Jan 9, 2026

সাদা ঘোড়া - ভুতের গল্প

৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: পোস্টে দেয়া আগের ছবিটা বেশী সুন্দর লেগেছিল।
সাদা ঘোড়া আমার খুব পছন্দের। পংখীরাজ হলে তো কথাই নেই।
আমি শুনেছি আমার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন।
***


ডঃ আলীঃ পুনরায় এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । পূর্বের পংখীরাজ ঘোড়াটি ভাল লেগেছিল শুনে খুশি হলাম । এমন ধরণের পোস্টে কাল্পনিক ছবির সমাহার কেমন ফল দেয় তা হয়ত আপনি খেয়াল করেছেন । তাই বুরাকের বিবরণ অনুযায়ী একটি কাল্পনিক ঘোড়ার ছবি দিয়ে পূর্বেরটি রিপ্লেস করেছি । তবে আবারো পরিস্কার করে বিনয়ের সহিত জানাচ্ছি যে ছবিটি কোন বাস্তব ছবি নয় । পুরাটাই একটি কাল্পনিক ছবি মাত্র, এর বেশি কিছু নয় ।

আপনার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন কথাটি শুনে ভাল লাগল । এখানে বলা আপনার এই কথাগুলি শুনে আমারই বাল্যকালের কিছু কথা মনে পড়ে যায় ।

গ্রামে আমার দাদা বাড়ির পূর্ব প্রান্তে ছিল এক রহস্যময় খাল। বাড়ির পূর্ব প্রান্তে, উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি খাল ,লম্বায় বড়জোর কোয়ার্টার কিলোমিটার। খালটা গিয়ে মিশেছিল দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীতে। খালের দুই পাড়েই ছিল ঘন বন, এমন বন যেখানে দুপুরেও আলো ঠিকমতো ঢুকত না।
শৈশবে সেই খাল আমাদের কাছে ছিল ভয় আর কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিলনস্থল। বিশেষ করে রাত নামলে। অমাবস্যার নিশিতে, যখন চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে যেত, তখন হঠাৎ হঠাৎ শোনা যেত বাতাসের শন শন শব্দ। তার সঙ্গে মিশে আসত ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ । টকটক করে যেন কেউ ছুটে চলেছে। কখনো শোনা যেত ঘোড়ার হ্রেশা হ্রেশা ডাক, আবার কখনো ডানা ঝাপটানোর মতো শব্দ।
গ্রামের লোকেরা বলত ওই খালের উপর দিয়ে ভূতুড়ে ঘোড়া উড়ে যায়। আমরা ছোটরা সে কথা অন্ধবিশ্বাসের মতোই মেনে নিয়েছিলাম। আমিও ছোটবেলায় একাধিকবার নিশি রাতে সেই শব্দ শুনেছি। আজ ভাবলে বুঝি, তখন ভয়টা ততটা ছিল না, ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ।
একবার আমি আর আমার ছোট কাকা ঠিক করলাম, নিজের চোখেই ভুত দেখব। ঘোর অমাবস্যার রাত। চারদিকে অন্ধকার, যেন আকাশটাও চোখ বন্ধ করে আছে। আমরা দু’জন খালের ধারে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বাতাসের দম বদলে গেল। পরিচিত সেই শব্দ,ক্ষুরের আওয়াজ, ডানার ঝাপটা সব একসঙ্গে এসে বুকের ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে ছায়ার মতো কিছু একটা নড়ে উঠল। সত্যিই কি ভুত ছিল, না আমাদের কল্পনা আজ আর নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল, ভুতের দেখা পেয়েছি। আমি আশ্চর্যভাবে শান্তই ছিলাম। কিন্তু ছোট কাকা ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালেন। পরে দেখা গেল, তাঁর মুখের চোয়াল বেঁকে গেছে । লোকজন বলল, ভুতের থাবা লেগেছে।
পরদিন ওঝা ডাকা হলো। কুল গাছের শক্ত শুকনো ডাল পুড়িয়ে সে আগুনে কোদাল গরম করে, কোদাল থেরাপি দিয়ে কাকার চোয়ালে ছেক দেওয়া হলো। ধীরে ধীরে চোয়াল সোজা হলো। কাকা সুস্থ হলেন, কিন্তু সেই রাতের ভয় আর গল্প আমাদের সবার মনে গেঁথে রইল।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝি ভুতুড়ে ঘোড়ার চেয়েও ভয়ংকর ছিল না কিছুই। ভয়, বিশ্বাস আর কল্পনার মিশেলেই আমাদের শৈশব ছিল এত রঙিন। খালটা, বনটা, সেই অমাবস্যার রাত সবই এখন স্মৃতির ভেতর নীরবে বয়ে চলে, ঠিক সেই ছোট নদীটির মতো।

শুভেচ্ছা রইল 

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অলৌকিক ঘটনা ভুতুড়ে ঘোড়ার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা।
আরো অনেকের লেখা ও অভিজ্ঞতার গল্পে জেনেছি যে, লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে energy field clean হয়ে যায়।
by the by লোহা খুব সম্ভবত earthly element না। কোথাও থেকে আনা হয়েছে।
ঠিক মনে পড়ছে না কিন্তু এমন তথ্য শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম।


ডঃ আলীঃ অবাক হয়ে ভাবি গ্রমীন ওঝা/কবিরাজরা কেমন করে জানত যে লোহা গরম করে ছ্যাকা দিলে energy field clean হয়ে যায় । সম্ভবত এই গুণটির কারনেই কাকার বাকা চোয়াল লোহা সেকের মাধ্যমে পুর্বাবস্থায় ফিরে এসেছিল । মুল্যবান এই তথ্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ ।
আরেকটি কথা সম্ভবত নয় , পরিস্কারভাবে iron is an earthly (terrestrial) element. লোহা (রাসায়নিক সংকেত Fe) একটি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান মৌল, যা পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত এবং পৃথিবীর কেন্দ্রীয় অংশের (কোর) একটি প্রধান উপাদান। পৃথিবীর কোর মূলত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত।
শুভেচ্ছা রইল


আমার মন্তব্যঃ আমি পেয়েছি খুঁজে। কোরানের ৫৭ নম্বর সূরার ২৫ নং আয়াতে বলেছে। সূরার নাম Surah Hadeed যার অর্থ লৌহ। এবং লৌহের atomic number -ও ৫৭। জাকারিয়া কামাল সাহেব তাঁর 'সাইন্টিফিক তাফসিরে' আলাপ করেছিলেন। সেই কত আগে। আশা করি তাঁর লেকচার সিরিজ শুনেছেন। ওনার লেকচার খুঁজে পেতে দেরী হবে বিধায় আমি এই লিঙ্ক খানা পাঠালাম। view this link
ধন্যবাদ
****

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫০
লেখক বলেছেনঃ ধন্যবাদ আবার এসে প্রাসঙ্গিক লিংকটি যুক্ত করে দেয়ার জন্য । লিংকটি ফলো করে তা মনযোগ দিয়ে পাঠ করে এলাম। আমরা সকলেই জানি কুরআন মানবজাতির জন্য নৈতিক ও আত্মিক নির্দেশনার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
সূরা হাদীদ ( কোরানে থাকা৫৭ তম সুরা) বিশেষভাবে লোহা এবং তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবকে নির্দেশ করে। সূরা হাদীদ এর ২৫ নম্বর আয়াতাংশে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ...আর আমরা লোহা নাযিল করেছি; এতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার…(সূরা হাদীদ: ২৫)
আধুনিক সময়ে আপনার দেয়া লিংকে থাকা তাফসির সহ অনেকেই এই আয়াতকে ভিত্তি করে বলেন যে, কুরআন এখানে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা প্রকাশ করেছে; কারণ আধুনিক বিজ্ঞান মতে পৃথিবীর লোহা নাকি সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে এসেছে, আর কুরআনে একে ‘নাযিল করা বা “sent down” শব্দ ব্যবহার করেছে।
অলোচ্য বিজ্ঞ তাফসিরকারের প্রতি যথাযোগ্য সস্মান দিয়েই বলছি এই দাবিটি বিশ্লেষণ করার সময় আমাদের আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি।
প্রথমত sent down তথা নাযিল করা শব্দটি শুধু আকাশ থেকে ভৌত বস্তু নামানোর অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে নিয়ামত দান করা বোঝাতে,ব্যবস্থার সূচনা করা বোঝাতে, মানুষের জন্য উপযোগী করে দেওয়া বোঝাতে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কুরআনে বলা হয়েছে, -আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি ( সূরা আল আ‘রাফ আয়াতঃ ২৬ , অথচ পোশাক আকাশ থেকে পড়েনি।
বলা হয়েছে, -চতুষ্পদ জন্তু নাযিল করেছি-( সূরা আজ জুমার আয়াত ৬ ) পশুও আকাশ থেকে আসেনি। অতএব, লোহা নাযিল করেছি মানে এই দাবি করা বাধ্যতামূলক নয় যে লোহা আক্ষরিক অর্থে আকাশ থেকে পতিত হয়েছে; বরং অর্থ হতে পারে লোহাকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি ও প্রাপ্য করে দিয়েছেন।
লোহা বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে- ভারী মৌল (যেমন লোহা) সুপারনোভা বিস্ফোরণে তৈরি হয় ,পরে তা পৃথিবীর গঠনের অংশ হয়েছে ।এটি বর্তমানে একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, কিন্তু বিজ্ঞান নিজেই পরিবর্তনশীল। ইতিহাসে বহু নিশ্চিত তত্ত্ব পরে সংশোধিত বা বাতিল হয়েছে।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন আমরা কুরআনের আয়াতকে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সঙ্গে একেবারে একীভূত করে ফেলি। যদি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে ভবিষ্যতে সেই তত্ত্ব বদলে যায়, তবে মানুষ ভাবতে পারে কুরআন ভুল! অথচ ভুল ছিল আমাদের ব্যাখ্যায়।
সূরা হাদীদের মূল উদ্দেশ্য বা আলোচ্য বিষয় বিজ্ঞান নয়, বরং নবীদের প্রেরণ,ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, শক্তি ও ক্ষমতার নৈতিক ব্যবহার, লোহার মাধ্যমে সভ্যতা, প্রতিরক্ষা ও ইনসাফ কায়েম। লোহা এখানে ক্ষমতা ও শক্তির প্রতীক; এটি দিয়ে যেমন জুলুম হয়, তেমনি এটি দিয়েই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়। আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন,এই শক্তির উৎস মানুষ নয়, বরং আল্লাহ।
তবে এ কথা বলাও ঠিক নয় যে এখানে কোনো বিস্ময় নেই। বিস্ময় হলো কুরআন ১৪০০ বছর আগে লোহাকে মানুষের সভ্যতার কেন্দ্রে স্থাপন করেছে,শক্তি ও কল্যাণ দুই দিকই একসঙ্গে উল্লেখ করেছে, বস্তুগত শক্তির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্বকে যুক্ত করেছে কিন্তু এই বিস্ময়কে বৈজ্ঞানিক মিরাকলে রূপ দেওয়া কুরআনের গভীর উদ্দেশ্যকে আড়াল করে ।মুল কথা হল কুরআন কোনো বিজ্ঞান বই নয়, কুরআনের ভাষা বহুমাত্রিক Sent down বা নাযিল করা শব্দটি কেবল আকাশ থেকে পতনের অর্থে সীমাবদ্ধ নয়।
বিজ্ঞান কুরআনের সত্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড নয় বরং কুরআন মানুষকে চিন্তা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উন্নীত করার গ্রন্থ ,আসল মিরাকল হলো কুরআন নীজেই ।
আলোচনার সাথে প্রামাণ্য ইসলামী তাফসির (ইবন কাসীর, ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী, কুরতুবী প্রমুখ) যুক্ত করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি । এতে স্পষ্ট বোঝা যাবে ক্লাসিক্যাল স্কলাররা এই আয়াতকে কীভাবে বুঝেছেন এবং scientific miracle দাবির সাথে তার সম্পর্ক কোথায় সীমাবদ্ধ।
সূরা হাদীদ এর সম্পুর্ণ ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে  ---নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ, এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব ও মীযান, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমরা লোহা নাযিল করেছি তাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু উপকার; এবং যাতে আল্লাহ প্রকাশ করে দেন কে তাঁকে ও তাঁর রাসূলদের অদৃশ্য অবস্থায় সাহায্য করে।(সূরা হাদীদ- ২৫)
প্রখ্যাত তাফসিরকার ইমাম ইবন কাসীর (রহ.) তাঁর তাফসিরুল কুরআনিল আযীম-এ বলেন লোহা নাযিল করা বলতে বোঝানো হয়েছে; আল্লাহ লোহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে দিয়েছেন লোহার প্রচণ্ড শক্তি বলতে তিনি উল্লেখ করেন অস্ত্র,যুদ্ধসামগ্রী প্রতিরক্ষা ও শাস্তি কার্যকর করার উপকরণ হিসাবে।
ইবন কাসীর স্পষ্টভাবে বলেন, লোহা দ্বারা আল্লাহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠার উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, যেমন তলোয়ার যা কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, আবার কখনো মানুষের জন্য পরীক্ষা।
লক্ষ্যণীয় বিষয় ইবন কাসীর কোথাও বলেননি যে লোহা আক্ষরিকভাবে আকাশ থেকে নেমে এসেছে। তাঁর দৃষ্টি ছিল সামাজিক ও নৈতিক ব্যবস্থার দিকে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহ.) তাঁর  মাফাতিহুল গাইব (তাফসিরে কাবীর)-এ এই আয়াত নিয়ে অত্যন্ত দার্শনিক আলোচনা করেছেন।তিনি বলেন কিতাব ও মীযান (বিধান ও ন্যায়নীতি) যথেষ্ট না হলে সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্ষমতা (লোহা) অপরিহার্য । রাযী বলেন মানুষ কেবল যুক্তি দিয়ে নয়,কখনো কখনো শক্তি দিয়েও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়।
তিনি লোহার দুটি দিক উল্লেখ করেন যথাবাহ্যিক শক্তি (যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা),উপকারিতা (কৃষি, নির্মাণ, সভ্যতা), রাযীর দৃষ্টিতে আয়াতটি মূলত রাজনীতি, সমাজ ও ন্যায়বিচারের দর্শন।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) তাঁর আল-জামি‘ লি আহকামিল কুরআন-এ বলেন, লোহা হচ্ছে মানুষের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত,এর দ্বারা: যুদ্ধ হয়,শাস্তি কার্যকর হয়, কৃষি ও নির্মাণ সম্ভব হয়।তিনি বলেন, আল্লাহ কিতাব দ্বারা হৃদয় সংশোধন করেন, আর লোহা দ্বারা সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন। এখানে নাযিল শব্দকে তিনি নিয়ামত দান অর্থে নিয়েছেন।
ক্লাসিক্যাল তাফসিরে নাযিল শব্দের অর্থ বিষয়ে আলোচনায় সব প্রধান মুফাসসিরগন একমত । সুরাটিতে থাকা نَزَّلْنَا / أَنزَلْنَا” শব্দটি কেবল ভৌত অবতরণ বোঝায় না, বরং বোঝায়:সৃষ্টি করা,নিয়ামত হিসেবে দান করা মানুষের আয়ত্তে আনা কেউই একে মহাকাশগত উৎসের দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করেননি।
এখন প্রশ্ন আসে তাহলে আধুনিক বিজ্ঞান যেটা বলছে, সেটা কি এই আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক?
উত্তর হল সাংঘর্ষিক নয়, কিন্তু আয়াতের মূল উদ্দেশ্যও নয়।কুরআন এখানে বিজ্ঞান শেখাতে আসেনি, বরং বলছে শক্তি ও ক্ষমতার উৎস আল্লাহ, এবং তা মানুষের জন্য পরীক্ষা। আধুনিক তত্ত্বকে আয়াতের একটি সম্ভাব্য সামঞ্জস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে চূড়ান্ত তাফসির হিসেবে মেনে নেয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ তাফসিরকারদের উপরই না হয় ছেড়ে দিলাম ।
শুভেচ্ছা রইল
***

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৩০                                                              আমার মন্তব্যঃ  চমৎকার আলোচনা। অনেক ধন্যবাদ। এই লেখাটি দিয়েই তো একটি পোস্ট হয়ে যায়। আর 'হাজরে আসওয়াদ' এর কথা বললে আরো ভাল হবে। এই পাথরটি ও out of our planet থেকে আসা শুনেছি।
***
২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০০
লেখক বলেছেনঃ
আবার এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । মন্তব্যের ঘর থেকে কথা তুলে নিয়ে পৃথক পোষ্ট দিলে
আমি গদ্যে পদ্যে প্রায় হাজার দশেক পোস্ট দিতে পারতাম । তবে মন্তব্য কোন ভাবে খুব বড় হয়ে
গেলে তা মন্তব্যের ঘরে না লিখে পৃথক পোষ্ট দিয়ে দেই যেমনটি নির্বাচন নিয়ে আমার
সামপ্রতিক পোস্ট । এটা নতুন নকিবের পোস্টে মন্তব্য লিখতে গিয়ে লেখার ফল ।
তাই সেটা সেখানে না দিয়ে পৃথক পোস্ট আকারে দিয়েছি ।
হাজরে আসোয়াদ এর উপরে আমার একটি বেশ বড় আকারের পোস্ট আছে । সেটা
ব্লগে দিলে অনেকেই তার উপর বিরুপ মন্তব্য দিতে পারেন । তাই লেখাটিকে
আরো ভাল করে কাটা ঘষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে ।

শুভেচ্ছা রইল ।
***
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

অপু তানভীর বলেছেন: ব্লগের চাড়ালদের জন্য আপনি একটু বেশি ভদ্র। আমার ব্যক্তিগত মনভাব হচ্ছে, আপনি যেহেতু সজ্জন এবং বয়স্ক মানুষ, এদের সাথে বৃথা কথা বলার কোনো মানে নেই। বিশেষ করে ধর্ম আর রাজনীতির ব্যাপারে। কেবলই সময় নষ্ট। বিশ্বাস করুন আপনি এতো সময় নিয়ে আপনি যে উত্তর দিচ্ছেন আপনার কি মনে হয় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আপনি আনতে পারবেন? এর থেকে বই পড়ুন, কোরআর পড়ুন গান শুনুন কিংবা খোলা বাতাসে বসে সময়টাকে উপভোগ করুন। সেটা বেশি কাজে দিবে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২৩

লেখক বলেছেনঃ 

আপনার আন্তরিক মন্তব্য ও শুভকামনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনি যে জায়গা থেকে কথাগুলো বলেছেন, সেখানে যে স্নেহ ও মঙ্গলচিন্তা আছে তা আমি অনায়াসেই অনুভব করি। নিঃসন্দেহে ধর্ম ও রাজনীতির মতো বিষয়ে অনর্থক বাক্‌বিতণ্ডা সময়ের অপচয় হয়ে উঠতে পারে, সে বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো সব ভিন্নমতই যে অচলাবস্থা বা বৃথা বিতর্কে গড়ায়, তা নয়। কিছু কথোপকথন থাকে, যা তাৎক্ষণিক পরিবর্তন না আনলেও ভবিষ্যতের জন্য একটি বীজ বপন করে। হয়তো আজ নয়, হয়তো সরাসরি নয় কিন্তু বিনয়ের ভাষা, যুক্তির আলো আর শালীন আচরণ অনেক সময় মানুষের মনে নীরবে প্রশ্ন জাগায়।
সেই প্রশ্নটাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। অবশ্য আপনার ধারনামত পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ ।

আমিও এই প্রত্যাশা নিয়ে উত্তর দিই না যে সবাই সঙ্গে সঙ্গে আমার মত গ্রহণ করবেন। বরং এই আশায় উত্তর দিই অযথা কঠোরতা, বিদ্বেষ বা বিকৃতি যেন একমাত্র ভাষা হয়ে না ওঠে। যদি একজন পাঠকও বুঝতে পারেন যে ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়, তাহলেই আমার সময়টুকু সার্থক মনে করি।

আর বই পড়া, কোরআন পড়া, গান শোনা বা খোলা বাতাসে সময় কাটানো এগুলো আমি গভীরভাবে উপভোগ করি এবং এগুলোকেই জীবনের মূল শক্তি মনে করি। তবে কখনো কখনো মনে হয়, সেই অর্জিত শান্তি ও উপলব্ধির দায় আছে সমাজের কথোপকথনেও সামান্য হলেও প্রতিফলিত করার।

আপনার পরামর্শ ও শুভেচ্ছার জন্য আবারও ধন্যবাদ। অপনার এমন সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি ও সৌহার্দ্যই আমাদের সবার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল
****

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১০

হুমায়রা হারুন বলেছেনঃ বিশ্বাস করেন ডঃ আলী, আমি আপনার ধৈর্য্য এবং সহ্য শক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন:

মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
একেবারেই সীমা লঙ্গন না করলে বিনয়, নম্রতা ও শালীনতার ভিতর প্রতিমন্তব্য লেখা আমার সহজাত প্রবৃত্তি । উপরে অপু তানভীর এর মন্তব্যের প্রতিমন্তব্যে বিয়ষটি আরো একটু বিষদভাবে উল্লেখ করেছি ।

শুভেচ্ছা রইল






No comments:

Post a Comment