Jan 9, 2026

সাদা ঘোড়া - ভুতের গল্প

৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: পোস্টে দেয়া আগের ছবিটা বেশী সুন্দর লেগেছিল।
সাদা ঘোড়া আমার খুব পছন্দের। পংখীরাজ হলে তো কথাই নেই।
আমি শুনেছি আমার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন।
***


ডঃ আলীঃ পুনরায় এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । পূর্বের পংখীরাজ ঘোড়াটি ভাল লেগেছিল শুনে খুশি হলাম । এমন ধরণের পোস্টে কাল্পনিক ছবির সমাহার কেমন ফল দেয় তা হয়ত আপনি খেয়াল করেছেন । তাই বুরাকের বিবরণ অনুযায়ী একটি কাল্পনিক ঘোড়ার ছবি দিয়ে পূর্বেরটি রিপ্লেস করেছি । তবে আবারো পরিস্কার করে বিনয়ের সহিত জানাচ্ছি যে ছবিটি কোন বাস্তব ছবি নয় । পুরাটাই একটি কাল্পনিক ছবি মাত্র, এর বেশি কিছু নয় ।

আপনার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন কথাটি শুনে ভাল লাগল । এখানে বলা আপনার এই কথাগুলি শুনে আমারই বাল্যকালের কিছু কথা মনে পড়ে যায় ।

গ্রামে আমার দাদা বাড়ির পূর্ব প্রান্তে ছিল এক রহস্যময় খাল। বাড়ির পূর্ব প্রান্তে, উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি খাল ,লম্বায় বড়জোর কোয়ার্টার কিলোমিটার। খালটা গিয়ে মিশেছিল দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীতে। খালের দুই পাড়েই ছিল ঘন বন, এমন বন যেখানে দুপুরেও আলো ঠিকমতো ঢুকত না।
শৈশবে সেই খাল আমাদের কাছে ছিল ভয় আর কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিলনস্থল। বিশেষ করে রাত নামলে। অমাবস্যার নিশিতে, যখন চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে যেত, তখন হঠাৎ হঠাৎ শোনা যেত বাতাসের শন শন শব্দ। তার সঙ্গে মিশে আসত ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ । টকটক করে যেন কেউ ছুটে চলেছে। কখনো শোনা যেত ঘোড়ার হ্রেশা হ্রেশা ডাক, আবার কখনো ডানা ঝাপটানোর মতো শব্দ।
গ্রামের লোকেরা বলত ওই খালের উপর দিয়ে ভূতুড়ে ঘোড়া উড়ে যায়। আমরা ছোটরা সে কথা অন্ধবিশ্বাসের মতোই মেনে নিয়েছিলাম। আমিও ছোটবেলায় একাধিকবার নিশি রাতে সেই শব্দ শুনেছি। আজ ভাবলে বুঝি, তখন ভয়টা ততটা ছিল না, ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ।
একবার আমি আর আমার ছোট কাকা ঠিক করলাম, নিজের চোখেই ভুত দেখব। ঘোর অমাবস্যার রাত। চারদিকে অন্ধকার, যেন আকাশটাও চোখ বন্ধ করে আছে। আমরা দু’জন খালের ধারে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বাতাসের দম বদলে গেল। পরিচিত সেই শব্দ,ক্ষুরের আওয়াজ, ডানার ঝাপটা সব একসঙ্গে এসে বুকের ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে ছায়ার মতো কিছু একটা নড়ে উঠল। সত্যিই কি ভুত ছিল, না আমাদের কল্পনা আজ আর নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল, ভুতের দেখা পেয়েছি। আমি আশ্চর্যভাবে শান্তই ছিলাম। কিন্তু ছোট কাকা ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালেন। পরে দেখা গেল, তাঁর মুখের চোয়াল বেঁকে গেছে । লোকজন বলল, ভুতের থাবা লেগেছে।
পরদিন ওঝা ডাকা হলো। কুল গাছের শক্ত শুকনো ডাল পুড়িয়ে সে আগুনে কোদাল গরম করে, কোদাল থেরাপি দিয়ে কাকার চোয়ালে ছেক দেওয়া হলো। ধীরে ধীরে চোয়াল সোজা হলো। কাকা সুস্থ হলেন, কিন্তু সেই রাতের ভয় আর গল্প আমাদের সবার মনে গেঁথে রইল।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝি ভুতুড়ে ঘোড়ার চেয়েও ভয়ংকর ছিল না কিছুই। ভয়, বিশ্বাস আর কল্পনার মিশেলেই আমাদের শৈশব ছিল এত রঙিন। খালটা, বনটা, সেই অমাবস্যার রাত সবই এখন স্মৃতির ভেতর নীরবে বয়ে চলে, ঠিক সেই ছোট নদীটির মতো।

শুভেচ্ছা রইল 

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অলৌকিক ঘটনা ভুতুড়ে ঘোড়ার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা।
আরো অনেকের লেখা ও অভিজ্ঞতার গল্পে জেনেছি যে, লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে energy field clean হয়ে যায়।
by the by লোহা খুব সম্ভবত earthly element না। কোথাও থেকে আনা হয়েছে।
ঠিক মনে পড়ছে না কিন্তু এমন তথ্য শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম।


ডঃ আলীঃ অবাক হয়ে ভাবি গ্রমীন ওঝা/কবিরাজরা কেমন করে জানত যে লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে energy field clean হয়ে যায় । সম্ভবত এই গুণটির কারনেই কাকার বাকা চোয়াল লোহা সেকের মাধ্যমে পুর্বাবস্থায় ফিরে এসেছিল । মুল্যবান এই তথ্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ ।
আরেকটি কথা সম্ভবত নয় , পরিস্কারভাবে iron is an earthly (terrestrial) element. লোহা (রাসায়নিক সংকেত Fe) একটি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান মৌল, যা পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত এবং পৃথিবীর কেন্দ্রীয় অংশের (কোর) একটি প্রধান উপাদান। পৃথিবীর কোর মূলত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত।
শুভেচ্ছা রইল


আমার মন্তব্যঃ আমি পেয়েছি খুঁজে। কোরানের ৫৭ নম্বর সূরার ২৫ নং আয়াতে বলেছে। সূরার নাম Surah Hadeed যার অর্থ লৌহ। এবং লৌহের atomic number -ও ৫৭। জাকারিয়া কামাল সাহেব তাঁর 'সাইন্টিফিক তাফসিরে' আলাপ করেছিলেন। সেই কত আগে। আশা করি তাঁর লেকচার সিরিজ শুনেছেন। ওনার লেকচার খুঁজে পেতে দেরী হবে বিধায় আমি এই লিঙ্ক খানা পাঠালাম। view this link
ধন্যবাদ
****

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫০
লেখক বলেছেনঃ ধন্যবাদ আবার এসে প্রাসঙ্গিক লিংকটি যুক্ত করে দেয়ার জন্য । লিংকটি ফলো করে তা মনযোগ দিয়ে পাঠ করে এলাম। আমরা সকলেই জানি কুরআন মানবজাতির জন্য নৈতিক ও আত্মিক নির্দেশনার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
সূরা হাদীদ ( কোরানে থাকা৫৭ তম সুরা) বিশেষভাবে লোহা এবং তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবকে নির্দেশ করে। সূরা হাদীদ এর ২৫ নম্বর আয়াতাংশে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ...আর আমরা লোহা নাযিল করেছি; এতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার…(সূরা হাদীদ: ২৫)
আধুনিক সময়ে আপনার দেয়া লিংকে থাকা তাফসির সহ অনেকেই এই আয়াতকে ভিত্তি করে বলেন যে, কুরআন এখানে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা প্রকাশ করেছে; কারণ আধুনিক বিজ্ঞান মতে পৃথিবীর লোহা নাকি সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে এসেছে, আর কুরআনে একে ‘নাযিল করা বা “sent down” শব্দ ব্যবহার করেছে।
অলোচ্য বিজ্ঞ তাফসিরকারের প্রতি যথাযোগ্য সস্মান দিয়েই বলছি এই দাবিটি বিশ্লেষণ করার সময় আমাদের আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি।
প্রথমত sent down তথা নাযিল করা শব্দটি শুধু আকাশ থেকে ভৌত বস্তু নামানোর অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে নিয়ামত দান করা বোঝাতে,ব্যবস্থার সূচনা করা বোঝাতে, মানুষের জন্য উপযোগী করে দেওয়া বোঝাতে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কুরআনে বলা হয়েছে, -আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি ( সূরা আল আ‘রাফ আয়াতঃ ২৬ , অথচ পোশাক আকাশ থেকে পড়েনি।
বলা হয়েছে, -চতুষ্পদ জন্তু নাযিল করেছি-( সূরা আজ জুমার আয়াত ৬ ) পশুও আকাশ থেকে আসেনি। অতএব, লোহা নাযিল করেছি মানে এই দাবি করা বাধ্যতামূলক নয় যে লোহা আক্ষরিক অর্থে আকাশ থেকে পতিত হয়েছে; বরং অর্থ হতে পারে লোহাকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি ও প্রাপ্য করে দিয়েছেন।
লোহা বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে- ভারী মৌল (যেমন লোহা) সুপারনোভা বিস্ফোরণে তৈরি হয় ,পরে তা পৃথিবীর গঠনের অংশ হয়েছে ।এটি বর্তমানে একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, কিন্তু বিজ্ঞান নিজেই পরিবর্তনশীল। ইতিহাসে বহু নিশ্চিত তত্ত্ব পরে সংশোধিত বা বাতিল হয়েছে।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন আমরা কুরআনের আয়াতকে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সঙ্গে একেবারে একীভূত করে ফেলি। যদি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে ভবিষ্যতে সেই তত্ত্ব বদলে যায়, তবে মানুষ ভাবতে পারে কুরআন ভুল! অথচ ভুল ছিল আমাদের ব্যাখ্যায়।
সূরা হাদীদের মূল উদ্দেশ্য বা আলোচ্য বিষয় বিজ্ঞান নয়, বরং নবীদের প্রেরণ,ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, শক্তি ও ক্ষমতার নৈতিক ব্যবহার, লোহার মাধ্যমে সভ্যতা, প্রতিরক্ষা ও ইনসাফ কায়েম। লোহা এখানে ক্ষমতা ও শক্তির প্রতীক; এটি দিয়ে যেমন জুলুম হয়, তেমনি এটি দিয়েই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়। আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন,এই শক্তির উৎস মানুষ নয়, বরং আল্লাহ।
তবে এ কথা বলাও ঠিক নয় যে এখানে কোনো বিস্ময় নেই। বিস্ময় হলো কুরআন ১৪০০ বছর আগে লোহাকে মানুষের সভ্যতার কেন্দ্রে স্থাপন করেছে,শক্তি ও কল্যাণ দুই দিকই একসঙ্গে উল্লেখ করেছে, বস্তুগত শক্তির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্বকে যুক্ত করেছে কিন্তু এই বিস্ময়কে বৈজ্ঞানিক মিরাকলে রূপ দেওয়া কুরআনের গভীর উদ্দেশ্যকে আড়াল করে ।মুল কথা হল কুরআন কোনো বিজ্ঞান বই নয়, কুরআনের ভাষা বহুমাত্রিক Sent down বা নাযিল করা শব্দটি কেবল আকাশ থেকে পতনের অর্থে সীমাবদ্ধ নয়।
বিজ্ঞান কুরআনের সত্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড নয় বরং কুরআন মানুষকে চিন্তা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উন্নীত করার গ্রন্থ ,আসল মিরাকল হলো কুরআন নীজেই ।
আলোচনার সাথে প্রামাণ্য ইসলামী তাফসির (ইবন কাসীর, ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী, কুরতুবী প্রমুখ) যুক্ত করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি । এতে স্পষ্ট বোঝা যাবে ক্লাসিক্যাল স্কলাররা এই আয়াতকে কীভাবে বুঝেছেন এবং scientific miracle দাবির সাথে তার সম্পর্ক কোথায় সীমাবদ্ধ।
সূরা হাদীদ এর সম্পুর্ণ ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে  ---নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ, এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব ও মীযান, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমরা লোহা নাযিল করেছি তাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার; এবং যাতে আল্লাহ প্রকাশ করে দেন কে তাঁকে ও তাঁর রাসূলদের অদৃশ্য অবস্থায় সাহায্য করে।(সূরা হাদীদ- ২৫)
প্রখ্যাত তাফসিরকার ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) তাঁর তাফসিরুল কুরআনিল আযীম-এ বলেন লোহা নাযিল করা বলতে বোঝানো হয়েছে; আল্লাহ লোহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে দিয়েছেন লোহার প্রচণ্ড শক্তি বলতে তিনি উল্লেখ করেন অস্ত্র,যুদ্ধসামগ্রী প্রতিরক্ষা ও শাস্তি কার্যকর করার উপকরণ হিসাবে।
ইবন কাসীর স্পষ্টভাবে বলেন, লোহা দ্বারা আল্লাহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠার উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, যেমন তলোয়ার যা কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, আবার কখনো মানুষের জন্য পরীক্ষা।
লক্ষ্যণীয় বিষয় ইবন কাসীর কোথাও বলেননি যে লোহা আক্ষরিকভাবে আকাশ থেকে নেমে এসেছে। তাঁর দৃষ্টি ছিল সামাজিক ও নৈতিক ব্যবস্থার দিকে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহ.) তাঁর  মাফাতিহুল গাইব (তাফসিরে কাবীর)-এ এই আয়াত নিয়ে অত্যন্ত দার্শনিক আলোচনা করেছেন।তিনি বলেন কিতাব ও মীযান (বিধান ও ন্যায়নীতি) যথেষ্ট না হলে সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্ষমতা (লোহা) অপরিহার্য । রাযী বলেন মানুষ কেবল যুক্তি দিয়ে নয়,কখনো কখনো শক্তি দিয়েও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়।
তিনি লোহার দুটি দিক উল্লেখ করেন যথাবাহ্যিক শক্তি (যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা),উপকারিতা (কৃষি, নির্মাণ, সভ্যতা), রাযীর দৃষ্টিতে আয়াতটি মূলত রাজনীতি, সমাজ ও ন্যায়বিচারের দর্শন।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) তাঁর আল-জামি‘ লি আহকামিল কুরআন-এ বলেন, লোহা হচ্ছে মানুষের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত,এর দ্বারা: যুদ্ধ হয়,শাস্তি কার্যকর হয়, কৃষি ও নির্মাণ সম্ভব হয়।তিনি বলেন, আল্লাহ কিতাব দ্বারা হৃদয় সংশোধন করেন, আর লোহা দ্বারা সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন। এখানে নাযিল শব্দকে তিনি নিয়ামত দান অর্থে নিয়েছেন।
ক্লাসিক্যাল তাফসিরে নাযিল শব্দের অর্থ বিষয়ে আলোচনায় সব প্রধান মুফাসসিরগন একমত । সুরাটিতে থাকা نَزَّلْنَا / أَنزَلْنَا” শব্দটি কেবল ভৌত অবতরণ বোঝায় না, বরং বোঝায়:সৃষ্টি করা,নিয়ামত হিসেবে দান করা মানুষের আয়ত্তে আনা কেউই একে মহাকাশগত উৎসের দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করেননি।
এখন প্রশ্ন আসে তাহলে আধুনিক বিজ্ঞান যেটা বলছে, সেটা কি এই আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক?
উত্তর হল সাংঘর্ষিক নয়, কিন্তু আয়াতের মূল উদ্দেশ্যও নয়।কুরআন এখানে বিজ্ঞান শেখাতে আসেনি, বরং বলছে শক্তি ও ক্ষমতার উৎস আল্লাহ, এবং তা মানুষের জন্য পরীক্ষা। আধুনিক তত্ত্বকে আয়াতের একটি সম্ভাব্য সামঞ্জস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে চূড়ান্ত তাফসির হিসেবে মেনে নেয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ তাফসিরকারদের উপরই না হয় ছেড়ে দিলাম ।
শুভেচ্ছা রইল
***

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৩০                                                              আমার মন্তব্যঃ  চমৎকার আলোচনা। অনেক ধন্যবাদ। এই লেখাটি দিয়েই তো একটি পোস্ট হয়ে যায়। আর 'হাজরে আসওয়াদ' এর কথা বললে আরো ভাল হবে। এই পাথরটি ও out of our planet থেকে আসা শুনেছি।
***
২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০০
লেখক বলেছেনঃ
আবার এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । মন্তব্যের ঘর থেকে কথা তুলে নিয়ে পৃথক পোষ্ট দিলে
আমি গদ্যে পদ্যে প্রায় হাজার দশেক পোস্ট দিতে পারতাম । তবে মন্তব্য কোন ভাবে খুব বড় হয়ে
গেলে তা মন্তব্যের ঘরে না লিখে পৃথক পোষ্ট দিয়ে দেই যেমনটি নির্বাচন নিয়ে আমার
সামপ্রতিক পোস্ট । এটা নতুন নকিবের পোস্টে মন্তব্য লিখতে গিয়ে লেখার ফল ।
তাই সেটা সেখানে না দিয়ে পৃথক পোস্ট আকারে দিয়েছি ।
হাজরে আসোয়াদ এর উপরে আমার একটি বেশ বড় আকারের পোস্ট আছে । সেটা
ব্লগে দিলে অনেকেই তার উপর বিরুপ মন্তব্য দিতে পারেন । তাই লেখাটিকে
আরো ভাল করে কাটা ঘষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে ।

শুভেচ্ছা রইল ।
***
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

অপু তানভীর বলেছেন: ব্লগের চাড়ালদের জন্য আপনি একটু বেশি ভদ্র। আমার ব্যক্তিগত মনভাব হচ্ছে, আপনি যেহেতু সজ্জন এবং বয়স্ক মানুষ, এদের সাথে বৃথা কথা বলার কোনো মানে নেই। বিশেষ করে ধর্ম আর রাজনীতির ব্যাপারে। কেবলই সময় নষ্ট। বিশ্বাস করুন আপনি এতো সময় নিয়ে আপনি যে উত্তর দিচ্ছেন আপনার কি মনে হয় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আপনি আনতে পারবেন? এর থেকে বই পড়ুন, কোরআর পড়ুন গান শুনুন কিংবা খোলা বাতাসে বসে সময়টাকে উপভোগ করুন। সেটা বেশি কাজে দিবে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২৩

লেখক বলেছেনঃ 

আপনার আন্তরিক মন্তব্য ও শুভকামনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনি যে জায়গা থেকে কথাগুলো বলেছেন, সেখানে যে স্নেহ ও মঙ্গলচিন্তা আছে তা আমি অনায়াসেই অনুভব করি। নিঃসন্দেহে ধর্ম ও রাজনীতির মতো বিষয়ে অনর্থক বাক্‌বিতণ্ডা সময়ের অপচয় হয়ে উঠতে পারে, সে বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো সব ভিন্নমতই যে অচলাবস্থা বা বৃথা বিতর্কে গড়ায়, তা নয়। কিছু কথোপকথন থাকে, যা তাৎক্ষণিক পরিবর্তন না আনলেও ভবিষ্যতের জন্য একটি বীজ বপন করে। হয়তো আজ নয়, হয়তো সরাসরি নয় কিন্তু বিনয়ের ভাষা, যুক্তির আলো আর শালীন আচরণ অনেক সময় মানুষের মনে নীরবে প্রশ্ন জাগায়।
সেই প্রশ্নটাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। অবশ্য আপনার ধারনামত পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ ।

আমিও এই প্রত্যাশা নিয়ে উত্তর দিই না যে সবাই সঙ্গে সঙ্গে আমার মত গ্রহণ করবেন। বরং এই আশায় উত্তর দিই অযথা কঠোরতা, বিদ্বেষ বা বিকৃতি যেন একমাত্র ভাষা হয়ে না ওঠে। যদি একজন পাঠকও বুঝতে পারেন যে ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়, তাহলেই আমার সময়টুকু সার্থক মনে করি।

আর বই পড়া, কোরআন পড়া, গান শোনা বা খোলা বাতাসে সময় কাটানো এগুলো আমি গভীরভাবে উপভোগ করি এবং এগুলোকেই জীবনের মূল শক্তি মনে করি। তবে কখনো কখনো মনে হয়, সেই অর্জিত শান্তি ও উপলব্ধির দায় আছে সমাজের কথোপকথনেও সামান্য হলেও প্রতিফলিত করার।

আপনার পরামর্শ ও শুভেচ্ছার জন্য আবারও ধন্যবাদ। অপনার এমন সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি ও সৌহার্দ্যই আমাদের সবার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল
****

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১০

হুমায়রা হারুন বলেছেনঃ বিশ্বাস করেন ডঃ আলী, আমি আপনার ধৈর্য্য এবং সহ্য শক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন:

মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
একেবারেই সীমা লঙ্গন না করলে বিনয়, নম্রতা ও শালীনতার ভিতর প্রতিমন্তব্য লেখা আমার সহজাত প্রবৃত্তি । উপরে অপু তানভীর এর মন্তব্যের প্রতিমন্তব্যে বিয়ষটি আরো একটু বিষদভাবে উল্লেখ করেছি ।

শুভেচ্ছা রইল






ব্লগারের অভাব

 https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30387736

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

আমার মন্তব্যঃ  আপনার এই পর্যবেক্ষণ ব্লগ সংস্কৃতির একটি বেদনাদায়ক সত্য তুলে ধরেছে। সত্যিই, ব্লগের প্রাণ হলো পারস্পরিক আদান-প্রদান - লেখা এবং মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি জীবন্ত সংলাপ। আপনি যথার্থভাবে বলেছেন, একসময় ব্লগাররা একে অপরের লেখায় প্রচুর মন্তব্য করতেন, যা ছিল ব্লগের স্বর্ণযুগ। কিন্তু এখন যে "কৃপণতা" জেঁকে বসেছে, সেটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
আপনার পর্যবেক্ষণ - "পুরাতন ব্লগাররা লগ ইন করেও চিরচেনা ব্লগারদের লেখায় ফিরে তাকান না" - এটি একটি গভীর সমস্যা নির্দেশ করে। এটা কি ক্লান্তি? নাকি সময়ের অভাব? নাকি আগ্রহের পরিবর্তন? যাই হোক, এর ফলাফল হলো যে নতুন এবং পুরাতন উভয় লেখকই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আপনার সমাধান - "খোলা মন নিয়ে একে অপরের ব্লগ বাগানে বিচরণ করা" - এটি চমৎকার উপমা। ব্লগ সত্যিই একটি বাগানের মতো, যেখানে প্রতিটি লেখা একটি ফুল। কিন্তু সেই ফুল দেখার জন্য, প্রশংসা করার জন্য, এমনকি সমালোচনা করার জন্যও দর্শক দরকার।
আপনার এই কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ - "লেখা পছন্দ না হলেও অন্তত এক-দুই কথায় বলে যাওয়া।" সৎ, গঠনমূলক সমালোচনাও মন্তব্যের অভাবের চেয়ে অনেক ভালো। নীরবতা সবচেয়ে নিরুৎসাহিত করে।
তবে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, এই কৃপণতার মূল কারণ কী? সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতি কি আমাদের ধৈর্য্য কেড়ে নিয়েছে? নাকি ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা? নাকি আমরা নিজেরাই পরিবর্তিত হয়ে গেছি?
আপনার সতর্কবাণী - "খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে" - এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। ব্লগ শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সম্প্রদায়। এবং সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
আপনার এই আহ্বান সময়োপযোগী এবং জরুরি। আশা করি, এই লেখাটি ব্লগারদের মধ্যে একটি আত্মসচেতনতা তৈরি করবে এবং আমরা আবার সেই জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে পাব।
ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব আমাদের সবার।
আপনার এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৫

লেখক বলেছেনঃ  আপনার মন্তব্যটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং বহুস্তরবিশিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কোনো কারণে ব্যাখ্যা করা বোধহয় যথার্থ হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির স্ক্রল সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে আমাদের পাঠ ও প্রতিক্রিয়ার ধৈর্য কমিয়েছে; সেখানে “লাইক” বা এক লাইনের প্রতিক্রিয়াই যেন যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর প্রভাব ব্লগিং জগতেও এসে পড়েছে।

একই সঙ্গে ব্লগ প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নোটিফিকেশনের অভাব কিংবা পাঠকের কাছে নতুন আকর্ষনীয় লেখা পৌঁছাতে নাপারাও মন্তব্য কমে যাওয়ার একটি বাস্তব কারণ।তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের নিজেদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি; পড়ছি, কিন্তু সংলাপে অংশ নিচ্ছি না। মোবাইল হতে ব্লগে লগ ইন করাও একটি কারণ হতে পারে । মোবাইলে বাংলা টাইপ করা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টকর ।

আপনি যথার্থই বলেছেন, ব্লগ কেবল লেখার জায়গা নয় এটি একটি সম্প্রদায়। আর সেই সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন, মনোযোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া।

খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে” এই সতর্কবাণী আসলে আমাদের সকলের জন্য। যদি আমরা ব্লগকে উপেক্ষা করি, তাহলে ধীরে ধীরে আমরা সেই গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব। আপনার আশাবাদী প্রত্যাশার সাথে একমত,এই ধরনের আলোচনা ও আত্মসচেতনতা যদি বাড়ে, তবে আবারও একদিন জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করা যায়।

মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনি একদম সঠিক বলেছেন যে ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ার "স্ক্রল সংস্কৃতি" নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সত্যিই, যেখানে একটি "লাইক" বা ইমোজিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়, সেখানে একটি সুচিন্তিত মন্তব্য লেখার ধৈর্য ও সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশ "দ্রুত প্রতিক্রিয়া"র সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।

মোবাইল থেকে বাংলা টাইপিং এর অসুবিধা নিয়ে আপনার কথা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেছে। এটি সত্যিই একটি বাস্তব বাধা যা অনেকে উপেক্ষা করেন। ব্লগ প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশনের অভাব এবং নতুন লেখা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতাও নিঃসন্দেহে একটি বড় কারণ।

আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো - "আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি।" এই রূপান্তরটি আসলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পড়া এবং সংলাপে অংশ নেওয়া - এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এবং আমরা দ্বিতীয়টি হারিয়ে ফেলছি।
আপনার এই উপলব্ধি - "মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া" - এটি অসাধারণ। মন্তব্য আসলে একটি মানবিক সংযোগ, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান।
এরূপ আদান প্রদান কেন সম্ভব হচ্ছে না?
কারণ, কারো লেখায় অন্য মন্তব্য-দানকারীর মন্তব্যে শুধু লেখক ছাড়া অন্য পাঠকরা প্রতিউত্তর দিতে পারেন না। আবার যেমন ধরেন আমি মন্তব্য করলাম, লেখক উত্তর দিলেন। সেই উত্তরের প্রতি উত্তর দেবার সরাসরি কোন রিপ্লাই -অপশন নাই। এক্ষেত্রে নতুন করে মন্তব্য বক্সে যেয়ে আমার প্রথম মন্তব্যে যে উত্তর লেখক দিয়েছেন তা রেফার করে প্রতি উত্তর লিখতে হচ্ছে। বা রেফার নাই বা করলাম, নতুন করে মন্তব্য বক্স তো ওপেন করতে হচ্ছে। লিখতে গিয়ে দেখলাম আমার দ্বিতীয় বার করা প্রতিমন্তব্য অনেক নতুন মন্তব্যের পিছে পড়ে যাচ্ছে । রেফারেন্স না দিলে তা অন্য পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আবার অন্য ব্লগারদের যদি আমাকে প্রতিউত্তর দিতে ইচ্ছে করে, সে ক্ষেত্রে সরাসরি কোন রিপ্লাই অপশন তারা পাচ্ছেন না।

এইরূপ 'রিপ্লাই অপশান' না থাকায় এই প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের দিক দিয়ে ইউজার -ফ্রেন্ডলি হচ্ছে না। ফলে চিন্তার আদান প্রদান এবং আলোচনা বেশীদূর আগাতে পারছে না, স্থিত হয়ে পড়ছে।
সময় বেশী লাগাতে রিপ্লাই করার ইচ্ছা থাকলেও তা স্তিমিত হয়ে পড়ছে ।
[তাছাড়া সবাই তো বাড়িতে চেয়ারে বসে, টেবিলে স্ক্রিন রেখে টাইপ করতে পারার অবস্থায় সবসময় থাকে না।] এইসকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে thought exchange নিমেষে সহজ হয়ে যাবে।

একটি সতর্কবাণী যে "গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব" - এটি শুধু ব্লগের জন্য নয়, আমাদের সমগ্র সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য একটি হুঁশিয়ারি। যদি আমরা গভীরভাবে পড়া, চিন্তা করা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমরা আসলে আমাদের মানবিক গুণাবলীরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলব।
তবে আপনার মতো চিন্তাশীল পাঠক ও মন্তব্যকারী থাকার কারণেই আমার বিশ্বাস - ব্লগ সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। কারণ আপনি শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেননি, আপনি নিজেই সমাধানের একটি জীবন্ত উদাহরণ। আপনার এই বিস্তৃত, সুচিন্তিত মন্তব্য প্রমাণ করে যে এখনও পাঠক আছেন, যারা সময় নিয়ে পড়েন, ভাবেন এবং মনোযোগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
এই ধরনের আত্মসচেতনতা এবং সংলাপই ব্লগকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলবে।
আপনার এই মূল্যবান অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
একসাথে আমরা ব্লগের সেই হারানো প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পারব - এই বিশ্বাস রাখি।

***

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩১

লেখক বলেছেনঃ
আপনার মন্তব্যটি কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়,এটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ প্রবন্ধের মতো। আপনি যে ধৈর্য, গভীরতা ও আন্তরিকতা নিয়ে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, তা বর্তমান ডিজিটাল পাঠ-সংস্কৃতিতে সত্যিই বিরল।

বিশেষ করে ‘রিপ্লাই অপশন’ এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণটি অত্যন্ত বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক। এটি এমন এক প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, যা বাইরে থেকে তুচ্ছ মনে হলেও চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সংলাপের স্বাভাবিক প্রবাহকে ভেতর থেকে ব্যাহত করে। মন্তব্য যখন আর সরাসরি মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না, তখন তা শুধু দৃশ্যত নয় ইনটেলেকচুয়ালী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, গভীরতাও হারায়।

আপনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন মন্তব্যকারীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রতিউত্তর নতুন মন্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এটি আসলে সংলাপের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া-রই এক রূপ। এতে করে শুধু পাঠক নয়, লেখকও অনেক সময় আলোচনার সূত্র ধরে এগোতে পারেন না। আর অন্য পাঠকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে যা একটি জীবন্ত ব্লগ পরিবেশের পরিপন্থী।

আপনার এই পর্যবেক্ষণ যে, সময় ও শারীরিক অবস্থান (মোবাইল ব্যবহারের বাস্তবতা) মন্তব্যের আগ্রহকে স্তিমিত করে তা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। ব্যবহার সহজ না হলে, মননের ইচ্ছাও ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এটাই স্বাভাবিক।

তবু এই সমস্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনি যেভাবে সুসংগঠিত, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক একটি মন্তব্য উপহার দিয়েছেন তা প্রমাণ করে সমস্যার মাঝেও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আপনার মতো পাঠকরাই দেখিয়ে দেন যে ব্লগ এখনও কেবল লেখা প্রকাশের জায়গা নয়, বরং চিন্তার সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

আপনি ঠিকই বলেছেন,গভীর পাঠ ও মননশীল প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষয় নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতারই অবক্ষয়। সেই অর্থে আপনার মন্তব্য এক ধরনের সতর্ক সংকেতও।

এই চিন্তাশীল অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনার মতো পাঠক-সংলাপকারীদের উপস্থিতিই আশা জাগায় যে, সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই একদিন আরও মানবিক, আরও ব্যবহারবান্ধব ও আরও প্রাণবন্ত ব্লগ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

তাই আসুন এ বিশ্বাসটুকু একসাথেই ধরে রাখি।

শুভেচ্ছা রইল

***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: পরামর্শসুলভ দু'টি চমৎকার মন্তব্যের জন্য ব্লগার হুমায়রা হারুন কে অনেক ধন্যবাদ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন:



আবার এসে মুল্যবান পর্যবেক্ষন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ । হ্যা ব্লগার হুমাইরা হারুন এর সুপরামর্শসুলভ মন্তব্যগুলি বেশ চমৎকার ও গঠনমুলক । ব্লগে সকলের এমনতর প্রাণবন্ত
বিচরণ ব্লগকে তার স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: শ্রদ্ধেয় @খায়রুল আহসান ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনার এই গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ ব্লগের বর্তমান সংকটের মূল কারণটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ - কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার।
আপনার এই উপলব্ধি - "তিনজনের জায়গায় যদি দু'জন থাকে, তবে শুধু সংখ্যাধিক্যের কারণে তা কোন লেখা সৃষ্টি করতে পারে না" - এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয়। আর আপনি যখন বলছেন "অনেক ব্লগারেরই এ ব্লগ থেকে সেই 'মন'টা উঠে গেছে" - এটাই তো আসল সমস্যা।
প্রযুক্তি আমাদের লেখাকে দ্রুততর করেছে, কিন্তু কি সেই গভীরতা, সেই আবেগ, সেই নিবেদন দিতে পেরেছে যা কালি-কলমের যুগে ছিল? হয়তো না। কারণ তখন প্রতিটি শব্দ লিখতে সময় লাগত, চিন্তা করতে হতো, মনোযোগ দিতে হতো। এখন টাইপিং এত দ্রুত যে মন ভাবার আগেই আঙুল লিখে ফেলে।
কিন্তু আপনার আশাবাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনি বলেছেন, "ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" এই বিশ্বাসই তো ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখবে। যতদিন আপনার মতো ব্লগার থাকবেন যারা 'মন' দিয়ে লেখেন, ততদিন ব্লগের প্রাণস্পন্দন থেমে যাবে না।
"মুমূর্ষ অবস্থা" - এই শব্দটি কঠিন, কিন্তু সত্য। তবে মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা।
আপনার এই লেখা শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান - ব্লগে আবার 'মন' ফিরিয়ে আনার আহ্বান। এবং আপনার শেষ বাক্য - "সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এ ব্লগটি আবার ফিরে পাক আগের সেই প্রাণস্পন্দন, প্রাণস্পৃহা" - এটি একটি প্রার্থনা, একটি স্বপ্ন।
আমিও সেই স্বপ্নে বিশ্বাস করি। এবং আপনার মতো লেখক থাকলে সেই স্বপ্ন অবশ্যই সত্যি হবে।
আপনার এই চিন্তাশীল ও হৃদয়স্পর্শী লেখার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৪

লেখক বলেছেনঃ

গতকাল ঘুম কাতর চোখে খায়রুল আহসানকে এড্রেস করা মন্তব্যটির বিষয়ে তেমন কিছু বলে যেতে পারিনি । তবে আজ এই মন্তব্যটি আবার পাঠ করলাম। আপনার সুচিন্তিত ও হৃদয়গ্রাহী মন্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আপনি যে আন্তরিকতা ও উপলব্ধি দিয়ে আহসান ভাইয়ের লেখাটিকে গ্রহণ করেছেন, সেটাই প্রমাণ করে পাঠক ও লেখক উভয় পক্ষেই এখনও সেই ‘মন’-এর অস্তিত্ব রয়েছে, যার অভাব নিয়ে আমরা এত কথা বলছি।

আপনি খুব সুন্দরভাবে প্রযুক্তি ও মননের দ্বন্দ্বটি তুলে ধরেছেন। সত্যিই, কালি-কলমের জায়গায় কীবোর্ড এসেছে; কিন্তু সেই পরিবর্তন নিজে কোনো সমস্যার কারণ নয়। সমস্যা তখনই, যখন গতির মোহে আমরা থেমে ভাবার অভ্যাসটি হারিয়ে ফেলি। আপনার বলা মতো, আঙুলের দ্রুততা যদি মনের গতিকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে লেখায় গভীরতার ঘাটতি আসবেই।

আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি হলো আশাবাদ। “মুমূর্ষ মানেই মৃত নয়” এই কথাটির মধ্যে এক ধরনের দায়বদ্ধ আশার সুর আছে। ব্লগের বর্তমান বাস্তবতা হয়তো কঠিন, কিন্তু আপনার মতো পাঠক-লেখকের বিশ্বাসই প্রমাণ করে যে এই পরিসর এখনও সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়নি। প্রাণস্পন্দন ক্ষীণ হতে পারে, কিন্তু নিভে যায়নি।

আর আপনি একদম ঠিকই বলেছেন, এটি শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান। ‘মন’ দিয়ে লেখা, ‘মন’ দিয়ে পড়া এবং ‘মন’ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান। এই সম্মিলিত মননই পারে ব্লগকে আবার তার অর্থবহ, চিন্তাশীল ও মানবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে।

আপনার এই মন্তব্য আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আশা করি, এমন সংলাপই ধীরে ধীরে ব্লগে হারিয়ে যেতে বসা সেই মননচর্চার সংস্কৃতিকে আবার জাগিয়ে তুলবে।

শুভেচ্ছা রইল

***


১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬০

খায়রুল আহসান বলেছেনঃ @হুমায়রা হারুন, ২১ নং প্রতিমন্তব্য প্রসঙ্গে- "কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার" - সেটাই ছিল আমার মন্তব্যের মূল কথা।

"ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" - এ কথাটি আমি বলেছি, কারণ আমি কিছুটা অনুমান করতে পারি কতটা নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ, কমিটমেন্ট এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে এ ব্লগস্রষ্টা সৈয়দা গুলশান আরা জানা এবং তার স্বামী অরিল্ড ব্লগটাকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এতদূর টেনে এনেছেন। আমার বিশ্বাস, ওনারা কিছুতেই চোখের সামনে এ ব্লগের অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না; তাই এর জন্য যা কিছু করণীয় তাই করতে পিছপা হবেন না। আর ব্লগে এখনো যে ভালো কিছু লেখা আসছে না, তা নয়। তবে সমস্যা হচ্ছে মনযোগী পাঠকের অভাব এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের খরা। তবে আপনাদের মত পাঠকেরা এখনও এ ব্লগে আসছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য করছেন, সেটাই ভরসা।

মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা" - এর পরে আর কোন কথা নেই। এ প্রার্থনা আর স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন হোক!    

***

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৫ নং প্রতিমন্তব্যঃ @শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান, আপনার চিন্তাশীল এবং আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ব্লগারদের প্রতি আপনার যে আস্থা এবং শ্রদ্ধা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখার পেছনে যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কমিটমেন্ট রয়েছে, তা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস সঠিক - যাঁরা এতদিন এই প্ল্যাটফর্মকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এর অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না।
আপনি যথার্থই বলেছেন যে, কিছু ভাল লেখা আসছেই। কিন্তু মনোযোগী পাঠক এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অভাব রয়েছে। লেখা-পাঠ-মন্তব্য - এই ত্রিমুখী সংলাপই ব্লগিং সংস্কৃতির প্রাণ। কিছু পাঠকেরা যে এখনও এখানে আসছেন, পড়ছেন এবং চিন্তাশীল মন্তব্য করছেন - এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভাল লিখতে গেলে বেশ পড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করব আরও আন্তরিকতার সাথে, আরও গভীরতার সাথে লিখতে।
আপনার প্রার্থনা এবং স্বপ্ন আমারও। আশাকরি আমরা সবাই মিলে ব্লগিং সংস্কৃতিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবো।
আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০০

লেখক বলেছেনঃ
আশা করি আপনার এই মূল্যবান মন্তব্যটি শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান দেখে যাবেন । মন্তব্যের কথামালায় আমিও মোহিত।

আপনার এই সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্য ামিউ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার কথায় যে  আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সুর আছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ব্লগিং কেবল লেখার নাম নয়,আপনি যেমন সুন্দরভাবে বলেছেন, লেখা–পাঠ–মন্তব্যের ত্রিমুখী সংলাপই এর প্রাণশক্তি। এই সংলাপ যখন সচল থাকে, তখনই একটি প্ল্যাটফর্ম সত্যিকার অর্থে জীবিত থাকে।

মনোযোগী পাঠক ও ভাবনাসম্পন্ন মন্তব্যের অভাব যে আমাদের সবারই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবু আপনার মতো লেখক ও পাঠকদের আন্তরিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই ভরসাটুকুই যথেষ্ট, আবার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

ভালো লেখার জন্য ভালো পড়ার যে কথা আপনি বলেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই সচেতন উপলব্ধিই ভবিষ্যতে আরও গভীর ও অর্থবহ লেখার জন্ম দেবে এ বিশ্বাস রাখি। আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ইতিবাচক মনোভাব ব্লগিং সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।

আপনার স্বপ্ন ও প্রার্থনার সঙ্গে আমিও সহমত। আশা করি সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আবারও এই প্ল্যাটফর্মকে প্রাণবন্ত, সংলাপমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে পারব। শুভকামনা রইল আপনার লেখালেখির যাত্রায়।
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আহমেদ জী এস বলেছেনঃ  হুমায়রা হারুনের মতে এসব লেখা পড়া এবং সেইসব বিষয়ের সংলাপে অংশ নেওয়া ভালো পাঠকদের পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই আপনার কথামতো আপনা আপনিই স্ক্রল সংস্কৃতি চালু হয়।
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৮ নং প্রতিমন্তব্যঃ @ আহমেদ জী এস আপনার মন্তব্যটি পড়ে আনন্দিত হলাম। "কালি-কলম-মন" - এই তিনটি শব্দের মধ্যে লেখার প্রকৃত সারমর্ম নিহিত। কালি-কলম দিয়ে সবাই লিখতে পারেন, কিন্তু মন ছাড়া লেখা শুধুই শব্দের সমাবেশ মাত্র।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আমিও সহমত যে, হুজুগ, গুজব এবং বায়াসড মতবাদ নিয়ে লেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে। একদল একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখেন, অন্যদল বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন - কিন্তু কোথাও যুক্তি, তথ্য বা সত্যিকারের চিন্তার প্রতিফলন থাকে না।
"স্ক্রল সংস্কৃতি" আসলে একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন লেখায় আন্তরিকতা, গভীরতা এবং মৌলিক চিন্তা থাকে না, তখন পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে আক্রমণ আর বিষোদ্গার দেখে পাঠকের বিতৃষ্ণা জন্মায়।
লেখা হওয়া উচিত হৃদয় থেকে, অভিজ্ঞতা থেকে, নিজস্ব চিন্তা থেকে। যে লেখা শুধু কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধন করে, বৃহত্তর সমাজের জন্য চিন্তার রসদ যোগায় না - সে লেখার মূল্য সীমিত।
আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৮

লেখক বলেছেন: 
আশা করি আপনার এই মুল্যবান মন্তব্যটি প্রসঙ্গে সামু ব্লগের অন্যতম সেরা ব্লগার শ্রদ্ধেয় আহমেদ জি এস খুবই সুন্দর করে দিবেন । তবে এই মুল্যবান মন্তব্যটি এক নজর পাঠে আমি মুগ্ধ , সেখান হতেই দুটি কথা বলার প্রয়াস নিলাম ।

আপনার এই মন্তব্যটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ লেখার মতোই মননশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষ করে “কালি-কলম-মন” এই ত্রয়ীর ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে লেখার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিকে স্পষ্ট করেছে। সত্যিই, মন ও চিন্তার সংযোগ ছাড়া লেখা কেবল শব্দের শোরগোলই থেকে যায়।

আপনি যে ‘স্ক্রল সংস্কৃতি’র কথা বলেছেন, তা বর্তমান সময়ের এক বাস্তব ও বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি। পাঠক যখন বারবার হুজুগ, গুজব ও আক্রমণাত্মক ভাষার মুখোমুখি হন, তখন দূরে সরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে। আপনার বিশ্লেষণে স্পষ্ট এটি পাঠকের উদাসীনতা নয়, বরং অসার কনটেন্টের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আপনি তুলে ধরেছেন লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে। লেখা যদি কেবল পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান রক্ষা বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা সমাজের চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে না। হৃদয়, অভিজ্ঞতা ও যুক্তিবোধের সমন্বয়েই লেখার আসল শক্তি জন্ম নেয়, আপনার মন্তব্য সেটিই মনে করিয়ে দিল।

এমন সংযত ও গভীর মন্তব্য/আলোচনা পরিসরকে সমৃদ্ধ করে। চিন্তার এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ ড. আলী, প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্রহ -বইটি অনলাইনে আছে জানলে আমি বইটা লাইব্রেরী থেকে নিয়ে স্ক্যান করতাম না। গুগল ড্রাইভের লিংক দেবার জন্য ধন্যবাদ।
***
 ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩০
লেখক বলেছেনঃ গুগলেও এখন আগের মত বই পাওয়া যায়না । আমাজন সহ অন্যান্য পাবলিশিং ও বুক মার্কেটিং সংস্থাগুলি অনলাইনে ফ্রিতে বই ডাউনলোড করা অসম্ভব করে তুলেছে । তবে এখন অনেক বিখ্যাত লেখকের বই পিডি্এফ ফরম্যাটে বুক আর্কাইভ, বিখ্যাত ইইনিভার্সিটি ও পাবলিক লাইব্রেরীতে পাওয়া গেলেও সেখানে কোন না কোন একাডেমিক/রিসার্চ ইন্টিটিউটের হসন্টিটিউশনাল আইডি ছাড়া এক্সেস পাওয়া যায় না । আপনার নিশ্চয়ই উপযুক্ত ইনস্টিটিউশনাল আই ডি আছে তাই লাইব্রেরি হতে দুর্লভ পুরানো বই ধারে নিয়ে ভারে( ঘাটের পয়শা খরচ করে ) স্ক্যনিং করে নিতে পেরেছেন ।
ভাইটি বই এর জন্য আপনাদের মত পড়ুয়া লেখক/লেখিকাগন যদি পয়শা খরচ না করে বই সংগ্রহ করেন তবে লইব্রেরীই বা চলবে কি করে কিংবা অপনাদের মত লেখক/লেখিকাদের প্রাইভেট পারিবারিক বই এর লাইব্রেরীই বা এমনভাবে স্থীত হয়ে বই লেখক ও প্রকাশক বিক্রতাদেরকে উপকৃত করবে । এ ক্ষেত্রে তো আপনাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় । যাহোক, সহানুভুতি রইল এমনভাবে আপনার পছন্দের বই সংগ্রহের বিবরণ শুনে ।

শুভেচ্ছা রইল
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: @ হুমায়রা হারুন, 
২৯ নম্বরে আপনার করা মন্তব্যে আপনি আমার মন্তব্যের জন্যে আনন্দিত হয়েছেন জেনে ভালো লাগারই কথা। সে ভালোটাই লাগলো। ধন্যবাদ।

ডঃ এম এ আলী ব্লগারদের স্ক্রল সংস্কৃতির কথা বলেছেন এই পোস্টে। সেটা নিয়েই আমি আমার মতামত জানিয়েছি, কেন ব্লগারদের মাঝে স্ক্রল সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে! আপনিও যে তাতে একমত পোষন করেছেন তা আপনার মন্তব্যের লেখার ছায়াতেই দৃশ্যমান।

মূলত ব্লগাররা এখানে আসেন দৈনন্দিন জীবনের হ্যাপা থেকে পরিত্রান পেতে খানিকটা "কোয়ালিটি রিফুয়েলিং" এর জন্যে। তারা নিশ্চয়ই চর্বিত চর্বণ (সোস্যাল / ইলেকট্রনিক / প্রিন্ট মিডিয়াতে ছড়ানো বিষয়াদি) হজম করার জন্যে এখানে আসেন না! সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বিষয়াদি নিয়ে যদি লিখতেই হয় তবে তা হওয়া উচিৎ সে বিষয়ের উপর চিন্তা উদ্রেককারী পর্য্যবেক্ষন থেকে। বিষয়টি সমাজ-রাষ্ট্রকে কতোখানি প্রভাবিত করলো কিম্বা তাতে সমাজ ও রাষ্ট্র কতোখানি ক্ষতিগ্রস্থ হলো তা নিয়ে। কিন্তু ব্লগীয় অধিকাংশ লেখাগুলোতে তা অনুপস্থিত। সেখানে থাকে কেবল সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বক্তব্যের পদধ্বনি কিম্বা বিষয়টি পক্ষে গেলে তার প্রশংসা, বিপক্ষে গেলে ইচ্ছেমতো গালমন্দ করা। এতে পাঠকেরা বিতৃষ্ণায় ভোগেন, ব্লগটিকে অসহ্য মনে হয় এবং ব্লগে তার ইন্টারএ্যাকশন পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন।

অনেকটা এই কারনেই আমিও ব্লগে ঢুঁ মারতে উৎসাহ বোধ করিনে। ঢুঁ মারলেও স্ক্রল করা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা! :(

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৮

লেখক বলেছেনঃ
হুমাইরা হারুনকে এড্রেস করা মন্তবাংশটি আশা করি তিনি এসে দেখে যাবেন । এই মন্তব্যের নীচে থাকা আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। ব্লগকে আপনি যেভাবে “কোয়ালিটি রিফুয়েলিং”-এর একটি পরিসর  হিসেবে দেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনেক পাঠকেরই অব্যক্ত অনুভূতির প্রতিধ্বনি। ব্লগের শক্তি তো আসলেই এখানে চেনা খবরের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সেই খবর বা ঘটনার অন্তর্গত তাৎপর্য, সামাজিক অভিঘাত ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব নিয়ে গভীর চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় ব্লগীয় লেখায় সেই বিশ্লেষণী দায়বদ্ধতা অনুপস্থিত থাকে। ফলে ব্লগ পাঠ একঘেয়ে হয়ে ওঠে, পাঠকের সঙ্গে ভাবনার সংলাপ তৈরি হয় না। আপনার হতাশা তাই একেবারেই অমূলক নয়।

তবে একই সঙ্গে এটাও আশা করা যায় যে, এমন সুচিন্তিত মন্তব্যই হয়তো লেখকদের আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং ব্লগকে আবারও চিন্তা, মনন ও অর্থবহ মত বিনিময়ের একটি জীবন্ত পরিসরে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।
পাঠক ও লেখক উভয়ের সম্মিলিত সচেতন প্রয়াসেই কেবল ব্লগ তার প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।




Jan 6, 2026

কি লিখি তোমায়

একটি বাঙ্গালী মেয়ে একদা একজন জার্মান যুবকের প্রেমে পড়েছিল। তা কে না পাবার বেদনা সে ইংরেজী ভাষায় চিঠি আকারে লিখেছিল। আমি তার লেখা চিঠি বাংলায় অনুবাদ করেছি ২০১১ তে।

চিঠি - কি লিখি তোমায়

লেখকঃ আহত পাখি

লেখার তারিখঃ বহুদিন আগে। এখন তা আর মনে পড়ে না।

বাংলায় প্রকাশঃ ১লা জানুয়ারি ২০১১

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪

সামছুল আলম  বলেছেন: তাই কি হয় ??!!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: তাই তো হলো।


০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৪

পাঠক বলেছেন: দারুন আবেগময়।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই।