Oct 19, 2026

ফানা এবং বাকা

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ বিনীত, অবনত বৃক্ষের এই চিত্রকল্পে প্রকৃতির একটি অনাড়ম্বর দৃশ্য যেন আত্মোপলব্ধির গভীরতম দর্শনে রূপান্তরিত হয়েছে। বৃক্ষের নত শাখা এখানে কেবল বিনয়ের প্রতীক নয়, বরং আত্মগরিমার আবরণ ভেদ করে অস্তিত্বের পরম সত্যের কাছে পৌঁছানোর এক নীরব ভাষ্য। সুফি দর্শনের ফানা ও বাকা এই দুই উপলব্ধির আলোকে লেখাটিকে আরও গভীরভাবে পাঠ করা যায়। ইশ্‌কের পরম নিবিড়তায় যখন ‘আমি’ ও ‘তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন ফানা-র অভিজ্ঞতায় স্বতন্ত্র অহংবোধের বিলয় ঘটে; আর বাকা-র উপলব্ধিতে সেই প্রেমময় সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করেই মানুষ ফিরে আসে কর্মময় জগতে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবনযাপনে। এমনতর উপলব্দির প্রভাবে আমার ব্লগে কিছুক্ষন পুর্বে কবিতা একটি লিখে রেখে এসেছি ।

উল্লেখ্য এমনতর নত হওয়া আর আত্মবিসর্জনের নিছক ভঙ্গি থাকে না, হয়ে ওঠে অন্তরের পরিণত প্রজ্ঞা। কারণ সত্যিকারের আত্মসমর্পণ মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং আরও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলে।

বৃক্ষ যেমন নিজের ফলের কৃতিত্ব ঘোষণা করে না, ছায়া দেওয়ার জন্য প্রতিদানও চায় না, তেমনি প্রজ্ঞায় পরিশুদ্ধ মানুষও নিজের মহত্ত্বের প্রচারে নয়, অন্যের কল্যাণে নিজের অস্তিত্বের সার্থকতা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত মহত্ত্বের পরিচয় কতটা উচ্চতায় উঠলাম, তা নয়; বরং কতটা নত হয়ে জীবনের বৃহত্তর সত্যকে ধারণ করতে পারলাম, তারই মধ্যে। আপনার লেখাটি তাই নত বৃক্ষের দৃশ্যের আড়ালে এক অনন্ত সত্যের ইঙ্গিত দেয় অহংকারের বিলয়ে আত্মা শূন্য হয় না, বরং সেই শূন্যতার মধ্য দিয়েই প্রেম, প্রজ্ঞা ও পরমের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনার এই লেখাটি পাঠে নত বৃক্ষের ইশ্‌ক নামে একটি কবিতা লেখার ইচ্ছে জাগছে মনে ।হয়ত দু এক দিনের মধ্যেই লেখা হবে সে কবিতাখানি ।

শুভেচ্ছা রইল

আমার মন্তব্যঃ আলী ভাই, আপনার আজকের কবিতার পোস্ট এর ভাবখানা এই বৃক্ষ দুটির| আত্ম নিবেদনের -ই প্রকাশ যেন। ফানা বলতে বুঝিয়েছেন, (সুফি দর্শনে,) নিজের আত্মসত্তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, ‘আমি’ ভাব বিলীন হয়ে শুধু স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা। আমি বৃক্ষ দুটির মাঝে তৎক্ষণাত যেন তাদের নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া দেখেছিলাম।

আপনার কবিতার অপেক্ষায়।

 ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬


আমার মন্তব্যঃ  Near Death Experience (NDE ) যাদেরই হয়েছে তাদেরকে যা বলা হয়েছে তার সাথে আপনার লেখার এই কয়েকটা লাইন হুবুহু মিলে যায়ঃ

'তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে না,
ফিরে যাও।

যেখানে মানুষ কাঁদে, সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।'

NDE তে যাবার পর ওদেরকে বলেছিলঃ 'এখনো তোমার সময় হয় নাই। ফিরে যাও। তোমার কাজ এখনো অনেক বাকী।' বেশীর ভাগেরই এমন এক্সপেরিয়েন্স। তাই কবিতার এই অংশটুকু পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আপনি NDE -র জগতও ভ্রমণ করে এসেছেন।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮০
লেখক বলেছেনঃ আপনার এমন গভীর অনুভব ও আন্তরিক উপলব্ধি আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। হয়তো মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা আর আত্মার গভীর উপলব্ধি একই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও সেবাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। আপনার এই সুন্দর অনুধাবন কবিতার আবেদনকে আরও গভীর করে তুলেছে।
হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইল।

No comments:

Post a Comment