Mar 21, 2026

AI BOT

                                                                                  
 শ্রদ্ধেয় ভাই, কোথাও বলেছিলেন,
আপনার কি ভালো লাগে, ... এই পোস্টে পড়ে থাকা ৮ টি মন্তব্যের মধ্যে একটি মন্তব্যের উপরে কোন প্রতিমন্তব্য বা জবাব না দিয়ে, পর পর দুটি নতুন পোস্ট দেয়ার যুক্তি সমুহ কী কী? আর এটা কতটুকুই বা শোভন বলে মনে করেন?

যার পোস্টে (নাম বলছি না) এই প্রশ্ন করেছিলেন, সেই ID তে [আমার অবজারভেশান অনুযায়ী] কমপক্ষে তিনজন বা তিনটা AI BOT কাজ করে। যথাক্রমেঃ 
১. একজন পোস্ট টির ওপর প্রাথমিক মন্তব্য দেনঃ  পড়ে ভাল লাগলো।
২.এন্ডিং মন্তব্য দেন আরেক জন। যেমনঃ কে কি লিখলো দেখতে আসলাম।
৩. আরেকজন লেখেন আজকের  ডায়েরি 
৪. আরেকজন লেখেন আমার বন্ধু অমুক।
৫. ইদানীং সুফী ব্যক্তিদের জীবনী লেখা শুরু করেছে এপ্রিল ২০২৬ থেকে।

এই পাঁচ ব্যক্তি বা পাঁচ AI ব্যক্তিত্ব -এর মধ্যে কোন যোগাযোগ নাই। তারা পাঁচ ধরণের প্রোগ্রামিং [ AI BOT]  যারা তাদের জন্য নির্ধারিত সময় এলে সকল পোস্টে মন্তব্য লিখে যান/ (বা বলা যায়) মন্তব্য ক্রিয়েট করে যান।
কেন?
কারণ, এই প্রযুক্তির যুগে AI BOT দিয়ে কাজ করা সহজ। সময় বাঁচে।
মন্তব্যের খরার দিনে, এই ID টি মন্তব্যকে খরার হাত থেকে বাঁচানোর আপ্রান চেষ্টা করছে । প্রযুক্তি এখন অনেক অগ্রসরমান।
*****

২২ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১০

লেখক বলেছেনঃ আপনি ঠিকই বলেছেন ।
AI BOT নিজে থেকে চিন্তা বা অনুভব করে না। এটি ডাটা ও অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করে, তারা ডাটা ইনপুটে ভুল করে। তাই প্রায় কিংবা সবসময় ১০০% ই উত্তর সঠিক হয়না ।
তাই দেখা যায় সে বা তাহাদের মন্তব্যে ভুলবাল প্রচুর অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য চলে আসে , যেন কোথায় বাকবাড়ী আর কোথায় ঘোরাঘুরি করার মত ।
এ রকম আরো কয়েকজন আছেন তাদের ক্ষেত্রেও এরমটাই দেখা যায় । যাহোক এদের ঘরে এদের মত করেই এখন হতে মন্তব্য করা হবে ।

ঈদ শুভেচ্ছা রইল ।

২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।

Mar 14, 2026

মন্তব্যের ধরণ ধারণ/কমেন্ট বটে!

লেখকের লেখার যেমন স্টাইল আছে, কমেন্ট দাতার কমেন্ট করার-ও স্টাইল আছে। এমনকি ছদ্মনাম হলেও বুঝা যায় কমেন্ট দাতা মহিলা নাকি পুরুষ। ছদ্মনামগুলো যদিও নিজেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা। - ১৫ই মার্চ, ২০২৬--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------গালি দেবার অভ্যাস যাদের আছে তারা যখন নিজেকে খুব কষ্টে গালি দেয়া থেকে নিবারণ করে, মোটামুটি গোছের তীর্যক মন্তব্য করে কাজ সারেন, সেটাই তাদের মননের একধাপ উন্নতি বলে মনে করি। - ৮ই মে,২০২৬ ...................................................................................................................... ইদানিং পোস্টে কেউ কেউ বেশ বিশ্রী ধরণের ছবি সংযুক্ত করেন। বিকৃত নয়, বিশ্রী বলাই শ্রেয়,  মানে যা দেখলে মনের মাঝে ভাল অনুভূতির সঞ্চার হয় না। এমন ছবি  পোস্ট করে তারা মনে হয় একটা কিছু দেখিয়ে দিতে চান। এ ধরণের ছবিগুলো দেখে সকালে দিন শুরু করলে সারাদিনের জন্য মনটা, একটা নোংরা ছবির স্পর্শে আর ফুরফুরে হবার সুযোগ পায় না।
এদের বিশ্রী রুচিবোধ প্রমাণ করে দেয় যে ছদ্মনাম নিয়ে নিজেকে আড়াল করে ব্লগে আসে, কারণ এদের মন যেমন কু -চিন্তায় ভরা তেমনি রুচিও  কু- রুচিতে ভরপুর।.....................।।৯ই জুন, ২০২৬

১৪ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৪৪
রাজীব নুর বলেছেন: পাগলের সুখ মনে মনে।

১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৫২

  সামছুল আলম বলেছেন: যতই দরীদ্র হোক্ জন্মের সময় বাবা-মা তাদের সন্তানের মুখে প্রথমে একটু মিষ্টি ছুঁইয়ে দেয় !! কেন ?? বড় হয়ে মুখ দিয়ে ভালো কথা বের করবে; এ কারনে ???




১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আলম ভাই, সঠিক বলেছেন।

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২০

রাজীব বলেছেনঃ মানুষ মরে গেলেই, তার প্রতি আমাদের মায়া বেরে যায়।

১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: লেখকের লেখার যেমন স্টাইল আছে, কমেন্ট দাতার কমেন্ট করার-ও স্টাইল আছে।
এই কমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে এটা রাজীব ভাইয়ের কমেন্ট না। আমাদের 'উনি' বলেছেন এটা।


১৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৭

নতুন বলেছেন: উনি কি ব্যক্তিআক্রমন ছাড়া থাকতে পারবেন?

আমি কারুর ব্যানের পক্ষে না, কথা বলার অধিকার থাকা উচিত, তবে যদি কেউ প্রতিনিয়ন ব্যক্তিআক্রমন করতেই থাকে তবে কি করা উচিত সেটা বলুন রানু ভাই?

১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি উনার নাম নেওয়ার আগে ওজু করে নেবেন, প্লীজ।

আমি যদি বলি আপনি স্কুলে থাকা কালীন অংকে কাচা ছিলেন, সেটা কি ব্যাক্তি আক্রমন?
২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩
কিরকুট বলেছেন: বিশাল পোস্ট । আপনি তো ভাই আমাদের হৃদয় মন আত্মা সব ভরিয়ে দিলেন পোস্ট খানা প্রসব করে ।

ফেইসবুকের স্টাটাস তুলে এনে যদি মনে করেন ব্লগে তীর মেরে ফেলেছেন তাও এই সব ফালতু বিষয়ে তাইলে আপনার ধনুক ভেঙ্গে ফালান । এই ধনুকে কাজ হবে না ।

৩. ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা কি সামুর পাঠকদের জন্য আপনার বয়সের কোন অংক?

২৭ বছরের একজন নারী সাংবাদিককে আপনি আদরের দৃষ্টিতে দেখেন!!! হা হা :) :)

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:২২

লেখক শেজজাদ আমান বলেছেন: "আদর" মানে আপনার চোখে কী? আপনি তো মনে হচ্ছে নারী-পুরুষের সম্পর্ক বলতেই বোঝেন খালি ওইটা? তাই না? :)

৪. ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:২৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: শ্রাবণধারার সাথে একমত।

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:২৩

লেখক বলেছেন: আপনেও কি নারী-পুরুষ সম্পর্ক বলতে খালি জৈবিক বা শারীরিক সম্পর্ক বোঝেন? :)

৫. ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:৩০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: CNN -এ ক্রিস্টিনা আমানপোর কে যখন দেখতাম, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিউজ দিচ্ছে,আর তার পেছনের দিকে এখানে ওখানে বোমা পড়ছে, সেই বোমার শব্দ পাওয়াও যাচ্ছে, তখন খুবই থ্রিল্ড্‌ ফিল করতাম। মনে হতো 'হোয়্যাট এ ক্যারিয়ার!'
একজন নারী সাংবাদিকের কি চ্যালেঞ্জিং পেশা!
এখন আপনার পোস্ট দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের বোইন ক্রিস্টিনা আমানপোর এই পোস্ট দেখলে কেঁদে ফেলবে।

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬

শেহজাদ আমান  বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়েও আমার কেঁদে দেওয়ার অবস্থা হয়েছে। :) ক্যারিয়ারে সফল মানে মনমানসিকতায়, চিন্তাচেতনায় সফলতা না! অবশ্য সেটা বোঝার মতো জ্ঞান আপনার আর ক্রিস্টিনা আমানপোরও আছে কিনা সন্দেহ! 

১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৪

কিরকুট বলেছেন: হুমায়রা হারুন বলেছেন: 'তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ ,
তাই তব জীবনের রথ
পশ্চাতে ফেলিয়া যায় কীর্তিরে তোমার' ----
যেখানেই থাকো ভালো থাক তুমি, কারিনা সোনামণি।


ভদ্রমহিলার কীর্তির বিবরন টা দেবেন । আমার জানা নাই । দুইতিন ঘেটে যা জেনেছি উনি একজন টিকটকার সেই সাথে কিংবদন্তি রানী হামিদের নাতনি । তার বাবা কায়সার হামিদ একজ সাবেক ফুটবল প্লেয়ার যিনি কিনা আবার পাব্লিকের টাকা মেরে খাও্য়ার দায়ে দন্ড প্রাপ্ত । কারিনার কি কীর্তি আছে জানা নাই । তবে ওনার বন্ধু ও বান্ধুবিদের মারফত জানা যায় তিনি তিমি মাছের মত মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন ।




জুলভার্ন এর চিঠি


১৪ই মার্চ, ২০২৬, রাত ৯ঃ৩২

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি....

প্রিয় সহব্লগার,

আমার লেখা একটা পোস্টের তথ্য খুজতে অনেক দিন পর আজ আবার লগইন করলাম আমাদের প্রিয় সামুতে। লগইন করার পর প্রথমেই অভ্যাসবশত চোখ গেল প্রথম পাতার দিকে। কেমন যেন লাগলো!
একসময় এই প্রথম পাতাটাই ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব। নতুন নতুন পোস্ট উঠে আসত প্রতি মিনিটে। কেউ গল্প লিখছে, কেউ কবিতা, কেউ রাজনীতি বিশ্লেষণ করছে, কেউ আবার সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ লিখছে। আর মন্তব্যের ঘরে চলত এক অন্যরকম গণতন্ত্র- মুক্তির লড়াই, তর্কের ঝড়, কখনো রাগ, কখনো হাসি, কখনো আবার বন্ধুত্বের জন্ম।
আহ কী সেই সময়টা!
রাত দুইটা, তিনটা তবুও সামু ঘুমাত না।
কেউ নতুন কবিতা পোস্ট করেছে, কেউ ভ্রমণকাহিনি, কেউ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। আমরা পাঠকরা মন্তব্য করতে করতে কখন যে রাত ভোর হয়ে যেত- টেরই পেতাম না! 
কত নাম, কত নিক, কত মানুষ, কত দেশ-মহাদেশ থেকে লিখেছেন যাদের কোনোদিন চোখে দেখিনি, কিন্তু তারা আমাদের চিন্তার জগতে কতটা কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিল!
কখনো কোনো পোস্ট স্টিকি হয়েছে- আর সেই পোস্ট ঘিরে শতশত মন্তব্যের ঝড় উঠেছে।
কখনো কোনো মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল কমেন্ট যুদ্ধ।
মডারেশন নিয়ে অভিমান হয়েছে, কখনো কেউ ব্যান হয়েছে, আবার নতুন নিক খুলে ফিরে এসেছে। তারপরও সামু ছিল- আমাদের সবার জন্য এক জ্ঞান-বিজ্ঞান, কাব্য-সাহিত্য, বিশ্বভ্রমণের বিশাল চারণভূমি।
এই প্ল্যাটফর্মই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।
শিখিয়েছে কিভাবে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হয়।
কিভাবে ভিন্ন মতকে সহ্য করতে হয়।
কিভাবে একটি সমাজের নানা রকম চিন্তা একই জায়গায় জায়গা করে নিতে পারে।
সামু অসংখ্য লেখক তৈরি করেছে।
অনেক সাধারণ ব্লগার এখান থেকেই লেখালেখির আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকও এই ব্লগে এসে আমাদের সঙ্গে একই পাতায় কীবোর্ডে কথা বলেছেন- এটাই ছিল সামুর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
কিন্তু এই পথচলা কখনো সহজ ছিল না। একদিকে সাম্প্রদায়িক উগ্রতার আঘাতে আমাদের কয়েকজন সহব্লগারকে হারাতে হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রোষানলেও পড়েছেন অনেকেই- নির্যাতন, হয়রানি, গুমের শিকার হয়েছেন কেউ কেউ। তবুও সামু থামেনি।
কারণ সামু শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়- সামু মুক্ত চিন্তার এক সাহসী মঞ্চ।
আজ যখন প্রথম পাতার দিকে তাকাই, মনে হয়- সময়ের স্রোতে সেই পুরোনো কোলাহল কোথায় হারিয়ে গেছে।
নতুন প্ল্যাটফর্ম এসেছে। মানুষ সেদিকে সরে গেছে।
ফেসবুকের দ্রুত স্ক্রল করা পৃথিবীতে দীর্ঘ লেখা পড়ার ধৈর্য যেন কমে গেছে। তবুও একটা কথা সত্য, বাংলা ভাষার ডিজিটাল ইতিহাস লেখা হলে সেখানে একটি নাম কখনো মুছে যাবে না- সেখানে একটি নাম সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে-সামহোয়্যারইন ব্লগ।

আমার বিশ্বাস- বাংলা ভাষার এই ঐতিহাসিক অবদানের জন্য একদিন রাষ্ট্রও সামহোয়্যারইন ব্লগকে যথাযথ সম্মান দেবে। সেই সম্মাননা গ্রহণ করবেন- সামু ব্লগের জনক-জননী। কারণ, “বাঁধ ভাঙার আওয়াজ” শুধু একটি স্লোগান নয়- এটি ছিল এক প্রজন্মের সাহসী উচ্চারণ।

এই প্ল্যাটফর্ম শুধু পোস্ট আর মন্তব্যের সমষ্টি নয়। এটি একটি সময়ের স্মৃতি। একটি প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতার ইতিহাস। আমি জানি না ভবিষ্যতে সামুর কী হবে।
হয়তো আবার জেগে উঠবে, হয়তো ধীরে ধীরে ইতিহাস হয়ে যাবে।
কিন্তু আমরা যারা এই প্ল্যাটফর্মের পুরোনো পথিক- আমাদের স্মৃতির ভেতর সামু সবসময় বেঁচে থাকবে।
হয়তো কোনো একদিন আবার কোনো পুরোনো ব্লগার লগইন করবে, প্রথম পাতার দিকে তাকাবে,
আর নিঃশব্দে বলবে- “আহ..... সেই দিনগুলো!”
ভালো থাকুন, প্রিয় সহব্লগাররা। যেখানেই থাকুন, লিখে যান।
কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যিটা খুব সহজ-
"বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" কখনো পুরোপুরি থেমে যায় না ।

ভালো থাকুন, প্রিয় সহব্লগাররা ।
যেখানেই থাকুন , লিখে যান। 
কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যিটা খুব সহজ -
'বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ' কখনো পুরোপুরি থেমে যায় না। 

----------------------------------------------------

 ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:১৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: সামু'র সাথে আমাদের পুরো জার্নি-টাকে একত্রে তুলে ধরেছেন।
অসম্ভব ভাল লাগলো পড়ে।
আবার মনে পড়ে গেল সেই দিনগুলোর কথা।
বেশ কিছু বছর গ্যাপ দিয়ে আবার আমি সামুতে এসে, প্রতিটা মুহূর্তে সেই দিনগুলোকে মিস করি, সেই মানুষদের মনে করি।
ভালো থাকবেন ভাইয়া।

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯০
লেখক বলেছেন: যদিও আমিই এখন আর সামুতে নিয়মিত নই। তবুও এসেই আপনাকে দেখে ভালো লাগছে।

 ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জুলভার্ন। আমি যাদের অনুসরণ করি তাদের মাঝে আপনি একজন।
কিন্তু এখন কেউ নেই এই ব্লগে।
আমার আর্কাইভড লেখাগুলো ফিরে পেয়েছি।
কিছু লিখলে এখানে রেখে দিই, এই যা। আর একা ঘোরাঘুরি করি।

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: কী সুন্দর সেইসব দিনগুলি! আমাদের পারস্পরিক সহমর্মিতা,সৌজন্য এবং সম্মানবোধ- কোথায় হারিয়ে গেলো! আমার মনে পড়ে- আমার অসুস্থ্যতার সময় জানা দম্পতি আমাদের দেখতে যাওয়ার কথা, একজন না দেখা বোন মেহবুবা আমার জন্য মিলাদ পড়িয়ে দোয়া করা! একজন কট্টর বিএনপি কর্মী সেই বোনের অনুরোধে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা!
আর এখন? শুধু বিষোদগার, চরিত্র হণন!
Note কালপুরুষ দা চলে গেছে ৭ই মার্চ, বা ৯ই মার্চ ২০২৬
ওনাকে নিয়ে লেখা আমার পোস্ট https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30389899

 ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪৯

আমার মন্তব্যঃ 'শৈশবের সেই নির্মল আনন্দ কিছুতেই ফিরে আসে না।'
এখন দেখছি সে সময়ের, আশপাশের সেই মানুষগুলোও নাই হয়ে যাচ্ছে।

 ২৮ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

 আমার মন্তব্যঃ যেখানে মানুষের জীবন মানবেতর, সেখানে সত্যিই আশা করার মতো কিছু, খুব কমই থেকে যায়। প্রতিদিনের সংগ্রাম, বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব, আর অসহায়ত্ব—এসব যেন মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, এমনকি হাসি-আনন্দকেও গলাটিপে ধরে। এমন বাস্তবতায় মানুষ কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; মানবিক মূল্যবোধ, সৌহার্দ্য বা ভালো থাকার স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়।
যখন চারপাশে অবিচার, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর অমানবিকতা ঘিরে ধরে, তখন আশা নামক শব্দটাও অনেক দূরের কোনো দুর্লভ অনুভূতিতে পরিণত হয়। মানুষ তখন শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই যুদ্ধ করে, বেঁচে থাকার মানে কী—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার অবকাশও আর থাকে না।
তবুও, এই অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও মাঝেমধ্যে কোনো এক ক্ষীণ আশার আলো জ্বলে ওঠে—কারও সহানুভূতি, কারও ভালোবাসা, বা কোনো ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু সে আলো খুবই ক্ষণস্থায়ী; অধিকাংশ সময়েই, মানবেতর জীবনের দুঃসহ ভারে আশার অস্তিত্ব প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।
এই জন্যই বলা যায়—যেখানে মানুষের জীবন মানবেতর, সেখানে আশা করা সত্যিই কঠিন।

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৭

লেখক বলেছেন: মেশিন মেড এ আই মন্তব্য না করে নিজের মতো করে ছোট মন্তব্য করেও সেটা বেশী ভালো লাগে।

Mar 13, 2026

নতুন কমিউনিটি ব্লগ

 ১২ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

হুমায়রা হারুন বলেছেন: https://oputanvir.pro.bd/
ভাল দেখাচ্ছে। সবার লেখা কিভাবে সেইভ করে রাখা যাবে? একদম প্রথম থেকে?

১২ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১

লেখক বলেছেন: এটা একেবারে র । সামনে আরো কাজ করতে হবে।

লেখা সেভ বলতে কী বলতে চাচ্ছেন? এই সামুর লেখা সেভ ? নাকি ডাউনলোড করে লেভের কথা বলছেন। আরেকটু পরিস্কার করে বলুন।

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: 'আমাদের প্রযুক্তি' ফোরামে আমার অনেক লেখা ছিল। এখন সেই ফোরাম নাই । আর তার সাথে আমার সব লেখা সব হারিয়ে গেল।
তাই বলছিলাম এই ব্লগের সব লেখা কি সেইভ করে রাখা যায়?
এত কথা। এত লেখা।
সব কি কোন একসময়ে হারিয়ে যাবে?
মাঝে মাঝে মনে হয় এখন সামু ব্লগ যেন মা-বাবা হীন; একদম একা। তখন খুব চিন্তা হয় ।
আপনার নতুন ব্লগ তৈরীর উদ্যোগ খুবই চমৎকার।

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: এখনও ব্লগের লেখা সংরক্ষণের কোন সিস্টেম নেই ।যদি কোন দিন বন্ধের ঘোষণা আসে তবে তখন হয়তো কর্তৃপক্ষ এমন কোন ব্যবস্থা করবেন যাতে লেখাগুলো সংরক্ষণ করা যায়। আমি অবশ্য অনেক আগে থেকেই আমার সব লেখারই ব্যকআপ তৈরি করে রাখি। আলাদা একটা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ ছিল অনেক আগে থেকেই। লেখা সব সেখানেও পোস্ট হত।

আসলেই যদি কোন দিন ব্লগটা বন্ধ হয় তবে অবশ্যই এমন কিছু করার ইচ্ছে আমার রয়েছে।

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:০৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঢুকেছিলাম আপনার ব্লগে। ভালোই মনে হচ্ছে। আপনার ব্লগের উপরে এক জায়গায় বানানে ভুল আছে। বিশ্ব রাজনীতি হবে। সামু বন্ধ হলে আপনার ব্লগে সবাই আসবে আশা করি। আপনি বিয়ে শাদি না করে এগুলি নিয়ে পড়ে থাকলেই ভালো করবেন (যদি এখনও না করে থাকেন)।

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: বর্তমানে যে কয়জন ব্লগার রয়েছে এরা মূলত ব্লগিংয়ের প্রতি একধরনের নেশা রয়েছে। এদের জন্য একটা ছোট ব্লগ খোলাই যায় ! আর ছোট এই ব্লগ চালাতে খুব বেশি খরচ বা কারিগরি জ্ঞান থাকারও দরকার নেই।
বিয়ে শাদির দিকে যাওয়ার আর কোন ইচ্ছে নেই এই জীবনে!

Mar 12, 2026

কালপুরুষ দা স্মরণে


পাঠক ডঃ আলী বলেছেনঃ কালপুরুষদা স্মরণে এই পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার বিষয়েও এ সুযোগে কিছু জানা হল । নব আলোকে বাংলা‌ -এর মত ম্যাগাজিন  সম্পাদনা সে যে বিষম  দুরূহ কাজ তা আমি বুঝি, কেননা কলেজে পাঠকালে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের ম্যগাজিন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল বলে ।

আপনার পোস্টের লিংক ফলো করে কবি( সামু ব্লগের গর্বিত ব্লগার) কালপুরুষ রচিত মুল্যবান কবিতা “আমার রক্তের ইতিহাস “ মন্ত্রমুগ্ধের মত পাঠ করে এসেছি । শুধু এসেছি নয় কবিতাটিকেও সযতনে বুকে করে নিয়ে এসেছি এখানে।

আগে কবিতাটির বিষয়ে কিছু কথা,কবিতাটির মাত্র কয়েকটি চরণ তুলে ধরে বলে নিই । তারপর নীচে কালপুরুষের মুল্যবান কবিতাটির পুরাটাই এখানে দিব তুলে।

কবি কালপুরুষ -এর আমার রক্তের ইতিহাস এই কবিতা শুধু একটি রচনা নয়; এটি যেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এর রক্তাক্ত ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক প্রতিধ্বনি।মাত্র কিছুদিন আগে তাঁর মহাপ্রয়াণ এই কবিতাকে আরও গভীর বেদনার আবরণে ঢেকে দিয়েছে। নিচে কবিতার প্রতিটি ভাব ও কতক আবেগঘন দৃশ্যের রেশ ধরে কিছু কথা তুলে ধরা হলো:-

১. “মাগো, একটু হাসো-- দেখি তোমায় দুচোখ ভরে” এ যেন অন্ধকারের ভেতর মায়ের মুখ।

কবিতার শুরুতেই এক মৃত্যুপথ যাত্রী মুক্তিযোদ্ধার আকুল আহ্বান মায়ের হাসি দেখার জন্য। চারপাশে যুদ্ধের অন্ধকার, আকাশে চাঁদ নেই, প্রকৃতি যেন থমকে গেছে। এই অন্ধকার শুধু রাতের নয়; এটি দখলদারিত্বের, অত্যাচারের, অনিশ্চয়তার অন্ধকার। আহত মুক্তিযোদ্ধা তার রক্তে ভেজা শরীর লুকাতে চায় মায়ের আঁচলে যেন মায়ের স্নেহই শেষ আশ্রয়। সেই রক্তই আগামীকালের পতাকার লাল রং হয়ে উঠবে এই ভাবনাই তাকে মৃত্যুর মুখেও গর্বিত করে তোলে।

২. মাগো, একটু আদর করো--বুকটা কেমন খা খা করে ওঠে। এ যেন মায়ের ত্যাগ ও সন্তানের বিদায়ের করুণ সুর।

এখানে ফুটে ওঠে এক নিঃসঙ্গ সংসারের গল্প। বাবা নেই, মা-ই ছিলেন একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে সন্তানের রক্তে জেগে ওঠে দেশের ডাক। মায়ের বুক ভেঙে দিয়ে সে চলে যায় যুদ্ধে। এখন ফিরে এসেছে কিন্তু বিজয়ের পাশে, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা যেন মায়ের নীরব কান্নার প্রতিধ্বনি,পাতা নড়ে না, বাতাস থেমে যায়, পেঁচার ডাক যেন অশুভ সংকেত হয়ে বাজে।

৩. “মাগো, একটু গান করো আজ শুনি” এ যেন যুদ্ধের নীরবতা ও মৃত্যুর পূর্বাভাস।

যুদ্ধের ভয়াবহতা এখানে এক গভীর নিস্তব্ধতার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। গুলির শব্দে রাতের শান্তি ছিন্নভিন্ন হয়েছে, পাখিরা উড়ে গেছে, ভোরের গান থেমে গেছে। জোনাকির আলো যেন অদ্ভুতভাবে জ্বলে ওঠে ,যেন মৃত্যুর আগে প্রকৃতি নিজেই এক অদ্ভুত আলোকসজ্জা করছে। আহত যোদ্ধার মনে প্রশ্ন এ কি শ্মশানের নিকটবর্তীতা? তার চিতা কি শিগগিরই জ্বলবে?

৪. “মাগো, কাঁদছো কেন বলো--- খোকা তোমার এসেছে আজ ফিরে” এ যে শহীদের গর্ব।

এখানে বেদনার মধ্যেও এক অদম্য গর্ব ফুটে উঠেছে। সন্তানের মৃত্যু, মায়ের কোলে এ যেন এক অনন্য সম্মান। একটি গুলি তার বুক ভেদ করলেও সে বিশ্বাস করে স্বাধীনতার ফসল একদিন ফলবেই। শত্রুরা যতই শক্তিশালী হোক, সাত কোটির মানুষের ঐক্য তাদের পরাজিত করবে। মাতৃভাষা, স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা সবকিছুই একদিন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হবে।

৫. “মাগো, আর যে সময় নেই--- ঘুম যে আসে জলোচ্ছ্বাসের মতো” এ যেন একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের শেষ মুহূর্ত।

শেষ অংশে মৃত্যুর মুহূর্ত এসে দাঁড়ায়। ক্লান্ত শরীর ঘুমের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিন্তু তার মনে একটাই আকাঙ্ক্ষা -মায়ের আঁচল যেন হয়ে ওঠে স্বাধীনতার পতাকা। সে চায় সবাই যেন জানে, এই পতাকার লাল রং তার মতো অসংখ্য শহীদের রক্তে আঁকা। নিজের মৃত্যুকে সে পরাজয় মনে করে না; বরং এটিকে দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার অধিকার হিসেবে।

এই কবিতায় মা ও সন্তানের সম্পর্কের ভেতর দিয়ে আসলে পুরো জাতির ইতিহাস কথা বলে। মায়ের আঁচল এখানে মাতৃভূমির প্রতীক, আর সন্তানের রক্ত স্বাধীনতার মূল্য। কবি কালপুরুষ যেন স্মরণ করিয়ে দেন স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি অসংখ্য মায়ের কান্না, অসংখ্য সন্তানের আত্মত্যাগ, আর এক অমর ইতিহাসের ফল।

কবির মৃত্যুর পর এই কবিতাটি যেন আরও গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত হয় । যেন তিনি নিজেই সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে বলে যাচ্ছেন স্বাধীনতার পতাকার লাল রং কখনোই ভুলে যেও না এটি রক্তে লেখা ইতিহাস।

কবি কালপুরুষ এই কবিতার মাধ্যমে যেন স্মরণ করিয়ে দেন স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু রাজনীতি নয়; এটি মায়ের কান্না, সন্তানের রক্ত, আর এক জাতির আত্মমর্যাদার গল্প।

আমাদের সামু ব্লগের গর্ব এই কবি কালপুরুষের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী ।কবি কালপুরুষ রচিত  'আমার রক্তের ইতিহাস' সকলের পাঠের সুবিধার জন্য এখানে তুলে দিলাম ।


আমার রক্তের ইতিহাস
-- কালপুরুষ

মাগো, একটু হাসো-
দেখি তোমায় দুচোখ ভরে।
বেহায় এই অন্ধকার আজ যাচ্ছে না কেন সরে,
চাঁদটা কেন ওঠেনি আজ জেগে,
আকাশ কেন অন্ধকারে ঢাকে?
রক্তে ভেজা শরীর আমার ঢাকবো ক্যামন করে?
বুকে আমায় চেপে ধরো মাগো,
রক্তে রাঙাই শারীর আঁচল জমাট বাঁধার আগে।
পতাকা আমার কেমন হলো লাল, দেখবে সবাই ওড়াবে যখন কাল।
বলতে পারো মাগো, এতো মেঘ কেন আজ আকাশ জুড়ে?
তুমি হাসোনি বলে কি তাই!

মাগো, একটু আদর করো-
বুকটা কেমন খা খা করে ওঠে।
বাবাতো সেই কবেই গেছে চলে,
আগলে তুমি রেখেছিলে অনেক কষ্ট সয়ে।
পারলে না তাও- পালিয়ে গেলাম, যুদ্ধ যেদিন শুরু;
বলেছিলাম আসব ফিরে, এলাম তোমার কাছে।

মাগো, গাছের পাতা শান্ত কেন আজ?
বাতাস কেন বহেনা আজ জোড়ে?
উফ্! অলুক্ষণে পেঁচাটা কেন ডাকে?
হাসি কেন দেখিনা তোমার ঠোঁটে?
রাতভর কেঁদেছো বলে কি তাই!

মাগো, একটু গান করো আজ শুনি-
কানদুটো কেমন অসাড় হয়ে আছে।
নিঃশব্দের প্রহর কেটে গুলি যখন ছোটে,
ঝাঁঝড়া হলো নিঝুম ঘুমের রাত;
উড়াল দিল পাখীরা সব মেঘে।
চাঁদটা কেন ঢাকলো গোপন বেশে?
থামলো কেন ভোরের পাখীর গান?

মাগো এতো জোনাক কেন জ্বলে?
শশ্মানটা কি ধারে কাছে কোথাও?
চিতা আমার জ্বলবে বলে কি তাই!
মাগো, কাঁদছো কেন বলো-
খোকা তোমার এসেছে আজ ফিরে।
ভাগ্য আমার এতই ভাল ছিল,
শহীদ হব আপন মায়ের কোলে।
বিঁধলো না হয় একটা গুলি বুকে,
স্বাধীনতার ফলবে ফসল দেখো-
কতই আর ঝড়াবে ওরা রক্ত এক এক করে!
আমি, তুমি আমরা সবাই সাত কোটিতো কম নই!
পারবে কি আর শেয়াল-শকুন, হায়েনার দল জোট বেঁধে?
নিত্যনতুন ফলবে ফসল আমারি ক্ষেত জুড়ে,
বলবে কথা মায়ের ভাষায় সবাই একই স্বরে।
জানবে সেদিন আমার কথা,
রক্তে রাঙ্গা বীর শহীদদের করুণ মৃত্যু গাঁথা।

মাগো তুমি দেখে নিও, আগাছা সব এক এক করে
খাবলে নেবে ওরা।
নেংটি ইঁদুর শত্রু সবার যাবেই এদেশ ছেড়ে।
শুধু তুমি চাইবে বলে তাই!
মাগো, আর যে সময় নেই-
ঘুম যে আসে জলোচ্ছাসের মতো,
যেতেই হবে এবার আমি জানি;
পাহাড়সম কষ্ট তোমায় দিলাম হাতে তুলে।
মৃত্যু আমার রইলো জমা আমার মায়ের নামে।
বলবো কথা সবাইকে আজ সময় হাতে নেই-
মৃত্যু আমার এক জনমের বাঁচার অধিকার,
পতাকা হয়ে উড়লো নাহয় তোমার শাড়ীর আঁচল।
একটু শুধু খেয়াল রেখো সবাই যেন দেখতে পায়,
স্বাধীনতার সেই পতাকা আমি এঁকেছি রক্ত দিয়ে,
তোমার ছেলে শহীদ হলো তাই।
......

 আমার মন্তব্যঃ  অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই। কালপুরুষদা'র কবিতাটি নিয়ে বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনা খুব ভাল লাগলো। দাদাও নিশ্চয়ই খুশী হবেন। আজ ওনার যাবার চারদিন হচ্ছে। ভাবলে অবাক লাগে, পৃথিবীতে এসে মানুষ কথা বলে, হাঁটে, চলে, বিচরণ করে, তারপর কাজ শেষে কোথায় যেন চলে যায়। কোন চিহ্নও থাকে না। একদম মাটির সাথে  মিশে যায়। কিন্তু তার কাজ থেকে যায়। কথাগুলো থেকে যায়।

 দাদার লেখাগুলো আছে।

এই কবিতাটি যেদিন আমার চোখে পড়লো, আমার যে কেমন লেগেছিল বুঝাতে পারবো না। লেখাটি শুধু যে অনন্য একটি লেখা তা নয়, বাংলা কবিতার রাজ্যে  এ যেন একটি অসাধারণ সৃষ্টি, অনন্য এক কাব্যিক শিল্পকর্ম।  তখন শিল্পী এম এস জুলহাস তার স্কেচ, পোস্ট দিতেন।  তার স্কেচের সাথে দাদার কবিতা সমন্বয় করে এবং আরো সকলের লেখা নিয়ে সংখ্যাটি যখন প্রকাশ করেছিলাম, একটা  অনাবিল আনন্দে আমার মন ভরে গিয়েছিল।  দাদার কবিতার সাথে যথার্থ স্কেচ যেন অতর্কিতেই কেউ হাজির করে দিয়েছিল।

দাদার আরো অনেক গুণ ছিল। উনি একজন ফটোগ্রাফার ছিলেন। ভাল রান্না জানতেন। অ্যাস্ট্রলজির একটা বই হাতে নিয়ে পুরনো একটা ছবি পোস্ট দিয়েছিলেন। [সেই বইটা আবার আমারও ছিল, anyway] আর অ্যাস্ট্রনমি না জানলে তো কালপুরুষ  ID সিলেক্ট করতেন না। 

বহুগুণের এই মানুষকে আমাদের চলার পথে  পেয়ে আমরা খুশী । আমরা গর্বিত । এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

যেখানেই থাকুন, যে ডাইমেনশানেই থাকুন, দাদা যেন ভাল থাকেন।  

পাঠক বলেছেনঃ উনি ব্লগ ছেড়ে দেওয়ার পরে আমি ব্লগে এসেছিলাম তবে তার অনেক লেখা আমি পড়েছি পড়ে। সামু ব্লগের বলতে গেলে খুব কম মানুষের সাথেই বাস্তবে দেখা হয়েছে। সবাইকে চেনা কেবল তার লেখার মাধ্যমেই কিন্তু তারপরেও যখনই শুনি ব্লগের কেউ আর নেই তখন মনের ভেতরে একটা মন খারাপের ভাব চলে আসে। দীর্ঘ সময়ে সেই মন খারাপের ভাবটা থাকে।


আমার মন্তব্যঃ তাই ভাবি পৃথিবীতে আসার পর যার যা কাজ তা শেষ হলে সবাই চলে যায়। চলার পথে কতজনার সাথে দেখা হয়, আবার দেখা হবার সুযোগ না থাকলে দেখা হয় না। কিন্তু সামু প্ল্যাটফর্ম সবাইকে পরিচিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে। সামনা সামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও এখানে একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি।
এইতো জীবন।

১৩ই মার্চ, ২০২৬ 
                             
পাঠক বলেছেনঃ তিনি ব্লগিং
ছেড়েছেনও এক যুগের উপরে, এরকম সুপার একজন একটিভ ব্লগারের বিদায়ে সেই সময় যেমন কষ্ট পেয়েছিলাম, এখনও পৃথিবীর মোহ-মায়া ত্যাগের খবরেও কষ্ট পেলাম।
ওপারে তার শান্তি কামনা করছি।

আমার মন্তব্যঃ কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন এমনই , সকলের প্রাণকেন্দ্রে  পরিণত হন। তারা চলে  গেলে সেই শূণ্যস্থান আর পূরণ হয় না।
তবুও প্রযুক্তির কল্যাণে তাদের লেখা, তাদের কথাগুলো আমরা পড়বার সুযোগ পাই,জানবার সুযোগ পাই। এই-বা কম কিসের।
   

১৩ ই মার্চ ২০২৬, সকাল ১০:৪৬০

রাজীব নুর বলেছেনঃ  বুঝতে পারছি, আপনার মন খারাপ হয়েছে। একজন ব্লগারের মৃত্যুতেও আমারও মন খারাপ হয়েছে।

একদিন আমিও মারা যাবো।

***

আমার মন্তব্যঃ আর কিছুদিনের মধ্যে এমন টেকনলোজি আসবে যে মানুষ তার দেহের কোষের ক্ষয় রোধ করতে পারবে।

মানুষ অমর হবে। আমরা সে সুযোগ অল্পের জন্য পাবো না। কিন্তু আপনারা পাবেন।

১৩ই মার্চ ২০২৬

শায়মা বলেছেন: কালপুরুষ ভাইয়া আমার কাছে যে কত প্রিয় ছিলো তা আমার অনেক পুরোনো লেখাতেই পাওয়া যাবে। ভাইয়ার গুনাবলী গুনতেও সময় লেগে যাবে। ভাইয়া অনেক অনেক সৌখিন ও ট্যালেন্ট একজন মানুষ ছিলেন। খুব কষ্ট পেয়েছি ভাইয়া আর এই পৃথিবীতে নেই জানতে পেয়ে।

***

আমার মন্তব্যঃ আমাদের চলার পথে তার মতো মানুষের সাথে যে পরিচিত হতে পেরেছি এটাই আমাদের সৌভাগ্য।



Mar 7, 2026

আম্রপালী


আমার মন্তব্য ঃ কাহিনীর দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ ভিক্ষুনী আম্রপালী -র https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30286001 তৃতীয় ছত্রে একটি শব্দ 'রপোজীবিনী' দেখে একটি অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল। আমি একবার এক অশতিপর বৃদ্ধার মাঝে  তরুণী আম্রপালীর ব্যক্তিত্বের যে চছ্বটা দেখেছিলাম, তা বর্ণনা করে তিন দশক পর একটি লেখা লিখেছিলাম রূপোপজীবিনী 

https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30383219

সেখানে আমি এইটুকুই বলেছিলাম যে, প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয় কে সেই নারী হবে - যার শরীরের প্রতিটি কণা কামনার তীর হিসাবে ছিটকে ছিটকে বিঁধবে সকলের মনে। তাই সে হবে সকলের আকাঙ্ক্ষার উপকরণ। তার সাথে এমনটা হবে কারণ, এটা প্রকৃতির চয়েস, প্রকৃতির ইচ্ছা।

আমরা যদিও মনে করি রূপোপজীবিনীর তুচ্ছ জীবনটাকে নিয়ে প্রকৃতির এই খেলা (মানে প্রভাবশালীদের ইচ্ছার বস্তু হওয়া) তার জন্য নির্মম নিয়তি, কিন্তু অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলে আমি  সেই বৃদ্ধার  aura দেখে উপলব্ধি করেছি যে, they were  sent by some one (some sort of supernatural power) with a mission to do this act.

কেন এমন মনে হয়?

Past Life Regression Session (PLRS) -এ Dolores Cannon সাব্জেক্ট হিসাবে একজন দেহ পসারিনীর sub -conscious   কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কেন এই সাবজেক্ট (মহিলা) এই পেশা গ্রহন করেছে। তখন তার higher self, PLRS - এ বলেছিল, তারা, সাবজেক্ট কে এই পেশা গ্রহনের টাস্ক দিয়েছে যেন এই সাব্জেক্টের  ক্লায়েন্টদের  আচরণ, মানসিকতা তারা বুঝতে পারে।

সুতরাং ওইভাবে যখন ভাবি যে দেহ পসারিনী মেয়েটি সমাজের বেঁধে দেয়া নিয়মের শিকার, তখন মনে হয়, জীবদ্দশায় আমাদের সব অ্যাক্টগুলো  layer এ  layer এ সজ্জিত। এসবের   deep rooted meaning জানা বা বুঝা  এক জনমে সম্ভব না।

**************

১৮ই মার্চ, ২০২৬ 
  মশা কামরাইল রে, কামরাইল ইরানী মশা -ডঃ এম এ আলী

আমার মন্তব্যঃ  এই অসাধারণ ও শিক্ষণীয় কবিতাটি আমাদের উপহার দেবার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই সৃজনশীল রচনা আমাদের সত্য, ন্যায়, বিনয় ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ করে। 

কল্পগল্প থ্রি ডেইস ব্ল্যাক আউট


https://www.somewhereinblog.net/blog/blogger16/30389771


 ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসাধারণ চিন্তা।
তবে three days black out তো সামনে আসছে।
৭২ ঘন্টা!

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে! সামনের ব্লাক আউটে আমরা কোন মত ঠিক থাকব এটাই স্বস্তির!!!