Mar 1, 2026

ঘাড় ঘুরানি

 আমার মন্তব্য  ঘাড় ঘুরানি

পাঠক বলেছেনঃ সুন্দর লিখেছেন । আমার এক ক্লাশ -ফ্রেন্ডের এমন ঘাড় ঘুরানীর অভ্যাস ছিল । তার এ অভ্যাস থেকে অনেক মজার গল্প সৃষ্টি হতো । সে ছাত্র তেমন ভাল ছিলনা , তবে সে বেশ মস্তান টাইপের ছিল । পরীক্ষার সময় পরীক্ষা হলে সে যে কোন প্রকারেই হোক তার সিট ছেড়ে আমার পাশে বসে আমার পরীক্ষার খাতা দেখে দেখে যতটুকু পারে লিখত । তার বাবা ছিল বেশ বড় রাজনীতিবিদ ও উকিল। কলেজে তাই তার বেশ প্রতাপও ছিল । স্যার কিছু বলতে এলে সে বলতো দেখেন স্যার বেশি ভাল হবেনা । 
স্যার তখন বলতেন, 'কি করবে তুমি? 
সে বলত, 'দেখবেন কি করি?' 
এই বলে সে স্যারের দুই পা ধরে বসে থাকতো। স্যার কোন মতেই তাকে ছাড়াতে পারতেন না। তারপর বলতেন,'ঠিক আছে, তুমি এখানেই বসে পরীক্ষা দাও। তবে আলীকে বিরক্ত করবেনা। তার খাতা দেখে লিখবেনা।' কে শুনে কার কথা । সে বলে, 'স্যার আমি তার খাতা দেখে লিখবনা।' 
কিন্তু একটু পরেই স্যার এসে বলেন, 'একি করছ তুমি ?'
সে বলল, 'স্যার আমি কিছুই করছিনা। এমনিতেই একটু পরে পরে আমার ঘাড় ঘুরে যায় । বিশ্বাস না হলে সকলকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।'
সকলে বলল,' হ্যা স্যার, এর ঘাড় ঘুরানোর অভ্যাস আছে ।' 
যাহোক এই ভাবেই ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে তার শিক্ষা জীবন জীবন শেষ করে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়েই ত্যাড়া পথে তিতাস এর মত একটি বড় কোম্পানীতে এ জি এম লেভেলের চাকুরি বাগিয়ে নেয় । যাহোক। তার পরের কাহিনী আর জানিনা। কারন সে সময়ের পর হতে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই ।
যাহোক এবার ফিরা যাক আপনার গল্পের কথায় । গল্পের অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় ঘাড় ঘুরানো ড.সফদার, রুমার পিছে হয়তবা লেগেও থাকতে পারে। যদি না পারে, তবে ল্যাবটারির গবেষনায় তার ঘাড় ঘুরানী, রুমার ঘাড়ে চালান করে দিতে পারে।
ঘাড় ঘোরানোর সময় শব্দ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। জানিনা সেই শব্দ কি রূপ ধারন করে । হয় মিল না হলে ঝগড়া -এর একটা কিছুতো হবেই ।
যাহোক, এখন কথা হল অনেকেই অভ্যাস বশত বারবার ঘাড় ঘোরান,যা ঠিক না। বিশেষ করে,চুল কাটার সময় নরসুন্দরের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ভাবে ঘাড় ঘোরানো একেবারেই অনুচিত। এতে ঘাড়ের ফ‍্যাসেট জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাঁরা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ কারণে পেশি হঠাৎ শক্ত হয়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ জন্য আমরা যারা দীর্ঘক্ষন কমপিউটারে কাজ করি, তাদের ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করা উচিত।

সুন্দর গল্পটির জন্য ধন্যবাদ ।

পোস্টের ছবি দুটি সুন্দর হয়েছে ।

শুভেচ্ছা রইল

*****

০১ লা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষণ বেশ মজার এবং গভীর।
ড. সফদার সত্যিই এক জটিল চরিত্র — কখন যে তিনি গবেষণার নামে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন, আর কখন রুমার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেন, তা বোঝা দায়।
ঘাড় ঘোরানোর শব্দ নিয়ে আপনার সন্দেহও যথার্থ; গবেষণার পরিবেশে এমন শব্দ কখনো কখনো নতুন দ্বন্দ্বের সূচনা করতে পারে।
মিল না হলে ঝগড়া তো হবেই — গল্পের গতিপথকে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছি।
সব মিলিয়ে গল্পে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও গবেষণার চাপ, দুই-ই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে উঠাতে চেয়েছি।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিয়েছিল জানেন? ড. সফদার মিয়া, রুমার মত একজন সাধারণ ছাত্রীকে ল্যাব ছাড়া করে ছেড়েছিল।

*****
৬ই মার্চ ২০২৬

পাঠকের মন্তব্যঃ গল্পটির এখানে এসে রূমার মত মেধাবী একজন ছাত্রীর ভয়াবহ পরিনতি সত্যিই বেদনা দায়ক । ড. সফদারের আচরণ যদি গল্পের ভেতরের বাস্তবতা অনুযায়ী বিচার করা হয় , তাহলে তার জন্য কয়েক ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা কল্পনা করা যায়:-

১. প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত
যদি তিনি গবেষণার নামে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে
বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেঅভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে। 
তার গবেষণা তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা করা যেতে পারে।

২. প্রশাসনিক শাস্তি
অভিযোগ প্রমাণিত হলে, গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব থেকে অপসারণ, পদাবনতি বা সাময়িক বরখাস্ত। ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রী তত্ত্বাবধানের উপর নিষেধাজ্ঞা।

৩. একাডেমিক পরিণতি
গবেষণায় অনৈতিক আচরণ প্রমাণিত হলে, প্রকাশিত গবেষণাপত্র প্রত্যাহার। গবেষণা অনুদান বা প্রকল্প থেকে বাদ পড়া। পেশাগত সুনামের বড় ক্ষতি।

৪. নৈতিক/গল্পগত পরিণতি
গল্পের ভেতরে আরও শক্তিশালী নাটকীয় পরিণতি হতে পারে, যেমন রুমা বা অন্য কেউ সত্য প্রকাশ করে দিলে ড. সফদারের মুখোশ খুলে যাওয়া । প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তার প্রভাব ভেঙে পড়া।
নিজের কাজ ও সম্পর্কের কারণে একাকীত্ব বা আত্মসমালোচনার অবস্থায় পড়া।

অর্থাৎ, গল্পের ভেতরে সবচেয়ে অর্থবহ “শাস্তি” হতে পারে তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ পাওয়া
এবং তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাওয়া। সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এটি প্রায়ই আইনি
শাস্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।

চলতে থাকুক লেখা ........।

শুভেচ্ছা রইল
শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০৫

লেখক বলেছেন: আলী ভাই, বাস্তবতা হলো যে, রুমারা কখনো মুখ খুলেনা। শুধু একের পর এক harassment -এর শিকার হয়।
কার কাছে যাবে রুমা কমপ্লেইন নিয়ে ?
কলেজের প্রধান?
উনি তো ডঃ সাবদার মিয়ার দলের লোক। প্রফেসর চিবানী চন্দর । তার সাথেও তো আছে আরেক কাহিনী।
আপনার concerned হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু কলেজ চলে দলের ভিত্তিতে। আর সেই আবহে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া রুমার আরো কিছু কিম্ভুতকিমাকার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেইগুলোও রচনার পথে। তবে রুমার কলেজের পরিবেশ আরেকটু ভাল ভাবে বুঝা যাবে চিবানী চন্দরের https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30383834  গল্পে। সেখানে দেখবেন, শীলার সাথে সেই বিভাগীয় প্রধান কি আচরণ করেছিল। এরা একেকজন তো বহু প্রতিভার অধিকারী।
ফণা https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30388640  গল্পেও দেখবেন রত্না কিভাবে ভুক্তভোগী হয়েছে।


No comments:

Post a Comment