Jan 9, 2026

ব্লগারের অভাব

 https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30387736

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

আমার মন্তব্যঃ  আপনার এই পর্যবেক্ষণ ব্লগ সংস্কৃতির একটি বেদনাদায়ক সত্য তুলে ধরেছে। সত্যিই, ব্লগের প্রাণ হলো পারস্পরিক আদান-প্রদান - লেখা এবং মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি জীবন্ত সংলাপ। আপনি যথার্থভাবে বলেছেন, একসময় ব্লগাররা একে অপরের লেখায় প্রচুর মন্তব্য করতেন, যা ছিল ব্লগের স্বর্ণযুগ। কিন্তু এখন যে "কৃপণতা" জেঁকে বসেছে, সেটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
আপনার পর্যবেক্ষণ - "পুরাতন ব্লগাররা লগ ইন করেও চিরচেনা ব্লগারদের লেখায় ফিরে তাকান না" - এটি একটি গভীর সমস্যা নির্দেশ করে। এটা কি ক্লান্তি? নাকি সময়ের অভাব? নাকি আগ্রহের পরিবর্তন? যাই হোক, এর ফলাফল হলো যে নতুন এবং পুরাতন উভয় লেখকই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আপনার সমাধান - "খোলা মন নিয়ে একে অপরের ব্লগ বাগানে বিচরণ করা" - এটি চমৎকার উপমা। ব্লগ সত্যিই একটি বাগানের মতো, যেখানে প্রতিটি লেখা একটি ফুল। কিন্তু সেই ফুল দেখার জন্য, প্রশংসা করার জন্য, এমনকি সমালোচনা করার জন্যও দর্শক দরকার।
আপনার এই কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ - "লেখা পছন্দ না হলেও অন্তত এক-দুই কথায় বলে যাওয়া।" সৎ, গঠনমূলক সমালোচনাও মন্তব্যের অভাবের চেয়ে অনেক ভালো। নীরবতা সবচেয়ে নিরুৎসাহিত করে।
তবে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, এই কৃপণতার মূল কারণ কী? সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতি কি আমাদের ধৈর্য্য কেড়ে নিয়েছে? নাকি ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা? নাকি আমরা নিজেরাই পরিবর্তিত হয়ে গেছি?
আপনার সতর্কবাণী - "খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে" - এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। ব্লগ শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সম্প্রদায়। এবং সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
আপনার এই আহ্বান সময়োপযোগী এবং জরুরি। আশা করি, এই লেখাটি ব্লগারদের মধ্যে একটি আত্মসচেতনতা তৈরি করবে এবং আমরা আবার সেই জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে পাব।
ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব আমাদের সবার।
আপনার এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৫

লেখক বলেছেনঃ  আপনার মন্তব্যটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং বহুস্তরবিশিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কোনো কারণে ব্যাখ্যা করা বোধহয় যথার্থ হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির স্ক্রল সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে আমাদের পাঠ ও প্রতিক্রিয়ার ধৈর্য কমিয়েছে; সেখানে “লাইক” বা এক লাইনের প্রতিক্রিয়াই যেন যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর প্রভাব ব্লগিং জগতেও এসে পড়েছে।

একই সঙ্গে ব্লগ প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নোটিফিকেশনের অভাব কিংবা পাঠকের কাছে নতুন আকর্ষনীয় লেখা পৌঁছাতে নাপারাও মন্তব্য কমে যাওয়ার একটি বাস্তব কারণ।তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের নিজেদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি; পড়ছি, কিন্তু সংলাপে অংশ নিচ্ছি না। মোবাইল হতে ব্লগে লগ ইন করাও একটি কারণ হতে পারে । মোবাইলে বাংলা টাইপ করা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টকর ।

আপনি যথার্থই বলেছেন, ব্লগ কেবল লেখার জায়গা নয় এটি একটি সম্প্রদায়। আর সেই সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন, মনোযোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া।

খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে” এই সতর্কবাণী আসলে আমাদের সকলের জন্য। যদি আমরা ব্লগকে উপেক্ষা করি, তাহলে ধীরে ধীরে আমরা সেই গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব। আপনার আশাবাদী প্রত্যাশার সাথে একমত,এই ধরনের আলোচনা ও আত্মসচেতনতা যদি বাড়ে, তবে আবারও একদিন জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করা যায়।

মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনি একদম সঠিক বলেছেন যে ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ার "স্ক্রল সংস্কৃতি" নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সত্যিই, যেখানে একটি "লাইক" বা ইমোজিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়, সেখানে একটি সুচিন্তিত মন্তব্য লেখার ধৈর্য ও সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশ "দ্রুত প্রতিক্রিয়া"র সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।

মোবাইল থেকে বাংলা টাইপিং এর অসুবিধা নিয়ে আপনার কথা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেছে। এটি সত্যিই একটি বাস্তব বাধা যা অনেকে উপেক্ষা করেন। ব্লগ প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশনের অভাব এবং নতুন লেখা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতাও নিঃসন্দেহে একটি বড় কারণ।

আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো - "আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি।" এই রূপান্তরটি আসলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পড়া এবং সংলাপে অংশ নেওয়া - এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এবং আমরা দ্বিতীয়টি হারিয়ে ফেলছি।
আপনার এই উপলব্ধি - "মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া" - এটি অসাধারণ। মন্তব্য আসলে একটি মানবিক সংযোগ, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান।
এরূপ আদান প্রদান কেন সম্ভব হচ্ছে না?
কারণ, কারো লেখায় অন্য মন্তব্য-দানকারীর মন্তব্যে শুধু লেখক ছাড়া অন্য পাঠকরা প্রতিউত্তর দিতে পারেন না। আবার যেমন ধরেন আমি মন্তব্য করলাম, লেখক উত্তর দিলেন। সেই উত্তরের প্রতি উত্তর দেবার সরাসরি কোন রিপ্লাই -অপশন নাই। এক্ষেত্রে নতুন করে মন্তব্য বক্সে যেয়ে আমার প্রথম মন্তব্যে যে উত্তর লেখক দিয়েছেন তা রেফার করে প্রতি উত্তর লিখতে হচ্ছে। বা রেফার নাই বা করলাম, নতুন করে মন্তব্য বক্স তো ওপেন করতে হচ্ছে। লিখতে গিয়ে দেখলাম আমার দ্বিতীয় বার করা প্রতিমন্তব্য অনেক নতুন মন্তব্যের পিছে পড়ে যাচ্ছে । রেফারেন্স না দিলে তা অন্য পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আবার অন্য ব্লগারদের যদি আমাকে প্রতিউত্তর দিতে ইচ্ছে করে, সে ক্ষেত্রে সরাসরি কোন রিপ্লাই অপশন তারা পাচ্ছেন না।

এইরূপ 'রিপ্লাই অপশান' না থাকায় এই প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের দিক দিয়ে ইউজার -ফ্রেন্ডলি হচ্ছে না। ফলে চিন্তার আদান প্রদান এবং আলোচনা বেশীদূর আগাতে পারছে না, স্থিত হয়ে পড়ছে।
সময় বেশী লাগাতে রিপ্লাই করার ইচ্ছা থাকলেও তা স্তিমিত হয়ে পড়ছে ।
[তাছাড়া সবাই তো বাড়িতে চেয়ারে বসে, টেবিলে স্ক্রিন রেখে টাইপ করতে পারার অবস্থায় সবসময় থাকে না।] এইসকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে thought exchange নিমেষে সহজ হয়ে যাবে।

একটি সতর্কবাণী যে "গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব" - এটি শুধু ব্লগের জন্য নয়, আমাদের সমগ্র সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য একটি হুঁশিয়ারি। যদি আমরা গভীরভাবে পড়া, চিন্তা করা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমরা আসলে আমাদের মানবিক গুণাবলীরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলব।
তবে আপনার মতো চিন্তাশীল পাঠক ও মন্তব্যকারী থাকার কারণেই আমার বিশ্বাস - ব্লগ সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। কারণ আপনি শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেননি, আপনি নিজেই সমাধানের একটি জীবন্ত উদাহরণ। আপনার এই বিস্তৃত, সুচিন্তিত মন্তব্য প্রমাণ করে যে এখনও পাঠক আছেন, যারা সময় নিয়ে পড়েন, ভাবেন এবং মনোযোগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
এই ধরনের আত্মসচেতনতা এবং সংলাপই ব্লগকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলবে।
আপনার এই মূল্যবান অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
একসাথে আমরা ব্লগের সেই হারানো প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পারব - এই বিশ্বাস রাখি।

***

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩১

লেখক বলেছেনঃ
আপনার মন্তব্যটি কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়,এটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ প্রবন্ধের মতো। আপনি যে ধৈর্য, গভীরতা ও আন্তরিকতা নিয়ে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, তা বর্তমান ডিজিটাল পাঠ-সংস্কৃতিতে সত্যিই বিরল।

বিশেষ করে ‘রিপ্লাই অপশন’ এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণটি অত্যন্ত বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক। এটি এমন এক প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, যা বাইরে থেকে তুচ্ছ মনে হলেও চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সংলাপের স্বাভাবিক প্রবাহকে ভেতর থেকে ব্যাহত করে। মন্তব্য যখন আর সরাসরি মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না, তখন তা শুধু দৃশ্যত নয় ইনটেলেকচুয়ালী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, গভীরতাও হারায়।

আপনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন মন্তব্যকারীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রতিউত্তর নতুন মন্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এটি আসলে সংলাপের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া-রই এক রূপ। এতে করে শুধু পাঠক নয়, লেখকও অনেক সময় আলোচনার সূত্র ধরে এগোতে পারেন না। আর অন্য পাঠকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে যা একটি জীবন্ত ব্লগ পরিবেশের পরিপন্থী।

আপনার এই পর্যবেক্ষণ যে, সময় ও শারীরিক অবস্থান (মোবাইল ব্যবহারের বাস্তবতা) মন্তব্যের আগ্রহকে স্তিমিত করে তা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। ব্যবহার সহজ না হলে, মননের ইচ্ছাও ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এটাই স্বাভাবিক।

তবু এই সমস্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনি যেভাবে সুসংগঠিত, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক একটি মন্তব্য উপহার দিয়েছেন তা প্রমাণ করে সমস্যার মাঝেও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আপনার মতো পাঠকরাই দেখিয়ে দেন যে ব্লগ এখনও কেবল লেখা প্রকাশের জায়গা নয়, বরং চিন্তার সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

আপনি ঠিকই বলেছেন,গভীর পাঠ ও মননশীল প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষয় নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতারই অবক্ষয়। সেই অর্থে আপনার মন্তব্য এক ধরনের সতর্ক সংকেতও।

এই চিন্তাশীল অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনার মতো পাঠক-সংলাপকারীদের উপস্থিতিই আশা জাগায় যে, সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই একদিন আরও মানবিক, আরও ব্যবহারবান্ধব ও আরও প্রাণবন্ত ব্লগ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

তাই আসুন এ বিশ্বাসটুকু একসাথেই ধরে রাখি।

শুভেচ্ছা রইল

***

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: পরামর্শসুলভ দু'টি চমৎকার মন্তব্যের জন্য ব্লগার হুমায়রা হারুন কে অনেক ধন্যবাদ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন:



আবার এসে মুল্যবান পর্যবেক্ষন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ । হ্যা ব্লগার হুমাইরা হারুন এর সুপরামর্শসুলভ মন্তব্যগুলি বেশ চমৎকার ও গঠনমুলক । ব্লগে সকলের এমনতর প্রাণবন্ত
বিচরণ ব্লগকে তার স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: শ্রদ্ধেয় @খায়রুল আহসান ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনার এই গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ ব্লগের বর্তমান সংকটের মূল কারণটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ - কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার।
আপনার এই উপলব্ধি - "তিনজনের জায়গায় যদি দু'জন থাকে, তবে শুধু সংখ্যাধিক্যের কারণে তা কোন লেখা সৃষ্টি করতে পারে না" - এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয়। আর আপনি যখন বলছেন "অনেক ব্লগারেরই এ ব্লগ থেকে সেই 'মন'টা উঠে গেছে" - এটাই তো আসল সমস্যা।
প্রযুক্তি আমাদের লেখাকে দ্রুততর করেছে, কিন্তু কি সেই গভীরতা, সেই আবেগ, সেই নিবেদন দিতে পেরেছে যা কালি-কলমের যুগে ছিল? হয়তো না। কারণ তখন প্রতিটি শব্দ লিখতে সময় লাগত, চিন্তা করতে হতো, মনোযোগ দিতে হতো। এখন টাইপিং এত দ্রুত যে মন ভাবার আগেই আঙুল লিখে ফেলে।
কিন্তু আপনার আশাবাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনি বলেছেন, "ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" এই বিশ্বাসই তো ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখবে। যতদিন আপনার মতো ব্লগার থাকবেন যারা 'মন' দিয়ে লেখেন, ততদিন ব্লগের প্রাণস্পন্দন থেমে যাবে না।
"মুমূর্ষ অবস্থা" - এই শব্দটি কঠিন, কিন্তু সত্য। তবে মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা।
আপনার এই লেখা শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান - ব্লগে আবার 'মন' ফিরিয়ে আনার আহ্বান। এবং আপনার শেষ বাক্য - "সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এ ব্লগটি আবার ফিরে পাক আগের সেই প্রাণস্পন্দন, প্রাণস্পৃহা" - এটি একটি প্রার্থনা, একটি স্বপ্ন।
আমিও সেই স্বপ্নে বিশ্বাস করি। এবং আপনার মতো লেখক থাকলে সেই স্বপ্ন অবশ্যই সত্যি হবে।
আপনার এই চিন্তাশীল ও হৃদয়স্পর্শী লেখার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৪

লেখক বলেছেনঃ

গতকাল ঘুম কাতর চোখে খায়রুল আহসানকে এড্রেস করা মন্তব্যটির বিষয়ে তেমন কিছু বলে যেতে পারিনি । তবে আজ এই মন্তব্যটি আবার পাঠ করলাম। আপনার সুচিন্তিত ও হৃদয়গ্রাহী মন্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আপনি যে আন্তরিকতা ও উপলব্ধি দিয়ে আহসান ভাইয়ের লেখাটিকে গ্রহণ করেছেন, সেটাই প্রমাণ করে পাঠক ও লেখক উভয় পক্ষেই এখনও সেই ‘মন’-এর অস্তিত্ব রয়েছে, যার অভাব নিয়ে আমরা এত কথা বলছি।

আপনি খুব সুন্দরভাবে প্রযুক্তি ও মননের দ্বন্দ্বটি তুলে ধরেছেন। সত্যিই, কালি-কলমের জায়গায় কীবোর্ড এসেছে; কিন্তু সেই পরিবর্তন নিজে কোনো সমস্যার কারণ নয়। সমস্যা তখনই, যখন গতির মোহে আমরা থেমে ভাবার অভ্যাসটি হারিয়ে ফেলি। আপনার বলা মতো, আঙুলের দ্রুততা যদি মনের গতিকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে লেখায় গভীরতার ঘাটতি আসবেই।

আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি হলো আশাবাদ। “মুমূর্ষ মানেই মৃত নয়” এই কথাটির মধ্যে এক ধরনের দায়বদ্ধ আশার সুর আছে। ব্লগের বর্তমান বাস্তবতা হয়তো কঠিন, কিন্তু আপনার মতো পাঠক-লেখকের বিশ্বাসই প্রমাণ করে যে এই পরিসর এখনও সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়নি। প্রাণস্পন্দন ক্ষীণ হতে পারে, কিন্তু নিভে যায়নি।

আর আপনি একদম ঠিকই বলেছেন, এটি শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান। ‘মন’ দিয়ে লেখা, ‘মন’ দিয়ে পড়া এবং ‘মন’ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান। এই সম্মিলিত মননই পারে ব্লগকে আবার তার অর্থবহ, চিন্তাশীল ও মানবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে।

আপনার এই মন্তব্য আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আশা করি, এমন সংলাপই ধীরে ধীরে ব্লগে হারিয়ে যেতে বসা সেই মননচর্চার সংস্কৃতিকে আবার জাগিয়ে তুলবে।

শুভেচ্ছা রইল

***


১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬০

খায়রুল আহসান বলেছেনঃ @হুমায়রা হারুন, ২১ নং প্রতিমন্তব্য প্রসঙ্গে- "কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার" - সেটাই ছিল আমার মন্তব্যের মূল কথা।

"ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" - এ কথাটি আমি বলেছি, কারণ আমি কিছুটা অনুমান করতে পারি কতটা নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ, কমিটমেন্ট এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে এ ব্লগস্রষ্টা সৈয়দা গুলশান আরা জানা এবং তার স্বামী অরিল্ড ব্লগটাকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এতদূর টেনে এনেছেন। আমার বিশ্বাস, ওনারা কিছুতেই চোখের সামনে এ ব্লগের অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না; তাই এর জন্য যা কিছু করণীয় তাই করতে পিছপা হবেন না। আর ব্লগে এখনো যে ভালো কিছু লেখা আসছে না, তা নয়। তবে সমস্যা হচ্ছে মনযোগী পাঠকের অভাব এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের খরা। তবে আপনাদের মত পাঠকেরা এখনও এ ব্লগে আসছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য করছেন, সেটাই ভরসা।

মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা" - এর পরে আর কোন কথা নেই। এ প্রার্থনা আর স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন হোক!    

***

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৫ নং প্রতিমন্তব্যঃ @শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান, আপনার চিন্তাশীল এবং আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ব্লগারদের প্রতি আপনার যে আস্থা এবং শ্রদ্ধা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখার পেছনে যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কমিটমেন্ট রয়েছে, তা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস সঠিক - যাঁরা এতদিন এই প্ল্যাটফর্মকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এর অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না।
আপনি যথার্থই বলেছেন যে, কিছু ভাল লেখা আসছেই। কিন্তু মনোযোগী পাঠক এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অভাব রয়েছে। লেখা-পাঠ-মন্তব্য - এই ত্রিমুখী সংলাপই ব্লগিং সংস্কৃতির প্রাণ। কিছু পাঠকেরা যে এখনও এখানে আসছেন, পড়ছেন এবং চিন্তাশীল মন্তব্য করছেন - এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভাল লিখতে গেলে বেশ পড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করব আরও আন্তরিকতার সাথে, আরও গভীরতার সাথে লিখতে।
আপনার প্রার্থনা এবং স্বপ্ন আমারও। আশাকরি আমরা সবাই মিলে ব্লগিং সংস্কৃতিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবো।
আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০০

লেখক বলেছেনঃ
আশা করি আপনার এই মূল্যবান মন্তব্যটি শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান দেখে যাবেন । মন্তব্যের কথামালায় আমিও মোহিত।

আপনার এই সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্য ামিউ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার কথায় যে  আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সুর আছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ব্লগিং কেবল লেখার নাম নয়,আপনি যেমন সুন্দরভাবে বলেছেন, লেখা–পাঠ–মন্তব্যের ত্রিমুখী সংলাপই এর প্রাণশক্তি। এই সংলাপ যখন সচল থাকে, তখনই একটি প্ল্যাটফর্ম সত্যিকার অর্থে জীবিত থাকে।

মনোযোগী পাঠক ও ভাবনাসম্পন্ন মন্তব্যের অভাব যে আমাদের সবারই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবু আপনার মতো লেখক ও পাঠকদের আন্তরিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই ভরসাটুকুই যথেষ্ট, আবার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

ভালো লেখার জন্য ভালো পড়ার যে কথা আপনি বলেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই সচেতন উপলব্ধিই ভবিষ্যতে আরও গভীর ও অর্থবহ লেখার জন্ম দেবে এ বিশ্বাস রাখি। আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ইতিবাচক মনোভাব ব্লগিং সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।

আপনার স্বপ্ন ও প্রার্থনার সঙ্গে আমিও সহমত। আশা করি সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আবারও এই প্ল্যাটফর্মকে প্রাণবন্ত, সংলাপমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে পারব। শুভকামনা রইল আপনার লেখালেখির যাত্রায়।
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আহমেদ জী এস বলেছেনঃ  হুমায়রা হারুনের মতে এসব লেখা পড়া এবং সেইসব বিষয়ের সংলাপে অংশ নেওয়া ভালো পাঠকদের পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই আপনার কথামতো আপনা আপনিই স্ক্রল সংস্কৃতি চালু হয়।
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৮ নং প্রতিমন্তব্যঃ @ আহমেদ জী এস আপনার মন্তব্যটি পড়ে আনন্দিত হলাম। "কালি-কলম-মন" - এই তিনটি শব্দের মধ্যে লেখার প্রকৃত সারমর্ম নিহিত। কালি-কলম দিয়ে সবাই লিখতে পারেন, কিন্তু মন ছাড়া লেখা শুধুই শব্দের সমাবেশ মাত্র।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আমিও সহমত যে, হুজুগ, গুজব এবং বায়াসড মতবাদ নিয়ে লেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে। একদল একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখেন, অন্যদল বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন - কিন্তু কোথাও যুক্তি, তথ্য বা সত্যিকারের চিন্তার প্রতিফলন থাকে না।
"স্ক্রল সংস্কৃতি" আসলে একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন লেখায় আন্তরিকতা, গভীরতা এবং মৌলিক চিন্তা থাকে না, তখন পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে আক্রমণ আর বিষোদ্গার দেখে পাঠকের বিতৃষ্ণা জন্মায়।
লেখা হওয়া উচিত হৃদয় থেকে, অভিজ্ঞতা থেকে, নিজস্ব চিন্তা থেকে। যে লেখা শুধু কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধন করে, বৃহত্তর সমাজের জন্য চিন্তার রসদ যোগায় না - সে লেখার মূল্য সীমিত।
আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।
***

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৮

লেখক বলেছেন: 
আশা করি আপনার এই মুল্যবান মন্তব্যটি প্রসঙ্গে সামু ব্লগের অন্যতম সেরা ব্লগার শ্রদ্ধেয় আহমেদ জি এস খুবই সুন্দর করে দিবেন । তবে এই মুল্যবান মন্তব্যটি এক নজর পাঠে আমি মুগ্ধ , সেখান হতেই দুটি কথা বলার প্রয়াস নিলাম ।

আপনার এই মন্তব্যটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ লেখার মতোই মননশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষ করে “কালি-কলম-মন” এই ত্রয়ীর ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে লেখার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিকে স্পষ্ট করেছে। সত্যিই, মন ও চিন্তার সংযোগ ছাড়া লেখা কেবল শব্দের শোরগোলই থেকে যায়।

আপনি যে ‘স্ক্রল সংস্কৃতি’র কথা বলেছেন, তা বর্তমান সময়ের এক বাস্তব ও বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি। পাঠক যখন বারবার হুজুগ, গুজব ও আক্রমণাত্মক ভাষার মুখোমুখি হন, তখন দূরে সরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে। আপনার বিশ্লেষণে স্পষ্ট এটি পাঠকের উদাসীনতা নয়, বরং অসার কনটেন্টের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আপনি তুলে ধরেছেন লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে। লেখা যদি কেবল পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান রক্ষা বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা সমাজের চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে না। হৃদয়, অভিজ্ঞতা ও যুক্তিবোধের সমন্বয়েই লেখার আসল শক্তি জন্ম নেয়, আপনার মন্তব্য সেটিই মনে করিয়ে দিল।

এমন সংযত ও গভীর মন্তব্য/আলোচনা পরিসরকে সমৃদ্ধ করে। চিন্তার এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ ড. আলী, প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্রহ -বইটি অনলাইনে আছে জানলে আমি বইটা লাইব্রেরী থেকে নিয়ে স্ক্যান করতাম না। গুগল ড্রাইভের লিংক দেবার জন্য ধন্যবাদ।
***
 ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩০
লেখক বলেছেনঃ গুগলেও এখন আগের মত বই পাওয়া যায়না । আমাজন সহ অন্যান্য পাবলিশিং ও বুক মার্কেটিং সংস্থাগুলি অনলাইনে ফ্রিতে বই ডাউনলোড করা অসম্ভব করে তুলেছে । তবে এখন অনেক বিখ্যাত লেখকের বই পিডি্এফ ফরম্যাটে বুক আর্কাইভ, বিখ্যাত ইইনিভার্সিটি ও পাবলিক লাইব্রেরীতে পাওয়া গেলেও সেখানে কোন না কোন একাডেমিক/রিসার্চ ইন্টিটিউটের হসন্টিটিউশনাল আইডি ছাড়া এক্সেস পাওয়া যায় না । আপনার নিশ্চয়ই উপযুক্ত ইনস্টিটিউশনাল আই ডি আছে তাই লাইব্রেরি হতে দুর্লভ পুরানো বই ধারে নিয়ে ভারে( ঘাটের পয়শা খরচ করে ) স্ক্যনিং করে নিতে পেরেছেন ।
ভাইটি বই এর জন্য আপনাদের মত পড়ুয়া লেখক/লেখিকাগন যদি পয়শা খরচ না করে বই সংগ্রহ করেন তবে লইব্রেরীই বা চলবে কি করে কিংবা অপনাদের মত লেখক/লেখিকাদের প্রাইভেট পারিবারিক বই এর লাইব্রেরীই বা এমনভাবে স্থীত হয়ে বই লেখক ও প্রকাশক বিক্রতাদেরকে উপকৃত করবে । এ ক্ষেত্রে তো আপনাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় । যাহোক, সহানুভুতি রইল এমনভাবে আপনার পছন্দের বই সংগ্রহের বিবরণ শুনে ।

শুভেচ্ছা রইল
***

 ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: @ হুমায়রা হারুন, 
২৯ নম্বরে আপনার করা মন্তব্যে আপনি আমার মন্তব্যের জন্যে আনন্দিত হয়েছেন জেনে ভালো লাগারই কথা। সে ভালোটাই লাগলো। ধন্যবাদ।

ডঃ এম এ আলী ব্লগারদের স্ক্রল সংস্কৃতির কথা বলেছেন এই পোস্টে। সেটা নিয়েই আমি আমার মতামত জানিয়েছি, কেন ব্লগারদের মাঝে স্ক্রল সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে! আপনিও যে তাতে একমত পোষন করেছেন তা আপনার মন্তব্যের লেখার ছায়াতেই দৃশ্যমান।

মূলত ব্লগাররা এখানে আসেন দৈনন্দিন জীবনের হ্যাপা থেকে পরিত্রান পেতে খানিকটা "কোয়ালিটি রিফুয়েলিং" এর জন্যে। তারা নিশ্চয়ই চর্বিত চর্বণ (সোস্যাল / ইলেকট্রনিক / প্রিন্ট মিডিয়াতে ছড়ানো বিষয়াদি) হজম করার জন্যে এখানে আসেন না! সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বিষয়াদি নিয়ে যদি লিখতেই হয় তবে তা হওয়া উচিৎ সে বিষয়ের উপর চিন্তা উদ্রেককারী পর্য্যবেক্ষন থেকে। বিষয়টি সমাজ-রাষ্ট্রকে কতোখানি প্রভাবিত করলো কিম্বা তাতে সমাজ ও রাষ্ট্র কতোখানি ক্ষতিগ্রস্থ হলো তা নিয়ে। কিন্তু ব্লগীয় অধিকাংশ লেখাগুলোতে তা অনুপস্থিত। সেখানে থাকে কেবল সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বক্তব্যের পদধ্বনি কিম্বা বিষয়টি পক্ষে গেলে তার প্রশংসা, বিপক্ষে গেলে ইচ্ছেমতো গালমন্দ করা। এতে পাঠকেরা বিতৃষ্ণায় ভোগেন, ব্লগটিকে অসহ্য মনে হয় এবং ব্লগে তার ইন্টারএ্যাকশন পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন।

অনেকটা এই কারনেই আমিও ব্লগে ঢুঁ মারতে উৎসাহ বোধ করিনে। ঢুঁ মারলেও স্ক্রল করা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা! :(

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৮

লেখক বলেছেনঃ
হুমাইরা হারুনকে এড্রেস করা মন্তবাংশটি আশা করি তিনি এসে দেখে যাবেন । এই মন্তব্যের নীচে থাকা আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। ব্লগকে আপনি যেভাবে “কোয়ালিটি রিফুয়েলিং”-এর একটি পরিসর  হিসেবে দেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনেক পাঠকেরই অব্যক্ত অনুভূতির প্রতিধ্বনি। ব্লগের শক্তি তো আসলেই এখানে চেনা খবরের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সেই খবর বা ঘটনার অন্তর্গত তাৎপর্য, সামাজিক অভিঘাত ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব নিয়ে গভীর চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় ব্লগীয় লেখায় সেই বিশ্লেষণী দায়বদ্ধতা অনুপস্থিত থাকে। ফলে ব্লগ পাঠ একঘেয়ে হয়ে ওঠে, পাঠকের সঙ্গে ভাবনার সংলাপ তৈরি হয় না। আপনার হতাশা তাই একেবারেই অমূলক নয়।

তবে একই সঙ্গে এটাও আশা করা যায় যে, এমন সুচিন্তিত মন্তব্যই হয়তো লেখকদের আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং ব্লগকে আবারও চিন্তা, মনন ও অর্থবহ মত বিনিময়ের একটি জীবন্ত পরিসরে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।
পাঠক ও লেখক উভয়ের সম্মিলিত সচেতন প্রয়াসেই কেবল ব্লগ তার প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।




Jan 6, 2026

কি লিখি তোমায়

একটি বাঙ্গালী মেয়ে একদা একজন জার্মান যুবকের প্রেমে পড়েছিল। তা কে না পাবার বেদনা সে ইংরেজী ভাষায় চিঠি আকারে লিখেছিল। আমি তার লেখা চিঠি বাংলায় অনুবাদ করেছি ২০১১ তে।

চিঠি - কি লিখি তোমায়

লেখকঃ আহত পাখি

লেখার তারিখঃ বহুদিন আগে। এখন তা আর মনে পড়ে না।

বাংলায় প্রকাশঃ ১লা জানুয়ারি ২০১১

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪

সামছুল আলম  বলেছেন: তাই কি হয় ??!!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: তাই তো হলো।


০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৪

পাঠক বলেছেন: দারুন আবেগময়।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই।

Dec 30, 2025

বেঁচে থেকের শুরু

  বেঁচে থেকের শুরু

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫                                    পাঠক ডঃ আলী বলেছেনঃ জানালার পাশে বসে ভাবছিল কিভাবে অবলবাসাহীন জীবন কাটিয়ে দিল সুবর্ণা ।সেই কিশোরী বয়স থেকেই কানায় কানায় ভরে উঠেছিল সৌন্দর্য। কাটা কাটা চেহারায় চিবুকের ধার,বাদামী চোখ , বাদামামী লাল চুলের বাঁধনহারা এলোমেলো ভাব , অপ্ররিরোধ্য কামনায় ভরা একটি ইনোসেন্ট মন , যে কিনা আবুঝ , চঞ্চলা ,মোহনীয় সৌন্দর্য স্কুলে থাকতে ইঙ্গিত দিতে শুরু করে তার শরীরে ............বেঁচে থাকার শুরু । মৃত্যুর সমাপ্তি ।

আপাতদৃষ্টিতে সুবর্ণা একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গল্পের শেষ কথা নয়। সুবর্ণা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত,যে কাল হয়তো বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। সুবর্ণা সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তিকামী আত্মাৱ ব্যাকুল যন্ত্রণার প্রতীক। আর একটি কথা মনে পড়ছে এই গল্পটির সঙ্গে কারো জীআনের একটি যোগসূত্র আছে। সে যোগসূত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নয়, একটি চরিত্রকে পরবতী কালের চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনে।সমাজবিজ্ঞানীরা লিখে রাখেন সমাজ-বিবর্তনের ইতিহাস, আমি এই কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি ।
মানব মনের মানব জীবনের সেকাল নিয়ে তর্ক তো চিরকালের, কিন্তু কেমন করে চিহ্নিত করা যায়। সেই কালকে?
একএকটা কালের আয়ু শেষ হলেই কি এক-একবার যবনিকা পড়ে? যেমন যবনিকা পড়ে নাট্যমঞ্চে? 
না, যবনিকার অবকাশ কোথায়? অবিচ্ছিন্ন স্রোত। তবু জীবনের ভাঙ্গা গড়া চলছেই । পারিবারিক জীবন মানুষের রীতিনীতি, চলন-বিলন, এরাই ধরে রাখে মানব জীবনের এক একটা টুকরোকে, ইতিহাস নাম দেয় মানব জীবনের কালপরিক্রমা।

কিন্তু কালকে অতিক্রম করতেও থাকে বৈকি কেউ কেউ, নইলে কারা এগিয়ে দেবে সেই প্রবহমাণ ধারাকে? সে ধারা মাঝে মাঝেই স্তিমিত হয়ে যায়, নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়। তবু এরা বর্তমানের পূজো কদাচিৎ পায়,এরা লাঞ্ছিত হয়, উপহসিত হয়, বিরক্ত-ভাজন হয়।এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট।এদের জন্যে সমালোচনার ঝালাপালা ।

তবু এরা বেচে থাকে । হয়তো প্রকৃতির প্রয়োজনেই বাঁচে । তবে কোথা থেকে যে জীবনের গতিময়তা পায় তা তারা নিঝেরাই জানেনা । হয়তবা তাদের জীবনের গতিময়তা আসে রাজরক্তের নীল আভিজাত্য থেকে, কিংবা বিদ্যা বৈভবের প্রতিষ্ঠিত স্তর থেকে। আসে নামগোত্রহীন মূক মানবগোষ্ঠীর মধ্য থেকে, আসে আরো কোন ঘন অন্ধকার থেকে। তাদের অভ্যুদয় হয়তো বা রাজপথের বিস্তৃতিতে, হয়তো বা অন্তঃপুরের সঙ্কীর্ণতায়। 
কিন্তু সবাই কি সফল হয়? 
সবাইয়েরই কি হাতিয়ার এক? 
না। 
প্রকৃতি অকৃপণ তাই কাউকে পাঠায় ধারালো তলওয়ার হাতে দিয়ে, কাউকে পাঠায় ধাঁরালো কলম হাতে দিয়ে ,কাউকে পাঠায় ভোতা বল্লম হাতে দিয়ে , তাই কেউ সফল সার্থক, কেউ অসফল ব্যর্থ। তবু প্রকৃতির রাজ্যে জীবন যুদ্ধে কোনো কিছুই হয়তো ব্যর্থ নয়। আপাত-ব্যর্থতার গ্লানি হয়তো পরবর্তী কালের জন্য সঞ্চিত করে রাখে শক্তি সাহস।

সুবর্ণা এসব কথা জানতো না। সুবর্ণা তার মার করুনগাথার সম্বল নিয়ে সংসারে নেমেছিল!তাই সে জেনেছিল সে কেবল তার বৈচিত্রময় জীবনের গ্লানির বোঝা নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে একাই লড়বে নীজের প্রেমেই নীজে মঝবে, যেখান থেকে হবে বেঁচে থাকার শুরু। মৃত্যুর সমাপ্তি সেতো ভবিতব্যের হাতে!!!

সুবর্ণার অভিনব জীবন দর্শন নিয়ে গল্পটি তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গঠনশৈলি নিয়ে চমতকার হয়েছে ।
পাঠে মুগ্ধ ।

শুভেচ্ছা রইল

************
৩০শে ডিসেম্বর, ২০২৫
আমার মন্তব্যঃ  আপনার এই গভীর ও চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে গল্পের মূল দর্শনটি ধরতে পেরেছেন। জীবনের প্রবহমান ধারায় কেউ কেউ সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যান, যদিও তাদের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়।
আপনার কথায় যেমন বলেছেন, "এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট" - এই বাস্তবতাই সুবর্ণার জীবনের মূল সংগ্রাম।
আসলেই প্রকৃতি প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন হাতিয়ার দিয়ে পাঠায় । সুবর্ণা তার চলার পথে যে শক্তি সঞ্চয় করেছে, সেটাই তার হাতিয়ার। আপাত-ব্যর্থতার মধ্যেও যে সাহস ও শক্তি লুকিয়ে থাকে, সুবর্ণার জীবন তারই প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবে ভগ্ন হৃদয়ের সুবর্ণারা শক্ত হতে পারে না, বা হতে চায় না। আমার কাজ হলো তাদের অনুপ্রাণিত করা। উৎসাহ যোগানো। তারা এক কদম আগায় তো দু'কদম পিছিয়ে পড়ে। তারপরও তাদের জানতে দেই যে, তাদের হয়ে কথা বলার কেউ আছে।

আপনার এই সুচিন্তিত পাঠ ও মুগ্ধতা লেখক হিসেবে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি শুধু গল্পটি পড়েননি, গল্পের আত্মাকে অনুভব করেছেন।
আমার প্রফেশনাল ট্রেনিং নাই লেখালেখির । তারপরও লেখার গঠনশৈলী তে আপনার কাছে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি যে, এটাই আমার সাফল্য।
আপনার মতো পাঠকের জন্যই লেখা সার্থক হয়।
সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

****

Dec 24, 2025

চন্দ্রনিবাস

আমার মন্তব্য

 চন্দ্রনিবাস

২৪শে ডিসেম্বর, ২০২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ 

পোস্টে সুন্দরভাবে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে নক্ষত্র বা চন্দ্রনিবাস যা রাশিচক্রের ২৮টি ভাগ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চাঁদ প্রায় এক দিন করে অবস্থান করে এবং প্রতিটি নক্ষত্র ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও ভাগ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। চন্দ্রই এই নক্ষত্রগুলির অধিপতি, যা ব্যক্তির মানসিকতা ও মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নির্দেশ করে। ব্যক্তির জন্মসময়কালে চাঁদ যে নক্ষত্রে থাকে, তা তার ভাবনা, মা, এবং সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে।

২৮টি নক্ষত্রের গুণ অনুযায়ি নামগুলিও বেশ সুন্দর যথা :-

অশ্বিনী , ভরণী, কৃত্তিকা, রোহিণী, মৃগশিরা, আর্দ্রা, পুনর্বসু, পুষ্যা, অশ্লেষা, মঘা, পূর্ব-ফাল্গুনী, উত্তর-ফাল্গুনী, হস্তা, চিত্রা, স্বাতী, বিশাখা, অনুরাধা, জ্যেষ্ঠা, মূলা, পূর্বাষাঢ়া, উত্তরাষাঢ়া, শ্রবণা, ধনিষ্ঠা, শতভিষা, পূর্বভাদ্রপদ, উত্তরভাদ্রপদ, রেবতী।

সূর্য রাশিচক্রের অধিপতি কিন্তু চন্দ্র নক্ষত্রমণ্ডলীর অধিপতি, বুঝাই যাচ্ছে চন্দ্রকেও যথাযোগ্য মর্যাদায়  উদ্দীপ্ত করেছেন মহামতি জ্যোতিষগন, জ্যোতিষশাস্ত্রে দেবতারা চন্দ্রকে এই সম্মান দিয়েছেন। বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের মন্ত্রিসভায় যিনি রাণীর পদও ধারণ করে।জ্যোতিষিগন চন্দ্রের অবস্থানকে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এবং মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ছেন ।

প্রাগেতিহাসিক কাল থেকে সময়ের হিসেব রাখার প্রয়োজনেই চাঁদ-পৃথিবী-সূর্য-তারামন্ডল দিয়ে পরমকরুণাময় সৃষ্টিকর্তা নির্মিত বিশাল পরিসরের এ প্রাকৃতিক ঘড়িটিকে মানুষ ব্যবহার ক'রে আসছে ।

সময়ের হিসেব রাখার প্রয়োজনে নিশাসঙ্গী চাঁদের গতিপথকে মানুষ বুঝতে চেয়ে আসছে কত আগে থেকে তা এখনও অজানা । উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের আবডীনশায়ারে এভারডীনশায়ারে অন্তত ১০,০০০ বছরের প্রাচীন এক চন্দ্রনিবাসের সন্ধান পেয়েছে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক যা প্রচলিত চন্দ্রনিবাসগুলোর প্রাচীনতমটির থেকেও ৫,০০০ বছর আগের ।

মানব সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে সময়কে ধারণা করা এবং পরিমাপ করার ক্ষমতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এবং মানুষের দ্বারা সময় কখন “সৃষ্টি” করা হয়েছে এই প্রশ্নটি সমাজের বিকাশ বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনশায়ারে খনন কাজে প্রাপ্ত এই পিট-সাজানো কাঠামোটি এই আলোচনায় চিত্তাকর্ষক ভূমিকা রাখে।



খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম সহস্রাব্দে নির্মিত এই কাঠামোটি বিজ্ঞানীগন পুনরায় বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে এতে প্রাথমিক ক্যালেন্ডারি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাই এই স্থানটি সম্ভবত বর্তমানে জানা সবচেয়ে প্রাচীন ‘সময় গণনা’র প্রমাণ সরবরাহ করে, কারণ এই পিট-সারিটি চাঁদের বিভিন্ন পর্যায়কে অনুকরণ করছে এবং চন্দ্রমাস অনুসরণ করার মতোভাবে বিন্যস্ত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তের দিকে এবং মধ্যশীতের অয়নকালে সূর্যোদয়ের সাথে যুক্ত একটি সুস্পষ্ট ভূ-আকৃতিগত বিন্দুর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভটি সরল চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সাথে যুক্ত সমস্যাগুলোকে পূর্বানুমান করে এবং বছরে একবার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সংশোধনের ব্যবস্থা রাখে, যাতে চাঁদ দ্বারা নির্দেশিত সময়ের ধারা, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সৌর বছর এবং তার সাথে সম্পর্কিত ঋতুগুলোর মধ্যে সঙ্গতি বজায় থাকে। প্রমাণ থেকে ধারণা করা যায় যে স্কটল্যান্ডের শিকারি-সংগ্রাহক ( Hunter-Gather) সমাজগুলোর বছরে এমনকি সম্ভবত মাসের মধ্যেও সময় গণনার প্রয়োজন এবং ক্ষমতা দুই-ই ছিল, এবং এটি ঘটেছিল এমন এক যুগে যখন মেসোপটেমিয়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক ক্যালেন্ডার তৈরি হওয়ার প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেই তেরী ।

অপনার মুল্যবান তথ্য সমৃদ্ধ পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ

শুভেচ্ছা রইল

*****

২৫.১২.২৫

আমার মন্তব্যঃ আপনার এই সুচিন্তিত ও বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন - স্কটল্যান্ডের আবারডিনশায়ারে প্রাপ্ত ১০,০০০ বছরের প্রাচীন চন্দ্রনিবাসের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। এটি প্রমাণ করে যে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানবসভ্যতা চন্দ্রের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে সময় গণনা করে আসছে।

আপনার মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের ২৮ নক্ষত্র ব্যবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ধারণা নয়, বরং এটি মানবসভ্যতার সর্বজনীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের একটি অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে - ভারতে, চীনে, আরবে, এবং এমনকি প্রাচীন ইউরোপেও - মানুষ চন্দ্রের গতিপথকে ভাগ করে সময় নির্ণয় করেছে।

আপনি যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে চন্দ্র শুধুমাত্র জ্যোতিষশাস্ত্রে নয়, বরং মানব সভ্যতার বিকাশে সময় পরিমাপের প্রাচীনতম মাধ্যম। মেসোপটেমিয়ার আনুষ্ঠানিক ক্যালেন্ডারের ৫,০০০ বছর আগেই মানুষ চন্দ্র-সৌর সমন্বয়ে সময় গণনা করতে সক্ষম হয়েছিল - এটি সত্যিই বিস্ময়কর।

আপনার এই মূল্যবান সংযোজন পোস্টটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই ধরনের তথ্যপূর্ণ আলোচনা আমাদের প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক আবিষ্কারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আপনার সময় ও মনোযোগের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ।

******


ঝড় থেমে গেলে

 আমার মন্তব্য


ঝড় থেমে গেলে 

২৪শে ডিসেম্বর, ২০২৫

আমার মন্তব্যঃ এ লেখায় অন্যান্যদের সাথে লেখা আপনার মন্তব্যগুলো পড়ে বরাবরের মত খুব ভাল লাগলো। আমি অন্য কোথাও দেখেছিলাম যেখানে আপনি বলেছিলেন, আপনার লেখা মন্তব্যসমূহ নিয়ে আপনার লিখিত বই আছে। বইটি কিভাবে পেতে পারি?

****

২৪শে ডিসেম্বর, ২০২৫
লেখক বলেছেনঃমূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

হ্যা ঠিকই বলেছেন । বিভিন্ন পোস্টে লেখা আমার বেশ কিছু লম্বা চওড়া মন্তব্য নিয়ে একটি বই আবারে লিখেছি মূলত কষ্ট করে লেখাগুলিকে সংরক্ষণের জন্য । ঠিকানা পেলে কপি পাঠাব।

তবে এই সামাজিক মাধ্যমে ঠিকানা পাঠানো সমিচিন হবে বলে মনে হয়না । কেও এখানে ঠিকানা বা ইমেইল এড্রেস দেয় না । তাই বিষয়টি আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম ।


শুভেচ্ছা রইল

**************

২৫.১২.২৫
আমার মন্তব্যঃ বইটি আমাজনে কি পাওয়া যায়? আপনার মেসেঞ্জার থাকলে আমি আমার ফেসবুকের লিঙ্ক দিতে পারি।


২৬.১২.২০২৫ 
লেখক বলেছেনঃ দুঃখিত,বইটি আমি আমাজনে দিইনি । স্থানীয় ভাবে প্রকাশ করে পরিচিত আত্মীয় স্বজন ও শুভানুধায়ীদেরকে সৌজন্য কপি হিসাবে বিতরনের মাঝেই সীমাবদ্ধ আছি ।

বিগত ২০১৬ সাল হতে আমি আমার ফেসবুক একাউন্টে বিচরণ করছিনা ।

তবে, আপনি আমার এখনকার কিংবা পুরাতন কোন পোস্টে বিচরণ করলে আমার অনেক দীর্ঘায়ীত মন্তব্য দেখতে পাবেন । আপনি নতুন লেখা লিখে পোস্ট দেন তাহলে দেখতে পাবেন মন্তব্য কাকে বলে। নীচে মন্তব্যের ঘরে থাকা ছবি আপু‌র ব্লগ বাড়িতেও ডু মেরে দেখতে পারবেন আমার মন্তব্যের ধারা । পুণরায় এসে দেখার জন্য রইল ধন্যবাদ সাথে শুভেচ্ছা ।


২৬.১২.২০২৫
আমার মন্তব্যঃ  লেখক বলছেন, " আমার মনে হয় ব্লগ যেদিন ক্যাচালযুক্ত রাজনৈতিক পোস্টগুলিয়ে ছাপিয়ে গল্প কবিতা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ হতে লেখা প্রবন্ধ, নিবন্ধ , ফিচার , ভ্রমন বিবরনী , ছবি ব্লগ প্রভৃতি প্রাধান্য পাবে সে সাথে ব্লগে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা পারস্পরিক মিথক্রিয়া মিশানো আন্তরিকতার ছোয়া পাবে ( সমালোচনা হলেও সেখানে থাকবে একটি আন্তরিকতার ছোয়া), সেদিনই হয়ত ব্লগ আবার জমজমাট হবে ইনশাল্লাহ ।"

লেখালেখি করতে হলে পড়াশোনা করতে হয়। আমরা পড়ুয়া জাত নই ।তাই মনে হয় 'ক্যাচালযুক্ত রাজনৈতিক পোস্টগুলিয়ে ছাপিয়ে গল্প কবিতা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন হতে লেখা প্রবন্ধ, নিবন্ধ , ফিচার , ভ্রমন বিবরনী ' জাতীয় লেখালেখি সম্ভব হবে না। ব্লগের পরিবেশ এমনই থাকবে বা আরো নিম্নমানের হবে। যদিই বা কেউ একজন খুব পড়েন এবং জানেনও, তার হয়তো বা লেখালেখির অভ্যাস নাই।

আবার যদি লেখালেখি করার ইচ্ছে তার থাকে, একটা দুটো পোস্টের পর প্রথম পাতায় আর লেখাই দেবেন না। পরিবেশ নাই বলে ব্লগে আর আসবেনও না। এভাবে অনেক লেখক হারিয়েছি।

***********

২৯.১২.২০২৫
লেখক বলেছেনঃ আপনার মন্তব্যে নিরাশার কথা ঠিকই আছে, কিন্তু এর মধ্যেও আশার আলো আছে এমনটাই বলতে চাই।

যে জাতিকে আপনি পড়ুয়া নয় বলে হতাশ হচ্ছেন, তার মধ্যেই এখনও নীরব অথচ আগ্রহী, ভাবুক অনেক মানুষ আছেন। সবাই হয়তো বই নিয়ে বসে থাকেন না, কিন্তু অনুভব করেন, ভাবেন, খুঁজে বেড়ান মানসম্মত লেখা। তারা চোখে পড়ে না বলেই যে নেই তা তো নয়।

লেখালেখির জায়গাটা সব সময়ই একটু কঠিন ছিল। সব যুগেই অনেকেই থেমে গেছে, আবার সেখান থেকেই কেউ কেউ উঠে দাঁড়িয়ে আলো জ্বালিয়েছে। ব্লগের পরিবেশ নিখুঁত না হলেও, কিছু ভালো লেখা, কিছু আন্তরিক প্রচেষ্টা, কিছু সাহসী শব্দ এগুলোই ধীরে ধীরে পরিবেশ বদলায়।

হয়তো আমরা একদিনেই বদলাতে পারব না। কিন্তু যদি একজনও মন দিয়ে লেখেন, আর আরেকজন মন দিয়ে পড়েন তাহলেই যাত্রা থেমে থাকে না। ব্লগে যারা হতাশ হয়ে চলে গেছেন, তারা ফিরবেন তখনই, যখন আমরা যারা আছি তাদের মধ্যে বিশ্বাস, ধৈর্য আর ইতিবাচকতা টিকে থাকবে।

তাই হারিয়েছি বলার বদলে, বলি এখনও পাওয়া বাকি। লেখালেখির শক্তি এখনও হারায়নি,কেবল একটু যত্ন আর ভালোবাসার অপেক্ষায় আছে।


শুভেচ্ছা রইল

********

২৯.১২.২০২৫০
আমার মন্তব্যঃ আপনি সঠিক বলেছেন - নীরব, আগ্রহী, ভাবুক পাঠকেরা সবসময়ই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তারা হয়তো সোচ্চার নন, কিন্তু তাদের নীরব উপস্থিতিই লেখকদের প্রকৃত শক্তি। আপনার মতো পাঠক যখন এভাবে লেখার পাশে দাঁড়ান, তখন বুঝতে পারি - হতাশার কোনো জায়গা নেই।

"হারিয়েছি বলার বদলে, বলি এখনও পাওয়া বাকি" - এই বাক্যটি অসাধারণ। এটাই তো আসল দৃষ্টিভঙ্গি। লেখালেখির জগৎ কখনোই সহজ ছিল না, কিন্তু যারা বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেছেন, তারাই ইতিহাস তৈরি করেছেন।

ব্লগের পরিবেশ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ। একজন লেখক মন দিয়ে লিখবেন, একজন পাঠক মন দিয়ে পড়বেন - এই চক্রটাই পরিবর্তনের শুরু। আপনার মতো পাঠকদের এই ইতিবাচকতা ও ধৈর্যই আমাদের লিখে যাওয়ার প্রেরণা।

আপনার এই উৎসাহব্যঞ্জক কথাগুলো শুধু আমাকে নয়, অনেক লেখককেই অনুপ্রাণিত করবে। আপনার মতো পাঠক থাকলে লেখালেখির শক্তি কখনো হারাতে পারে না।

আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।

********


৩১.১২.২০২৫
লেখক বলেছেনঃ মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

Dec 6, 2025

সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা— ষষ্ঠ স্তর



 সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা— ষষ্ঠ স্তর

 ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:১৪
আলামিন১০৪ বলেছেন: তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ আমার পালনকর্তার আদেশ ঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে [ ১৭:৮৫ (সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮৫)।
*****
লেখক বলেছেন: নিশ্চয়ই
****
 ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:১৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বেশ পরিশ্রমী তথ্যসমৃদ্ধ একটি পোস্ট ।
এ বিষয়ে গবেষকদের জন্য এটি একটি তথ্য ভান্ডার ।
শুভেচ্ছা রইল
****


 ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:১৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ডঃ আলী।

সেই ২০০৮ -এ প্রথম পেয়েছি বিলি মায়্যারের কন্টাক্ট নোট। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বিশদ আকারে লিখব, কিন্তু সুযোগ, সময় হয়ে উঠে নাই। এখন হলো।

সাথে মন্তব্যের ঘরে কিছু channeled message এর ট্রান্সক্রিপ্ট-ও নোট আকারে রেখে দিচ্ছি । সবই তথ্য হিসেবে থেকে যাবে।

****

 ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ 

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: সুন্দর প্রতি উত্তরের জন্য ধন্যবাদ ।

পরে সময় নিয়ে লেখাটি আবার পড়তে আসব ।

মন্তব্যের ঘরে কোন channeled message এর ট্রান্সক্রিপ্ট-ও নোট আকারে কিছু এখনো দেখতে পাইনি ।

সম্ভব হলে সেগুলি দিবেন । পড়ার আগ্রহ রইল ।

শুভেচ্ছা রইল

*****


লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ।

আপনি channeled message খুঁজবেন দেখে এখানে একটি ট্রান্সক্রিপ্ট দিলাম।

প্রথম স্তর প্রথমও চতুর্থ স্তরে ও চতুর্থ দিয়েছি।

****


 ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ এত শীঘ্র লেখাটি মন্তব্যের ঘরে দিয়ে যাওয়ার জন্য ।

এই লেখাটি পড়তে গিয়ে মনে হলো এটা শুধু পরলোক বা কর্মফলের কোনো রহস্যময় ব্যাখ্যা নয়, বরং ন্যায়বোধ, মানবতা আর শিশুর প্রতি অপরাধের ভয়াবহতার ওপর এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রতিবেদন। লেখক যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন “শিশুহন্তা বা শিশু-নির্যাতনকারীরা আলোতে প্রবেশ করতে পারে না” তা খুব প্রতীকী হলেও, পাঠক হিসাবে আমাদের মনকে ঝাঁকুনি দেয়।

সবচেয়ে তীব্রভাবে নাড়া দেয় সেই অংশ, যেখানে বলা হয়েছে অপরাধীরা নিজের চোখ দিয়ে নয়, বরং ভুক্তভোগী শিশুর চোখ দিয়ে তাদের কর্মফল দেখবে। এটা শাস্তি নয়, সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানো।

আধ্যাত্মিকতার ভাষায় লেখা হলেও, বার্তাটি খুব মানবিক: যে অন্যকে কষ্ট দেয়, একসময় তাকে সেই কষ্টের সত্যের সামনে দাঁড়াতেই হয়। অপরদিকে, শিশুদের জন্য যে আলোর পথ, যে নিরাপত্তা ও স্নেহের ছবিটি আঁকা হয়েছে, তা পাঠকের হৃদয়ে সান্ত্বনা জাগায়। যেন বলা হচ্ছে অন্যায়ের শিকাররা কোথাও হারিয়ে যায় না, বরং আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসে, আবারও আলো ছড়ায়। লেখাটি অন্ধকার আর আলোর মধ্যে এক নৈতিক যাত্রার গল্প। কল্পলোকের ভাষায় লেখা হলেও, এর ভিতরকার বার্তা দায়বদ্ধতা, ন্যায়, আর পবিত্রতার প্রতি সম্মান একেবারে বাস্তব।

আরো এক রাশ শুভেচ্ছা রইল

*****


১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

লেখক বলেছেন: আপনার এই গভীর এবং সংবেদনশীল পাঠ-প্রতিক্রিয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আপনি লেখাটির যে স্তরগুলো উন্মোচন করেছেন, তা ট্রান্সক্রিপ্টের অনুবাদকৃত লেখার উদ্দেশ্যকে সত্যিই স্পর্শ করেছে।

আপনি সঠিকভাবেই ধরেছেন যে এটি শুধু পরলোক বা কর্মফলের রহস্যময় ব্যাখ্যা নয়, বরং ন্যায়বোধ, মানবতা এবং শিশুর প্রতি অপরাধের ভয়াবহতার একটি আধ্যাত্মিক প্রতিবেদন। শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে নিরীহ এবং অরক্ষিত সদস্য। তাদের প্রতি যেকোনো অন্যায় শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে একটি পাপ।

"অপরাধীরা নিজের চোখ দিয়ে নয়, বরং ভুক্তভোগী শিশুর চোখ দিয়ে তাদের কর্মফল দেখবে" - এই ধারণাটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটা তো শুধু শাস্তি নয়, সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানো।

প্রকৃত ন্যায়বিচার হলো যখন অপরাধী তার কর্মের প্রকৃত প্রভাব অনুভব করতে পারে। সহানুভূতির অভাবেই অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়। যদি প্রতিটি মানুষ তাদের কর্মের ফলাফল অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারত, তাহলে হয়তো অনেক অন্যায় থেকে বিরত থাকত।

আপনার পর্যবেক্ষণ যে "অন্যায়ের শিকাররা কোথাও হারিয়ে যায় না, বরং আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসে, আবারও আলো ছড়ায়" - এটি আমার লেখার একটি কেন্দ্রীয় বার্তা। আমি বিশ্বাস করি যে নিষ্পাপতা এবং পবিত্রতা কখনো ধ্বংস হয় না। যে শিশুরা অন্যায়ের শিকার হয়েছে, তাদের আত্মা কলুষিত হয়নি। বরং তারা আরও উজ্জ্বল হয়ে, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।

"অন্ধকার আর আলোর মধ্যে এক নৈতিক যাত্রার গল্প" - আপনার এই সংজ্ঞা খুবই যথার্থ। higher dimension থেকে আগত বার্তা সমূহ কল্পলোকের ভাষায় হলেও, এর ভিতরের বার্তা - দায়বদ্ধতা, ন্যায় এবং পবিত্রতার প্রতি সম্মান - একেবারেই বাস্তব এবং প্রয়োজনীয়।

আপনার এই চিন্তাশীল এবং সংবেদনশীল পাঠ আমাকে আশ্বস্ত করে যে লেখার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব। আপনার মতো পাঠকদের উপস্থিতি লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। higher dimension থেকে আসা বার্তা সমূহের আরো অনেক ট্রান্সক্রিপ্ট, আমি ক্রমান্বয়ে ব্লগে সংযুক্ত করবার ইচ্ছা রাখি। আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা।

******

৮ই ডিসেম্বর ২০২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পারস্পরিক মিথক্রিয়া না থাকলে মানুষ কারো কোন পোস্টের লেখা পাঠে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । বিশেষ করে বড় মাপের পোস্টে তা আরো কম ।

*****

৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ 

আমার মন্তব্যঃ একদম ঠিক। এমনকি পোস্ট সামনের পাতায় দেবারও আগ্রহ থাকে না। পোস্টগুলো যেন লিখেছিলাম, তাই কোথাও save করে রাখা উচিত - এমন চিন্তা থেকেই ব্লগে জমা রেখে দেয়ার মত হয়।

******

৮ই ডিসেম্বর ২০২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বিষয়টি অনুধাবনের জন্য ধন্যবাদ । আমিও আমার লেখা অনেক লেখা ব্লগে প্রকাশ না ড্রাফট হিসাবে এখানে সেভ করে রেখেছি । এখন পর্যন্ত ড্রাফটে আমার ২০০টিরো বেশি পোস্ট জমা হয়ে আছে ।

****

৯ই ডিসেম্বর, ২০২৫ 

আমার মন্তব্যঃ সহমত ডঃ আলী। পূর্বে আমার সাইন্স - ফিকশানগুলো কিছু পেইজে আমার অনুমতি ছাড়া এবং আমার মানে লেখকের নামটুকুও বাদ দিয়ে প্রকাশ করছিল। তাই আমি ঐসব লেখা ড্রাফট -এ রেখে দিয়েছিলাম বহুদিন ধরে।

৯ বছর পর ব্লগে ফেরত এসেছি , বিভিন্ন ব্যস্ততার পর। এখন ড্রাফটগুলো পোস্ট আকারে এনেছি কিন্তু প্রথম পাতায় দিই নি।

এই মেটাফিজিক্সের সিরিজটা প্রথম পাতায় দিয়েছি কিন্তু স্বতঃস্ফুর্ততা ছিল না। পাছে আবারো কেউ অবাঞ্ছিত মন্তব্য করে পরিবেশটা নষ্ট করে। কিন্তু তেমন হয়নি। এটা একটা এক্সপেরিমেন্টাল জার্নি বলতে পারেন। ভালো না লাগলেও মন্তব্য থেকে বিরত থেকে পোস্ট স্কিপ করতে পারছে কি না, তা দেখে আমি অভিভূত। অনেকেই পেরেছে।

আশা করি এখন থেকে  পরিবেশ কিছুটা সুন্দর হবে।

ভবিষ্যতে আবার সেই ১৮ বছর আগের পরিবেশে ফিরে যাব বলে আশা রাখি।

*******

৯ই ডিসেম্বর, ২০২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: “Bad money drives away good money” এটি বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ স্যার থমাস গ্রেশাম Sir Thomas Gresham)-এর একটি উক্তি, যা পরবর্তীতে Gresham’s Law নামে পরিচিত হয়।

গ্রেশামের আইনে বলা হয়, যে অর্থের প্রকৃত মূল্য কম (Bad Money), তা বাজারে চলাচল করতে থাকে;আর যার প্রকৃত মূল্য বেশি (Good Money), মানুষ সেটিকে জমা করে রাখে বা লুকিয়ে রাখে। ফলে বাজার থেকে ভালো মানের মুদ্রা হারিয়ে যায়।

আপনি ঠিকই অনুভব করছেন আগের ও এখনকার ব্লগের পরিবেশের অবস্থা । অনেকে্ই দেখছি তাদের সুন্দর সুন্দর মূল্যবান লেখা সমৃদ্ব প্রকাশিত পোস্টগুলি ড্রাফটে নিয়ে গেছেন । এ যেন গ্রেসাম ল এরই বাস্তব প্রয়োগ আমাদের এই সামু ব্লগে । যাহোক সব কিছুরই প্রতিকার আছে ।

যাহোক, আপনার মত আমিউ আশা করি ভবিষ্যতে আবার সেই ১৮ বছর আগের পরিবেশে ফিরে আসবে ভাল গুণগত মানের লেখালেখি করা ব্লগারগন পারস্পারিক মিথক্রিয়ায় পুণরায় ব্লগে সরব হয়ে উঠলে।

শুভেচ্ছা রইল

*****

৯ই ডিসেম্লেবর ২০২৫

আমার মন্তব্যঃ  আপনার বিশ্লেষণ ও উদাহরণ সত্যিই ভাবনার খোরাক জোগায়।

“Bad money drives away good money”—গ্রেশামের আইনের মূল সারমর্ম যেমন অর্থনীতির ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি সামাজিক বা সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মেও অনেক সময় তা প্রতিফলিত হয়।

যখন মানহীন বা অগভীর কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়, তখন সত্যিকারের মূল্যবান লেখা, চিন্তা বা সৃষ্টিকর্ম ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়—লেখক নিজেই সেগুলো লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হন।

সামু ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আপনার তুলনা তাই যথার্থ।

অনেক ভালো লেখক ড্রাফটে চলে যাচ্ছেন—এটা আমাদের সবার জন্যই দুঃখজনক। তবে আশা করি, গুণগত লেখার মূল্য যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে—এই বিশ্বাসই আমাদের আবারও গতি ফিরিয়ে আনবে।

ভালো লেখা দীর্ঘমেয়াদে কখনোই হারিয়ে যায় না। আপনার ভাবনার সঙ্গে একমত, এবং আশা করি এই পরিবেশ আরও সুন্দর ও ইতিবাচক হয়ে উঠবে ।

******

১২.১২.২০২৫

আলামিন ১০৪ বলেছেন: আপনি রেফারেন্স হিসাবে যার নাম বলেছেন তার সম্পর্কে

-In 1997, Meier's ex-wife, Kalliope, told interviewers that his photos were of Spaceship models he crafted with items like trash can lids, carpet tacks and other household objects,[24] and that the stories he told of his adventures with the aliens were similarly fictitious. She also said that photos of purported Extraterrestrial women "Asket" and "Nera" were really photos of Michelle DellaFave and Susan Lund, members of the singing and dancing troupe The Golddiggers.[25] It was later confirmed that the women in the photographs were members of The golddiggers performing on The Dean Martin Show

******

০৬.০১.২০২৬

আমার মন্তব্যঃ  এখন তো বিলি ম্যায়ারের কথা কিছুটা উপস্থাপন করলাম। এরপর ড্রুনভ্যালু, অ্যালেক্স কোলিয়ারের মত কন্টাক্টিদের কথাও এই ব্লগে তুলে ধরবো। তখন আশাকরি কন্টাক্টিদের কন্টাক্ট নোট বাদ দিয়ে তাদের বউরা কে কি বলেছে সে সকল তথ্যও সাথে সাথে পাওয়া যাবে।