Mar 2, 2026

রি ইঙ্কার্নেশানের গল্প

রি ইঙ্কার্নেশানের গল্প

https://www.somewhereinblog.net/blog/blogger16/30378442

 ০২ রা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসাধারণ 


০২ রা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: আমার কোন পোষ্টে প্রথম এলেন বোধ হয়! ধন্যবাদ আপনাকে।

 ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:২৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: জ্বী , এই পোস্টে প্রথম এলাম। কিন্তু কিছুদিন আগে যে মন্তব্য করে গিয়েছি তা দেখে অবাক লাগছে। আমি কিছু মনে রাখতে পারছি না কেন? প্রচণ্ড দ্রুত যাচ্ছে সময়। গত ২৪ ঘন্টায় কি করেছি, বলতে পারবো না।
স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নাকি কয়েকটা টাইম লাইনে একসাথে চলছি -বুঝতে পারছি না।

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন: আসলে সময়ের সাথে সাথে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অনেক পরিবর্তন ঘটে! ছোটবেলায় অনেক কঠিন পড়া অনেক দিন পর্যন্ত মনে রাখতে পারতাম, এখন হিমশিম খেতে হয়।

আপনি ভালো আছেন আশা করি। পুনরায় আসার জন্য ধন্যবাদ রইল।

Mar 1, 2026

ঘাড় ঘুরানি

 আমার মন্তব্য  ঘাড় ঘুরানি

পাঠক বলেছেনঃ সুন্দর লিখেছেন । আমার এক ক্লাশ -ফ্রেন্ডের এমন ঘাড় ঘুরানীর অভ্যাস ছিল । তার এ অভ্যাস থেকে অনেক মজার গল্প সৃষ্টি হতো । সে ছাত্র তেমন ভাল ছিলনা , তবে সে বেশ মস্তান টাইপের ছিল । পরীক্ষার সময় পরীক্ষা হলে সে যে কোন প্রকারেই হোক তার সিট ছেড়ে আমার পাশে বসে আমার পরীক্ষার খাতা দেখে দেখে যতটুকু পারে লিখত । তার বাবা ছিল বেশ বড় রাজনীতিবিদ ও উকিল। কলেজে তাই তার বেশ প্রতাপও ছিল । স্যার কিছু বলতে এলে সে বলতো দেখেন স্যার বেশি ভাল হবেনা । 
স্যার তখন বলতেন, 'কি করবে তুমি? 
সে বলত, 'দেখবেন কি করি?' 
এই বলে সে স্যারের দুই পা ধরে বসে থাকতো। স্যার কোন মতেই তাকে ছাড়াতে পারতেন না। তারপর বলতেন,'ঠিক আছে, তুমি এখানেই বসে পরীক্ষা দাও। তবে আলীকে বিরক্ত করবেনা। তার খাতা দেখে লিখবেনা।' কে শুনে কার কথা । সে বলে, 'স্যার আমি তার খাতা দেখে লিখবনা।' 
কিন্তু একটু পরেই স্যার এসে বলেন, 'একি করছ তুমি ?'
সে বলল, 'স্যার আমি কিছুই করছিনা। এমনিতেই একটু পরে পরে আমার ঘাড় ঘুরে যায় । বিশ্বাস না হলে সকলকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।'
সকলে বলল,' হ্যা স্যার, এর ঘাড় ঘুরানোর অভ্যাস আছে ।' 
যাহোক এই ভাবেই ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে তার শিক্ষা জীবন জীবন শেষ করে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়েই ত্যাড়া পথে তিতাস এর মত একটি বড় কোম্পানীতে এ জি এম লেভেলের চাকুরি বাগিয়ে নেয় । যাহোক। তার পরের কাহিনী আর জানিনা। কারন সে সময়ের পর হতে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই ।
যাহোক এবার ফিরা যাক আপনার গল্পের কথায় । গল্পের অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় ঘাড় ঘুরানো ড.সফদার, রুমার পিছে হয়তবা লেগেও থাকতে পারে। যদি না পারে, তবে ল্যাবটারির গবেষনায় তার ঘাড় ঘুরানী, রুমার ঘাড়ে চালান করে দিতে পারে।
ঘাড় ঘোরানোর সময় শব্দ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। জানিনা সেই শব্দ কি রূপ ধারন করে । হয় মিল না হলে ঝগড়া -এর একটা কিছুতো হবেই ।
যাহোক, এখন কথা হল অনেকেই অভ্যাস বশত বারবার ঘাড় ঘোরান,যা ঠিক না। বিশেষ করে,চুল কাটার সময় নরসুন্দরের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ভাবে ঘাড় ঘোরানো একেবারেই অনুচিত। এতে ঘাড়ের ফ‍্যাসেট জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাঁরা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ কারণে পেশি হঠাৎ শক্ত হয়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ জন্য আমরা যারা দীর্ঘক্ষন কমপিউটারে কাজ করি, তাদের ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করা উচিত।

সুন্দর গল্পটির জন্য ধন্যবাদ ।

পোস্টের ছবি দুটি সুন্দর হয়েছে ।

শুভেচ্ছা রইল

*****

০১ লা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষণ বেশ মজার এবং গভীর।
ড. সফদার সত্যিই এক জটিল চরিত্র — কখন যে তিনি গবেষণার নামে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন, আর কখন রুমার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেন, তা বোঝা দায়।
ঘাড় ঘোরানোর শব্দ নিয়ে আপনার সন্দেহও যথার্থ; গবেষণার পরিবেশে এমন শব্দ কখনো কখনো নতুন দ্বন্দ্বের সূচনা করতে পারে।
মিল না হলে ঝগড়া তো হবেই — গল্পের গতিপথকে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছি।
সব মিলিয়ে গল্পে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও গবেষণার চাপ, দুই-ই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে উঠাতে চেয়েছি।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিয়েছিল জানেন? ড. সফদার মিয়া, রুমার মত একজন সাধারণ ছাত্রীকে ল্যাব ছাড়া করে ছেড়েছিল।

*****
৬ই মার্চ ২০২৬

পাঠকের মন্তব্যঃ গল্পটির এখানে এসে রূমার মত মেধাবী একজন ছাত্রীর ভয়াবহ পরিনতি সত্যিই বেদনা দায়ক । ড. সফদারের আচরণ যদি গল্পের ভেতরের বাস্তবতা অনুযায়ী বিচার করা হয় , তাহলে তার জন্য কয়েক ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা কল্পনা করা যায়:-

১. প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত
যদি তিনি গবেষণার নামে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে
বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেঅভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে। 
তার গবেষণা তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা করা যেতে পারে।

২. প্রশাসনিক শাস্তি
অভিযোগ প্রমাণিত হলে, গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব থেকে অপসারণ, পদাবনতি বা সাময়িক বরখাস্ত। ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রী তত্ত্বাবধানের উপর নিষেধাজ্ঞা।

৩. একাডেমিক পরিণতি
গবেষণায় অনৈতিক আচরণ প্রমাণিত হলে, প্রকাশিত গবেষণাপত্র প্রত্যাহার। গবেষণা অনুদান বা প্রকল্প থেকে বাদ পড়া। পেশাগত সুনামের বড় ক্ষতি।

৪. নৈতিক/গল্পগত পরিণতি
গল্পের ভেতরে আরও শক্তিশালী নাটকীয় পরিণতি হতে পারে, যেমন রুমা বা অন্য কেউ সত্য প্রকাশ করে দিলে ড. সফদারের মুখোশ খুলে যাওয়া । প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তার প্রভাব ভেঙে পড়া।
নিজের কাজ ও সম্পর্কের কারণে একাকীত্ব বা আত্মসমালোচনার অবস্থায় পড়া।

অর্থাৎ, গল্পের ভেতরে সবচেয়ে অর্থবহ “শাস্তি” হতে পারে তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ পাওয়া
এবং তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাওয়া। সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এটি প্রায়ই আইনি
শাস্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।

চলতে থাকুক লেখা ........।

শুভেচ্ছা রইল
শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০৫

লেখক বলেছেন: আলী ভাই, বাস্তবতা হলো যে, রুমারা কখনো মুখ খুলেনা। শুধু একের পর এক harassment -এর শিকার হয়।
কার কাছে যাবে রুমা কমপ্লেইন নিয়ে ?
কলেজের প্রধান?
উনি তো ডঃ সাবদার মিয়ার দলের লোক। প্রফেসর চিবানী চন্দর । তার সাথেও তো আছে আরেক কাহিনী।
আপনার concerned হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু কলেজ চলে দলের ভিত্তিতে। আর সেই আবহে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া রুমার আরো কিছু কিম্ভুতকিমাকার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেইগুলোও রচনার পথে। তবে রুমার কলেজের পরিবেশ আরেকটু ভাল ভাবে বুঝা যাবে চিবানী চন্দরের https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30383834  গল্পে। সেখানে দেখবেন, শীলার সাথে সেই বিভাগীয় প্রধান কি আচরণ করেছিল। এরা একেকজন তো বহু প্রতিভার অধিকারী।
ফণা https://www.somewhereinblog.net/blog/humaira_haroon/30388640  গল্পেও দেখবেন রত্না কিভাবে ভুক্তভোগী হয়েছে।


Feb 27, 2026

মওলানা রুমী


 লেখক বলেছেন: ইসলামী মরমী সাধনা

বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে ~ ড. এম এ আলী
শোনো
দূর নীরবতার বুক চিরে
কে যেন ডাকে দীর্ঘশ্বাসের সুরে
বাতাসে ভেসে আসে কান্না
কেউ বলে, ও শুধু বাঁশির গান
আমি জানি সে মানুষের প্রাণ।

কখনো সে ছিল সবুজ বনে
মূলের সাথে নিবিড় বন্ধনে
আজ কাটা পড়ে একা দাঁড়িয়ে
নিজের শূন্যতা নিজেই গায়
বিচ্ছেদের আগুনে জ্বলে
তার প্রতিটি দীর্ঘ দীর্ঘ্রম্বাসে।

সুর কেন এমন কাঁদে?
কেন আনন্দের ভেতরেও বিষাদের ঢেউ?
হাসির নিচে লুকানো নদী
নিঃশব্দে বয়ে যায় কেবল সে-ই জানে
যে একবার হারিয়েছে আপন ঠিকানা।

মানুষও তেমনি
ভিড়ের মাঝে থেকেও নির্বাসিত
অগণিত প্রাপ্তির পরেও অপূর্ণ
স্বপ্নের পরে স্বপ্ন জাগে
তবু হৃদয় কথা বলে
এ নয়, এ নয়, আরও কিছু বাকি।

স্বর্ণের প্রাচুর্য তাকে ভরায় না
সঙ্গের উষ্ণতাও শেষ তৃষ্ণা মেটায় না
কারণ তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে
অদৃশ্য কোনো প্রথম সকাল
যেখানে ছিল না বিচ্ছেদ
ছিল শুধু পূর্ণতার আলো।

তাই সে কাঁদে
বাঁশির মত দীর্ঘ মিহীন সুরে
নিজের উৎসের দিকে ফিরে যেতে চায়
প্রতিটি প্রেম, প্রতিটি বেদনা
আসলে সেই পথেরই চিহ্ন
যেখানে আত্মা আপন ঘর খুঁজে পায়।

দুঃখ তাই মনস্তাপ নয়
এ গভীরতার দরজা
বিরহ তাই ক্ষত নয়
এ প্রত্যাবর্তনের ভাষা।
যেদিন মানুষ বুঝবে তার অশ্রুই তার মানচিত্র, সেদিন বাঁশির সুর থামবে না, বরং মিলিয়ে যাবে অসীম নীরবতার মাঝে,
যেখানে আর কোনো বিচ্ছেদ নেই।শুধু চির-ফেরা, চির সাক্ষাৎী

*****
আমার মন্তব্যঃ মওলানা রুমীর ভাব অনুসারে যে কবিতাটি আপনি লিখেছেন, 'বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে' তা পড়ে মনে হচ্ছে মওলানা রুমীর কথাগুলো যেন আপনি, আপনার আত্মা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। যদি মওলানা রুমীর লেখা সমূহের ভাবার্থ এভাবে আপনার কলমে ফুটে উঠতো, আমরা সকল বাংলা ভাষা ভাষীরা blessed হতাম।

****
লেখক বলেছেনঃ 
আপনার আন্তরিক ও হৃদয়ছোঁয়া মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাই।
আসলে মওলানা রুমীর ভাবজগৎ এমন এক সমুদ্র, যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই সৌভাগ্যের বিষয়, তার গভীরতা উপলব্ধি করা তো আরও বড় অনুগ্রহ। ‘বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে’ কবিতাটি লিখতে গিয়ে আমি শুধু সেই অনুভূতির সামান্য স্পর্শটুকু ধরার চেষ্টা করেছি, যা রুমী আমাদের হৃদয়ের ভেতর জাগিয়ে দেন।

আপনার এই উৎসাহ ও ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও রুমীর ভাবধারার আলো থেকে কিছু উপলব্ধি বাংলায় প্রকাশ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব যেন আমরা সবাই সেই প্রেম, বিরহ ও আত্ম-অন্বেষণের পথে একটু করে এগোতে পারি। মসনবী তে থাকা দ্বিতীয় শেরটাও গভীরতা উপলব্ধি করে আমি আরো একটি কবিতা লিখেছে সেটা প্রায় তিন পৃষ্ঠার মত বড় হয়ে গেছে , তাই সেটা এখানে এই প্রতি মন্তব্যের ঘরে দিলাম না । সময় মত কবিতাটি নিয়ে একটি পৃথক পোস্ট দিবার আশা রাখি, ইনশাআল্লাহ।

শুভেচ্ছা রইল
দোয়া ও শুভকামনা রইল।
****
২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ লেখক বলেছেনঃ রূমীর কবিতা শুধু ভাষা নয় এটি হাল (আধ্যাত্মিক অবস্থা) অনুভব করার বিষয়। বিশেষ করে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব-কে কেন্দ্র করে লেখা অংশগুলো সুফি সাহিত্যে “ইখলাস” ও নফস-জয় -এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

@ ড. আলী ভাই, নফস্‌ জয় করতে পারলে তো এতদিনে 5D তে থাকতাম। এই 3D- তে হয়ত বা আসতেই হতো না।
দিওয়ান - শামস তাবরীজ বইটি grontho.net সাইটে পেয়েছি । আরেকটি বই পেয়েছি। আহমদ শরিফের লেখা, 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য।' মনে হয় এবার ফরমালি সূফী দর্শন জানবার পথ পেলাম। বুদ্ধের একটা proverb আছে, 'when the student is ready, the teacher will appear.'
আমার ছাত্রদের সাথে তাই-ই হয়েছিল, যখন আমি শিক্ষক হিসাবে তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আবার আমি যখন স্টুডেন্ট তখন আমার বেলায় হয়েছে অলৌকিক ভাবে। এবার যেমন ধরুন, প্রথমে আপনার পোস্ট পড়া। তারপর অনলাইনে খোঁজ করার পরামর্শ পেয়ে 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য' পেয়ে যাওয়া। এবার আমার সূফী দর্শন নিয়ে পড়া শুরু হবে। বইটির লিঙ্ক
https://grontho.net/বাঙলার-সূফী-সাহিত্য


লেখক বলেছেনঃ 
আপনার অনুভবসমৃদ্ধ মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই ভালো লাগলো। রূমীর কবিতাকে যে আপনিও যে শুধু সাহিত্য হিসেবে নয়, বরং “হাল”-এর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন এটাই আসলে সুফি পাঠের আসল দরজা খুলে দেয়। শব্দ সেখানে কেবল বাহন; আসল যাত্রা ঘটে অন্তরের ভেতর।
নফস্‌ জয় প্রসঙ্গে আপনার কথাটিও গভীর সত্য বহন করে। আমরা হয়তো 3D এর এই সীমাবদ্ধ জগতেই পথ চলছি, কিন্তু সুফি শিক্ষার সৌন্দর্য হলো এই বাস্তব জীবনেই ধীরে ধীরে অন্তরের মাত্রা বদলে যায়। স্থান নয়, চেতনার রূপান্তরই আসল সফর।
আপনার পাঠযাত্রার ধারাবাহিকতাটি বিশেষভাবে স্পর্শ করলো, একটি লেখা থেকে আরেকটি বই, তারপর নতুন অনুসন্ধানের দরজা খুলে যাওয়া। সত্যিই, যখন অনুসন্ধান জাগে, তখন পথ নিজেই পথিককে ডেকে নেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সেই রহস্যময় সাক্ষাৎও বোধহয় এভাবেই ঘটে সময় পূর্ণ হলে।

আপনার সূফী দর্শনের পাঠযাত্রা শুভ হোক। পড়া, ভাবা ও আত্ম-অন্বেষণের এই পথ আপনাকে আরও গভীর শান্তি ও অন্তর্দৃষ্টি দিক এই কামনা রইল। আর হ্যা, বই এর লিংকটি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । যদিও লিংকটি আমার রিজিঅনে কাজ করছে না এখানকার কঠিন নিয়মের কারণে, তবে লিংকটি দেশে আমার স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি, যদি তাদের কাজে লাগে । কোন চেষ্টায় বৃথা যায়না এ বাক্যটি খাটে যে কোন উপায়ে ।

শুভেচ্ছা রইল

Feb 23, 2026

রাবেয়া বসরী

 ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাবিয়া বসরী

আমার মন্তব্যঃ রাবেয়া বসরী,ইসলামি ইতিহাসের একজন বিখ্যাত সুফি সাধিকা। তবে সুফিবাদের ইতিহাসে তিনি যে প্রথম মহিলা সাধক তা জানতাম না।

ছোট থেকে শুনেছি,রাবেয়া বসরী ছিলেন নিঃস্বার্থ ভক্তি ও ঈশ্বরপ্রেমের প্রতীক। তাঁর জীবন ছিল কঠোর সাধনা, ত্যাগ এবং আত্মবিসর্জনের উদাহরণ। আজ বিশদ জানতে পেরে খুবই ভাল লাগলো।
লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
*****
লেখক বলেছেনঃ আপনার উপলব্ধিটি সত্যিই আনন্দের। ইসলামের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে রাবেয়া বসরী শুধু একজন নারী সাধক হিসেবেই নয়,বরং ঈশ্বরপ্রেমভিত্তিক সুফীচিন্তার এক উজ্জ্বল দিশারী হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর সাধনার মূল শিক্ষা ছিল আল্লাহকে ভয় বা প্রতিদানের আশায় নয়, নিখাদ ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা।

সম্ভবত এই কারণেই তাঁর জীবন কাহিনি যুগে যুগে মানুষকে বাহ্যিক আচার থেকে অন্তরের বিশুদ্ধতার দিকে আহ্বান জানায়। আপনার মতো পাঠকের নতুন করে তাঁকে জানার আগ্রহই প্রমাণ করে যে সত্যিকারের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব সময়ের সীমা অতিক্রম করে হৃদয়ে জীবন্ত থাকেন।
আপনার এই অনুভব ভাগ করে নেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইল

Feb 22, 2026

ছোটগল্প

২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেন, যারা প্রাইভেট চাকরি করে এসেছে তাদের মাত্র দশ জনের অভিজ্ঞতা যাচাই করেন সাত জনই এমন পাবেন।
কথাটা ভীষণ সত্যি।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭

লেখক বলেছেন: ব্যাপারটা কি পরিমান বৈষম্যের তাইনা? অথচ যারা করে তাদের কাছে এটা কোন অপরাধই না।  

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ছোট গল্পঃ প্রমোশন লেখক বলেছেনঃ ব্যাপারটা কি পরিমান বৈষম্যের তাইনা? অথচ যারা করে তাদের কাছে এটা কোন অপরাধই না।

তা তো বটেই।
এদেরকে কাছ থেকে দেখে খটকা লাগতো। পরে বুঝেছি এরা মানুষ নয়। দেখতে মানুষ, কিন্তু আসলে মানুষরূপী ইবলিশ।
আর কলিগদের কথা কি বলবো। তাদের কখনো পাশে পাওয়া যায় না। কারণ তারাই তো কান ভারী করার কাজটা করে। বা তাদের পেট চালানোর দায় থাকে। তাই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস থাকে না।
যদি কেউ একজন প্রতিবাদ করতে যায়, তাহলে তাকে বেয়াড়া বলে সিল দেয়, আশপাশের সবাই।
অর্থাৎ পুরো সিস্টেমটা নিয়ন্ত্রিত হয় ইবলিশদের দিয়ে।
এখন যদিও সত্য উন্মোচনের সময় এসে গেছে। আস্তে আস্তে সারা বিশ্বে একটা পরিবর্তন আসছে। আমাদের মাঝেও আসছে। এই ওল্ড সিস্টেমের পরিবর্তন আসবে।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৬

লেখক বলেছেন: কতটা তিক্ত আপনার অভিজ্ঞতা সেটা আপনার কথা স্পষ্ট, একই জিনিস আমিও পার করে এসেছি, আপনার মতামতের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমার মতামত মিলে গেছে, যাই হোক একদিন পরিবর্তন আসবে এটাই সান্তনা, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকুক এইটুকুই চাওয়া, অনেক ধন্যবাদ।

Feb 20, 2026

আনার

২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ আজ থেকে ৩৫ বছর আগের কথা।
দেখা করতে গিয়েছি যার সাথে, তিনি আমার স্যার না, আমার আম্মার স্যার।
তখন উনি এমিরেটাস প্রফেসর। স্যার তার ছাত্রীকে ( মানে আম্মাকে) তার কন্যার সাথে (মানে আমাকে) দেখে জিজ্ঞেস করলেন, 'হুমায়রা নামের অর্থ কি? বলতো।'
আমি বললাম, 'আমি জানি না।'
তখন স্যার বলেছিলেন, 'হুমায়রা অর্থ ডালিমের লালচে আভা। ডালিম পাকা হলে, তার বাইরের আবরণ যে লালচে আভা ধারণ করে, তাকে বলে হুমায়রা।'
তারপর থেকে আজও স্যারের কথা মনে আছে। কখনো ভুলিনি।

***

২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পাঠকের উত্তরঃ আপনার মন্তব্যটি পড়লাম, সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেল।
৩৫ বছর আগের সেই মুহূর্ত, যেখানে একজন এমিরিটাস অধ্যাপকের মাধুর্য ও সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে একটি ছোট্ট নামের অর্থ প্রকাশ করেছেন এটাই প্রমাণ যে জ্ঞান শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তেও ছড়িয়ে থাকে। হুমায়রা অর্থাৎ ডালিমের লালচে আভা,এটি শুধু নামের ব্যাখ্যা নয়, বরং স্মৃতির রঙও হয়ে হয়ে গিয়েছে আপনার কাছে।
মনে হয়, প্রতিটি নামের সাথে একটি গল্প, একটি অনুভূতি, একটি আভা জড়িয়ে থাকে,ঠিক যেমন হুমায়রার লালচে আভা, যা আজও আপনার মনে জীবন্ত।
চমৎকার স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল 

***




Feb 11, 2026

শিকার

আমার মন্তব্য  শিকার

পাঠক বলেছেন:গল্পটি মনযোগ দিয়ে বেশ সময় নিয়ে পাঠ করলাম । পাঠক হিসাবে উদ্বুদ অনুভুতি লিখতে গেলে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করছি । যাহোক পাঠান্তে অনুভুত বিষয়গুলি না হয় লেখাই করি । 
প্রথমেই বলি গল্পটিতে চরিত্র নির্মাণ ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা সুন্দরভাবে উঠে এসেছে । কেন্দ্রীয় চরিত্র আশালতা যিনি একদিকে সামাজিক মর্যাদা, অন্যদিকে নৈতিক অবক্ষয়ের দ্বন্দ্বে জর্জরিত। তার জীবনযাপন, আচরণ ও সিদ্ধান্তগুলো ধীরে ধীরে একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইল নির্মাণ করেছে ।

শিকার ও শিকারী এই দ্বৈততা তথা গল্পে শিকার শব্দটি একমাত্রিক নয়। কখনো আশালতা শিকারী, কখনো সে নিজেই বাস্তবতার শিকার। আবার প্রবাসী ভদ্রলোক বাহ্যত শিকার মনে হলেও নৈতিক অবস্থানে সে তুলনামূলক ভাবে শক্ত।

নারী স্বাধীনতা বনাম নৈতিক দায়িত্বের সংঘাত প্রকট হয়ে উঠেছে । গল্পটি ইঙ্গিত করে যে স্বাধীনতা যদি নৈতিক ভিত্তিহীন হয়, তবে তা আত্মবিনাশী হয়ে উঠতে পারে। আশালতার স্বাধীন চলাফেরা এখানে ক্ষমতায়নের চেয়ে শোষণের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

সমাজের ভণ্ডামি ও দ্বিচারিতার চিত্রটিউ সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে ।সম্মান, বাজার, ইমেজ এই শব্দগুলো গল্পে বারবার এসেছে, যা সমাজের বাহ্যিক নৈতিকতা আর অভ্যন্তরীণ পচনের দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করে।

প্রজন্মগত ক্ষতির চিত্রায়নটি গল্পটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে ।আশালতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব তার কন্যাদের
জীবনে মানসিক বিপর্যয় হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে যা অপরাধ ও অবক্ষয়ের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গকে সামনে আনে।
বেশ কিছু দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যেমন শেষাংশে লেখাটি নিয়তি বনাম চরিত্র, বাস্তবতা বনাম প্রবণতা এই দ্বন্দ্বে পাঠককুলকে দাঁড় করিয়ে দেয়।

যাহোক, শিকার গল্পটি একটি অস্বস্তিকর কিন্তু প্রয়োজনীয় পাঠ। লেখাটি পাঠককে নৈতিক স্বস্তি দেয় না; বরং বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। আশালতা কোনো সরল ভিলেন নয়, আবার নিছক ভুক্তভোগীও নয়। এই দ্বৈত অবস্থানই গল্পটির শক্তি। পাঠক হিসেবে অনুভূত হয় লেখক হিসাবে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে সহানুভূতি ও বিরক্তির মাঝখানে চরিত্রটিকে স্থাপন করেছেন, যেন বিচার একপাক্ষিক না হয়।

গল্পটি বিশেষভাবে সফল হয়েছে এই কারণে যে, এখানে পতনকে রোমান্টিসাইজ করা হয়নি। আশালতার জীবন যতই ‘সোসাইটি গার্ল’ মোড়কে মোড়ানো থাকুক, শেষ পর্যন্ত তা নিঃসঙ্গতা, অনিশ্চয়তা ও শূন্যতার দিকেই গড়িয়েছে। শিকার চরিত্রটি এই শূন্যতার বিপরীতে এক ধরনের নৈতিক আয়না হয়ে দাঁড়ায় যার সরলতা আশালতার চাতুর্যকে আরও নগ্ন করে তোলে।

পাঠক হিসাবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গভীর দাগ কাটে সন্তানেরা। তাদের মানসিক ভাঙন বুঝিয়ে দেয় ব্যক্তিগত পছন্দ কখনো কখনো সামাজিক ও প্রজন্মগত অপরাধে পরিণত হয়। এখানে লেখাটি ব্যক্তিনৈতিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে।

সবশেষে, আপনার লেখা গল্পটি কোনো চূড়ান্ত রায় দেয় না বরং একটি দার্শনিক অনিশ্চয়তায় পাঠককে রেখে যায়। মানুষ কি পরিস্থিতির শিকার হয়ে অপরাধী হয়, নাকি অপরাধপ্রবণতা নিজেই পরিস্থিতিকে ডেকে আনে?
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই লেখাটি পাঠক হিসাবে আমাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী আলোড়ন সৃষ্টি করে যা বলতে গেলে একটি সাহিত্যিক রচনার গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

বিবিধ ভাবমুলক একটি উপভোগ্য গল্প এখানে পরিবেশনের জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

*****
লেখক বলেছেন: আপনার এই গভীর ও সুচিন্তিত মন্তব্যটি পড়ে আমি সত্যিই অভিভূত।
একজন লেখক হিসেবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো যখন পাঠক শুধু গল্পের উপরিতলে থেমে না থেকে তার অন্তর্নিহিত স্তরগুলোতে প্রবেশ করেন, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা অনুধাবন করেন এবং গল্পের দার্শনিক প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবনায় মগ্ন হন। আপনার পাঠ ও বিশ্লেষণ ঠিক সেই অভিজ্ঞতা আমাকে দিয়েছে।
আশালতার চরিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমি সচেতনভাবেই তাকে কোনো একক ছকে বাঁধতে চাইনি। সে কোনো সরল ভিলেন নয়, আবার নিছক ভুক্তভোগীও নয়। বাস্তব জীবনের মানুষ তো এমনই — ধূসর, জটিল, পরস্পরবিরোধী। আশালতা একই সাথে শিকার ও শিকারী। সে মনে করে সে স্বাধীন কিন্তু সে জানে না যে, সে দুরাত্মাদের দ্বারা শৃঙ্খলিত। সে ক্ষমতাবানদের সাথে মিশে, কারণ সে অসহায়। এই দ্বৈততাই আমাদেরকে নৈতিক বিচারের সহজ পথ থেকে সরিয়ে জটিল অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
আপনার উল্লেখ করা "নারী স্বাধীনতা বনাম নৈতিক দায়িত্বের সংঘাত" প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত স্বাধীনতা আসে দায়বদ্ধতার সাথে। আশালতার ট্র্যাজেডি এখানেই যে, তার স্বাধীনতা কোনো মুক্তির পথ খোলেনি, বরং তা শোষণ ও আত্মবিনাশের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এটি কোনোভাবেই নারী স্বাধীনতা নয়, বরং স্বাধীনতার অপব্যবহার ও নৈতিক শূন্যতায় ভরা দিকহীন পরিণতির একটি সতর্কবার্তা।
প্রজন্মগত ক্ষতির যে চিত্রটি আমি তুলে ধরেছিলাম তা আশালতার জীবনে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশ। তার মেয়েরা তাদের মায়ের পছন্দের মূল্য দিচ্ছে — এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের সিদ্ধান্তগুলো কখনো শুধু ব্যক্তিগত থাকে না, তা পরিবার ও সমাজে তরঙ্গায়িত হয়। কিন্তু লোভী ও ছলনাময়ী এই নারীটি তা সময় থাকতে উপলব্ধি করেনি।
আমার উপলব্ধি আপনার নজর এড়ায়নি, যা হলো — "মানুষ কি পরিস্থিতির শিকার হয়ে অপরাধী হয়, নাকি অপরাধপ্রবণতা নিজেই পরিস্থিতিকে ডেকে আনে?" — এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই অনুত্তরিত রেখে গেছি। কারণ জীবন তো কোনো চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। হয়তো সত্য এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও, যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন। এই দুনিয়াতে আসি তো শুধু এক্সপেরিয়েন্স গ্রহন করতে। কি ভালো, কি মন্দ তা গল্পের মাধ্যমে সমাধান দেওয়া যায় না। কিন্তু প্রশ্ন মনে এলে তা মাঝে মাঝে লেখার মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায় । আমি তা করেছি। কারণ আপনার আলোচনা, এই মন্তব্য দ্বারা তাই-ই প্রমাণ করে যে, গল্প লেখাটি এই কাজে সফল হয়েছে। আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।
আপনার এই বিশ্লেষণাত্মক ও সংবেদনশীল পাঠের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এমন পাঠকের জন্যই লেখালেখির সার্থকতা।
অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

*****
আবির বলেছেন: ভাবতে অবাক লাগে, আপনার এ গল্প আদতে আমাদের সমাজেরই ঘটনা, এবং সত্য ঘটনা। আশালতারা সমাজে আছেন, তাদের সঙ্গকামী ভক্তকূলও আছে ততোধিক। সে যাক, আপনার গল্প বলার র' , বেপরোয়া ভঙ্গীটি উপভোগ করলাম, যদিও গল্পের মূল সুরে বিশেষ কোন চমক দেবার প্রবণতা ছিল না।
শুধুমাত্র সেক্সুয়াল টেনশনটুকু সরিয়ে নিতে পারলেই জীবনে অনেকের সঙ্গে সহজ - সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব হয়।
শুভকামনা আপনার জন্য।

*****
লেখক বলেছেন: আমার গল্প বলার ভঙ্গি এবং বেপরোয়া উপস্থাপন আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনুপ্রাণিত হলাম।
গল্প বলার ভঙ্গি মানে শুধু ভাষার আড়ম্বর নয়, বরং নিজের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবনা ও অভিব্যক্তিকে সরাসরি প্রকাশ করা। আমি চেষ্টা করেছি গল্পটি যেন কৃত্রিম না শোনায়—বরং যেন মনে হয়, আমি বন্ধুর মতো পাশে বসে গল্পটি বলছি। তাই ভাষায় ছিল কিছুটা নিরাবরণ আর উপস্থাপনায় ছিল ইচ্ছাকৃত অনিয়ম।
জানি ‘বেপরোয়া উপস্থাপন’ হয়েছে। এ কারণেই প্রথম পাতায় দিতে কুন্ঠা বোধ করছিলাম। এক্ষেত্রে গল্প বলার সময় প্রচলিত গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে চিন্তাভাবনা 'বেপরোয়া' ভাবেই প্রকাশ করেছি। কিন্তু বিষয়বস্ত সাধারণ ঘটনা বলে তেমন কোন চমক বা নাটকীয়তা পায় নাই। লেখনীর জোর আরেকটু বেশী হলে চমকপ্রদ হবে হয়তোবা।
আপনার মতো পাঠক যখন এই ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন, তখন লেখার প্রেরণা আরও বেড়ে যায়।

অনেক ধন্যবাদ আবির।