Mar 5, 2026

মধ্যরাতের যাত্রী

 ৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:২১০
১. শায়মা বলেছেনঃ ভৌতিক লাগলো কিন্তু ..........
৫ই মার্চ, ২০২৬
আমার  মন্তব্যঃ ট্রাঞ্জিশানের ওপর  কিছুদিন আগেই লিখেছিলাম এখনি সময়।
https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30388484

 তখন বলেছিলে, 'এখানেই কি শেষ? নাকি আরও আসবে?' তাই এবার এই গল্পটি এলো । অনেক আগে  ডাইমেনশানাল ট্রাঞ্জিশান নিয়ে লিখেছিলাম চির অচেনা।  
https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/29154486
সময়পেলে ওখানে  শান্তির দেবদূতের মন্তব্যটি দেখো।  
 ট্রাঞ্জিশানের উপর ভাবনা আমার প্রায়ই আসে। আরেকটি গল্প যেমন নিঃসঙ্গ যাত্রী।
https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30387445 এখানে  আমরিন, তার ট্রাঞ্জিশান হবার মুহূর্তে , যা দেখছে  তা তার আশপাশের কেউই দেখতে পাচ্ছে না , বুঝতেও পারছে না। কারণ সে তখন বাস্তব থেকে পরাবাস্তবের সোপানে উঠে গেছে। কোমাতে থাকলে যেমন হয়। রোগী অর্ধেকের বেশী ঐ জগতে চলে যায়।

আবার মিরর্‌ যেহেতু পোর্টাল হিসাবে কাজ করে, তাই সে ভাবনা থেকে লিখেছিলাম একটু দেরী -১ গল্পে। https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/29036135
সেখানে মিরর্‌ , আচমকা পোর্টাল ওপেন করে ফেলেছিল।
চারটা গল্পই  একটু মেটাফিজিক্স, মানে পরাবাস্তব ধাঁচের। 
তাই একটু ভৌতিক আর কি!
ভালো থেকো তুমি ।
অনেক ভালবাসা তোমার জন্য আপু।

*************


০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪০ 
২.শায়মা বলেছেন: আপুনি!!!

এত মেটাফিজিক্স, পরাবাস্তব!!!! তুমিও কি করুনাধারা আপুর মত ইঞ্জিনীয়ার লেখিকা নাকি!!! যেটাই হও অনেক গভীর ভাবনা চিন্তার মানুষ সেটা বুঝাই যায়!!!

******
৫ই মার্চ ২০২৬  রাত ১১ঃ১৭

আমার মন্তব্যঃ আপুমণি, আমার মূল পড়াশোনা ভুত পেত্নী, এলিয়েন আর  হায়ার -ডাইমেনশন নিয়ে। তাই আমি মেটাফিজিক্স, সাইন্স ফিকশান, অ্যাস্ট্রনমি নিয়ে লিখি। সামাজিক বিষয়াদি নিয়েও লিখেছি। পরে হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাই আমার সেসব লেখা দেখে। মনে পড়ে, 
১৯৯৭ এর দিকে যখন ইয়াহু বা অন্যান্য সাইটের চ্যাট রুম ছিল; সে সময়কার প্রেক্ষিতে এই  গল্পটা দেখতে পার। ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে একদিন
লিঙ্ক https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/29212537 

অনেক আদর তোমার জন্য।

***************
৬ই মার্চ, ২০২৬

৩. ডঃ আলী বলেছেনঃ মধ্যরাতের যাত্রী সেজে এসেতো মাথাটাই আওলা ঝাওলা করে দিছেন । লেখাটি মনযোগ দিয়ে পাঠের পর চোখ বুজে থেকে গভীরভাবে অনেকক্ষণ লাগিয়ে চিস্তা করে ছোট গল্পটির ভিতর যে সকল ভাবের দেখা পেলাম তা লিখতে গেলে মনে হয় তা আপনার এই মধ্যরাত্রের যাত্রা হতেও অনেক বেশি লম্বা হয়ে যাবে । যাক তাহলে শুরুই করা যাক সব ভাবনাগুলিকে একে একে জোড়া দিয়ে ।   সুমনার শেষ  যাত্রা, একাকীত্ব, অপূর্ণ প্রেম ও মৃত্যু চেতনার প্রতীকী পাঠ - একটি মনস্তাত্বিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণঃ আধুনিক গল্প সাহিত্যে মানুষের অন্তর্জীবনের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে একাস্কীত্ব, অপূর্ণ প্রেম এবং  মৃত্যু চেতনা - এই তিনটি বিষয় বারবার ফিরে আসে। এই  ধরনের গল্পে বাস্তব ঘটনা প্রায়ই প্রতীক ও রূপকের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়, যাতে গল্পের পৃষ্ঠতলের ঘটনার পাশাপাশি একটি গভীর অস্তিত্বগত অর্থ প্রকাশ পায়।
সুমনাকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটিও তেমনই একটি রচনা, যেখানে আপাত দৃষ্টিতে একটি সাধারণ বাসযাত্রার বর্ণনা থাকলেও ধীরে ধীরে তা এক রহস্যময় মৃত্যুযাত্রার রূপ ধারণ করে।

গল্পটির মূল চরিত্র সুমনা একজন নার্সিং হোমে কর্মরত নারী, যার জীবন অন্য মানুষের সেবায় নিবেদিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর একাকীত্ব ও অপূর্ণতার ছায়া রয়েছে। গল্পের ঘটনাবলি মধ্যরাতের বাসস্টপ,রহস্যময় সহযাত্রী, সময়ের থেমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি বাস দুর্ঘটনার সংবাদ সবকিছু মিলিয়ে গল্পটি একটি বহুস্তরীয় প্রতীকী রূপকথায় পরিণত হয়েছে।
এই মন্তব্যের ঘরে গল্পটিকে চারটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হল:
১. সাহিত্যিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা
২. আধ্যাত্মিক বা সুফি দৃষ্টিকোণ
৩. মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (Near-Death Experience)
৪. বিশ্বসাহিত্যের ঐতিহ্যের সাথে এর সম্পর্ক -এই সব স্তর একত্রে বিবেচনা করলে গল্পটির অন্তর্নিহিত অর্থ হয়তবা গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।

১. সুমনার জীবন একাকীত্ব ও অপূর্ণ প্রেমের এক প্রেক্ষাপট।
গল্পের সূচনায় দেখি সুমনা একটি নার্সিং হোমে কাজ করে। সে যত্নশীল, দায়িত্বশীল এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে গভীর শূন্যতা। গল্পে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভাললাগা যার কল্পনা, ভালবাসা যার স্বপ্ন, প্রেমহীন সংগীবিহীন জীবন।

এই বাক্যটি সুমনার চরিত্রকে বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তার জীবনে ভালোবাসা বাস্তব অভিজ্ঞতা নয়, বরং কল্পনার একটি জগৎ। সে অন্যদের সেবা করে, কিন্তু নিজের আবেগিক চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে তার জীবন এক ধরনের নিঃসঙ্গ অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপট গল্পের পরবর্তী ঘটনাগুলিকে গভীর অর্থ প্রদান করে। কারণ গল্পের শেষ যাত্রায় যে রহস্যময় মানুষটির আবির্ভাব ঘটে, তিনি সম্ভবত সেই অপূর্ণ আবেগেরই প্রতীক।

২. নার্সিং হোম জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী স্থান গল্পে নার্সিং হোমের পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
নার্সিং হোম এমন একটি জায়গা যেখানে বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকে মৃত্যুর উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিন অনুভূত হয়, মানুষের অসহায়তা ও ক্ষয় প্রকাশ পায়।সুমনা প্রতিদিন এই
পরিবেশের মধ্যে কাজ করে। অর্থাৎ সে অজান্তেই জীবন ও মৃত্যুর সীমান্তবর্তী এক জগতে বসবাস করছে।
এই কারণে গল্পের শেষ পরিণতি মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তার জীবনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই নিহিত।

৩. মধ্যরাত দুই জগতের সীমান্ত গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো মধ্যরাত (১২টা)। সাহিত্যিক প্রতীকে মধ্যরাত সাধারণত বোঝায় একটি দিনের শেষ ও আরেক দিনের শুরু।পরিবর্তনের মুহূর্ত,দুই জগতের সীমান্ত গল্পে বাসটি আসে ঠিক মধ্যরাতে। এই সময়টি এমনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যেন এটি জীবনের জগত থেকে অন্য এক জগতে প্রবেশের দরজা।

৪. বাসস্টপ অস্তিত্বের সীমান্তরেখা, বাসস্টপে সুমনার একা দাঁড়িয়ে থাকা একটি গভীর প্রতীকী দৃশ্য।
বাসস্টপকে বোঝা যায় অপেক্ষার স্থান, যাত্রার সূচনাবিন্দু,এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যাওয়ার মধ্যবর্তী মুহূর্ত মানুষের মৃত্যুযাত্রাও অনেকটা এমনই—জীবনের পরিচিত জগত থেকে অজানা জগতে প্রবেশের একটি সীমান্তরেখা।

৫. রহস্যময় মানুষটির আবির্ভাব হল গল্পের সবচেয়ে রহস্যময় উপাদান হলো সেই মানুষটি, যিনি হঠাৎ সুমনার সামনে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়, তিনি কোথা থেকে এলেন তা স্পষ্ট নয়,তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। তিনি নীরবে সুমনার দিকে তাকিয়ে থাকেন। সময়ের অস্বাভাবিকতা দেখে তিনি বিস্মিত হন না - এই আচরণগুলো তাকে সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা করে তোলে।
এই চরিত্রটিকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:-
১. অপূর্ণ প্রেমের প্রতীক তিনি সেই মানুষ, যাকে সুমনা জীবনে কখনো পায়নি। তাই শেষ যাত্রায় তার উপস্থিতি অপূর্ণ আবেগের প্রতিফলন।
২. মৃত্যুর দূত আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় তিনি হতে পারেন সেই সত্তা,যিনি মৃত্যুর সময় আত্মাকে পথ দেখান।
৩. সুমনার আত্মার প্রতিফলন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায়, তিনি সুমনার নিজের অন্তর্জগতের প্রতীক হতে পারেন।

৬. বাসযাত্রা -জীবনের শেষ পথগল্পের কেন্দ্রীয় প্রতীক হলো বাস।বাসটি এখানে শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং একটি গভীর রূপক -জীবনের শেষ যাত্রা।বাসে মাত্র তিনজন। 
  • ড্রাইভার (নিয়তি বা ভাগ্য)
  • সুমনা (মানুষ), 
  • রহস্যময় ব্যক্তি (স্মৃতি/মৃত্যু/আত্মার প্রতীক)
রাস্তা শেষ হয় না,অন্য কোনো গাড়ি নেই। এই সব উপাদান বোঝায় যে এটি বাস্তব জগতের যাত্রা নয়।

৭. থেমে থাকা সময়- অস্তিত্বের পরিবর্তন ঘড়িতে বারবার ১২টা দেখানো, গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক।
এটি বোঝায় পৃথিবীর সময় শেষ,বাস্তবতার নিয়ম ভেঙে গেছে, মানুষ অন্য এক স্তরে প্রবেশ করছে। 
সাহিত্যিক ভাষায় একে বলা হয় suspended time.

৮. আলো ও অন্ধকারের প্রতীক গল্পে আলো ও অন্ধকারের তিনটি স্তর দেখা যায়। 
স্থান নার্সিংহোম - প্রতীক জীবন। 
বাসস্টপ মধ্যবর্তী -অবস্থা।
অন্ধকার বনপথ - মৃত্যুর পরের অজানা জগত ।

৯. অন্ধকার বনপথ:অজানা জগতের রূপক শহর শেষ হয়ে যখন বাস বনের ভেতর ঢোকে, তখন গল্পের পরিবেশ বদলে যায়। সাহিত্যে বন বা জঙ্গল সাধারণত বোঝায় অজানা জগৎ রহস্য আর আত্মিক যাত্রা। 
এটি মানুষের মৃত্যুর পরের পথের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

১০. সংবাদপত্র: বাস্তব সত্যের প্রকাশ - গল্পের শেষে সংবাদপত্র জানায় একটি বাস দুর্ঘটনায় ড্রাইভারসহ দুই যাত্রী মারা গেছে।এই সংবাদটি পুরো গল্পের বাস্তব ভিত্তি প্রকাশ করে।অর্থাৎ যে বাসযাত্রা আমরা পড়ছিলাম,সেটি আসলে একটি দুর্ঘটনার সময়কার শেষ অভিজ্ঞতা।

১১. মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: Near-Death Experienceঃ মনোবিজ্ঞানে একটি ধারণা আছে Near-Death
Experience (NDE) এটি এমন অভিজ্ঞতা যা, মানুষ মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থায় অনুভব করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে সময় থেমে যাওয়ার অনুভূতি, দীর্ঘ পথ বা সুড়ঙ্গের অভিজ্ঞতা রহস্যময় সঙ্গীর উপস্থিতি, চারপাশে গভীর নীরবতা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো গল্পের ঘটনাবলীর সাথে আশ্চর্যভাবে মিলে যায়।

১২. বিশ্বসাহিত্যের সাথে সম্পর্-গল্পটির ভাবনা বিশ্বসাহিত্যের একটি পরিচিত ধারার সাথে যুক্ত death journey motif. উদাহরণস্বরূপ আমেরিকান কবি এমিলি ডিকিনসন তার কবিতা “Because I Could Not Stop for Death”-এ মৃত্যুকে একটি গাড়ির সহযাত্রী হিসেবে দেখিয়েছেন।
রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়-এর The Death of Ivan Ilyich গল্পেও মৃত্যুর আগে মানুষের আত্মসমীক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সুমনার গল্পও মৃত্যুকে একটি প্রতীকী যাত্রা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

১৩. গল্পের মূল দার্শনিক বার্তা -সব প্রতীক একত্রে বিশ্লেষণ করলে গল্পটি কয়েকটি গভীর সত্য প্রকাশ করে -
১. মানুষের জীবন কখনো কখনো গভীর একাকীত্বে পূর্ণ হতে পারে।
২. অপূর্ণ প্রেম মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
৩. মৃত্যুর আগে মানুষের স্মৃতি ও অনুভূতি নতুনভাবে ফিরে আসতে পারে।
৪. জীবনের শেষ যাত্রা মূলত একাকী।

সুমনার গল্পটি কেবল একটি দুর্ঘটনার গল্প নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব, স্মৃতি এবং অপূর্ণতার এক গভীর প্রতীকী অন্বেষণ। আপনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বাস্তব, মনস্তাত্ত্বিক এবং আধ্যাত্মিক স্তরকে একত্রে ব্যবহার করেছেন। ফলে গল্পটি একই সঙ্গে রহস্যময়, আবেগপূর্ণ এবং দার্শনিক হয়ে উঠেছে।

এই গল্পটির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক হলো জীবনে যে মানুষটিকে সুমনা কখনো পায়নি, মৃত্যুর শেষ যাত্রায় সেই মানুষটিই যেন তার নীরব সঙ্গী হয়ে ওঠে।এইভাবে গল্পটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষের জীবনে অপূর্ণ অনুভূতিগুলো কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না; তারা কখনো কখনো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নীরবে আমাদের সামনে দাঁড়ায়।

এমন বহু ভাববোধক একটি গল্প মধ্যরাতে প্রেরণ করায় ভালই হলো । গল্পপাঠ আর এর ভাব লিখতে লিখতে সেহরীর সময় হয়ে এলো । ঘুম কাতুরে চোখে আজ এ পর্যন্তই  চালিয়ে নিই মধ্য রাতের যাত্রায় । ভয় নাই। সেই মানুষ আর আসবেনা। গল্পটির পরাবাস্তব জীবন এতক্ষণে শেষ হয়ে গেছে ।

শুভেচ্ছা রইল ।

****************

১৩ই মার্চ, ২০২৬

  আমার মন্তব্যঃ     আলী ভাই, দেরী হলো লিখতে। আমি আসলে ট্র্যাভেল করছিলাম। 
আপনার এমন মনোযোগী ও সংবেদনশীল মন্তব্য পেয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি এতটাই, যে কিছুকাল একদমই overwhelmed ছিলাম। 
গল্পের গভীরে থাকা অস্তিত্ব, স্মৃতি ও অপূর্ণতার প্রতীকী অন্বেষণ, আপনি যে আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছেন, এবং মনের গভীরতম থেকে   এনে কথামালায় সজ্জিত  করেছেন, তাতেই যেন আমার এই লেখার সার্থকতা নিরূপিত হয়েছে। 

আমার লেখা মূলত কেউ পড়ে না। উপলব্ধি তো আরো পরের কথা।  আমার ভাবনার  বাস্তব, মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক স্তরকে একত্রে গেঁথে গল্পটিকে নতুন মাত্রা দেওয়ার একটা  চেষ্টা আমার ছিল—আপনার মন্তব্যে সেটি স্বীকৃতি পেল। এমন পাঠক-প্রতিক্রিয়া গল্পচর্চাকে আরও গভীরে যেতে উৎসাহিত করে। এমনকি ,যে  কোন লেখক, প্রফেশনাল লেখক হয়ে উঠতে পারে।  

মৃত্যুযাত্রা (death journey motif) বিশ্ব সাহিত্যের এক সুপরিচিত ও অনন্য ধারার অংশ, যেখানে মৃত্যু কেবল শেষ নয়, বরং এক অন্তর্যাত্রা ও আত্মসমীক্ষার প্রতীক। এ আমারও ইদানীংকার  উপলব্ধি। তিনদশক আগেও যা ছিল না। অথচ ঐ সময়ে, আমার সমসাময়িক অনেকেই তা উপলব্ধি করতো। শুধু আমি -ই পারতাম না।  গত তিনি দশক কিন্তু আমার ভাবনা জগৎ   একদম   shut down ছিল। কিছু ভাবতাম না। দু’চারটা লেখা মাঝে মধ্যে লিখতাম  । আর প্রযুক্তি নিয়ে কিছু ভাবনা মাঝে মধ্যে আসতো। 'আমাদের প্রযুক্তি' ফোরামে  লেখাগুলো দিতাম। সব ওখানে  ছিল । এখন তো ফোরামটা উধাও। 
তবে সেগুলো জীবনধর্মী অবশ্যই ছিল না।  আমার সম্পাদিত ম্যগাজিনের ৩৭ টি সংখ্যার দু’ তিনটি বাদে কোথাও আমার কোন লেখা ছিল না।

আর এখন? সুফি দর্শনের আধ্যাত্মিকতা বা মৃত্যুচেতনা আমার সব লেখায় কোন না কোন ভাবে এসে যায়। 
বিশেষ করে গত বছরের ১৭ই অক্টোবর থেকে আমার মাঝে একটা চিন্তা বেশ জেঁকে বসেছে । আর তা হলো, ‘আমার আর বেশী সময়  নেই হাতে। আমার সব কথা লিখে যেতে হবে।’ আর এ থেকেই আবারো, তিন দশর পর, হাতে যেন লেখার ঝর্ণা নেমেছে।  [মান যাই-ই হোক]
২.
 বিশ্ব সাহিত্যের   প্রসংগে যখন  এমিলি ডিকিনসন-এর কবিতায় মৃত্যুকে সহযাত্রী এবং টলস্টয়ের গল্পে চরিত্রের মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আপনি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন, সেই   ধারাবাহিকতার আলোকে এ গল্পের চরিত্রের মৃত্যুর প্রতীকী যাত্রার উপস্থাপন,  আমার অজান্তেই লেখাটিকে একটি সার্বজনীনতা দিয়েছে। আপনি মেনশান্‌ না করলে, আমি এভাবে  ব্যাপারটা উপলব্ধি করতাম না।

আসলে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মানুষের অস্তিত্ব, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার অর্থ —এই প্রশ্নগুলো সাহিত্যে বারবার ফিরে আসে এবং গল্পটিকে সেই বৃহত্তর সাহিত্যিক ধারার সঙ্গে   যুক্ত করে।  তাই একজন পাঠক বলছিলেন বা  কারোর কারোর কাছে মনে হয়, এমন গল্প কতই না পড়েছি। 

শেষ মুহূর্তে সুমনার মনের মানুষ তার গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল হয়ে আসে তার ‘জীবন তরী’ বেয়ে দিতে। সে ব্যক্তি তার গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল, নাকি এ জন্মের, স্বয়ং তার মনের মানুষ,তা সে জানে না। লেখকও কিন্তু জানে না!   
কিন্তু অপূর্ণ অনুভূতি তো কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না।  অনেক  terminally ill patient  রা তাদের কেয়ার- গিভারকে  প্রায়শঃই  বলেন,‘আমার অপূর্ণ অনুভূতি কেন আমি তখন প্রকাশ করলাম না?’আসলে সত্যিই, না-পাওয়ার যন্ত্রণা কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না —তারা জীবনের শেষ মুহূর্তেও নীরব সঙ্গী হয়ে ফিরে আসে। সুমনার চরিত্রের মধ্য দিয়ে সেই চিরন্তন মানবিক অনুভব, গল্পটিতে স্পষ্ট  করার চেষ্টা করেছি। আর তার সাথে  আপনার সংবেদনশীল বিশ্লেষণ এই লেখার মর্মবাণীকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। মনে হয় লেখাটিতে কিছু হলেও সফল হয়েছি।

এ লেখায়  সুমনার শেষ যাত্রায় নীরব সঙ্গী হয়ে ফিরে আসে তার মনের মানুষের  রূপ ধরে তার death angel.জীবনের শেষ মুহূর্তে, সুমনার এই বিস্মিত হবার সময়টুকুতেই, তার ট্রাঞ্জিশান হয়ে যায়,খুব প্রশান্তি নিয়ে।  লেখাটির মধ্য দিয়ে দেখিয়েছি  তার শেষ সময়, সে টের না পেলেও ,তার সারা জীবনের সকল অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো, এক নিমেষে তার সামনে চলে আসে। terminally ill -দের ক্ষেত্রেও তাই হয় শুনেছি। এই মানসিক অবস্থাটি  যে আমি  লেখায় প্রকাশ করতে  পেরেছি, তা আপনার  আলোচয়ায় এবার স্পষ্ট।

৩.
লেখকের জীবনের অভিজ্ঞতা তার গল্পে ছাপ ফেলে। পাঠকের জায়গা থেকে, সেই লেখণীর গভীরতা ও আবেগকে উপলব্ধি করে, বর্ণনার মাধ্যমে,  আপনি  যেমন দারুণভাবে তুলে ধরেছেন, আমায় সেটা  এতটাই মুগ্ধ করেছে, যে বললাম না, কয়েকদিন আমি বাকরুদ্ধ ছিলাম , আপনার দেয়া রিভিউ পড়ে।  
তাই এমন পাঠ-প্রতিক্রিয়া যে কোন লেখকের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা। আর আমার জন্য খোদার তরফ থেকে আপনার মাধ্যমে একটা আশীর্বাদ। আপনার প্রতি   রইলো আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

******

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১০০

৪. পাঠক বলেছেন: সারাটা জীবন চাহিয়াছিলেন, পাশে পান নাই । মৃত্যু আসিয়া সেই অপূর্ণতার দায় শোধ করিয়া দিল। এই মিলনে কষ্ট আছে, স্বস্তিও আছে; কষ্ট এই যে যে পথে তাঁহারা একসাথে হাঁটিলেন সে পথ হইতে ফেরা নাই, আর স্বস্তি এই যে শেষ যাত্রায় সুমনা একা ছিলেন না।
*****
আমার মন্তব্যঃ জীবনের অপূর্ণতা ও মৃত্যুর পরিণতি আমি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি। জীবদ্দশায় পাওয়া না-পাওয়ার বেদনা যেমন গভীর, তেমনি শেষ মুহূর্তের মিলনেও থাকে একধরনের প্রশান্তি।
শেষ যাত্রায় সুমনার একাকিত্ব দূর হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে এই গল্পের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক। আমার মনে হয় জীবনের শেষে এমন এক প্রশান্তি অনেকেই খুঁজে পায়।
আপনার এই লেখাটি পছন্দ হয়েছে ভেবে আমি আনন্দিত।
অপূর্ণতার কষ্ট আর অন্তিম স্বস্তি —দুয়েই মিলেমিশে গল্পটি যেন সবার মন আবেগে পূর্ণ করে — সেই চেষ্টাই করেছি।
আপনার অনুভূতিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

***********************

৫.. পাঠক বলেছেনঃ বলেছেন: এরকম গল্প অনেক আছে।

আমি এরকম গল্প অনেক পড়েছি বাংলা সাহিত্য এবং বিশ্ব সাহিত্যে। এরকম ঘটনা নিয়ে অনেক সিনেমাও দেখেছি। গল্পের প্লট অতি পুরানো।

গল্প পড়ে ভালো লেগেছে। কিছুটা সাসপেন্স আছে, থ্রিলার আছে।
*****

আমার মন্তব্যঃ  আপনার পর্যবেক্ষণ যথার্থ—এ ধরনের প্লট সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং নানা সময়ে নানা রূপে উপস্থাপিত হয়েছে।
পুরনো হলেও, প্রতিটি লেখক বা নির্মাতা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈলীতে গল্পটিকে নতুন মাত্রা দিতে পারেন। ফলে পুরনো প্লটও নতুন করে পাঠক-দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে।
গল্পের মৌলিকত্ব শুধু ঘটনায় নয়, বরং তার উপস্থাপনায়, চরিত্রায়ণে ও অনুভূতির প্রকাশেই নিহিত থাকে—এটাই সাহিত্যের চিরন্তন সৌন্দর্য।

*******

৬.

পাঠক বলেছেন: আমাদের রবীন্দ্রনাথেরও এরকম একটা গল্প আছে। সেই গল্পের নাম জানেন?

*********
আমার মন্তব্যঃ বলেছেন: রাজীব ভাই, আপনি রবীন্দ্রনাথের ভূতের গল্পের কথা তুলেছেন, সম্ভবত ‘মনিহার’ কিংবা ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর কথা বলছেন।
‘ক্ষুধিত পাষাণ’ রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত ভূতের গল্প, যেখানে অতিপ্রাকৃত ও মানবিক অনুভূতির মিশেল রয়েছে।
যতটুকু মনে পড়ে, ক্ষুধিত পাষাণ গল্পের প্রধান চরিত্র একজন সরকারি কর্মচারী, যিনি বদলির কারণে রাজস্থানের একটি পুরনো, পরিত্যক্ত প্রাসাদে বাস করতে আসেন। স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করে, এই প্রাসাদ অভিশপ্ত এবং সেখানে নানা অদ্ভুত, ভীতিকর ঘটনা ঘটে। রাতের নির্জনতায় তিনি এক রহস্যময়ী নারীর উপস্থিতি অনুভব করেন, যার সঙ্গে তার এক গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ক্রমে জানা যায়, এই নারী আসলে এক অতীতের আত্মা, যে তার অতৃপ্ত ভালোবাসা ও বেদনাবোধ নিয়ে এই প্রাসাদে বন্দি।

গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা ভূতের গল্প হিসেবে বিবেচিত, কারণ এতে ভয়, রহস্য ও মানবিক অনুভূতির অপূর্ব মিশেল আছে। এখানে অতৃপ্ত প্রেম, স্মৃতি ও বিষণ্নতা গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে। যদিও রবিঠাকুরের কবিতা তাঁর লেখা গল্পগুলো থেকে বেশী ভাল লাগে।
তারপরও রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক ভাষা ও বর্ণনাশৈলী গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে সবার কাছে।

আপনি যদি অন্য কোনো গল্পের কথা উল্লেখ করে থাকেন, দয়া করে নামটি জানাবেন। আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

****
৭. পাঠক বলেছেনঃ বলেছেন: যদিও সাসপেন্স থ্রিলার ভৌতিক গল্প আমার পছন্দের তালিকায় নেই তবুও আপনার লেখাটা পডলাম। আপনার লেখা ও আলী ভাইয়ের মন্তব্য দুটো-ই চমৎকার।
*****

আমার মন্তব্যঃ  অনেক ধন্যবাদ তপন ভাই।

******
৮. পাঠক বলেছেনঃ ভৌতিক ধাচের গল্পটি পড়ে আমার ভাল লাগল। ভাবছিলাম গল্পটি আরো বড় হলেও ভাল লাগত!

****
আমার মন্তব্যঃ অনেক পাঠকই চান, এমন রহস্যময় ও ভৌতিক গল্প আরও দীর্ঘ হোক, যাতে চরিত্র ও পরিবেশের গভীরে আরও ডুবে যাওয়া যায়। গল্পটি বড় হলে কাহিনির নানা দিক, অতীত আর মানবিক টানাপোড়েন আরও বিস্তারিতভাবে উঠে আসত।
আপনার আগ্রহ ও মতামতের জন্য ধন্যবাদ—এটাই লেখকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আপনার মন্তব্যে আনন্দিত হলাম।
গল্পটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব ভালো লাগল।
******

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মন্ত্বব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন , রাত জেগে মন্তব্য লিখতে বুঝি কষ্ট লাগেনা :) :D ?
শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৪৩

লেখক বলেছেন: না তা না আলী ভাই।
আপনার মন্তব্যের প্রতি উত্তর লিখতে হলে একটু চিন্তা করে লিখতে হবে। তাই সময় লাগছে। কারণ আমি এখন ট্র্যাভেল করছি। টরোন্ট যাচ্ছি দুই কি তিন দিনের জন্য। তাই লিখতে পারছি না।
আপনার দেয়া এই রিভিউ আমি কেন, কেউ যদি পেত, সে সত্যিকারের প্রফেশনাল লেখক হয়ে উঠতো।
আপনার এই রিভিউ আমার জন্য অমূল্য উপহার। আল্লাহ্‌-র আশীর্বাদ বলা চলে। কারণ আমার লেখা কখনো কেউ এত সময় নিয়ে পড়ে নাই; এভাবে উপলব্ধিও করে নাই।
সেই ২০১০ এর দিকে আজম (তখন যে একটু আধটু সাই-ফাই লিখত) ছিল একমাত্র একনিষ্ঠ পাঠক। এখন তো যোগাযোগ নাই আমার ব্লগ থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে।
আজ আপনার এ রিভিউ পেয়ে আসলে আমি অবাক। আমি বাকরুদ্ধ।
ভাবছি, আমি কি সত্যিই 5D তে এসে গেলাম নাকি? এত সুন্দর হতে পারে সবকিছু?

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২

মোগল সম্রাট বলেছেন:

পড়লাম। ভিজুয়ালাইজ করতে পেরেছি লেখার অনেক যায়গা। লেখা চলুক। সাথে আছি।

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনার এমন আন্তরিক মন্তব্য আমার জন্য সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।
আমি একবার চেষ্টা করছিলাম আমার একটি লেখায় ডাইমেনশানাল ট্রাঞ্জিশান ঘটাবার জন্য। ব্যাপারটা যেন স্মুথ হয়, ফলে পাঠক যেন তা টের না পায় সেটার উপর একটা এক্সপেরিমেন্টাল লেখা ছিল ওটা।
ঠিকই পাঠক বললেন, লেখাটি একটি প্রেমের গল্প হয়েছে।
আমি তো খুশীতে আত্মহারা যে আমার এক্সপেরিমেন্টে আমি সফল। ওনাকে বললাম, 'খেয়াল করে দেখেন, যেখানে মনে হচ্ছে গল্পের চরিত্র, প্রেমের আবহে আছে, সেখানে কিন্তু তাদের অন্য ডাইমেনশানে ট্রাঞ্জিশান হয়ে গেছে।'
উনি আবার পড়লেন। পড়ে বললেন, তাই তো! লেখায় ট্রাঞ্জিশান এতটাই স্মুথ হয়েছে, যে টের পাওয়া যায় নাই।

সেরকম আপনি লেখার বিভিন্ন দৃশ্য কল্পনায় দেখতে পেরেছেন, অথবা বলা যায়, আমি দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি কিনা তা বুঝতে পারা —এটাই লেখা-লেখি চে্ষ্টা করার সার্থকতা।

লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার অণুগল্পের আইডিয়া দেখে তো আমি অবাক। কারণ আমি শুনেছি চ্যানেলারদের কাছ থেকে, প্রযুক্তি যত আগাবে , কমিউনিকেশানের ধারা তত পাল্টাবে। যেমন ভাব প্রকাশ করতে লিখতাম 'গল্প '; তারপর অণুগল্প। এরপর শুনেছি ভবিষ্যতে আসবে 'সিম্বল'। যেমন ধরেণ আমি লেখার পরিবর্তে সিম্বল হিসাবে সানফ্লাওয়ার এর সিম্বল দিলাম। নিমেষে সানফ্লাওয়ার মুভির গল্প ব্যক্ত হবে, এবং পাঠক তা উপলব্ধি করবে।
মহাজাগতিক সিম্বল এভাবেই বলে তৈরী হয়েছে। কসমিক লেভেলের এন্টিটি- দের আলাদা কোন ভাষা নেই। সিম্বল দিয়ে কসমিক তথ্য তারা আদান প্রদান করে। আর তাছাড়াও তারা মোস্টলি টেলিপ্যাথিক।
যাই হোক। অনেক ধন্যবাদ।

 ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মন্ত্বব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন , রাত জেগে মন্তব্য লিখতে বুঝি কষ্ট লাগেনা :) :D ?
শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৪৩

লেখক বলেছেন: না তা না আলী ভাই।
আপনার মন্তব্যের প্রতি উত্তর লিখতে হলে একটু চিন্তা করে লিখতে হবে। তাই সময় লাগছে। কারণ আমি এখন ট্র্যাভেল করছি। টরোন্ট যাচ্ছি দুই কি তিন দিনের জন্য। তাই লিখতে পারছি না।
আপনার দেয়া এই রিভিউ আমি কেন, কেউ যদি পেত, সে সত্যিকারের প্রফেশনাল লেখক হয়ে উঠতো।
আপনার এই রিভিউ আমার জন্য অমূল্য উপহার। আল্লাহ্‌-র আশীর্বাদ বলা চলে। কারণ আমার লেখা কখনো কেউ এত সময় নিয়ে পড়ে নাই; এভাবে উপলব্ধিও করে নাই।
সেই ২০১০ এর দিকে আজম (তখন যে একটু আধটু সাই-ফাই লিখত) ছিল একমাত্র একনিষ্ঠ পাঠক। এখন তো যোগাযোগ নাই আমার ব্লগ থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে।
আজ আপনার এ রিভিউ পেয়ে আসলে আমি অবাক। আমি বাকরুদ্ধ।
ভাবছি, আমি কি সত্যিই 5D তে এসে গেলাম নাকি? এত সুন্দর হতে পারে সবকিছু?
****************
ডঃ আলী বলেছেন আমি জানি অনেক ভারী মন্তব্যের প্রতিউত্তর/প্রতিমন্তব্য লিখতে সময় লাগে ।
আমার নীজেরো এমনটি অনেক সময় হয় । একটি ঘটনা বলি আমার মহাকবি কালিদাস এর মেঘদুত পোস্টে প্রথম মন্তব্য করেছিলেন এ ব্লগের অন্যতম সেরা একজন ব্লগার ও কবি বিজন রায় ও তার পরে মন্তব্য করেছিলেন মনিরা সুলতানা । মনিরা সুলতানার বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি মহাকবি কালিদাসের মেঘদুতের সহজ বোধগম্য বাংলা
কাব্যরূপ নিয়ে লেখা শুরু করি পর্বাকারে । তাই আমি বিজন রায়ের মন্তব্যের জবাব প্রথমে না দিয়ে প্রথমে মনারা সুলতানার মন্তব্যের জবাব দিয়ে দেই আবেগ তারিত হয়ে । বেশ আর যায় কোথায় , বিজন দা তো রেগে মেগে আগুন ( প্রতিকি রাগ )। বিজন দা এখন ব্লগে অনেকটা অনিয়মিত হয়ে গেছেন । তবে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি সবার আগে এ ব্লগের সকল পোস্টে সকলের আগে এক বা দুই লাইনের হলেও মন্তব্য লিখে সকলকে উতসাহিত করে যেতেন । তিনি আমার এতটাই প্রিয়ভাজন হয়েছিলেন যে ব্লগে সর্বপ্রথম উনাকে ভাই হিসাবে বরন করে বিজন দা বলে ডাকতাম । মনিরা সুলতানাও এ ব্লগের অন্যতম সেরা কবি যিনি জীবনানন্দের মত প্রকৃতিকে সুন্দর করে তার কবিতায় নিয়ে আনার ক্ষমতা রাখেন ।
মনিরা সুলতানাও এতটাই আপন হয়েছিলেন যে তাকেও আমি এ ব্লগে প্রথমে আপু বলে সংবোধন করি । যাহোক কথা হলো যেখানে মন্তব্যের প্রতিউত্তর লিখতে সময় লাগে সেখানে আমি মন্তব্যের ঘরে লাইক বাটনে চাপ দিয়ে মন্তব্যে লাইক জানিয়ে বলে যাই পরে এসে মুল্যবান মন্তব্যটির প্রতিউত্তর দিব হাতে সময় নিয়ে । তাতে করে বিজন দার মতো আর কারো মনোক্ষুন্য  হওয়ার সুযোগ থাকেনা।

উল্লেখ্য টরেন্টো প্রবাসী বোন সোহানী ও ব্যংকক প্রবাসী এ ব্লগের ইবনে বতুতা নামে খ্যতিমান ব্লগার জুন ও তাদের পোস্টে করা আমার দীর্ঘ মন্তব্যের জবাব পরে এসে দিতেন । তবে মন্তব্যে লাইকের চিহ্ন দেখে বুঝে নিতাম তারা দেখেছেন ও পরে আসছেন ফিরে তাদের প্রতিমন্তব্যের বেশ বড় একখান ঝুলি নিয়ে ।
যাহোক আপনার প্রতিক্রিয়া জানাবার জন্য ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইল
**************

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: এই বুদ্ধিটা ভাল যে লাইক দিয়ে যাওয়া।
আসলে ফেসবুক থেকে এই মান্ধাতার আমলের প্ল্যাটফর্মে আমি কিছুই দিশা পাই না।
আমি আপনার একুশের পোস্টে আর নগরবধু আম্রপালী পোস্টে মন্তব্য লিখেছি।
আর আমার 'ঘাড় ঘুরানি' পোস্টে আপনার মন্তব্যের প্রতি উত্তর দিয়েছি।

No comments:

Post a Comment