্শ পেয়ে 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য' পেয়ে যাওয়া। এবার আমার সূফী দর্শন নিয়ে পড়া শুরু হবে। বইটির লিঙ্ক
https://grontho.net/বাঙলার-সূফী-সাহিত্য
লেখক বলেছেনঃ আপনার অনুভবসমৃদ্ধ মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই ভালো লাগলো। রূমীর কবিতাকে যে আপনিও যে শুধু সাহিত্য হিসেবে নয়, বরং “হাল”-এর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন এটাই আসলে সুফি পাঠের আসল দরজা খুলে দেয়। শব্দ সেখানে কেবল বাহন; আসল যাত্রা ঘটে অন্তরের ভেতর।
আপনার পাঠযাত্রার ধারাবাহিকতাটি বিশেষভাবে স্পর্শ করলো, একটি লেখা থেকে আরেকটি বই, তারপর নতুন অনুসন্ধানের দরজা খুলে যাওয়া। সত্যিই, যখন অনুসন্ধান জাগে, তখন পথ নিজেই পথিককে ডেকে নেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সেই রহস্যময় সাক্ষাৎও বোধহয় এভাবেই ঘটে সময় পূর্ণ হলে।
আপনার সূফী দর্শনের পাঠযাত্রা শুভ হোক। পড়া, ভাবা ও আত্ম-অন্বেষণের এই পথ আপনাকে আরও গভীর শান্তি ও অন্তর্দৃষ্টি দিক এই কামনা রইল। আর হ্যা, বই এর লিংকটি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । যদিও লিংকটি আমার রিজিঅনে কাজ করছে না এখানকার কঠিন নিয়মের কারণে, তবে লিংকটি দেশে আমার স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি, যদি তাদের কাজে লাগে । কোন চেষ্টায় বৃথা যায়না এ বাক্যটি খাটে যে কোন উপায়ে ।
শুভেচ্ছা রইল



No comments:
Post a Comment